খুলনায় ৭০ কিলোমিটার বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত

0

খুলনা প্রতিনিধি ॥ ঘূর্ণিঝড় আম্পানের প্রভাবে খুলনায় ৭০ কিলোমিটার বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১০ কিলোমিটার বাঁধ সম্পূর্ণভাবে ভেঙে গেছে। আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আরও ৬০ কিলোমিটার বাঁধ। পানি উন্নয়ন বোর্ড খুলনা-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জী জানান, খুলনায় ৪০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১০ কিলোমিটার সম্পূর্ণভাবে বিধ্বস্ত হয়েছে। বিধ্বস্ত হওয়া বাঁধের পুরোটাই কয়রা উপজেলায়। এছাড়াও দাকোপ, বটিয়াঘাটা, পাইকগাছা ও ডুমুরিয়া উপজেলায় আংশিক ক্ষতি হয়েছে অন্তত ৩০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ।ঝড়ের তাণ্ডবে ভেঙে যাওয়া বাড়ি তিনি বলেন, দাকোপের বেড়িবাঁধের অধিকাংশ এলাকায় দু’পাশের পানির চাপে বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়াও বটিয়াঘাটার বারোআড়িয়া, সুরখালী, বারোভুঁইয়া, শিয়ালীডাঙ্গা, কোঁদলা এলাকার অধিকাংশ স্থানের বেড়িবাঁধ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এছাড়াও কয়রা উপজেলার ভেঙে যাওয়া বেড়িবাঁধের মধ্যে দক্ষিণ বেদকাশি ইউনিয়নের ছোটো আংটিহারা বাকেরগাজীর বাড়ির পাশে শাকবাড়িয়া নদীর প্রায় ১২০ গজ বেড়িবাঁধ,

বাঁধ ভেঙে তলিয়ে গেছে এলাকা

আংটিহারা মজিদ গাজীর পাশে ৩০০ গজ বেড়িবাঁধ, জোড়শিং বাজারের পাশে ৫০০ গজ বেড়িবাঁধ, কপোতাক্ষ নদের চোরামুখা খেয়াঘাটের কাছে ৫০০ গজ বেড়িবাঁধ ও গোলখালী তসলিম মোল্লার বাড়ির পাশে ৫০০ গজ বেড়িবাঁধ, উত্তর বেদকাশি ইউনিয়নের গাজীপাড়া গ্রামের মাথায় কপোতাক্ষ নদের ৬০০ গজ বেড়িবাঁধ, কাটকাটা বাজারের শাকবাড়ীয়া নদীর ৩০০ গজ বেড়িবাঁধ, মহারাজপুর ইউনিয়নের দশালিয়া গ্রামে কপোতাক্ষ নদের ৭০০ গজ বেড়িবাঁধ এবং কয়রা সদর ইউনিয়নের হরিণখোলা ও গোবরা ঘাটাখালি গ্রামে কপোতাক্ষ নদের আধা কিলোমিটার এলাকাসহ ১০টি জায়গার বেড়িবাঁধ ভেঙে এবং মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের কয়রা নদীর পানি পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বাঁধ উপচে লবণ পানি লোকালয়ে প্রবেশ করেছে।বাঁধ ভেঙে তলিয়ে গেছে এলাকাকয়রা উপজেলার ক্ষতিগ্রস্ত মোস্তাজিবুল হক জানান,  প্রায় ১১ বছর আগের প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় আইলার ক্ষত সারতে না সারতেই আস্পনের তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে সব। গত ১০ বছরেও বাঁধ মেরামত হয়নি। টেকসই বাঁধ না হলে এখানে ভবিষ্যতে বসবাস করা কঠিন হয়ে পড়বে।বাঁধ ভেঙে তলিয়ে গেছে এলাকাদাকোপের রাশিদা বেগম জানান, ঝড়ের সময় নদীর ঢেউ ঘরের নিচের মাটি সরিয়ে নিয়ে গেছে। ফলে ঘর পড়ে গেছে। খুলনা-৬ আসনের সংসদ সদস্য আক্তারুজ্জামান বাবু বলেন, কয়রা উপজেলা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ১২১ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের ১০ কিলোমিটার ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করেছে। এছাড়াও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আরও ৪০ কিলোমিটার বাঁধ। ৫০ কোটি টাকার মাছের ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ের তাণ্ডবে ভেঙে যাওয়া বাড়ি