খুলনা মহানগর যুগ্ম আহ্বায়ক ও থানা নেতৃবৃন্দের সভায় বক্তারা ষড়যন্ত্রকারীরা ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক বিজয়কে মেনে নিতে পারেনি

0

খুলনা ব্যুরো ॥ খুলনায় বিএনপি নেতৃবৃন্দ বলেছেন, ষড়যন্ত্রকারীরা ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক বিজয়কে মেনে নিতে পারেনি। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে তারা দেশব্যাপী খুন-খারাবিতে মেতে উঠেছে। আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন হলেও দেশে এখনো নৈরাজ্য সৃষ্টির পাঁয়তারায় লিপ্ত রয়েছে পরাজিত শক্তির দোসররা।

রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় দলীয় কার্যালয়ে মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়কবৃন্দ ও সকল থানার আহ্বায়ক এবং সদস্য সচিবদের সভায় নেতৃবৃন্দ এসব কথা বলেন। বক্তারা বলেন, আওয়ামী ফ্যাসিস্ট শাসকগোষ্ঠীর ভয়াবহ দুঃশাসন থেকে জনগণ মুক্তি পেলেও দেশ এখনো পুরোপুরি নিরাপদ নয়। দুষ্কৃতকারীরা দেশকে অস্থিতিশীল করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। আর এ কারণেই জনগণের ওপর হামলা চালিয়ে তাদেরকে পৈশাচিক কায়দায় হত্যাসহ গুরুতর আহত করা হচ্ছে। সন্ত্রাসীদের কঠোর হস্তে দমন করতে হবে, এর কোনো বিকল্প নেই উল্লেখ করে হামলা ও রক্তাক্ত পথ অনুসরণ করে ষড়যন্ত্রকারীরা যাতে ফায়দা লুটতে না পারে সেজন্য দলমত নির্বিশেষে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানানো হয়।

মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাড. শফিকুল আলম মনার সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব শফিকুল আলম তুহিনের পরিচালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন স. ম আবদুর রহমান, অ্যাড. নুরুল হাসান রুবা, কাজী মাহমুদ আলী, শের আলম সান্টু, আবুল কালাম জিয়া, বদরুল আনাম খান, মাহাবুব হাসান পিয়ারু, চৌধুরী শফিকুল ইসলাম হোসেন, একরামুল হক হেলাল, মাসুদ পারভেজ বাবু, শেখ সাদী, হাসানুর রশিদ চৌধুরী মিরাজ, কে এম হুমায়ূন কবির (ভিপি হুমায়ূন), মুরশিদ কামাল, কাজী মিজানুর রহমান, মোল্লা ফরিদ আহমেদ, সৈয়দ সাজ্জাদ আহসান পরাগ, শেখ ইমাম হোসেন, হাবিবুর রহমান বিশ্বাস, আবু সাইদ হাওলাদার আব্বাস প্রমুখ।

সভায় সর্বসম্মতিক্রমে মহানগরীর ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন সম্মেলন পিছিয়ে ওয়ার্ড ও ইউনিয়নে সুধী সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত ও শীঘ্রই মহানগর বিএনপির সভার মাধ্যমে নতুন করে ওয়ার্ড ইউনিয়ন সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভা থেকে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে মহানগরীর পূজা উদযাপন কমিটির সাথে মতবিনিময় করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভা থেকে খুলনার দুর্নীতিবাজ, মাফিয়া সরকারের দোসর খুলনা জেলা প্রশাসককে অপসারণ না করায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে অবিলম্বে জেলা প্রশাসককে অপসারণের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি দাবি জানানো হয়।

সভা থেকে খুলনা মহানগীর ৮ থানায় পতিত স্বৈরশাসকের গুন্ডাবাহিনী, চাঁদাবাজ, মাদক ব্যবসায়ী, টেন্ডারবাজসহ যাদের বিরুদ্ধে মামলা আছে তাদের গ্রেফতারের জোর দাবি জানানো হয়। এছাড়া মামলার আসামিরা প্রকাশ্যে চলাফেরা করলেও পুলিশ প্রশাসন তাদের গ্রেফতার না করায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। সভা থেকে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে সকল শহীদ ও বিগত ১৬ বছরে স্বৈরাচার হাসিনা হটাও আন্দোলনে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত ও আহতদের সুস্থতা কামনা করা হয়। এছাড়া দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি ও তাঁর দীর্ঘায়ু কামনা করা হয়।