স্কুল ভর্তিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা নিয়ে বিভ্রান্তি

0

মাসুদ রানা বাবু ॥ যে কোটা নিয়ে যুদ্ধ, হাজারও ছাত্র-জনতার তাজা প্রাণ বলি সর্বোপরি ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পতন সেই কোটা নিয়ে বিভ্রান্তি চলছেই। মুক্তিযুদ্ধের ৫৩ বছর পর মুক্তিযোদ্ধাদের স্কুল ভর্তি উপযোগী সন্তান থাকার বাস্তবতাও নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অনেকে নাতি নাতনির কোটায় আবেদনের পর ভর্তির সুযোগ পেয়েও ভর্তি হতে না পেরে বিভ্রান্ত হয়েছেন।
গত ২৮ অক্টোবর মাধ্যমিক উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) ২০২৫ শিক্ষা বর্ষের ভর্তির সংশোধিত নীতিমালা জারি করে। জারিকৃত নীতিমালায় বলা হয় মুক্তিযোদ্ধা বা শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পুত্র-কন্যার জন্য ৫ শতাংশ কোটা, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও অধীন দপ্তর-সংস্থাগুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য ১ শতাংশ, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের ১০ শতাংশ, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের ২ শতাংশ, অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীর যমজ ও সহদোর ভাই-বোনের জন্য ৫ শতাংশ কোটা রাখা হয়। কোটায় শিক্ষার্থী না পাওয়া গেলে মেধাতালিকা থেকে এই আসনে ভর্তি নির্দেশনা দেয়া হয়। তবে স্কুল ভর্তির পূর্বের নীতিমালায় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধার নাতি নাতনির জন্য ৫ শতাংশ কোটা চালু ছিল। মুক্তিযুদ্ধের এত বছর পরেও মুক্তিযোদ্ধার স্কুল ভর্তি উপযোগী সন্তান থাকা প্রায় অসম্ভব। এ হিসেবে নীতিমালা না থেকেই অনেক অভিভাবক মুক্তিযোদ্ধা কোটায় আবেদন করেন। কোটার ভিত্তিতে তাদের কেউ কেউ ভর্তির জন্য নির্বাচিত হয়েছে। তবে ভর্তির সময় নাতি নাতিদের কোন ফরম দেয়া হচ্ছে না। এতে অনেক অভিভাবক ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।
শিক্ষকরা বলছেন, শিক্ষার্থীদের ভর্তির আবেদন কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পর ডিজিটাল লটারির মাধ্যমে ভর্তি তালিকা তৈরি হয়। পরবর্তীতে মাধ্যমিক উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) থেকে সেই তালিকা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে প্রেরণ করা হয়। প্রেরিত তালিকায় অন্যান্য কোটার মত মুক্তিযোদ্ধার কোটা উল্লেখ আছে। ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্নের সময় মুক্তিযোদ্ধার সন্তান না নাতি-নাতনি সে বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলে নাতি নাতনিদের কোন ফরম দেয়া হচ্ছে না।
অভিভাবকরা বলছেন, নির্বাচিত প্রতিষ্ঠান থেকে তাদের ভর্তি ফরম দেওয়া হচ্ছে না। ফলে তাদের সন্তানদের ভর্তি অনিশ্চিত হয়ে দাঁিড়য়েছে।
রোববার এই প্রতিবেদক যশোর জিলা স্কুলে যান। সেখানে গিয়ে কথা প্রতিষ্ঠান প্রধান এবং ভর্তি কমিটির সদস্য সচিব শোয়াইব হোসেনের সাথে। তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধার কোটায় তাদের নাতি-নাতনিদের ভর্তি করা হচ্ছে না। তাদের ফরমও দেওয়া হচ্ছে না। যেহেতু এবারের ভর্তি নীতি মালায় মুক্তিযোদ্ধাদের নাতি-নাতনির কোটায় বাতিল করা হয়েছে। তবে আবেদনের সময় কেন তারা মুক্তিযোদ্ধার কোটায় আবেদনের সুযোগ পেয়েছিল? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, যারা মুক্তিযোদ্ধা কোটায় টিক দিয়েছেন তাদের কেউ কেউ হয়তো নতুন নীতিমালা পড়েননি।
জেলা প্রশাসক ও ভর্তি কমিটির সভাপতি আজাহারুল ইসলাম বলেন, ভর্তি নীতিমালার বাইরে গিয়ে ভর্তির কোন সুযোগ নেই। নীতিমালা অনুযায়ী ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হবে। নতুন নীতিমালায় মুক্তিযোদ্ধা কোটায় তাদের নাতি-নাতনিরা ভর্তি কোন সুযোগ পাবে না।
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন যশোর জেলা শাখার আহ্বায়ক রাশেদ খান বলেন, স্কুলে তৃতীয় শ্রেণিতে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ভর্তি হবে এমন বাস্তবতা নেই। মুক্তিযোদ্ধাদের নাতি-নাতনিদের কোটার বিরুদ্ধেই মূলত আমাদের আন্দোলন ছলি। যাতে করে বৈষম্যটা দুর হয়। তবে এই মুহুর্তে মুক্তিযোদ্ধাদের নাতি-নাতনিদের কোটা কোন ভাবেই গ্রহণ যোগ্য বলে আমার মনে হয় না। নতুন বাংলাদেশে পতিত স্বৈরাচারে নীতিমালা কোন ভাবেই গ্রহণ যোগ্য নয়।