জীবননগর উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

0

 

জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা) সংবাদদাতা ॥ চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার আবু হাসান ও কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে শিক্ষকদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও দুর্নীতি -অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
জীবননগর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি -সম্পাদক স্বাক্ষরিত এক লিখিত অভিযোগে জানা যায়, জীবননগর উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার আবু হাসান ও কামরুজ্জামান উপজেলায় যোগদানের পর তারা নানা কৌশলে সরকারি বরাদ্দকৃত টাকা পয়সা দুর্নীতির মাধ্যমে আত্মসাত করে আসছেন। তাদের দুর্নীতি -অনিয়মের ব্যাপারে কোন অভিযোগ -আপত্তি করলে সেই শিক্ষকের সাথে খারাপ আচরণ করা হয় এবং ক্ষমতার দাপটে নানাভাবে হয়রানি করা হয়।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সহকারী শিক্ষা অফিসার আবু হাসান ও কামরুজ্জামান পরস্পর যোগসাজস করে ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে হাসাদহ ক্লাস্টারের ২৪টি বিদ্যালয়ে ডিজিটাল হাজিরা স্থাপন কালে প্রতিটি বিদ্যালয় থেকে ৩ হাজার করে টাকা উৎকোচ গ্রহণ করেন। একই অর্থ বছরে জাইকার একটি প্রশিক্ষণ হয়। সেই প্রশিক্ষণের ক্লাস্টার বই তৈরি করে বইয়ের মূল্য নির্ধারণ করেন। সেই বইয়ের দাম শিক্ষকদের হাজিরার টাকা থেকে নেয়া হয়। অন্যদিকে মিনাজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংস্কার/মেরামত বাবদ বরাদ্দকৃত টাকা আবু হাসান নিজে করার মধ্য দিয়ে সরকারি টাকা তছরুপ করেন। শিক্ষক সমিতির দাবি তিনি যে,চেয়ারে বসেন তা ওই টাকা দিয়ে ক্রয করা।
অভিযোগে আরো জানা যায়, প্রতিটি বিদ্যালয়ের অনুকূলে প্রতি বছর যে টাকা বরাদ্দ পাওয়া যায়,তার জন্য সহকারী শিক্ষা অফিসারের প্রত্যয়ন প্রয়োজন হয়। আর সেই প্রত্যয়ন নিতে স্কুল প্রতি ৫০০ টাকা করে আবু হাসান আদায় করে থাকেন।
এদিকে ২০২১-২০২২ অর্থ বছরে সিøপের টাকা দিয়ে সহকারী শিক্ষা অফিসার আবু হাসান ডিজিটাল ডিসপ্লে­ বোর্ড ক্রয় করেন এবং তিনি নিজেই সেটিং মিস্ত্রি বনে গিয়ে ১০ হাজার টাকায় ক্রয় করা বোডের দাম ১৩ হাজার টাকা নির্ধারণ করেন।
একই অর্থ বছরে সদর ক্লাস্টারের সহকারী শিক্ষা অফিসার কামরুজ্জামান ডিজিটাল ডিসপ্লে থেকে তিন হাজার করে করেন। তার বিরুদ্ধে উপজেলা শিক্ষক সমিতির আরো অভিযোগ তিনি নিয়মিত অফিস করেন না। ফলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক -কর্মচারীদেরকে ভোগান্তির শিকার হতে হয়।
এ ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকের দাবি ওই দুই সহকারী শিক্ষা অফিসার তাদের ইচ্ছা মাফিক কাজে রাজি না হলে নানা অজুহাতে হয়রানি করা হয়ে থাকেন। ফলে তাদের ব্যাপারে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না।
উপজেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি শামীম আক্তার ও সাধারণ সম্পাদক তকারুজ্জামান অভিন্ন বক্তব্যে বলেন,সহকারী শিক্ষা অফিসার আবু হাসান ও কামরুজ্জামানের দুর্নীতি আর অনিয়মে আমরা অতিষ্ঠ। টাকা ছাড়া তাদের নিকট থেকে কোন কাজ করানো যায় না। তাদের কাছে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ রীতিমতো জিম্মি হয়ে পড়েছে। তাদের অত্যাচারে শিক্ষক সমাজ অতিষ্ঠ।
অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষা অফিসার আবু হাসানের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় এবং কামরুজ্জামান তার ফোনের সংযোগ বার বার বিচ্ছিন্ন করে দেয়ায় তাদের কারো মন্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জালাল উদ্দিন বলেন, আমি অল্পদিন হল জীবননগরে যোগদান করেছি। ওই দুই সহকারী শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের ব্যাপারে আমার কোন কিছু জানা নেই। অন্যদিকে উপজেলা শিক্ষক সমিতিও আমাকে কোন কিছু জানায়নি।