তালা ভেঙ্গে হলে জাবি শিক্ষার্থীরা, প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা

0

লোকসমাজ ডেস্ক॥ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থীদের ওপর ক্যাম্পাস সংলগ্ন স্থানীয় লোকজনদের হামলার প্রতিবাদ ও নিরাপত্তার জন্য তালা ভেঙ্গে হলে প্রবেশ করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা। তবে তালা ভেঙ্গে হলে প্রবেশ ও সভাসমাবেশ করা নিষিদ্ধ উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। প্রথমে ১২টার দিকে ফজিলাতুন্নেসা হল, আলবেরুনি হল, শেখ হাসিনা হল, খালেদা জিয়া হল, নওয়াব ফয়জুন্নেসা হল, জাহানারা ইমাম হল, প্রীতিলতা হল ও সুফিয়া কামাল হলের তালা ভেঙ্গে প্রবেশ করেন। এর পর বিকাল তিনটার মধ্যে বাকি হলগুলোর ভিতরে প্রবেশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। এর আগে শনিবার সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে জমায়েত হন শিক্ষার্থীরা। এরপর মিছিল নিয়ে ভিসির বাসভবন ঘেরাও করেন।
এসময় দুপুর দুইটার মধ্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলসমূহ খুলে দেয়ার আল্টিমেটামসহ তিন দফা দাবি পেশ করা হয়। দাবিগুলো হলো, ‘শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার সাথে জড়িতদের গ্রেফতার ও বিচার করা, গেরুয়া এলাকার সাথে ক্যাম্পাসের সংযোগ স্থায়ীভাবে বিচ্ছিন্ন করে দেয়া এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল খুলে দেয়া।’ এসময় দাবিগুলোর পাশাপাশি পুরো ঘটনায় প্রক্টরের অসহযোগিতার কথা বলে তার পদত্যাগের দাবিও তোলা হয়। এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা খরচ বহন ও গেরুয়ায় স্থায়ী সীমানা প্রাচীর তৈরীর দাবি মেনে নেয় জাবি প্রশাসন। কিন্তু বিকাল ৩টায় তালা ভেঙ্গে হলে প্রবেশ ও সভাসমাবেশ করা নিষিদ্ধ বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়। সেখানে বলা হয়, ‘ক্যাম্পাস খোলা ও হলে থাকার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।’ এই বিজ্ঞপ্তির পর প্রশাসনকে আবারো হলে তালা দেয়ার তৎপরতা লক্ষ করা যায়। তবে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জাবি ট্রান্সপোর্ট চত্বরে অবস্থান করছেন এবং সকল শিক্ষার্থীদের হলে উঠে যেতে সোস্যাল মিডিয়ায় প্রচারণা চালাচ্ছেন। এদিকে হামলাকারীদের বিচার দাবি করে বিবৃতি দিয়েছে জাবি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও ছাত্রফ্রন্ট। তারা হামালার নিন্দা প্রকাশ করে অপরাধীদের বিচার দাবি করে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও চিকিৎসা খরচ দিতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানায়। শুক্রবার সন্ধ্যায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন গেরুয়ায় অবস্থানরত জাবি শিক্ষকর্থীদের ওপর হামলা চালায় স্থানীয়রা। এক সপ্তাহ আগের ক্রিকেট খেলাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে এ হামলা চালানো হয়। এতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় অর্ধশত শিক্ষার্থী আহত হন। জানা যায়, ক্রিকেট টুর্নামেন্টকে কেন্দ্র করে শুক্রবার সন্ধ্যায় গেরুয়া বাজারে শিক্ষার্থীদের চারটি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেয় স্থানীয়রা। রাত সাড়ে ৭টার দিকে এলাকাবাসী মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে জড়ো হয়। এ সময় মাইকে বলতে শোনা যায়, এলাকায় ডাকাত হামলা হচ্ছে, আপনারা যার যা আছে তা নিয়ে নিজেদের জীবন বাঁচাতে বের হন। এরপরই রাস্তার লাইট বন্ধ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালানো হয়। হামলায় আহতদের জাবি মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি করানো হয় এবং গুরুতররদের সাভার এনাম মেডিকেলে ভর্তি করানো হয়।