ছেলের সামনে বাবাকে হত্যা: তাহের দুইদিনের রিমান্ডে

লোকসমাজ ডেস্ক॥ রাজধানীর পল্লবীতে প্রকাশ্যে ছেলের সামনে বাবা শাহীন উদ্দিনকে (৩৩) কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মোহাম্মদ তাহেরের দুইদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। শুক্রবার (১ অক্টোবর) তাকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তাকে পাঁচদিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন পুলিশ। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম আতিকুল ইসলাম তার দুইদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে বৃহস্পতিবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় শাহবাগ মোড় এলাকা থেকে তাহেরকে গ্রেফতার করা হয়।
গত ১৬ মে বিকেল ৪টার দিকে জমি নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তির কথা বলে শাহীন উদ্দিনকে পল্লবী থানার ডি ব্লকের একটি গ্যারেজের ভেতর ডেকে নিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করা হয়। নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শাহীনের মায়ের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ১৭ মে পল্লবী থানায় হত্যা মামলা হয়। মামলার পর এজাহারভুক্ত নয়জন ও তদন্তে পাঁচজনসহ মোট ১৪ জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা মিরপুর বিভাগ। সাবেক এমপি এম এ আওয়ালের আলীনগর প্রজেক্টের কার্যক্রম (বাউন্ডারি গেইট ও পিলার) পরিচালনার সময় নিহত শাহীন উদ্দিনের সঙ্গে জমি নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে শাহীনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সুমনকে নির্দেশ দেন আওয়াল। নির্দেশনা অনুযায়ী সুমনের নেতৃত্বে পরিকল্পনা করা হয়। পরিকল্পনা মোতাবেক কাজ সম্পাদনের জন্যে দেওয়া হয় ২০ হাজার টাকা। গত ১৬ মে বিকেলে সন্ত্রাসীরা উল্লিখিত স্থানে শাহীনকে ডেকে নিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করেন। মামলার প্রধান আসামি লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সাবেক এমপি ও ইসলামী গণতান্ত্রিক পার্টির চেয়ারম্যান এম এ আউয়াল। অন্য আসামিরা হলেন- ছাত্রলীগের সাবেক নেতা সুমন, মো. আবু তাহের, মুরাদ, মানিক, মনির, শফিক, টিটু, কামরুল, কিবরিয়া, দিপু, আবদুর রাজ্জাক, মরন আলী, লিটন, আবুল, বাইট্যা বাবু, বড় শফিক, কালু ওরফে কালা বাবু, নাটা সুমন ও ইয়াবা বাবু। আসামিরা সবাই পল্লবী থানা এলাকার বাসিন্দা। তাদের মধ্যে ১৪ জন গ্রেফতার ও ছয়জন পলাতক আছেন।

ভাগ