চৌগাছায় বৃষ্টিতে অবৈধ ভাবে বালি তোলার গর্ত ধসে বিলীন হচ্ছে কৃষকের ফসলি জমি

0

স্টাফ রিপোর্টার, চৌগাছা (যশোর) ॥ চৌগাছায় খাস জমি থেকে অবৈধভাবে বালি তোলার কারণে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি ভারী বর্ষণে ওই গর্তের চারপাশে ভেঙে পড়েছে। ফলে আশপাশের ফসলি জমি, ফলের বাগান গর্তে বিলীন হচ্ছে। চাষযোগ্য জমি হারিয়ে অনেক কৃষক এখন দিশেহারা। বাড়িঘর ও পাকা সড়কও হুমকির মুখে পড়েছে। ভুক্তভোগীরা ভাঙনরোধে দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ তুলা গবেষণা ও বীজবর্ধন খামার এই উপজেলার জগদীশপুর গ্রামে। খামারে যেতে মাঝপথে পড়ে বিশ্বনাথপুর গ্রাম। এই গ্রামে খালি মাঠের মধ্যে জগদীশপুর গ্রামের মৃত দুদা মাস্টারের ছেলে পিন্টুর নেতৃত্বে ওহিদুল ইসলাম, শোভন হোসেন, রমজান গং সরকারি সম্পত্তি থেকে বছরের পর বছর অবৈধভাবে বালি তুলে বিক্রি করে আসছেন। বালি তোলার কারণে ওই স্থানে সৃষ্টি হয়েছে বড় গর্তের। সম্প্রতি একটানা ভারী বৃষ্টিতে পানির ¯্রােতে গর্তের পাশে ভাঙনে একই গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে বিদ্যুতের ১ বিঘা জমির পটল ক্ষেতের প্রায় অর্ধেক বিলীন হয়েছে। কোনভাবেই ভাঙনরোধ করতে পারছেন না অসহায় কৃষক। যে কোনসময় ভাঙতে পারে সুরোত আলী বিশ্বাসের ৩ বিঘা তুলা, আলী কদরের ২ বিঘা ধানের জমি, সাখাওয়াত হোসেনের ১ বিঘা, মুক্তির ১ বিঘা সেলিম রেজার ১ বিঘা, নজরুল ইসলামের দেড় বিঘা ধানের জমি।
বুধবার সরেজমিনে দেখা গেছে, অসহায় চাষিরা তাদের জমি রক্ষায় বৃথা চেষ্টা করে যাচ্ছেন। কৃষক বিদ্যুৎ বলেন, গ্রামের পিন্টুসহ বেশ কয়েকজন ব্যক্তি বছরের পর বছর ধরে বালি তোলার কারণে আজ এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আলী কদর, সাখাওয়াত হোসেনসহ একাধিক চাষি বলেন, নিষেধ করা সত্ত্বেও তারা বালি তোলা বন্ধ করেননি। বালি তুলতে তুলতে এখন সেখানে গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিতে পানির ¯্রােত গর্তে নেমেছে আর ভেঙেছে ফসলি জমি। বর্তমানে গর্তের চারপাশে বড় বড় ফাঁটল দেখা দিয়েছে। যে কোন সময় আরও ভাঙন হতে পারে। চোখের সামনে ফসলি জমি গর্তে বিলীন হতে দেখেছি কিন্তু রক্ষা করতে পারেনি।
এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) গুঞ্জন বিশ্বাস বলেন, বালি তোলার বিষয়টি আমার জানা ছিল, সে সময়ে অভিযান চালিয়ে সেটি বন্ধও করা হয়। তবে বৃষ্টিতে ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে বিষয়টি অজানা, খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে।