মনিরামপুরে গৃহবধূর মৃত্যু নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

0

স্টাফ রিপোর্টার,মনিরামপুর(যশোর)॥ যশোরের মণিরামপুরে এক গৃহবধূর মৃত্যু নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করা হচ্ছে। স্বামীসহ শ্বশুর বাড়ির দাবি তিনি আত্মহত্যা করেছেন। অপরদিকে তার পিতা-মাতা দাবি করেছেন মুরগি হারিয়ে যাওয়ার ঘটনায় স্বামীর পিটুনিতে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে পুলিশ জানিয়েছে প্রাথমিক তদন্তে হত্যার আলামত পাওয়া যায়নি। নিহত গৃহবধূর নাম তানিয়া খাতুন (২৩)। তিনি উপজেলার বেগমপুর গ্রামের জামাল উদ্দিনের স্ত্রী ছিলেন। তানিয়ার মৃত্যুর ঘটনা ঘটে শনিবার সন্ধ্যায় বেগমপুর গ্রামে। পুলিশ মরদেহ উদ্ধারের পর ময়না তদন্তের জন্য রোববার সকালে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কুলটিয়া ইউনিয়নের পদ্মনাথপুর গ্রামের কৃষক শওকত মোড়লের মেয়ে তানিয়া খাতুনের সাথে ছয় বছর আগে বিয়ে হয় খানপুর ইউনিয়নের বেগমপুর গ্রামের আবুল কালামের ছেলে রাজমিস্ত্রী জামাল উদ্দিনের সাথে। পাঁচ বছর বয়সী একমাত্র ছেলে সন্তান মুস্তাহিনকে নিয়ে তাদের সংসার বেশ ভালই চলছিল। শুক্রবার বিকেলে বাড়ি থেকে তাদের একটি মুরগি হারিয়ে যায়। আর এ ব্যাপারে স্বামী জামাল উদ্দিন তানিয়াকে দোষারোপ করে বকাঝকা করেন। তানিয়ার মা যমুনা বেগম জানান, মুরগি হারিয়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে শনিবার বিকেলে জামাল এবং তানিয়ার মধ্যে আবারও ঝগড়া হয়। যমুনা বেগমের অভিযোগ ঝগড়ার এক পর্যায়ে জামাল ক্ষিপ্ত হয়ে তানিয়াকে বেধড়ক মারপিট করে। ফলে তানিয়া জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। পরে তাকে উদ্ধারের পর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে জরুরী বিভাগের চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তানিয়ার পিতা শওকত মোড়লের অভিযোগ তার মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে। তবে হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করে স্বামী জামাল উদ্দিন ও তার অভিভাবকরা জানান, অভিমান করে তানিয়া ঘরের মধ্যে আড়ার সাথে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেন। অবশ্য তদন্তকারী অফিসার এসআই আশরাফুল আলম জানান, প্রাথমিক তদন্তে হত্যার আলামত পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় নিহতের পিতা বাদি হয়ে একটি অপমৃত্যু মামলা করেন। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) নুর ই আলম সিদ্দিকী জানান, ময়না তদন্তের রিপোর্ট পাবার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।