কালীগঞ্জে ব্যাংকের ঋণ খেলাপির মামলায় পলাতক জহর ডাক্তার

0

কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) সংবাদদাতা ॥ কালীগঞ্জ উপজেলার ফয়লা গ্রামের জহুরুল হক ওরফে জহর ডাক্তার অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেডের ঋণ খেলাপি মামলায় পালিয়ে বেড়াচ্ছেন । ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে তিনি অঢেল সম্পদের মালিক বনে গেছেন।
জানা গেছে, ২০১৯ সালের ৭ জানুয়ারি অগ্রণী ব্যাংকের ১০ কোটি ৭৬ লাখ ৪৫ হাজার ৪৫ টাকা, মোকদ্দমার খরচ ও পরবর্তী সুদ আদায়ের জন্য ঢাকার অর্থঋণ আদালত নং-১ এ একটি মামলা দায়ের করে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়কের বেজপাড়া নামক স্থানে অবস্থিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান জহুরুল অ্যাগ্রো ফুড প্রোডাক্টস ইন্ডাস্ট্রিজ নামে ঋণ গ্রহণ করেন জহুরুল হক। ১৪০ শতক জমির ওপর তৈরি করেন অটো রাইস মিল। এরপর ব্যাংক টাকা আদায়ের জন্য বিভিন্নভাবে চেষ্টা করলে জহুরুল হক ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে ব্যর্থ হন।
২০১৫ সালে দুটি গণমাধ্যমে বন্ধকী সম্পত্তি বিক্রয়ের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হলেও কোন দরপত্র দাখিল না হওয়ায় সেটিও বিক্রি করতে পারেনি ব্যাংক। মামলাটি ঝিনাইদহ অর্থঋণ আদালতে স্থানান্তর করা হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ১১টি শেখ ট্রাভেলস পরিবহন, কালীবাড়ী সড়কে দারুস শেফা প্রাইভেট হাসপাতাল নামে একটি ক্লিনিক, নলডাঙ্গা এলাকার কাজুলী বিলে জমি ক্রয়, মাগুরায় ৫ তলা বিশিষ্ট একটি ভবনসহ নামে-বেনামে অঢেল সম্পত্তির মালিক বনে গেছেন। ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ না করে মামলার হাত থেকে বাঁচতে তিনি এখন পলাতক। তিনি প্রভাবশালী হওয়ায় ব্যাংকের পাওনা টাকা উদ্ধারে হিমশিম খাচ্ছেন বলে জানা গেছে।
বিষয়টি নিয়ে অভিযুক্ত জহুরুল হকের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করার চেষ্টা করলেও তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
এ ব্যাপারে অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেডের উপ-মহাব্যবস্থাপক ও অঞ্চল প্রধান মানুষ কুমার পাল জানান, ঢাকা প্রিন্সিপ্যাল অফিস থেকে ঋণটি দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে মামলাটি ঝিনাইদহ অর্থঋণ আদালতে স্থানান্তর করা হয়েছে এবং মামলাটি দেখভালের জন্য আমাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
ব্যাংকের প্রিন্সিপাল অফিসের এমডি সামছুল ইসলাম জানান, আইনগতভাবে ঋণের টাকা আদায় করার জন্য আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।