মহামারীতে ধস নামছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রাকৃতিক গ্যাস উত্তোলনে

লোকসমাজ ডেস্ক॥ যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের শীর্ষ প্রাকৃতিক গ্যাস উত্তোলনকারী দেশ। জ্বালানি পণ্যটির রফতানিতেও শীর্ষ অবস্থান দখলে নিতে চায় ওয়াশিংটন। এ কারণে প্রাকৃতিক গ্যাসের উত্তোলন ক্রমান্বয়ে বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এ ধারাবাহিকতায় গত বছর দেশটির কূপগুলো থেকে জ্বালানি পণ্যটির উত্তোলনে রেকর্ড হয়েছিল। চলতি বছরও প্রবৃদ্ধির ধারায় থাকার কথা ছিল মার্কিন প্রাকৃতিক গ্যাস উত্তোলন খাতের। তবে নভেল করোনাভাইরাসের বৈশ্বিক মহামারী ও এর জের ধরে আরোপ করা লকডাউন সব হিসাব ওলটপালট করে দিয়েছে। প্রবৃদ্ধির বদলে চলতি বছর উল্টো মন্দার মুখে পড়তে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রাকৃতিক গ্যাস উত্তোলন। কমতে পারে দেশটিতে জ্বালানি পণ্যটির ব্যবহার। মার্কিন এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (ইআইএ) সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এ সম্ভাবনার কথা জানানো হয়েছে। খবর রয়টার্স ও অয়েলপ্রাইসডটকম।
ইআইএর সর্বশেষ শর্টটার্ম এনার্জি আউটলুকে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কূপগুলো থেকে প্রতিদিন গড়ে ৯ হাজার ২২১ কোটি ঘনফুট প্রাকৃতিক গ্যাস উত্তোলন হয়েছে। দেশটির ইতিহাসে এটাই জ্বালানি পণ্যটির দৈনিক গড় উত্তোলনের সর্বোচ্চ রেকর্ড। প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় চলতি বছর দেশটির কূপগুলো থেকে জ্বালানি পণ্যটির উত্তোলন আরো বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা দেখছিলেন খাতসংশ্লিষ্টরা। এর মাঝে করোনা মহামারী ও লকডাউন হিসাব বদলে দিয়েছে। ইআইএর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছর শেষে যুক্তরাষ্ট্রের কূপগুলো থেকে প্রতিদিন গড়ে ৮ হাজার ৯৮৮ কোটি ঘনফুট প্রাকৃতিক গ্যাস উত্তোলনের সম্ভাবনা রয়েছে। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে দেশটিতে জ্বালানি পণ্যটির দৈনিক গড় উত্তোলন কমতে পারে ২৩৩ কোটি ঘনফুট।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রাকৃতিক গ্যাস উত্তোলনে করোনা মহামারীর এ ধাক্কা দীর্ঘমেয়াদে বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এ ধারাবাহিকতায় আগামী বছর দেশটিতে জ্বালানি পণ্যটির উত্তোলন আরো কমে প্রতিদিন গড়ে ৮ হাজার ৬৫৯ কোটি ঘনফুটে নেমে আসতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে ইআইএ, যা চলতি বছরের প্রাক্কলনের তুলনায় দৈনিক গড়ে ৩২৯ কোটি ঘনফুট কম। আর গত বছরের রেকর্ড উত্তোলনের তুলনায় প্রতিদিন গড়ে ৫৬৫ কোটি ঘনফুট কম।
ইআইএর প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রাকৃতিক গ্যাসের অভ্যন্তরীণ ব্যবহারের পরিমাণ ছিল দৈনিক গড়ে ৮ হাজার ৪৯৭ কোটি ঘনফুট। চলতি বছর দেশটিতে জ্বালানি পণ্যটির দৈনিক গড় ব্যবহার কমে দাঁড়াতে পারে ৮ হাজার ২৬৮ কোটি ঘনফুটে। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রাকৃতিক গ্যাসের দৈনিক গড় ব্যবহার কমতে পারে ২২৯ কোটি ঘনফুট।
মন্দা ভাবের ধারাবাহিকতায় আগামী বছর দেশটিতে জ্বালানি পণ্যটির দৈনিক গড় ব্যবহার আরো কমে ৭ হাজার ৯১৪ কোটি ঘনফুটে নেমে আসার জোরালো সম্ভাবনা দেখছে প্রতিষ্ঠানটি। অর্থাৎ চলতি বছরের তুলনায় ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রাকৃতিক গ্যাসের দৈনিক গড় ব্যবহার কমতে পারে ৩৫৪ কোটি ঘনফুট। আর ২০১৯ সালের তুলনায় কমতে পারে দৈনিক গড়ে ৫৮৩ কোটি ঘনফুট।
২০১৭ সালের পর এবারই প্রথম যুক্তরাষ্ট্রে প্রাকৃতিক গ্যাসের অভ্যন্তরীণ ব্যবহারে পতন দেখা যেতে পারে। আর ২০০৬ সালের পর প্রথমবারের মতো পরপর দুই বছর কমতে পারে যুক্তরাষ্ট্রে প্রাকৃতিক গ্যাসের অভ্যন্তরীণ ব্যবহার।
প্রাকৃতিক গ্যাস রফতানিকারকদের বৈশ্বিক শীর্ষ তালিকায় রাশিয়া ও কাতারের পর তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গত বছর দেশটি থেকে ১২ হাজার ২৯০ কোটি ঘনমিটার প্রাকৃতিক গ্যাস রফতানি হয়েছে। এর মধ্যে পাইপলাইনে (গ্যাসীয় অবস্থায়) রফতানি হয়েছে ৭ হাজার ৫৪০ কোটি ঘনমিটার প্রাকৃতিক গ্যাস। তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) হিসেবে জ্বালানি পণ্যটি রফতানি হয়েছে বাকি ৪ হাজার ৭৫০ কোটি ঘনমিটার।
চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রতিদিন গড়ে ৬২৭ কোটি ঘনফুট এলএনজি রফতানি হতে পারে বলে পূর্বাভাসে জানিয়েছে ইআইএ। আগামী বছর দেশটি থেকে জ্বালানি পণ্যটির রফতানির পরিমাণ আরো বেড়ে দৈনিক গড়ে ৮৭৩ কোটি ঘনফুটে উন্নীত হতে পারে। ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিদিন গড়ে ৪৯৮ কোটি ঘনফুট এলএনজি রফতানি হয়েছে। অর্থাৎ উত্তোলন কমলেও প্রাকৃতিক গ্যাসের রফতানি খাতে চাঙ্গা ভাব ধরে রাখতে সচেষ্ট থাকবে যুক্তরাষ্ট্র।

ভাগ