যশোরে ফেনসিডিলের মামলায় এক ব্যক্তির কারাদণ্ড

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরে ফেনসিডিলের মামলায় সোমবার শুকুর আলী নামে এক ব্যক্তিকে ২ বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৩ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছেন আদালত। অতিরিক্ত দায়রা জজ ১ম আদালতের বিচারক মোস্তফা কামাল এই রায় প্রদান করেন। সাজাপ্রাপ্ত আসামি শুকুর আলী যশোর শহরের ঘোপ জেলরোড বাইলেনের মৃত হজরত আলীর ছেলে। রায় ঘোষণার সময় তিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।মামলার বিবরণে জানা গেছে, ২০০৫ সালের ২৬ নভেম্বর যশোরের স্বাধীনতা সরণি আরপি চেকপোস্টের সামনে থেকে ৬৫ বোতল ফেনসিডিল ও একটি মোটরসাইকেলসহ শুকুর আলীকে আটক করেন র‌্যাব সদস্যরা। এ ঘটনায় র‌্যাব-৬ যশোর ক্যাম্পের তৎকালীন সার্জেন্ট শফিকুল ইসলাম কোতয়ালি থানায় মামলা করেন। ২০০৬ সালের ৫ মার্চ এই মামলার তদন্ত শেষে আসামি শুকুর আলীকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন কোতয়ালি থানার তৎকালীন এসআই আমিনুল ইসলাম। মামলায় আসামি শুকুর আলীর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক তাকে উল্লিখিত দণ্ড প্রদান করেন। সেই সাথে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়।
যশোরে ফিউচার আউট সোর্সিংয়ের দুই পরিচালকের বিরুদ্ধে মামলা /২
স্টাফ রিপোর্টার ॥ চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেওয়া এবং শিক্ষাগত যোগ্যতার মূল সনদপত্রসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আটকে রাখার অভিযোগে যশোরে ফিউচার আউট সোর্সিং প্রাইভেট লিমিটেডের ২ জন পরিচালকের বিরুদ্ধে কোতয়ালি থানায় মামলা হয়েছে। গত রোববার রাতে সদর উপজেলার মোবারককাটি গ্রামের নুর হোসেন বিশ্বাসের ছেলে ইব্রাহিম বিশ্বাস (২২) মামলাটি করেছেন। আসামিরা হলেন, ফিউচার আউট সোর্সিং প্রাইভেট লিমিটেডের পরিচালক যথাক্রমে ঝিকরগাছা উপজেলার পুরন্দপুর গ্রামের রবিউল ইসলামের ছেলে শরিফুল ইসলাম রাজু (২৩) ও যশোর শহরের বেজপাড়া তালতলা মোড় এলাকার মৃত আলা উদ্দিন আহম্মেদের ছেলে রিয়াজ উদ্দিন আহম্মেদ (৩৫)। কর্মকর্তারা প্রতারণার মাধ্যমে বহু বেকার যুবকের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলেও তথ্য পাওয়া গেছে।
ভুক্তভোগী ইব্রাহিম বিশ্বাসের অভিযোগ, আসামিরা মোবাইল ফোনের মেসেজ পাঠিয়ে প্রচার করেন যে, তাদের প্রতিষ্ঠানে চাকরি দেওয়া হচ্ছে। এ ধরনের মেসেজ পেয়ে ইব্রাহিম বিশ্বাসসহ তার বন্ধু ও পরিচিত ১০ ব্যক্তি বিভিন্ন সময় আসামিদের সাথে দেখা করেন। আসামিরা এ সময় তাদের কাছে অগ্রিম জামানত বাবদ অফেরৎযোগ্য ৫০ হাজার টাকা করে দাবি করেন। চাকরির আশায় তাদের এই প্রস্তাবে রাজি হয়ে গত ২৫ সেপ্টেম্বর সকালে যশোরের খোলাডাঙ্গা মুন্সীপাড়াস্থ প্রতিষ্ঠান কার্যালয়ে গিয়ে আসামি শরিফুল ইসলাম রাজুর হাতে ৫০ হাজার টাকা তুলে দেন ইব্রাহিম বিশ্বাস। তখন তাকে টাকা প্রাপ্তির একটি রশিদ দেওয়া হয় এবং চাকরি দেওয়ার শর্তে আসামি শরিফুল ইসলাম রাজু ও রিয়াজ উদ্দিন আহম্মেদ তার এসএসসি পরীক্ষার মূল সনদপত্র জমা রেখে দেন। ইব্রাহিম বিশ্বাসকে বলা হয়, ১৪ অক্টোবরের মধ্যে তাকে চাকরিতে নিয়োগ দেওয়া হবে এবং তার মাসিক বেতন সাড়ে ১৮ হাজার টাকা। কিন্তু নির্ধারিত তারিখের মধ্যে তাকে চাকরি দিতে ব্যর্থ হওয়ায় ইব্রাহিম হোসেন আসামিদের কাছে টাকা এবং জমা রাখা এসএসসি পরীক্ষার মূল সার্টিফিকেট ফেরত চান। তবে আসামিরা আজ না কাল এভাবে ঘোরাতে থাকেন।
সর্বশেষ গত রোববার বেলা পৌনে ৩টার দিকে ওই প্রতিষ্ঠানে গিয়ে আসামি শরিফুল ইসলাম রাজু ও রিয়াজ উদ্দিন আহম্মেদের কাছে টাকা এবং এসএসসি পরীক্ষার মূল সার্টিফিকেট ফেরত চান ইব্রাহিম বিশ্বাস। কিন্তু আসামিরা তাকে টাকা এবং শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেট ফেরত দিতে অস্বীকার করেন। এমনকী এ নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে তাকে ক্ষতি করার হুমকি প্রদান করেন তারা। ফলে কোনো উপায় না পেয়ে থানায় মামলা করেছেন ইব্রাহিম বিশ্বাস।
মামলায় ইব্রাহিম বিশ্বাস উল্লেখ করেছেন, চাকরি দেওয়ার কথা বলে তার মতো অনেকের কাছ থেকে নগদ টাকা হাতিয়ে নেওয়া ছাড়াও এসএসসি পরীক্ষার মূল সনদপত্র, জন্ম সনদ ও জাতীয় পরিচয়পত্র রেখে দিয়েছেন আসামিরা। এর মধ্যে কেশবপুর উপজেলার বাঁশবাড়িয়া গ্রামের আনিছুল মোড়লের ছেলে আবু হাসানের কাছ থেকে ৬০ হাজার টাকা, সদর উপজেলার মালঞ্চী গ্রামের মতিয়ার রহমানের ছেলে শফিয়ার রহমানের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা, বাগেরহাট সদর উপজেলার ডেমা গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে সাব্বির তরফদারের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা, যশোরের শার্শা উপজেলার দক্ষিণ বরুজবাগান এলাকার বাবর আলীর ছেলে আল আমিনের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা, ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বাদুরগাছা গ্রামের স্বরজিৎ বিশ্বাসের ছেলে যুবরাজ বিশ্বাসের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা, যশোরের শার্শা উপজেলার যদুনাথপুর গ্রামের আমিনুর রহমানের ছেলে আল আমিন হোসেনের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা, পটুয়াখালীর মীর্জাগঞ্জ উপজেলার উত্তর সুবিদখালী গ্রামের আব্দুল জলিল মোল্যার ছেলে জাহিদুল ইসলামের কাছ থেকে ৩৬ হাজার টাকা, যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার জয়নগর গ্রামের গোলাম মোস্তফার ছেলে মাসুদ কবিরের কাছ থেকে ৭০ হাজার টাকা এবং ঝিকরগাছা উপজেলার কালিয়ানী গ্রামের সামসুর রহমানের ছেলে আল শাহরিয়ারের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, গত রোববার দুপুরে র‌্যাব-৬ সিপিসি-৩ যশোর ক্যাম্পের সদস্যরা বেকার যুবকদের সাথে প্রতারণার অভিযোগে খোলাডাঙ্গায় ফিউচার আউট সোর্সিং প্রাইভেট লিমিটেড কার্যালয়ে অভিযান চালান। এ সময় সেখান থেকে প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ঝিকরগাছার পুরন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম এবং যশোর শহরের বেজপাড়া তালতলার মোড় এলাকার বাসিন্দা রিয়াজ উদ্দিন আহম্মেদকে আটক করা হয়। তবে শরিফুল ইসলামের কোনো ভাইকে আটক করা হয়নি, এ বিষয়টি ছিলো তথ্যগত ত্রুটি। র‌্যাবের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আটক শরিফুল ইসলাম ও রিয়াজ উদ্দিন আহম্মেদকে কোতয়ালি থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।