রহমতের বরিষায় সিক্ত হবার মাস রমজান

0

মহিউদ্দীন মোহাম্মদ ॥ আজ তিন রমজান। মুমিনের ইনসানে কামিল বা পরিপূর্ণ মানুষ হওয়ার সুবর্ণ সময় এখন। নিজের মনের আয়নায় নিজেকে একবার দেখে নিই আমরা। রহমতের বরিষায় সিক্ত হবার আকাক্সক্ষা থেকে সিয়ামগুলো যাতে ঠিকমত পরিপালন করা যায় সেদিকে ভ্রুক্ষেপ করা দরকার। এই সেই মাস যে মাসে নাজিল হয়েছে পবিত্র আল কুরআন। আল্লাহ বলেন, ‘আমি মানুষের হিদায়াতের জন্য পথ নির্দেশনার বিস্তারিত বর্ণনাসহ সত্য মিথ্যার মাপকাঠি হিসেবে এই রমজান মাসেই কুরআন নাজিল করেছি।’
সুতরাং এ মাসে কুরআনের শামিয়ানায় নিজেকে সামিল করা প্রয়োজন। মানুষ যেখানে তার মুক্তির পথ হারিয়ে হয়রান, মহামুক্তির পথ বাতলে দেয় পবিত্র আল কুরআন। এটাকে না বোঝার ভয়, না ছোঁয়ার ভীতি এমনভাবে আমাদের পেয়ে বসেছে যেন ছুঁলে এটি কী না কী হয়ে যাবে। হ্যাঁ, কুরআন ছুঁলে একটি ঘটনা-ই ঘটবে তা হচ্ছেÑ সোনার মানুষ হওয়ার অমিত সম্ভাবনা। আসুন এই রমজানে সে সম্ভাবনাকে কাজে লাগায়। বয়ান আমরা কম শুনছি না। কাজের কাজ কিচ্ছু হচ্ছে না। এবার একটা কাজ করা যেতে পারে বাংলা অনুবাদসহ ভালো একটা কুরআন শরিফ সংগ্রহ করে পড়তে থাকি। মাস জুড়ে যতটুকু পারা যায় সময়টাকে কাজে লাগান। ইবাদতের এই মৌসুমে সুযোগটিকে আসুন কাজে লাগায়Ñ কী লেখা আছে কুরআনে একবার পড়ে দেখি। কী সেই আকর্ষণ যার কারণে বুনো মানুষেরা সোনার মানুষে পরিণত হলো। কুরআনের অলৌকিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলার আগে একবার এটি পাঠ করে দেখুন না সকলে। শুধু ঘরে উঁচু স্থানে তুলে রাখার মধ্যে কোন ফজিলত নেই। কুআনের হক হলোÑএটাকে অনুধাবন করা।
মসজিদে খতম তারাবিহতে হাফেজ সাহেবের পেছনে দঁড়িয়ে আমরা এই কুরআন শুনছি। যদি এর মানে জানা থাকতো কতই না ভাল লাগতো তা।
প্রিয় পাঠক, এ মাসটাকে কাজে লাগানোর ব্যাপারে মুফতীয়ে আজম ম্ওালানা মুফতী মুহাম্মদ শফী (রহ.) বলতেন, রমজানকে স্বাগত জানানো এবং রমজানের প্রস্তুতির পদ্ধতি হলো এই যে, মানুষ প্রথমে চিন্তা করবে এ মাসে তার ব্যবসা বাণিজ্য এবং তার দৈনিক অন্যান্য কর্মকা-ের মধ্যে কোনটি স্থগিত করা যায়। যেসব কর্মকা- স্থগিত করা সম্ভব হয় সেগুলো রমজান মাসে স্থগিত করে নেবে। এর মাধ্যমে যে সময়টুকু বের হয়ে আসবে তা একমাত্র ইবাদত বন্দেগীর মধ্যে কাটিয়ে দেবে।
এ মাসে রোজা তো রাখতেই হবে আর তারাবিহর নামাজও আদায় করতেই হবে। এছাড়া যতদূর সম্ভব নিজের সময় ইবাদত বন্দেগীতে অতিবাহিত করবে। এ মাসে কুরআন তিলাওয়াতের প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করবে। কেননা রমজান মাসের সঙ্গে কুরআনের একটি বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। সুতরাং অধিকহারে কুরআন তিলাওয়াত করবে।
ইমাম আবু হানিফা (রহ.) রমজান মাসে দৈনিক দিনের বেলায় এক খতম এবং রাতের বেলায় এক খতম কুরআন তিলাওয়াত করতেন। এছাড়া তারাবিহর নামাজে তিনি এক খতম কুরআন তিলাওয়াত করতেন। এভাবে তিনি এক রমজানেই ৬১ বার কুরআন খতম করতেন। বড় বড় বুজুর্গানে দ্বীনের জীবনী অনুসন্ধান করলেও দেখা যায়, রমজানে তারা কুরআন তিলাওয়াতে বেশ গুরুত্বারোপ করেছেন। সুতরাং আমাদের জন্যও জরুরি অন্যান্য সময়ের তুলনায় রমজান মাসে কুরআন তিলাওয়াতের পরিমাণ বৃদ্ধি করে দেওয়া।