যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণায় মুখর আদালতপাড়া

0

মাসুদ রানা বাবু ॥ যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির বার্ষিক নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে আদালত পাড়া। আইনজীবীরা এখন ভবন নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে এবারের নির্বাচনে বিএনপি সর্মথিত আইনজীবীরা ঐক্যবদ্ধ থাকলেও দ্বিধাবিভক্তিতে আওয়ামীলীগ সমর্থিতরা । নির্বাচনে ১৩টি পদের বিপরীতে ২৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে ছয়জন ভোটযুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছেন।
নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেল থেকে সভাপতি পদে মুজিবুর রহমান ও সাধারণ সম্পদক পদে গোলাম মোস্তফা মন্টু প্রতিদ্বন্দিতা করছেন। আওয়ামী সমর্থিত বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ থেকে সভাপতি পদে ইদ্রিস আলী ও সাধারণ সম্পাদক পদে খালেদ হাসান জিউস প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ পরিষদ থেকে সাধারণ সম্পাদক পদে শাহনুর আলম শাহীন নামে আরেকজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

তিন সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী বা থেকে গোলাম মোস্তফা মন্টু, খালেদ হাসান জিউস ও শাহানুর আলম শাহীন

এছাড়া সভাপতি পদে আইনজীবী সমিতির বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আবু মোর্ত্তজা ছোটও প্রতিদ্বন্দিতা করছেন। নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা ঐক্যবদ্ধ। আওয়ামলীগ সমর্থিত প্রার্থীদের মধ্যে দলীয় কোন্দল তুঙ্গে। কোন্দলের বর্হিঃপ্রকাশ ঘটেছে সাধারণ সম্পাদক পদে খালেদ হাসান জিউস ও শাহানুর আলম শাহীন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মধ্য দিয়ে। শাহানুর আলম শাহীন বিশাল এক বহর নিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন।
ভোটারদের অনুকুলে আনতে প্রাথীরা দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। তবে ভোটাররা বলছেন ভিন্ন কথা। তারা বলছেন, বিগত দিনে যারা আইনজীবীদের স্বার্থ ও মানউন্নয়নে ভূমিকা রেখেছেন তাদেরকে নেতৃত্বে দেখতে চান। তারা যশোর বারে কোন সিন্ডিকেট দেখতে চান না। সকলের সমান সুযোগ নিশ্চিত চান।
বিএনপি সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্যপ্যানেলের সভাপতি প্রার্থী মুজিবুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী গোলাম মোস্তফা বলেন, আমরা যশোরের আদালত কেন্দ্রিক কোন সিন্ডিকেট দেখতে চাই না। বিগত দিনে সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম সাধারণ আইনজীবীর পদে পদে বঞ্চিত হয়েছেন। সে কারণে আমরা নির্বাচিত হলে সিন্ডিকেট ভেঙে সকল আইনজীবীদের প্রাকটিসের ক্ষেত্রে সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে চাই। যাতে কেউ বঞ্চিত না হয়। সেই সাথে বারের জুনিয়র আইনজীবীদের মান উন্নয়নের কাজ করতে চাই।
আওয়ামী সমর্থিত বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী খালেদ হাসান জিউস বলেন,বিগত কয়েক বছর ধরে যশোর জেলা আইনজীবী সমিতি একটি অশুভ সিন্ডিকেট নামে পরিচিতি। তাদের দৌরাত্মে সাধারণ আইনজীবীরা অতিষ্ঠ। এ থেকে পরিত্রানের পথ খুঁজতে গিয়ে তারা আমাকে ও ইদ্রিস আলীকে সমর্থন করে সিন্ডিকেট ভাঙার চেষ্টা করছে। ফলে আমাদের বিজয় সুনিশ্চিত ইনশায়াল্লাহ।
একই পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী শাহানুর আলম শাহীন বলেন,বিগত দিনে আমি এই পদে দায়িত্ব পালনকালে আইনজীবীদের স্বার্থে কাজ করেছি। আমি পুনরায় ও নির্বাচিত হয়ে যশোরের বার ও বেঞ্চের সম্পর্ক সমুন্নত রাখার পাশাপাশি উভয়ের সম্মান রক্ষা করার লক্ষ্যে কাজ করতে চাই। কোন আইনজীবী যাতে বঞ্চিত না হয়,সকলে সমান ভাবে প্রাক্টিস করার সুযোগ পায় সেই লক্ষ্যে কাজ করতে চাই।
সভাপতি প্রার্থী আবু মোত্তর্জা ছোট বলেন, আমি কয়েক মেয়াদে সমিতির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছি। বর্তমানে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছি। গত নির্বাচনে আমি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলাম, নির্বাচিত হলে জুনিয়র আইনজীবীদের জন্যে ভবনের পাঁচ তলা নির্মান কাজ শুরু করবো। আমি কথা রেখেছি। তাদের ভবন নির্মানের কাজ চলমান। এর আগে বিভিন্ন সময় সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালনকালে আইনজীবীদের মৃত্যুকালী টাকা বৃদ্ধি করতে করতে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে গেছি। ্আগামীতেও নির্বাচিত হলে তাদের উন্নয়নে কাজ করবো।
আগামী ২৬ নভেম্বর শনিবার সকাল ১০ টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত সমিতির এক নম্বর ভবন মিলনায়তনে বিরতিহীন ভাবে ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হবে। এবার সমিতির ৫৩৩ জন সদস্য ভোটাধিকার প্রয়োগ করে তাদের নেতা নির্বাচিত করবেন।