ঘূর্ণিঝড়ে দুবলার চরে ৩৫ হাজার কুইন্টাল মাছ ও শুঁটকি পচে নষ্ট

0

মনিরুল হায়দার ইকবাল, মোংলা (বাগেরহাট) ॥ ঘূর্ণিঝড় মিধিলির প্রভাবে বঙ্গোপসাগরের সুন্দরবন উপকূলে কয়েক কোটি টাকার কাঁচা মাছ ও শুঁটকি পচে গেছে। নিম্নচাপের প্রভাবে ভারী বৃষ্টি ও তীব্র বাতাসে দুবলার চরের জেলে পল্লীতে শুঁটকি প্রক্রিয়াকরণের জন্য আহরিত বিভিন্ন সামুদ্রিক মাছ পঁচে নষ্ট হয়ে জেলেদের কোটি কোটি টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে। নিম্নচাপের ফলে সেই সব শুকনো, আধা শুকনো ও কাঁচা মাছের আর্থিক ক্ষতি জেলেরা কিভাবে পুষিয়ে উঠতে পারবেন তা নিয়ে দুচিন্তায় পড়েছেন।
পূর্ব সুন্দরবনের সহকারী বন সংরক্ষক রানা দেব জানান, সাগরপাড়ে সুন্দরবনের দুবলার চরে শুরু হওয়া এ শুঁটকি মৌসুম চলবে আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত। টানা পাঁচ মাস সেখানে থাকতে হবে জেলেদের। এ সময় সাগরপাড়ে জেলেদের অস্থায়ী থাকার ঘর, মাছ শুকানো চাতাল ও মাচা তৈরি করতে হয়েছে। এ বছর চরে জেলেদের থাকা ও শুটকি সংরক্ষণের জন্য ১ হাজার ১০৮টি জেলে ঘর ও ৭৮টি ডিপো স্থাপনের অনুমতি দিয়েছে বনবিভাগ। গত শুটকির মৌসুমে দুবলার চর থেকে বনবিভাগের রাজস্ব আদায় হয়েছিল ছয়কোটি টাকা। আর এবার তার টার্গেট ধরা হয়েছে সাতকোটি টাকা।
সাগরে সুন্দরবন উপকূলে মাছ ধরার জেলে মহাজনদের বৃহৎ সংগঠন ‘দুবলা ফিশারম্যান গ্রুপের সভাপতি কামাল উদ্দিন আহমেদ জানান, এবারের ঘূর্ণিঝড় মিধিলির প্রভাবে প্রায় ৩৫ হাজার কুইন্টাল কাঁচা মাছ ও শুঁটকি পচে নষ্ট হয়ে গেছে। এ ছাড়া জেলেদের কিছু বসতি ও স্থাপনাও কমবেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
দুবলার চর জেলে পল্লী টহল ফাঁড়ির ফরেস্টার খলিলুর রহমান জানান, নিম্নচাপের কারণে নষ্ট ও পচে যাওয়া প্রায় ৩৫ হাজার কুইন্টাল মাছ ও শুঁটকির খাত থেকে বন বিভাগের প্রায় ৭০ থেকে ৮০ লাখ টাকা রাজস্ব রায় হওয়ার টার্গেট ছিল। কিন্তু দুর্যোগের কারণে এবার মৎস্যজীবী ও জেলেরা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি বন বিভাগও এ রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হলো।