যশোরে নবাগত এসপির সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় পুলিশ প্রস্তুত, অচিরেই অভিযান

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করেছেন যশোরের নবাগত পুলিশ সুপার জিয়াউদ্দিন আহমেদ। গতকাল রোববার বেলা ১১ টায় জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সভাকক্ষে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
মতবিনিময়কালে পুলিশ সুপার বলেন, যশোরের আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে প্রকৃত অস্ত্রধারীদের শনাক্ত করে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করা হবে। এ বিষয়ে পুলিশ প্রস্তুত রয়েছে। যারা সরকারি আহবানের পরও লাইসেন্সকৃত অস্ত্র জমা দেননি, তাদের বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানায় খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে আলোচনায় যশোরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, সন্ত্রাসী আটক, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও যানজট নিরসণসহ নানা সমস্যা তুলে ধরা হয়। এসময় সাংবাদিকরা অতীতের সবকিছু ভুলে জননিরাপত্তায় পুলিশকে সাহস নিয়ে মাঠে নামার আহবান জানিয়ে সহযোগিতা করার আশ^াস দেন।
পুলিশ সুপার দীর্ঘক্ষণ সবার বক্তব্য শোনেন এবং তা লিপিবদ্ধ করেন। এরপর নিজের বক্তব্যে আলোচিত বিষয়গুলো নিয়ে নিজের অবস্থানের ব্যাখ্যা দেন।
৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভূত্থানের পর নতুন অন্তর্বতীকালীন সরকারের এক মাসেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও যশোরের চিহ্নিত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজদের আটক করা যায়নি কেনো- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে পুলিশ সুপার বলেন, একটি পরিবর্তিত পরিস্থিতির কারণে পুলিশের ওপর অনেক ধকল গেছে। নানা কারনে পুলিশের মনোবল ভেঙে যায়। যে কারণে স্বাভাবিক পর্যায়ে আসতে একটু দেরি হয়েছে। তবে আমরা জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইতোমধ্যে মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করেছি। যা খুব দ্রুত সময়ে আরো জোরদার করা হবে।
শহরের যানজটের জন্য পৌরসভার লাইসেন্স কার্যক্রমকে দায়ি করে তিনি বলেন, যানজটরোধে কার্যকরী ভূমিকা রাখতে তিনি পৌর কর্তৃপক্ষের সাথে সংলাপ করবেন। তিনি আরো বলেন, ৫ আগস্টে পর দেশের বিভিন্ন স্থানে যে হামলা ভাঙচুর ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে সেই অর্থে যশোর ছিল অনেকটাই স্বাভাবিক। এ শহরে অনেকটাই সুন্দর পরিবেশ বজায় ছিল। পুলিশের সাথেও শান্তিপূর্ণ সহঅবস্থান ছিল যশোরের মানুষের। এজন্য তিনি যশোরের রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, সব ঘটনাকে আমরা সাম্প্রদায়িক ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন না করি। রাজনৈতিক ঘটনাকে যেনো আমরা সাম্প্রদায়িক ঘটনার সাথে মিলিয়ে না ফেলি। এসব বিষয়ে সাংবাদিকদের বেশি সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নবাগত এসপি বলেন, গত এক মাসে যে অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটে গেছে তার ব্যাপারে ভিকটিমরা অভিযোগ করলে যথাযথ তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ইতোমধ্যে পুলিশ মাঠে নামছে। থানাগুলোয় মামলা ও জিডি নেয়া হচ্ছে। সাংবাদিক ও যশোরের মানুষের সহযোগিতা নিয়ে পুলিশ সকল অনাকাঙ্খিত ঘটনায় জোরালোভাবে কাজ করতে চায়।
তিনি বলেন, বিগত পরিস্থিতিতে যশোরের কোনো থানা ফাঁড়ির পুলিশ সদস্য আক্রান্ত হয়নি। এরপরও কাজে এবং অভিযানের সুবিধার্থে অভ্যন্তরীণ বদলি শুরু করেছেন। দ্রুত যশোরের মানুষ এর সুফল পাবেন বলে তিনি আশা করেন।
যশোরের সার্বিক পরিস্থিতির ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি বলেন, যশোর একটি সুন্দর জায়গা। এখানে সাংবাদিকদের জন্যও সুন্দর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। পবিত্র কুরআনের একটি আয়াতের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, সাদাকে সাদা এবং কালোকে কালো বলতে হবে। সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে সবাইকে এ বিষয়টি অনুসরণ করে যাচাই-বাছাই করে কাজ করতে হবে।
মতবিমিময় সভায় উপস্থিত সাংবাদিকদের বক্তব্য রাখেন প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন, সাধারণ সম্পাদক এসএম তৌহিদুর রহমান, দৈনিক লোকসমাজের প্রকাশক শান্তনু ইসলাম সুমিত, দৈনিক গ্রামের কাগজের প্রকাশক সম্পাদক ও যশোর সংবাদপত্র পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মবিনুল ইসলাম মবিন, লোকসমাজের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক আনোয়ারুল কবীর নান্টু, দৈনিক টেলিগ্রামের সম্পাদক বিনয় কৃষ্ণ মল্লিক, প্রেসক্লাবের সাবেক সহসভাপতি নূর ইসলাম, দৈনিক গ্রামের কাগজের বার্তা সম্পাদক সরোয়ার হোসেন, যুগ্ম বার্তা সম্পাদক এম আইউব, সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরের সভাপতি আকরামুজ্জামান, প্রথম আলো যশোর প্রতিনিধি মনিরুল ইসলাম, বাংলা ভিশনের জেলা প্রতিনিধি রাজেক জাহাঙ্গীর, সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরের সাধারণ সম্পাদক এসএম ফরহাদ, যশোর জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শেখ দিনু আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান মোর্শেদ আলম, ডিবিসি টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি সাকিরুল কবির রিটন, সাংবাদিক আব্দুল ওহাব মুকুল ও দৈনিক যুগান্তরের যশোর জেলা প্রতিনিধি ইন্দ্রজিৎ রায়।
এসময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নূর-ই আলম, বেলাল হোসাইন, ফিরোজ কবিরসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।