ডিজেল কেরোসিন ও গ্যাসের দাম বাড়লো তীব্র অসন্তোষ, পরিবহন ধর্মঘট আজ

0

লোকসমাজ ডেস্ক॥ ডিজেল ও কেরোসিনের দাম লিটারে ১৫ টাকা বাড়ানোর পর দিন বাড়ানো হল এলপিজি গ্যাসের দাম। এক মাসের কম সময়ের মধ্যে বাড়ানো হল গ্যাসের দাম। মূল্য বৃদ্ধির এমন ধারবাহিকতায় তীব্র অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে দেশের পরিবহণ খাত ও সাধারণ মানুষের মধ্যে। প্রতিবাদে পরিবহন ধর্মঘটের ঘোষণা দিয়েছেন মালিক-শ্রমিকরা।
ডিজেল ও কেরোসিনের মূল্য প্রতি লিটারে ভোক্তা পর্যায়ে ৬৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮০ টাকা করা হয়েছে। বুধবার রাত ১২টার পর এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে। বুধবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপ-প্রধান তথ্য অফিসার মীর মোহাম্মদ আসলাম উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য ক্রমবর্ধমান। এ ঊর্ধ্বগতির কারণে পাশের দেশসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশ জ্বালানি তেলের মূল্য নিয়মিত সমন্বয় করছে। গত ১ নভেম্বর ভারতে ডিজেলের মূল্য ছিল প্রতি লিটারে ১২৪.৪১ টাকা বা ১০১.৫৬ রুপি। অথচ বাংলাদেশে ডিজেলের মূল্য প্রতি লিটারে ৬৫ টাকা অর্থাৎ লিটার প্রতি ৫৯.৪১ টাকা কম। তাই লিটারে ১৫ টাকা বাড়ানো হয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সরকার ডিজেল ও কেরোসিনের মূল্য পুনঃনির্ধারণ করেছে বলে উলে¬খ করা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ ছাড়া জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের ২০০৮ সালের ২২ ডিসেম্বর জারি করা প্রজ্ঞাপন ও এতদসংক্রান্ত সময় জারি করা সনশোধনীসহ অন্যান্য সব বিষয় অপরিবর্তিত থাকবে। দেশে সবশেষ ২০১৬ সালের ২৪ এপ্রিল গেজেটের মাধ্যমে পেট্টোলিয়াম পণ্যের মূল্য হ্রাস করে পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছিল। অপরদিকে এক মাসের কম সময়ের মধ্যে গ্রাহক পর্যায়ে আবারও বাড়ানো হয়েছে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজির দাম। এবার ১২ কেজি ওজনের একটি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম মূসকসহ ১ হাজার ২৫৯ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৩১৩ টাকা করা হয়েছে। এ নিয়ে টানা পাঁচ মাস ধরে দেশে এলপিজির দাম বাড়াচ্ছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন-বিইআরসি।
বিইআরসির গত ১০ অক্টোবর ১২ কেজি ওজনের একটি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম মূসকসহ ১ হাজার ২৫৯ টাকা নির্ধারণ করে যা সেপ্টেম্বরে ১ হাজার ৩৩ টাকা ছিল। এদিকে ডিজেলের দাম বাড়ানোয় শুক্রবার সকাল থেকে বাসা না চালানোর ঘোষণা দিয়েছেন বিভিন্ন জেলার গণপরিবহন মালিকরা। বাস মালিকদের সবচেয়ে বড় সংগঠন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সংগঠনের মহাসচিব খোন্দকার এনায়েত উল্যাহ এ কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ২০১৯ সালে বাসের ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) প্রস্তাব তৈরি করে। করোনার সময় সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হয়নি। এর মধ্যে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে।
এনায়েত উল্যাহ বলেন, এ অবস্থায় বাস চালিয়ে আয় দূরে থাক লোকসান গুনতে হবে। এ জন্য বিভিন্ন জেলার পরিবহন মালিকেরা বাস না চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে কিছু করার নেই। এদিকে ডিজেল-কেরোসিনের দাম না কমালে শুক্রবার থেকে পণ্য পরিবহন চলাচল বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান মালিকরা। বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁও কার্যালয়ে এ ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ ট্রাক কাভার্ড ভ্যান ট্যাংক লরি প্রাইম মুভার মালিক শ্রমিক সমন্বয় পরিষদ।