রাজগঞ্জে সুদখোরদের অত্যাচারে ভিটেছাড়া অনেকে

0

রাজগঞ্জ (যশোর) সংবাদদাতা ॥ যশোরের মণিরামপুর উপজেলার রাজগঞ্জ অঞ্চলের কৃষকসহ খেটে খাওয়া অতি সাধারণ মানুষ সুদ খোরদের জালে আটকা পড়েছেন। এক হাজার টাকায় এক মাসে চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ হচ্ছে দুইশ টাকা। সীমাহীন এই শোষণের ফাঁদে আটকা পড়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন এলাকার সরকারি -বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তি, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ। সুদের বোঝা টানতে না পেরে অনেকেই ভিটামাটি ছেড়ে রাতের অন্ধকারে দেশ ছেড়ে অন্য দেশে আশ্রয় নিয়েছেন। অনেকে আবার জমি বিক্রি করে সুদের টাকা পরিশোধ করতে গিয়ে সর্বস্বান্ত হয়েছেন।
এ উপজেলার, চাকলা, নোয়ালী, কিসমত চাকলা, কাঁঠালতলা, হাজরাকাটি, পারখাজুরা, রাজগঞ্জ বাজার, হানুয়ার, মনোহরপুর, ঝাঁপা, চন্ডিপুর, খালিয়া, কোমলপুর, দোদাড়িয়া, নেংগুড়াহাট, শয়লাবাজার, চালুয়াহাটি, মোবারকপুর, রামনাথপুর দাসপাড়া, আটঘরা, লক্ষণপুর দাস পাড়া, গৌরিপুর, শাহপুর, রামপুর, মশ্মিমনগর ও হয়াতপুর গ্রামে চলছে বেআইনি সুদের ব্যবসা। এলাকার কৃষক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের আর্থিক অভাব -অনাটনের সুযোগে এক শ্রেণির সুদের ব্যবসায়ী অর্থলগ্নি করেই চলেছে। এসব সুদের কারবারিরা প্রতি হাজারে দুইশ টাকা করে চক্রবৃদ্ধিহারে সুদে টাকা খাটাচ্ছে বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন।
ধুরন্ধর সুদের ব্যবসায়ীরা দেড়শ টাকার স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেয়াসহ ব্যাংকের চেকের পাতা নিয়ে চড়া সুদে টাকা দিচ্ছে। মোবারকপুর গ্রামের লিপি বেগম নামের এক গৃহবধূ মাসিক হাজারে দুইশ টাকা করে লাভে এক মহিলার নিকট থেকে ৪০হাজার টাকা ধার নেন। টাকা নেয়ার দেড় বছরে কয়েক লাখ টাকা দিয়েও ও রেহাই পাননি এ গৃহবধূ। ওই সুদখোরের অব্যাহত হুমকি- ধামকিতে গৃহবধূ লিপি বেগমকে নগদ আরো ৮০হাজার টাকা দিয়ে শেষ রক্ষা পান।
কোমলপুর গ্রামের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাবুরাম নামের এক মৎস্য ব্যবসায়ী স্থানীয় সুদ খোরদের অত্যাচারে ভিটেমাটি ছেড়ে রাতের অন্ধকারে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গিয়ে ভারতে আশ্রয় নেন। সেখানে কিছুদিন থাকার পর তিনি মারা যান বলে স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়। এছাড়া ওই গ্রামের শ্রীপদ ও তার ছেলে উত্তম এখন বাড়িছাড়া। সম্প্রতি রামনাথপুর গ্রামের রবিন দাস একই গ্রামের রুহি দাস ও সন্তোষ দাসের মতো প্রচুর মানুষ চড়া সুদের জালে আটকা পড়ে সর্বশান্ত হয়ে দেশ ছেড়ে বিদেশে পালিয়ে গেছেন। এলাকার সুদখোররা লাখ লাখ টাকা সুদে খাটিয়ে প্রতিদিন বিকেলে স্থানীয় হাট-বাজারে খাতা কলম নিয়ে বসে লাভের টাকা সংগ্রহ করে।
কেউ সুদের টাকা দিতে দেরি করলে সঙ্গে সঙ্গে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে টাকার জন্য তাদেরকে চাপ দেয়া হয়। যাদের এক সময় কিছুই ছিলোনা তারাই আজ সুদের ব্যবসা করে নামি-দামি গাড়ি, বাড়ি ও প্রচুর টাকা পয়সার মালিক হয়েছেন বলে এলাকাবসীর সাথে আলাপ করে জানা যায়।
নাম না বলার শর্তে স্থানীয় এক সুদখোর এ প্রতিনিধিকে জানান, ভাই জানিনা লেখাপড়া। মাঠে নেই কোন জমিজমা। তারপর সংসারে ৬জন মানুষ। এমতাবস্থায় করবোটা কি? তাই এই ব্যবসা বেছে নিয়েছি। আর এ ব্যবসার সাথে জড়িয়ে ভালোমন্দ খাওয়া- দাওয়ার পাশাপাশি বর্তমানে পরিবারপরিজন নিয়ে বেশ ভালোই আছি।
কোমলপুর গ্রামের হরেন কুমার ও নরেন কুমার জানান, তার দাদা শ্রীপদ ও ভাইপো উত্তম স্থানীয় সুদ খোরদের অত্যাচারে আজ ভিটেমাটি ছাড়া। আজ পর্যন্ত তাদের কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি বলে জানান এ দুই ভাই।
এ ব্যাপারে কথা হয়, ঝাঁপা ইউপির  ৭ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য তাজু হোসেনের বলেন, প্রতিটা এলাকায় কমবেশি সুদখোর আছে। তবে রাজগঞ্জ বাজার এলাকায় একটু বেশি। সুদে কারবারিদের চড়া সুদের কারণে এলাকার অনেক মানুষ আজ নিঃস্ব।
রাজগঞ্জ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক বানী ইসরাইল বলেন, সুদখোরদের কোন ছাড় নেই। অভিযোগ পেলেই দ্রুতগতিতে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।