খুলনায় নারী ধর্ষণের প্রমাণ পেল পুলিশ,এসআই জাহাঙ্গীর বরখাস্ত

0

স্টাফ রিপোর্টার, খুলনা ॥ খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা শাখার এসআই মো. জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে আবাসিক হোটেলে মেয়ের সামনে মাকে ধর্ষণের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে খুলনা থানা পুলিশ। এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার এসআই জাহাঙ্গীরকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ধর্ষণের শিকার নারীর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া আদালত তার প্রত্যক্ষদর্শী মেয়ের জবানবন্দি রেকর্ড করেছেন। খুলনা থানা পুলিশের ওসি হাসান আল মামুন জানান, বৃহস্পতিবার সকালে তারা হোটেল সুন্দরবন পরিদর্শন এবং হোটেলের মালিক ও কর্মচারীদের সাথে কথা বলেন। এছাড়া ধর্ষণের শিকার নারীর সাথেও কথা বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের সাথে কথাবার্তা বলে এসআই জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে ধর্ষণের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। তিনি জানান, প্রত্যক্ষদর্শী ওই নারীর মেয়েকে (১১) সকালে মহানগর হাকিম আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়। আদালত তার জবানবন্দি রেকর্ড করেছেন। এসআই জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে ধর্ষণের ঘটনা তদন্তে খালিশপুর জোনের সহকারী কমিশনার হুমায়ুন কবীরকে প্রধান করে এক সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ। বৃহস্পতিবার এসআই জাহাঙ্গীরকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। তিনি আরও জানান, আদালতের অনুমতি নিয়ে এসআই জাহাঙ্গীরকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হবে। সেখানে তার শরীরের বিভিন্ন আলামত ও ডিএনএ নেওয়া হবে।
তদন্ত কমিটির প্রধান ও সহকারী কমিশনার হুমায়ুন কবীর জানান, তিনি ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছেন। ২/১ দিনের মধ্যে তিনি প্রতিবেদন জমা দেবেন।
খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের (ওসিসি) সমন্বয়কারী ডা. অঞ্জন কুমার চক্রবর্তী জানান, সকালে ধর্ষণের শিকার নারীকে ওসিসিতে ভর্তির পর প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এরপর তাকে মানসিক কাউন্সিল দেওয়া হয়। তার শরীর ও পোশাক থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহসহ ডাক্তারি পরীক্ষা করা হয়েছে। হোটেল সুন্দরবনের কর্মচারী গোলাম মোস্তফা জানান, এসআই জাহাঙ্গীর মাঝে মধ্যে তাদের হোটেলে আসতেন। মঙ্গলবার রাতে তিনি তাকে সাথে নিয়ে মা-মেয়ে যে কক্ষে ছিলেন সেই কক্ষের দরজায় গিয়ে নক করেন। তারা দরজা খুলে দেওয়ার পর তাকে (হোটেল কর্মচারীকে) মারধর করে সেখান থেকে তাড়িয়ে দেয়া হয়। এরপর কক্ষের ভেতরে কী ঘটেছে তা তিনি দেখেননি। তবে, ওই নারীর চিৎকারে হোটেলের লোকজন নিচতলার মেইন গেটে তালা লাগিয়ে দেন। হোটেলের আরেক কর্মচারী সাজ্জাদ হোসেন সজল জানান, তিনি রাতে বাসায় ছিলেন। রাত দুটোর দিকে মোবাইল ফোনে ঘটনা শুনে হোটেলে আসেন। এসে দেখেন এসআই জাহাঙ্গীরকে হোটেলের রিসিপশনে বসিয়ে রাখা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার বাজিকরেরখন্ড গ্রামের এক নারী তার ১১ বছরের অসুস্থ মেয়ে ও ২৬ বছর বয়সের ভাগ্নেকে সাথে নিয়ে মেয়েকে ডাক্তার দেখানোর জন্য মঙ্গলবার বিকেলে খুলনায় আসেন। রাতে তারা নগরীর শহীদ হাদিস পার্কের সামনে হোটেল সুন্দরবনে ওঠেন। রাত আড়াইটায় এসআই জাহাঙ্গীর মা-মেয়ের কক্ষে ঢুকে মেয়ের সামনে মাকে ধর্ষণ করেন। এরপর হোটেলের কর্মচারীরা তাকে আটক করে থানায় খবর দিলে পুলিশ এসে তাকে থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনায় মঙ্গলবার দিবাগত রাত চারটার দিকে ওই নারী খুলনা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। এসআই জাহাঙ্গীর বর্তমানে খুলনা জেলা কারাগারে রয়েছেন। তিনি চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলার বিষ্ণুপুর গ্রামের মো. আতিয়ার রহমানের ছেলে। ঘটনার সময় এসআই জাহাঙ্গীর মাদকাসক্ত ছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।