দুর্নীতি মামলায় কেশবপুরের সাগরদাঁড়ির সাবেক ইউপি সচিবের কারা ও অর্থদণ্ড

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরে দুর্নীতির একটি মামলায় কেশবপুর উপজেলার সাগরদাঁড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সচিব মোস্তাফিজুর রহমানকে পৃথক ধারায় ৬ বছরের সশ্রম কারাদ- প্রদান করেছেন আদালত। একই সাথে তাকে অর্থদ- প্রদান করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার স্পেশাল জজ মোহাম্মদ সামছুল হক এই রায় প্রদান করেন। বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাড. জুলফিকার আলী ভুট্টো।
সাজাপ্রাপ্ত আসামি মোস্তাফিজুর রহমান কেশবপুর উপজেলার বিদ্যানন্দকাঠি গ্রামের খোকন মোড়লের ছেলে। রায় ঘোষণার সময় তিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
আদালত ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালের ২৪ এপ্রিল কেশবপুর উপজেলার সাগড়দাঁড়ি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান রাহাজ উদ্দীন বাদী হয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ও দ-বিধির পৃথক ধারায় মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলায় উল্লেখ করা হয়, ২০০৩ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত রাহাজ উদ্দিন চেয়ারম্যান ছিলেন। এই সময়কালে ইউনিয়নে সচিবের দায়িত্বে ছিলেন মোস্তাফিজুর রহমান। এরই মধ্যে ২০১১ সালের ৪ জানুয়ারি এলজিএসপি থেকে ৫ লাখ ৫৬ হাজার ৩শ টাকা উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দ আসে। ওই টাকা কেশবপুর শাখা সোনালী ব্যাংকে ইউনিয়নের নিজস্ব হিসাবে জমা রাখা হয়। এরপর সচিব হিসেবে বাজেট বরাদ্দ পরিষদের মিটিংয়ে মোস্তাফিজুর জানান, ৫ লাখ ৬ হাজার ৩শ টাকা বরাদ্দ এসেছে। একই সাথে ওই টাকা প্রকল্প সদস্যদের মধ্যে কর্মবন্টন করা হয় বলে জানান তিনি। কিন্তু তিনি বাকি ৫০ হাজার টাকার বিষয়টি গোপন রাখেন। এরপর চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর জাল করে তিনি দুই দফায় ওই ৫০ হাজার টাকা ব্যাংক থেকে উঠিয়ে নেন। ২০১১ সালের জুলাই মাসে রাহাজ উদ্দীন তার দায়িত্ব হস্তান্তরের সময় অডিট রিপোর্টে দুর্নীতির বিষয়টি জানতে পারেন। এ কারণে তিনি নিজেই বাদী হয়ে মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে যশোরের স্পেশাল জজ আদালতে মামলা করেন। ২০১৭ সালের ২২ জুন দুদকের সমন্বিত যশোর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ওয়াজেদ আলী গাজী মামলাটি তদন্ত করে আদালতে চার্জশিট জমা দেন। এই মামলায় আসামি মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক তাকে দ-বিধির ৪০৯ ধারায় ৩ বছরের সশ্রম কারাদ- ও ১০ হাজার টাকা অর্থদ- অনাদায়ে আরও ৪ মাসের বিনাশ্রম কারাদ- এবং ৪৬৭ ধারায় ৩ বছরের সশ্রম কারাদ- ও ১০ হাজার টাকা অর্থদ- অনাদায়ে আরও ৪ মাসের বিনাশ্রম কারাদ-ের আদেশ দেন।