ইউক্রেনে বেড়েই চলেছে শস্যের রফতানি মূল্য

0

লোকসমাজ ডেস্ক॥ কৃষিপণ্যের আন্তর্জাতিক বাজারে অন্যতম রফতানিকারক দেশ ইউক্রেন। দেশটি থেকে ভুট্টা, গম, যব, সূর্যমুখী বীজ, ওটসসহ নানা ধরনের শস্য রফতানি হয়। মান ভালো হওয়ায় আমদানিকারকদের কাছে ইউক্রেনের শস্যের চাহিদাও রয়েছে ব্যাপক। কিছুদিন দরে ইউক্রেনের বাজারে রফতানিযোগ্য শস্যের দাম বাড়তির পথে রয়েছে। এ ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ সপ্তাহে দেশটিতে ভুট্টার রফতানি মূল্য বেড়ে প্রায় সাত বছরের সর্বোচ্চে উন্নীত হয়েছে। গমের রফতানি মূল্য বেড়েছে টনপ্রতি ৩ ডলার। কৃষিপণ্যবিষয়ক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এপিকে-ইনফর্মের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। খবর রয়টার্স ও এগ্রিমানি।
ভুট্টা উৎপাদনকারী দেশগুলোর বৈশ্বিক শীর্ষ তালিকায় ইউক্রেনের অবস্থান ষষ্ঠ। দেশটি কৃষিপণ্যটি রফতানিকারকদের তালিকায় চতুর্থ শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। সর্বশেষ সপ্তাহে ইউক্রেনের বাজারে ফ্রি অন বোর্ড (এফওবি) চুক্তিতে রফতানিযোগ্য ভুট্টা টনপ্রতি ২৫৬-২৬৪ ডলারে বিক্রি হয়েছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে কৃষিপণ্যটির দাম টনে ৬ ডলার বেড়েছে। এর মধ্য দিয়ে ২০১৪ সালের মে মাসের পর বর্তমানে ইউক্রেনের বাজারে ভুট্টার দাম সর্বোচ্চে উন্নীত হয়ছে।
গত বছরের একেবারে শেষ ভাগে ভুট্টা রফতানিতে সাময়িক স্থগিতাদেশ দিয়েছিল কৃষিপণ্যটির অন্যতম শীর্ষ রফতানিকারক দেশ আর্জেন্টিনা। করোনা মহামারীর মধ্যে অভ্যন্তরীণ খাদ্যশৃঙ্খল বজায় রাখতে এ উদ্যোগ নেয় দেশটি। এর পরই ইউক্রেনে ভুট্টার রফতানি মূল্য বাড়তে শুরু করে। খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, আর্জেন্টিনা রফতানি স্থগিত করায় আন্তর্জাতিক বাজারে ইউক্রেনের ভুট্টার চাহিদা বাড়বে। এমন সম্ভাবনা কৃষিপণ্যটির রফতানি মূল্য চাঙ্গা করে তোলে।
তবে ১৫ দিন না যেতেই সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় আর্জেন্টিনা। এর পরিবর্তে কৃষিপণ্যটি রফতানিতে কোটা বেঁধে দিয়েছে দেশটির কৃষি মন্ত্রণালয়। সাম্প্রতিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দুই মাসের জন্য ভুট্টা রফতানি বন্ধ রাখার আগের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে বাড়তি চাহিদা ও মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে চাইলেই রফতানিকারকরা বিপুল পরিমাণ ভুট্টা রফতানি করতে পারবেন না। কৃষিপণ্যটির দৈনিক রফতানি সীমা ৩০ হাজার টনে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। এর পরও ইউক্রেনে কৃষিপণ্যটির রফতানি মূল্য কমেনি, বরং বেড়েছে।
ইউক্রেনে বাড়তির পথে রয়েছে গমের রফতানি মূল্য। এপিকে-ইনফর্মের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সর্বশেষ সপ্তাহে দেশটির বাজারে রফতানিযোগ্য সাড়ে ১২ শতাংশ প্রোটিনসমৃদ্ধ প্রতি টন গম ২৮৪-২৯৩ ডলারে বিক্রি হয়েছে, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় টনপ্রতি ৩ ডলার বেশি।
ইউক্রেনে গমের বাজার চাঙ্গা হওয়ার পেছনে রাশিয়ার ভূমিকা রয়েছে বলে জানান খাতসংশ্লিষ্টরা। করোনা মহামারীর মধ্যে বাম্পার ফলনের পরও রাশিয়ায় গম ও গম থেকে তৈরি খাবারসহ কয়েকটি নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না। সম্ভাব্য সংকট এড়াতে রফতানিতে লাগাম টানতে গমে বাড়তি শুল্ক আরোপ করে মস্কো। বেঁধে দেয়া হয় কোটা।
রুশ সরকার জানায়, আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩০ জুন সময়ে রাশিয়া থেকে গম রফতানিতে টনপ্রতি ৩০ ডলার ৩২ সেন্ট রফতানি শুল্ক দিতে হবে। একই সময়ে রুশ রফতানিকারকরা সর্বোচ্চ ১ কোটি ৭৫ লাখ টন গম রফতানি করতে পারবেন। এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার আগেই রুশ গমের রফতানি মূল্য চাঙ্গা হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে ইউক্রেনের বাজারেও। বাড়তি রফতানির সম্ভাবনা দেশটিতে গমের রফতানি মূল্য আগের তুলনায় বাড়িয়ে দিয়েছে।