যশোরে পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে বিএনপির গুম দিবস পালিত

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ পুলিশের কড়া বেষ্টনির মধ্যে যশোরে জেলা বিএনপি আন্তর্জাতিক গুম দিবস পালন করেছে। গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে শান্তিপূর্ণভাবে মৌন মিছিল করেন দলটির নেতা-কর্মীরা। কালো পতাকা হাতে মিছিলের অগ্রভাগে ছিলেন দলের জেলা শাখার আহ্বায়ক অধ্যাপক নার্গিস বেগম।
বিকেল ৪ টায় মিছিল হওয়ার কথা থাকলেও যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জুয়েল ইমরান ও কোতয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তাজুল ইসলামের নেতৃত্বে বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য অনেক আগে থেকে গোটা লাল দিঘীপাড়ে অবস্থান নেন। তারা গাড়িতে করে লোহার তৈরি সড়কে প্রতিবন্ধকতা তৈরির সামগ্রী নিয়ে আসে। কেবল জেলা বিএনপি কার্যালয়ের প্রবেশপথ নয়, লাল দিঘীপাড়ের সকল প্রবেশপথে লোহার ব্যারিকেড বসিয়ে তারা অবস্থান নেন। পুলিশের এমন কর্মকান্ডে পথচারীদের চলাচলে ভোগান্তি পোহাতে হয়।
এমন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যশোর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক নার্গিস বেগম নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে দলীয় কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। সেখান থেকে তাঁর নেতৃত্বে মৌন মিছিল বের হয়। মিছিলটি জেলা বিএনপি কার্যালয়ের ডান পাশের সড়ক থেকে বের হয়ে বঙ্গবাজার, এমকে রোডসহ শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদিক্ষণ শেষে দলীয় কার্যালয়ে এসে শেষ হয়। দলীয় নেতাকর্মীরা মুখে কালো কাপড় বেঁধে ও হাতে কালো পতাকা নিয়ে মিছিলে অংশ নেন।
মৌন মিছিলে  অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন খোকন,সদস্য সচিব অ্যাড.সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু,সদস্য গোলাম রেজা দুলু,এ কে শরফুদ্দৌলা ছোটলু,মারুফুল ইসলাম,অ্যাড.হাজী আনিছুর রহমান মুকুল,মুনির আহমেদ সিদ্দিকী বাচ্চু,কাজী আজম,সিরাজুল ইসলাম, নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এহানুল হক সেতু,সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আঞ্জুরুল হক খোকন,সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক,আশরাফুজ্জামান মিঠু, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম যশোর ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক আমিনুর রহমান,জেলা যুবদলের সভাপতি এম তমাল আহমেদ,জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি রবিউল ইসলাম,জেলা ছাত্রদলের সভাপতি রাজিদুর রহমান সাগর প্রমুখ।
জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাড.সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু বলেন,এই অবৈধ সরকারের শাসনকালে আমাদের ৬ শতাধিক নেতাকর্মী গুমের শিকার হয়েছেন। তাদের স্মরণে দিবসটি পালন উপলক্ষে মৌন মিছিলের আয়োজন করা হয়। কিন্তু পুলিশ সেটিকে বাধাগ্রস্ত করার ব্যাপক চেষ্টা চালায়। তবে পুলিশের বাধা প্রতিহত করে শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল হয়। স্বাধীন বাংলাদেশে আওয়ামী সরকার সর্বপ্রথম গুমের রাজনীতি শুরু করেছিল। বতর্মান শেখ হাসিনার নেতত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার সেই গুমের রাজনীতি অব্যাহত রেখেছে। এই সরকারের বিদায় না হওয়া পর্যন্ত দেশে গুমের রাজনীতি বন্ধ হবে না।
এ বিষয় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জুয়েল ইমরান বলেন,বিএনপির পক্ষ থেকে আমরা এই জাতীয় কোনো অভিযোগ পাইনি। তাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটেনি।