৩ হাজার গাছ বাঁচিয়ে কক্সবাজারে ৪ লেন সড়ক, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বদলে গেল প্রকল্প

কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ প্রকল্পে এলাইনমেন্ট বদলে রক্ষা করা হলো হাজারো গাছ, নেওয়া হয়েছে নতুন বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ

0

লোকসমাজ ডেস্ক : প্রকৃতি ও পরিবেশ সংরক্ষণে গাছ না কেটে সড়ক নির্মাণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর এ নির্দেশনায় কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ সড়ক চার লেনে উন্নীত করা হচ্ছে, যেখানে তিন হাজারেরও বেশি গাছ রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। খবর : বাসস।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কক্সবাজারের কলাতলী থেকে টেকনাফের সাবরাং জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত প্রায় ৮০ কিলোমিটার সড়ক চার লেনে উন্নীত করার একটি বৃহৎ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।

এর অংশ হিসেবে মেরিন ড্রাইভের কলাতলী থেকে পাটুয়ারটেক পর্যন্ত প্রায় ৩২ কিলোমিটার সড়ক চার লেনে উন্নীতকরণের কাজ চলছে। শুরুতে এ প্রকল্পে তিন হাজারের বেশি গাছ কাটার আশঙ্কার খবর প্রকাশিত হলে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে।

পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একটি গাছও না কেটে সড়ক সম্প্রসারণের নির্দেশ দেন। তাঁর নির্দেশনা অনুযায়ী সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম প্রকৌশলীদের সঙ্গে আলোচনা করে সড়কের এলাইনমেন্ট সামান্য পরিবর্তনের মাধ্যমে গাছগুলো সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেন।

গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম ও প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ হাবিব সরেজমিনে এলাকা পরিদর্শন করে গাছ সংরক্ষণ নিশ্চিত করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. একেএম শামছুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রী জানান, “প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা গাছ না কেটে সড়ক সম্প্রসারণের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছি। পাশাপাশি পুরো মেরিন ড্রাইভকে আরও পরিবেশবান্ধব ও পর্যটকবান্ধব করতে সড়কের দুই পাশে নতুন বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “এ প্রকল্প শুধু অবকাঠামো উন্নয়ন নয়, পরিবেশ সংরক্ষণের দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। দেশের অন্যান্য প্রকল্পেও এটি অনুসরণযোগ্য মডেল হতে পারে।”

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, প্রকল্পের আওতায় সড়ক প্রশস্তকরণ, সেতু নির্মাণ, আরসিসি রিটেইনিং ওয়াল, সিসি ব্লক স্থাপন এবং ইউটিলিটি স্থানান্তরের কাজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। রেজু খালের ওপর ৩০৫ মিটার দীর্ঘ একটি সেতুও নির্মাণ করা হবে।

প্রকল্পটির নির্মাণ কাজ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১৬ ও ১৭ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়নের তত্ত্বাবধানে চলছে এবং চলতি বছরের মধ্যেই কাজ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।