সয়াবিনে ভ্যাট প্রত্যাহারের খবর জানেন না অনেকেই

0

লোকসমাজ ডেস্ক॥ গত বৃহস্পতিবার ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে তেল, ডাল, ছোলা ও চিনির ওপর থেকে ভ্যাট প্রত্যাহারের কথা জানান অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। সয়াবিন তেলে আমদানি পর্যায়ে ১৫ শতাংশ এবং খুচরা পর্যায়ে ৫ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে জানেন না বলে জানিয়েছেন বেশকিছু দোকানি ও ক্রেতা সাধারণ। এদিকে ভোজ্য তেল আমদানি ও খুচরা মূল্যে ভ্যাট প্রত্যাহারের প্রভাব ঢাকার পাইকারি বাজারে লক্ষ্য করা গেলেও ছোট বাজারগুলোতে কোনো প্রভাব দেখা যায়নি। কোনো কোনো বাজারের দোকানগুলোতে তেল সরবরাহও কম দেখা গেছে।
খুচরা বিক্রেতারা জানান, ভালোভাবে সরবরাহ দেয়া হচ্ছে না তাদের। ফলে বাজারে একটা কৃত্রিম সংকট লেগেই আছে। এছাড়া অনেকেই অভিযোগ করেছেন, ভ্যাট প্রত্যারের বিষয়ে এনবিআর থেকে কোনো প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়নি। ফলে কোন পণ্যে ঠিক কত শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহার হয়েছে, কবে থেকে তা কার্যকর হবে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি বিভিন্ন অজুহাতে দফায় দফায় সয়াবিন তেলের মূল্য ও সংকট তৈরি করে অসাধু ব্যবসায়ীরা। গত ১লা মার্চ থেকে লিটারে আরও ১২ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব করে সরকারকে চিঠি দিয়েছিল ভোজ্য তেল পরিবেশকরা। তবে সরকার তা নাকচ করে দেয়। এরপর বাজারে দেখা দেয় অস্থিরতা। এই অবস্থায় বৃহস্পতিবার সরকার ভ্যাট তুলে নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে এখনো সার্কুলার জারি হয়নি। মগবাজারস্থ মধুবাগ বাজারের ব্যবসায়ী মতিন বলেন, দাম কমা তো পরের কথা, দোকানে কোনো তেলই নাই। কাস্টমার ফেরত যাচ্ছে। তেল দিতে পারছি না। এই বাজারের বেশ কয়েকটি দোকানে তেল দেখা যায়নি। কাওরান বাজারে এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রি হয়েছে ১৬৮ টাকায়। তবে সরবরাহ সংকটের কথা বলে খুচরা বাজারে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ১৭৫ টাকায়। এ ছাড়া বোতলজাত পাঁচ লিটারের সয়াবিন বিক্রি হয়েছে ৮০০ থেকে ৮৪০ টাকায়। আর টিসিবির তথ্য বলছে, সপ্তাহের ব্যবধানে পাঁচ লিটার বোতলে দাম বেড়েছে প্রায় ৩ শতাংশ। কাওরান বাজারের দ্বিতীয় তলার তেল ব্যবসায়ী শওকত মিয়া বলেন, দোকান ফাঁকা, তেল নেই। চাইলে দেয় না। তিনি বলেন, সপ্তাহখানেক ধরে তেলের সরবরাহ কমিয়ে দেয়া হয়েছে। মিল মালিকরা সরবরাহ না করলে, তেলের সংকট দূর করা সম্ভব না। বলেন, দিনে দরকার ২০০ লিটার তেল সরবরাহ করা হচ্ছে ২০ থেকে ৫০ লিটার।
এদিকে বিভিন্ন বাজারে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে সবজি। গতকাল বিভিন্ন বাজারের ব্যবসায়ীরা বেশি দামে বিক্রি করছেন পটল। বাজারে নতুন আসা এ সবজিটির কেজি বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১২০ টাকা। গত সপ্তাহে ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া বরবটির দাম কমে এখন বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা। বাজারে নতুন আসা আর এক সবজি ঢেঁড়শের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা। গত সপ্তাহে এই সবজির কেজি বিক্রি হয় ১১০ থেকে ১২০ টাকা। পটল, বরবটি এবং ঢেঁড়শের পাশাপাশি কেজি করলার কেজিও একশ’ টাকা। এ সবজিটির কেজিও বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা। এক সপ্তাহ আগে করলার কেজি ছিল ১০০ থেকে ১২০ টাকা। অন্য সবজির মধ্যে পাকা টমেটো ৩০ থেকে ৪০ টাকা, ফুলকপি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, শিমের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৬০ টাকা, শালগম (ওল কপি) ৩০ থেকে ৪০ টাকা, গাজর ২০ থেকে ৩০ টাকা, মুলা ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া লাউয়ের পিস বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা। লালশাকের আঁটি ১০ থেকে ১৫ টাকা, পালংশাকের আঁটি বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ১৫ টাকা। এদিকে, গত সপ্তাহে হুট করে দাম বেড়ে ৬০ থেকে ৬৫ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া পিয়াজের দাম কিছুটা কমেছে। এখন পিয়াজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৫৫ টাকা।
সবজি বিক্রেতা হোসেন আলী বলেন, বাজারে নতুন আসা সবজির দাম একটু বেশি। করলার সরবরাহ এখন কম, তাই দাম বেশি। তবে কয়েকদিন পর এসব সবজির দাম কমে যাবে।
বাজারে ব্যবসায়ীরা ব্রয়লার মুরগির কেজি বিক্রি করছেন ১৬০ থেকে ১৬৫ টাকা। সোনালি মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৯০ থেকে ৩২০ টাকা। সপ্তাহের ব্যবধানে মুরগির দামে পরিবর্তন আসেনি। গরুর মাংস গত সপ্তাহের মতো ৬৫০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। ফার্মের মুরগির ডিমও গত সপ্তাহের মতো ১১৫ টাকা ডজন বিক্রি হচ্ছে। বাজারে রুই মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৮০ থেকে ৪৫০ টাকা। একই দামে বিক্রি হচ্ছে কাতল মাছ। শিং ও টাকি মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা। শোল মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৬৫০ টাকা। তেলাপিয়া ও পাঙ্গাস মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৭০ টাকা। এক কেজি ওজনের ইলিশ মাছ বিক্রি হচ্ছে ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা। ছোট ইলিশ মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা।