জনবল সংকটে ধুঁকছে ফকিরহাটের ভেড়ার খামার

0

ফকিরহাট (বাগেরহাট) সংবাদদাতা॥ তীব্র জনবল সংকটে ধুঁকছে বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার সরকারি ভেড়া উন্নয়ন খামার।প্রকল্পের প্রথম দুই বছরে প্রায় ৩০০ ভেড়া উৎপাদন হলেও বর্তমানে তা কমে ১৮০টিতে এসে ঠেকেছে। রুগ্ন ও অসুস্থ হয়ে চলতি বছরে ১৩টি ভেড়া মারা গেছে। পরিচর্যার অভাবে অসুস্থ আছে অনেক ভেড়া। মঙ্গলবার সকালে খামারে গিয়ে এ চিত্র দেখা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উপজেলার বেতাগা মহিষ খামারের পাশে প্রায় পাঁচ একর জমিতে গড়ে ওঠা খামারটিতে ভেড়ার উন্নত জাত লালন- পালনে আধুনিক প্রযুক্তি থাকলেও ৬ পদের বিপরীতে শুধুমাত্র একজন কম্পিউটার অপারেটর আছেন।
এলাকাবাসী জানান, শূন্য পদের বিপরীতে কাম্য সংখ্যক জনবল নিয়োগ না দিলে ধুঁকতে থাকা জেলার একমাত্র ভেড়া খামারটি বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্র জানায়,প্রান্তিক খামারিদের আধুনিক প্রযুক্তিতে ভেড়া পালন কৌশল শিখন, বাচ্চা সরবরাহ, উদ্যোক্তা তৈরি ও চাষি প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্যে ২০১৬ সালে ৮০টি ভেড়া নিয়ে একটি প্রকল্পের মাধ্যমে শুরু করা হয়েছিল ভেড়া উন্নয়ন খামারটি। ভেড়ার উন্নত জাত লালন -পালনে আধুনিক প্রযুক্তি থাকায় মাত্র দুই বছরে খামারটিতে প্রায় ৩০০ টি ভেড়া উৎপাদন হয়। ২০১৮ সালের শেষে প্রকল্পের সমাপ্তি হলে লোকবল সংকটে পতিত হয় খামারটি। খামারের জন্যে সিনিয়র সহকারী পরিচালক, ভেটেরিনারি সার্জন, কম্পিউটার অপারেটর কাম হিসাবরক্ষক, অফিস সহায়ক ও ভেড়া এটেনডেন্টসহ রাজস্ব খাতে মোট ৬টি পদ সৃষ্টি করা হয়। কিন্তু দীর্ঘ ছয় বছরেও পূর্ণ লোকবল পায়নি প্রতিষ্ঠানটি। শুধুমাত্র কম্পিউটার অপারেটর কাম হিসাবরক্ষক পদে একজন কর্মরত রয়েছেন। অন্যসব পদ শূন্য রয়েছে। পাশের মহিষ প্রজণন ও উন্নয়ন খামারের সিনিয়র সহকারী পরিচালক অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে ভেড়া উন্নয়ন খামারের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
ভেড়া উন্নয়ন খামারের কম্পিউটার অপারেটর কাম হিসাবরক্ষক আবুল কালাম আজাদ জানান, খামারে ভেড়ার জন্যে নিবিড় পরিচর্যা প্রয়োজন। খাবার খাওয়ানো থেকে শুরু করে গোছল ও অসুস্থ হলে চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। কিন্তু না আছে এটেনডেন্ট, না আছে ভেটেরিনারি সার্জন। ফলে ভেড়া হঠাৎ রোগে আক্রান্ত হলে চিকিৎসার জন্যে সমস্যা হয়। মারাও গেছে অনেক ভেড়া। অসুস্থতার কথা কর্তৃপক্ষকে জানালে তারা চিকিৎসকদের জানান। সবসময় চিকিৎসক পাওয়া মুশকিল হয়ে যায়। গত এক বছরে খামারের ১৩টি ভেড়া অসুস্থ হয়ে মারা গেছে। পরিচর্যার অভাবে ভেড়ার উৎপাদন হারও কমে গেছে।
এমন পরিস্থিতিতে ভেড়ার বংশবৃদ্ধির বদলে উৎপাদন হ্রাস পাচ্ছে বলে জানান তিনি। পূর্ণ লোকবল নিয়ে প্রকল্পের শুরুর প্রথম দুই বছরে ৮০টি ভেড়া থেকে প্রায় তিনগুণ বেড়েছিল। অথচ পরবর্তীতে তা কমে বর্তমানে ১৮০টিতে এসে ঠেকেছে। এ অবস্থায় বাধ্য হয়ে আলমগীর হোসেন নামে স্থানীয় একজন লোককে প্রতিদিন নামে মাত্র মজুরি দিয়ে ভেড়া দেখাভাল করানো হচ্ছে বলে তিনি জানান।
এটেনডেন্টের দায়িত্ব পালন করা আলমগীর হোসেন বলেন,১৮০টি ভেড়ার জন্যে ঘাস কাটতে হয়। গোসল করাতে হয়। দানাদার খাদ্য খাওয়াতে হয়। গায়ের লোম কাটতে হয়। ছেড়ে দিয়ে মাঠে চড়াতে হয়। ৫-৬ জন মানুষের কাজ একার পক্ষে সঠিকভাবে করা সম্ভবন না। তবুও করতে হয়। অনেক সময় ভেড়া অসুস্থ হয়ে পড়ে। খুবই সমস্যা হয়। আমিও তো ১২ মাস সুস্থ থাকি এমন নয়। তবু ছুটি পাই না। কাজ করতে হয়।

সংকটের কথা স্বীকার করে মহিষ প্রজনন ও উন্নয়ন খামারের সিনিয়র সহকারী পরিচালক ও ভেড়া উন্নয়ন খামারের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা মো. আহসান হাবিব বলেন, দেশের তিনটি ভেড়া উন্নয়ন খামারের একটি ফকিরহাটে। কিন্তু জনবলের অভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে না সরকারের কাঙ্খিত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। যদি জনবল নিয়োগ সঠিকভাবে হয় তাহলে ভেড়াগুলোর পরিচর্যা ভালো হবে। উৎপাদন বাড়বে।