প্রচারণা শেষ, সুপ্রিম কোর্ট বারের নেতৃত্ব যাচ্ছে কার হাতে

0

লোকসমাজ ডেস্ক॥ দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির (বার) ভোট ঘিরে নির্বাচনী প্রচারণা শেষ হয়েছে। এখন পরবর্তী নেতা কে হচ্ছেন, তা নিয়ে আইনজীবীদের মাঝে চলছে নানা আলোচনা, জল্পনা। আগামীকাল মঙ্গলবার (১৫ মার্চ) সকাল ১০টায় ভোট গ্রহণ শুরু হবে। দুই দিনের ভোট গ্রহণ শেষ হবে বুধবার (১৬ মার্চ) বিকেল ৫টায়। এবারের নির্বাচনে সরকার সমর্থক সাদা ও বিএনপিপন্থিদের নীল প্যানেলের পক্ষে জমজমাট প্রচারণায় মুখর ছিল সুপ্রিম কোর্ট চত্বর ও আইনজীবী সমিতি ভবন এলাকা। নির্বাচনে ১৪টি পদের বিপরীতে পূর্ণাঙ্গ প্যানেল দিয়েছেন এই দুই পক্ষের আইনজীবীরা। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সভাপতি পদে দুজন, সহ সভাপতি ও সহ সম্পাদক পদে জামায়াতপন্থি আইনজীবীদের ২ জনসহ মোট ৩৩ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তবে সরকারপন্থি আইনজীবীদের মধ্য থেকে সভাপতি পদে একজন বিদ্রোহী প্রার্থী হলেও কোনো প্যানেল দাখিল করেননি। অন্যদিকে সম্পাদক পদে প্রার্থিতা ঘোষণা করেও সরে পড়েন আইনজীবী অ্যাডভোকেট নাহিদ সুলতানা যুথী। অন্যদিকে বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে প্রার্থী ঠিক করার পর কেউ বিদ্রোহী হয়নি। তবে তাদের মিত্র জামায়াত দুটি পদে বিদ্রোহী প্রার্থী ঘোষণা করে। ২০২২-২৩ সালের জন্য ১৪ সদস্যের কার্যকরী কমিটির নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী সরকার ও বিরোধী জোটের উভয় প্যানেল। নির্বাচনে প্রচারণার পুরো সময়জুড়ে আইনজীবী সমিতিতে প্রার্থীরা তাদের ভোট প্রার্থনা করেছেন। দুই প্যানেলই প্রার্থীদের পরিচিতি অনুষ্ঠান করেছেন। আইনজীবীদের কাছে উভয়পক্ষই নানান প্রতিশ্রুতি দিয়ে নিজেদের প্রার্থীদের বিজয়ী করার জন্য ভোট চেয়েছেন। এ ব্যাপারে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের আহ্বায়ক ও বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন জাগো নিউজকে বলেন, আমাদের দলের প্রার্থী হিসেবে যারা রয়েছেন, দলের পক্ষ থেকে সবাই বসে সিদ্ধান্ত নিয়েই তাদের মনোনয়ন দিয়েছি। আশা করি আমাদের প্যানেল এবারের ভোটে বিজয়ী হবে। এ প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. মোমতাজ উদ্দিন ফকির জাগো নিউজকে বলেন, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি একটি সেবামূলক সংগঠন। এছাড়া আইনজীবী সমিতির জন্য আধুনিক একটি ২০ তলা ভবন তৈরির পরিকল্পনা আছে। আমি সভাপতি হলে আইনজীবীদের সেবায় যা যা করণীয়, করবো। সে কারণে সাধারণ আইনজীবীরা এবারের নির্বাচনে সমন্বয় পরিষদ সমর্থিত প্যানেলকে নির্বাচিত করে সমিতির হাারনো গৌরব ফিরিয়ে আনবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট নজিবুল্লাহ হিরু জাগো নিউজকে বলেন, এবারের নির্বাচনে আমাদের মাঝে সব ভেদাভেদ ভুলে একই সুরে কাজ করেছি। আশা করছি আমরা বিজয়ী হবো। অন্যদিকে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, আমরা এবারের নির্বাচনে যেসব প্রার্থী দিয়েছি, দলের নেতাদের সঙ্গে পরামর্শ করেই দিয়েছি। আশা করি সবার সম্মিলিত চেষ্টায় বিজয় আমাদের হবে। জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সুপ্রিম কোর্ট ইউনিটের সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল জব্বার (এজে) ভূঁইয়া জাগো নিউজকে বলেন, আমাদের সভাপতি প্রার্থী বারের সম্পাদক থাকাকালে অনেক কাজ করেছেন। এছাড়া আইনজীবীদের জন্য তিনি ফান্ড গঠনের কাজটি শুরু করেছিলেন। তার কাজের বিষয়ে আইনজীবীরা জানেন। আমরা পুরো প্যানেলে পাস করবো বলে আশা করি।
বিএনপির প্রার্থী ব্যারিস্টার বদরোদ্দোজা বাদল বলেন, দেশের সার্বিক পরিস্থিতি চিন্তা করে আইনজীবীরা আমাদের পূর্ণ প্যানেলকে বিজয়ী করবেন বলে প্রত্যাশা করছি। আমি সুপ্রিম কোর্ট বারের সব সদস্যদের কল্যাণে অতীতে ভূমিকা রেখে আসছি, বিজয়ী হলে আবারও ভূমিকা রাখার সুযোগ হবে। গত নির্বাচনে সভাপতিসহ ৮ পদে নির্বাচিত হয়েছিলেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্যানেল থেকে। আর সম্পাদকসহ ৬টি পদে বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত আইনজীবীরা জয় পান। এবারের নির্বাচন নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির (বার) সুপারিনটেনডেন্ট (তত্ত্বাবধায়ক) জাগো নিউজকে জানান, এবার মোট ৮ হাজার ৬২৩ জন আইনজীবী তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এ ওয়াই মশিহুজ্জামানকে আহ্বায়ক করে সাত সদস্যের নির্বাচন পরিচালনা উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা এরই মধ্যে নির্বাচনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন। মোট ৫১টি বুথে ভোট গ্রহণ করা হবে। আওয়ামী লীগ সমর্থিত (বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ) সাদা প্যানেলে সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. মোমতাজ উদ্দিন ফকির। সহ-সভাপতি পদে মো. শহীদুল ইসলাম ও মোহাম্মদ হোসেন এবং সম্পাদক পদে মো. আবদুন নুর (দুলাল)। কোষাধ্যক্ষ পদে মো. ইকবাল করিম, সহ-সম্পাদক পদে এ বি এম হামিদুল মিসবাহ ও মো. হারুন অর রশিদ। সাত সদস্য পদে প্রার্থী হয়েছেন- ফাতেমা বেগম, হাসান তারিক, মো. মনিরুজ্জামান রানা, মুনমুন নাহার, শফিক রায়হান শাওন, শাহাদাত হোসাইন (রাজিব) ও সুব্রত কুমার কুন্ডু। বিএনপি সমর্থিত (জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম) নীল প্যানেলে সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ব্যারিস্টার বদরোদ্দোজা বাদল। সহ-সভাপতি পদে মনির হোসেন ও মো. আসরারুল হক, সম্পাদক পদে মো. রুহুল কুদ্দুস (কাজল)। কোষাধ্যক্ষ পদে মোহাম্মদ কামাল হোসেন, সহ-সম্পাদক পদে মাহফুজ বিন ইউসুফ ও মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান খান। সাতটি সদস্য পদে ফাতিমা আক্তার, কামরুল ইসলাম, মাহদীন চৌধুরী, মো. আনোয়ারুল ইসলাম, মো. গোলাম আক্তার জাকির, মো. মঞ্জুরুল আলম (সুজন) ও মো. মোস্তফা কামাল বাচ্চু। প্যানেলের বাইরে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ব্যারিস্টার তানিয়া আমীর ও ইউনুছ আলী আকন্দ।অন্যদিকে জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীরা হলেন সহ-সভাপতি পদে মঈন উদ্দিন ফারুকী ও সহ-সম্পাদক পদে আব্দুল করিম। অপর একজন সহ-সম্পাদক প্রার্থী হলেন অ্যাডভোকেট ফরহাদ উদ্দিন ভুইয়া।