মমতাময়ীর শিক্ষা

ড. আবদুল লতিফ মাসুম ।।রাষ্ট্রচিন্তাবিদ টিএইচ গ্রিন বলেছেন, ‘অনেক যুদ্ধেই গণতন্ত্রের পরাজয় ঘটতে পারে। তবে অবশেষে বিজয়তিলক তারই’। পশ্চিমবঙ্গে মমতাময়ী মমতা ব্যানার্জির হারতে হারতে অবশেষে ভূমিধস বিজয় এর প্রমাণ। হারতে হারতে বললাম এই কারণে যে, এপাড়ে এবং ওপাড়ে প্রচারে-প্রসারে এবং তূর্যনিনাদে মনে হয়েছিল এবার দিদির পরাজয় অনিবার্য। এই মনে হওয়াটা তৈরি করেছিল দিল্লির সম্রাট এবং এপাড়ের মিডিয়া মোগলরা। অনুসৃত রীতি-রেওয়াজ, ভদ্রতা-সভ্যতা ও নির্বাচনী সংস্কৃতি সবকিছু পায়ে ঠেলে ন্যাংটা হয়ে নেমেছিলেন দিল্লির অধিপতিরা। কিন্তু বিধিবাম। ঘৃণার রাজনীতিকে পরাস্ত করে যে লড়াকু মানসিকতার পরিচয় দিয়েছেন মাটি ও মানুষের নেত্রী তার প্রশংসা করে শিবসেনার সঞ্জয় রাউতের মতো বিপরীত নেতাও টুইট করেছেন, ‘বাংলার বাঘিনীকে অভিনন্দন’।
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে দৃশ্যমান ও অদৃশ্য হেন অন্যায় অপকর্ম নেই যা করেনি কেন্দ্রীয় সরকার। এ সময়ে হত্যা, হামলা ও মামলা কোনোটিতেই কসুর করেনি তারা। রাজ্যে মোতায়েন করা হয়েছে নানা রকমের কেন্দ্রীয় বাহিনী। তারা হয়রানি করেছে তৃণমূলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের। সেখানে নির্বাচন হয় সাধারণত দু-এক ধাপে। এবার তৃণমূলের জয় ঠেকাতে আটধাপে বিভক্ত হয়েছে নির্বাচন। প্রচার শুরু হওয়ার পর ১৫ বার এসেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এটি রীতিমতো রেকর্ড। ৬২ বার এসেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ১১৫ বার এসেছেন দিল্লির হর্তাকর্তা বিধাতারা। কেন এই সর্বাত্মক যুদ্ধ? জানতে চেষ্টা করেছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। অনেক রাজ্য নরেন্দ্র মোদির পদানত হলেও বাংলা ছিল এক রকম স্বাধীন। সরকারের সম্প্রসারণবাদী কৌশলে ইতোমধ্যে দখলে এসেছে বাঙালি বিক্ষুব্ধ আসাম। মার্কসবাদীদের দুর্গ বলে কথিত ছোট রাজ্য ত্রিপুরার পতন হয়েছে। সপ্তকন্যার অনেক কন্যাই তাদের করতলগত। পূর্বাঞ্চলে একমাত্র ব্যতিক্রম পশ্চিম বাংলা। সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প সেখানে ছড়াতে দেননি মমতা ব্যানার্জি।
মুসলমানদের প্রতি ঘৃণার রাজনীতির পরিবর্তে সম্প্রীতির সুবাতাস বইয়ে দিয়েছেন দিদিমনি। আসামের মতো বাঙালি খেদাও অভিযান শুরু করার পরিকল্পনা ছিল কেন্দ্রীয় সরকারের। এবারে নির্বাচনের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গ দখল করতে পারলে ষোলকলা পূর্ণ হয় তাদের। তাই তাদের এই প্রাণান্ত প্রায়াস।
মমতা ব্যানার্জির বিজয়ের কারণ অনুসন্ধান করেছেন বিশ্লেষকরা। ভারতের উত্তর ও মধ্যের গো-বলয়ের বাইরে একটু স্বাতন্ত্র্য নিয়েই দীর্ঘকাল ধরে পশ্চিম বাংলার অবস্থান। এর আগে সেখানে তিন দশকের বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় ছিল বামধারার রাজনৈতিক দলগুলো। যদিও বামধারার নেতাকর্মীরা এখন পল্টি খাচ্ছেন- নেতাকর্মীরা যোগ দিচ্ছেন তাদের এককালের আদর্শিক শত্রু বিজেপিতে, তবুও ধর্মনিরপেক্ষতার একটা সংস্কৃতি সেখানে গড়ে উঠেছিল। মুসলিম জনগোষ্ঠীর উল্লেখযোগ্য অবস্থানের কারণে সে ধারা এখনো বহমান রয়েছে। মাঝখানে ফুটনোটের মতো প্রশ্ন করতে ইচ্ছে করে, তাহলে কী শিখলেন এই বামধারার লোকেরা। অনেকেই অবাক হলেন যখন ‘মানুষ মানুষের জন্য’ এর গায়ক ভূপেন হাজারিকা বিজেপির প্রার্থী হয়েছিলেন। যাই হোক, মমতা ব্যানার্জি বিগত বছরগুলোতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতি সুবিচার করেছেন। বিজেপি একে বলেছে মুসলিম তোষণনীতি। এবারে বিজেপি যতই সাম্প্রদায়িক আচরণ করেছে ততই দ্রুত মেরুকরণ ঘটেছে মুসলিম মানসে। মাঝখানে ফুরফুরা ঘরানার হুজুররা এই ঐক্যে ভাঙন ধরাতে চেষ্টা করেছে। ফলাফল প্রমাণ করে, তারা সফল হয়নি। মমতার প্রকল্পগুলো- স্বাস্থ্যসাথী, কন্যাশ্রী ইত্যাদি, গরিব ও মধ্যবিত্ত শ্রেণীকে তার প্রতি অনুগত করে তুলেছে। এ ছাড়া মহিলাদের জন্য ভিন্নধর্মী প্রকল্প তার ভোট বাক্স সমৃদ্ধ করেছে। সে ক্ষেত্রে বিজেপি সাধারণ মানুষকে সন্তুষ্ট করতে পারেনি। তৃণমূল কংগ্রেস আসলেই তৃণমূলে রয়েছে।
বিজেপি যেখানে ইস্যুভিত্তিক সেখানে তৃণমূল ছিল কর্মসূচিভিত্তিক। সবচেয়ে বড় যে বিষয়টি নির্বাচনকে প্রভাবিত করেছে তা হচ্ছে- এক ধরনের আঞ্চলিকতাবাদ। দিল্লির শাসকদের কাছে পশ্চিম বাংলা সবসময়ই অবহেলিত থেকেছে। বাঙালির অর্থনীতি ও সংস্কৃতির ওপর ক্রমে মাড়োয়ারি এবং হিন্দি বলয়ের প্রভাব বাঙালি সংস্কৃতিকে সঙ্কুচিত করছে। বিজেপির পক্ষ থেকে এ ধরনের প্রভাব ও প্রতিপত্তি যে স্বাতন্ত্র্য ও স্বকীয়তার বিরোধী সচেতন বাঙালিরা তা অনুধাবন করে। নোবেল বিজয়ী অমর্ত্য সেন যখন এই সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্যের কথা বলেন তখন তা অবশ্যই নাগরিক সাধারণের চিন্তার খোরাক জোগায়। মমতা ব্যানার্জির বিজয় ইতিবাচক নিঃসন্দেহে। কিন্তু সেই সাথে নেতিবাচক দিকটিও বিবেচ্য। বিজেপি গত নির্বাচনে পেয়েছিল তিনটি আসন। এখন তাদের আসন সংখ্যা শতকের কাছাকাছি। পশ্চিম বাংলার রাজনীতির জন্য এটিকে অশনি সঙ্কেত হিসেবেই দেখছেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা। আগামী নির্বাচন পর্যন্ত যদি বিজেপি দিল্লির ক্ষমতায় থাকে, তাহলে সর্বনাশ ঘটে যেতে পারে। তা ছাড়া এত দিন ধরে সম্প্রীতির যে সুন্দর পরিবেশ ছিল তা কলুষিত হতে পারে। কারণ সাম্প্রদায়িকতা দায়িত্বহীনভাবে উসকে দিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লাভই বিজেপির লক্ষ্য। তবে আশার কথা, আগামী নির্বাচনে ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে নরেন্দ্র মোদির বিজেপি ক্ষমতায় না ফেরার সম্ভাবনাই বেশি। একই সাথে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তামিলনাডু এবং কেরালায় বিজেপির ভরাডুবি ঘটেছে। জনজীবনে দুর্ভোগ, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও পুঁজিপতি গোষ্ঠীর আশাভঙ্গ দলটির পতনের কারণ হতে পারে। সাম্প্রদায়িকতার যে তুরুপের তাস সম্বল করে তারা ক্ষমতায় এসেছিল তার একটা শেষ আছে। অযোধ্যায় রাম মন্দিরের নির্মাণকাজ চলছে।
সাম্প্রদায়িকতার পর ইস্যুগুলো সমাধান হলে তার আবেদন থাকার কথা নয়। তবে ধর্মের আবেদন খুবই সংবেদনশীল একটি বিষয় তা মনে রাখতে হবে। আর বর্তমান করোনা যেভাবে নরেন্দ্র মোদিকে করুণা করছে তা তার ভরাডুবিকে নিশ্চিত করবে।
মমতা ব্যানার্জির বিজয় নিয়ে নানা ধরনের ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ চলছে। জনপ্রিয় প্রবীণ কলামিস্ট আবদুল গাফফার চৌধুরী লিখেছেন, ‘মমতা ব্যানার্জি তৃতীয় দফা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হলে সেটা হবে দিল্লি এবং বিশেষ করে নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহ জুটির গালে একটি চপেটাঘাতের মতো। তিনি মনে করেন, ‘এই পরাজয়ের ফলে মোদিঝড় উল্টো দিকে বইতে শুরু করতে পারে। মোদি যেভাবে দিল্লির সিংহাসনে বসেছিলেন তেমনি ঝড় তুলেই সেই সিংহাসন থেকে বিদায় নিতে পারেন।’ পশ্চিম বাংলা দীর্ঘকাল ধরে দিল্লির কর্তৃত্ব ও নেতৃত্ব থেকে দূরে রয়েছে। ১৯৪৭ থেকে ২০২১ পর্যন্ত সময়কাল বিশ্লেষণ করলে এর সত্যতা মিলবে। জনাব চৌধুরী এসব বিশ্লেষণ করে পশ্চিম বাংলার রাজনীতিতে বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের প্রভাব লক্ষ করেন। তিনি লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ পশ্চিমবঙ্গের মানুষের মনে এতটাই উদ্দীপনা সৃষ্টি করে যে, ওই সত্তরের দশকেই তারা দিল্লির ক্ষমতাসীন দলকে নির্বাচনে ভোট না দিয়ে সেই দলের বিপরীত আদর্শের দলকে ক্ষমতায় বসায়। এই বিপরীত আদর্শের দলে নির্বাচনী স্লোগান ছিল বাংলাদেশে ’৭০-এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের স্লোগানের সম্পূর্ণ অনুকরণ। আওয়ামী লীগের মতো পশ্চিমবঙ্গের বাম যুক্তফ্রন্ট স্লোগান তুলেছিল, ভারতের সেনাবাহিনীতে বাঙালিরা একেবারে সংখ্যালঘু। দেশ রক্ষা খাতে বাজেটের ব্যয় বরাদ্দে পশ্চিমবঙ্গ কিছুই পায় না ইত্যাদি ইত্যাদি।’ বিস্ময়ের ব্যাপার এই যে, এবারের নির্বাচনে মমতা ব্যানার্জির উচ্চারণে সেই অনুরণন লক্ষ করা গেছে। বিজেপির জয়রাম স্লোগানের বিপরীতে তৃণমূল কংগ্রেস জোরেশোরে ‘জয় বাংলা বলেছে’। তা হলে বাংলাদেশের ইতিহাস ভূগোলের সাথে মমতা ব্যানার্জির অনুভবের মিল খুঁজে পাওয়া যায়। জনাব চৌধুরী বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত দুর্ভাগা বিহারিদের পশ্চিম বাংলার রাজনীতিতে অব্যাহত প্রভাবের আশঙ্কা করেছেন।
বাংলাদেশের সাথে পশ্চিম বাংলার সম্পর্ক বিন্যাসকে জনাব চৌধুরী ইতিবাচকভাবেই দেখেন। স্মরণ করা যেতে পারে, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময়ে বাঙালি জাতীয়তাবাদের উত্থান ভারতের সংহতির জন্য কোনো সমস্যা সৃষ্টি করে কি না অর্থাৎ একপর্যায়ে পশ্চিমবঙ্গ বাংলাদেশের সাথে একীভূত হতে চাইবে কি না- তা ভারতের এক শ্রেণীর রাজনীতিবিদের মধ্যে আশঙ্কার সৃষ্টি করেছিল। যতটা মনে পড়ে, আচার্য কৃপালনি এবং নিরোদ সি চৌধুরী এ রকম মন্তব্য করেছিলেন। যাই হোক, সেটি এখন ইতিহাসের বিষয়। আর ইতিহাস সম্পর্কে পণ্ডিত ব্যক্তিরা বলেন, ‘হিস্টরি রিপিটস ইটসেলফ’। ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটে কি না তা দেখার জন্য অপেক্ষা করা ছাড়া গত্যন্তর কি? ইতিহাসের বিভক্তি বা ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগ নিয়ে অর্থাৎ বাংলা ভাগ নিয়ে এখনো কেউ কেউ আবেগপ্রবণ ও সংবেদনশীল। সে ইতিহাস আসলেই করুণ ইতিহাস। জয়া চ্যাটার্জির ‘বাঙলা ভাগ হলো’ গ্রন্থে সে ইতিহাসের নির্মোহ বিশ্লেষণ রয়েছে। সে যাই হোক, বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতায় মমতা ব্যানার্জি প্রাসঙ্গিক। তিস্তার পানি বণ্টনের সমস্যায় তার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক ইমতিয়াজ আহমেদ তৃণমূলের জয়ে আমাদের স্বস্তি দেখেছেন। আমরাও মনে করি, তিস্তার পানি বণ্টনে এবার হয়তো দিদি যথার্থ ভূমিকা রাখবেন।
মমতা ব্যানার্জির বিজয়ের পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ বিজেপি সরকারের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিরা তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। ভারতের সব মহলের অভিনন্দন বার্তায় সিক্ত হয়েছেন মমতা দি। কেন্দ্রীয় সরকারে পরিবর্তনও তার লক্ষ্য। নির্বাচন চলাকালে তিনি ভারতের সব গণতান্ত্রিক শক্তির কাছে বার্তা পাঠিয়েছিলেন মোদিবিরোধী ঐক্যের জন্য। ভোট প্রচারের জনসভা থেকে তিনি হুঙ্কার দিয়েছিলেন, ‘একপায়ে বাংলা দখল করব আর দু’পায়ে দিল্লি’। বর্তমান বিজয় মমতা ব্যানার্জিকে স্থাপন করতে পারে ভারতের কেন্দ্রীয় রাজনীতির শক্ত পাদপীঠে। ভাগ্য সুপ্রসন্ন হলে তিনি ভবিষ্যতে বরিত হতে পারেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে। অথচ এই শক্তিধর প্রতিদ্বন্দ্বীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন তারই প্রতিপক্ষ। এটাই গণতন্ত্রের আদর্শ। তারা একে অপরের বিরোধী মাত্র। শত্রু নন। শত বাধাবিঘ্ন অতিক্রম করে ভারত যে এক ও অভিন্ন আছে তার মূল কারণ এই গণতন্ত্র। বিগত প্রায় ৭৫ বছর ধরে অন্তত প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচন ব্যবস্থাটি সুদৃঢ় ভিত্তি অর্জন করেছে। আর সেটিই গণতন্ত্রের ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে।
এই কলামটি গণতন্ত্রের কথা বলে শুরু হয়েছিল। আসলে সেটিই মূল কথা। পশ্চিম বাংলায় এই ‘ভোটবিপ্লব’ ঘটতে পেরেছিল এই কারণে যে, সেখানে গণতন্ত্র রয়েছে। নির্বাচন এখনো অবাধ ও নিরপেক্ষ রয়েছে। মানুষ এই কথার প্রতিফলন ঘটিয়েছে যে, ‘আমার ভোট আমি দেবো, যাকে খুশি তাকে দেবো’। হ্যাঁ, নির্বাচনে অনেক অঘটন ঘটেছে। কিন্তু সেখানে মূল কাজটি ঠিক ছিল। জনগণের রায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত ছিল। ভোটারবিহীন নির্বাচন বা নিশীথ রাতের নির্বাচন সেখানে ঘটেনি। নির্বাচন ব্যবস্থাপনা বা ইলেকশন কমিশন তার দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে দৃঢ় ছিল। হুমকি-ধমকি উপেক্ষা করে নির্বাচনকে লক্ষ্যে পৌঁছানোর সততা ও সাহস তাদের ছিল। আর ছিল মমতা ব্যানার্জির মতো ত্যাগী নেতৃত্ব। মাটি কামড়ে কিভাবে নির্ভয়ে নিঃসঙ্কোচে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় তা তিনি প্রমাণ করেছেন। আমাদের নেতাদের শেখার আছে তার কাছে। তার অনুকরণীয় সহজ-সরল ও নিরাভরণ জীবন এবং সুশাসন সবার জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে আছে। এই নির্বাচনে তিনি যে ‘চির উন্নত শির’ এর দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তা এই উপমহাদেশের রাজনীতিতে বিরল। তাই সুকান্তের মতো বলতে ইচ্ছে করে- ‘এ পৃথিবী অবাক তাকিয়ে রয়, জ্বলেপুড়ে ছাড়খার তবু মাথা নোয়াবার নয়’। সালাম! আপনাকে হাজারো সালাম।
লেখক : অধ্যাপক, সরকার ও রাজনীতি বিভাগ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

ভাগ