ভোটের রাজনীতিতে ফেরার ‘এন্ট্রি পয়েন্ট’ খুঁজছে আওয়ামী লীগ; লক্ষ্য এখন স্থানীয় সরকার নির্বাচন

0
রাজধানী গুলিস্তানের বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের ভেঙে ফেলা কার্যালয়।। ছবি: সংগৃহীত

লোকসমাজ ডেস্ক ॥ ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কার্যত নেতৃত্বহীন ও বিদ্ধস্ত অবস্থায় থাকা আওয়ামী লীগ এখন নির্বাচনী রাজনীতিতে ফেরার নতুন কৌশল নিয়ে এগোচ্ছে। দলটির কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞার আবেদন ও আইনি জটিলতা সত্ত্বেও আসন্ন সিটি করপোরেশন, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের প্রধান মাধ্যম হিসেবে বেছে নিতে চাইছেন দলটির নীতিনির্ধারকেরা।

দলের দায়িত্বশীল সূত্র এবং আত্মগোপনে থাকা একাধিক কেন্দ্রীয় নেতার সঙ্গে আলাপকালে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা সম্প্রতি ভার্চ্যুয়ালি নেতা-কর্মীদের সঙ্গে একাধিকবার মতবিনিময় করেছেন। সেখানে তিনি তৃণমূলের কর্মীদের ভয় কাটিয়ে এলাকায় ফেরার এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন। আওয়ামী লীগ মনে করছে, সংসদ নির্বাচনের চেয়ে স্থানীয় নির্বাচনে ব্যক্তিগত প্রভাব ও আঞ্চলিক সমীকরণ বেশি কাজ করে, যা দলটির জন্য একটি বড় সুযোগ হতে পারে।

বিশেষ করে পেশাজীবী সংগঠনগুলোর নির্বাচনে সাম্প্রতিক সাফল্য দলটিকে নতুন করে আশাবাদী করে তুলেছে। গত এক মাসে কক্সবাজার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও নোয়াখালী জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে আওয়ামী সমর্থিত প্যানেলগুলো বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদে জয়লাভ করেছে। ৭৪টি আইনজীবী সমিতির মধ্যে ১৪টিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে দলটির এই সাফল্যকে তারা তৃণমূলের সমর্থন হিসেবে দেখছেন। আগামী মে মাসে অনুষ্ঠিতব্য সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনেও তারা বড় ধরনের জয়ের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছেন।

তবে স্থানীয় নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ব্যবহার নিয়ে আওয়ামী লীগের ভেতরেই দ্বিমত তৈরি হয়েছে। অনেক নেতার মতে, অতীতে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করা ছিল একটি ঐতিহাসিক ভুল, যা তৃণমূলের ঐক্য নষ্ট করেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় আওয়ামী লীগ চাচ্ছে নির্দলীয় বা স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে। এতে একদিকে যেমন আইনি বাধা এড়ানো যাবে, অন্যদিকে স্থানীয় জনপ্রিয় ব্যক্তিদের মাধ্যমে দলের প্রভাব বজায় রাখা সম্ভব হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদের মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আওয়ামী লীগের জন্য একটি বড় সুযোগ। তবে জাতীয় রাজনীতিতে দলটির প্রত্যাবর্তন কতটুকু সফল হবে, তা নির্ভর করছে তাদের অতীত কর্মকাণ্ডের জন্য অনুশোচনা এবং বর্তমান নেতৃত্বের স্বচ্ছতার ওপর। সরকার ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশনকে স্থানীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে চিঠি দিয়েছে। ঈদের পর থেকে বছরজুড়ে এই নির্বাচনের ডামাডোল শুরু হলে আওয়ামী লীগের এই নতুন কৌশলের আসল রূপ ফুটে উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।