খুলনায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা বন্ধ, নষ্ট হচ্ছে পণ্য

0

খুলনা ব্যুরো॥ করোনার কারণে খুলনায় বন্ধ থাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার স্টলে স্টলে পণ্যসামগ্রী নষ্ট হচ্ছে। ঝড়-বৃষ্টিতে মেলার প্যান্ডেল তিগ্রস্ত হচ্ছে। মেলাঙ্গনে পানি জমে পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। মেলায় প্রায় সোয়া কোটি টাকা বিনিয়োগ করে আয়োজকরা রয়েছেন চরম উদ্বেগে।
১৯তম খুলনা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার উদ্বোধন করা হয় গত ১১ মার্চ। মহানগরীর সোনাডাঙ্গায় খুলনা বিভাগীয় মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সের মাঠে প্রায় ২০০টি স্টল নিয়ে খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক এই মেলার উদ্বোধন করেছিলেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেছিলেন খুলনা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি কাজী আমিনুল হক। এরপর ১৬ মার্চ পর্যন্ত মেলা চলে। ১৭ মার্চ থেকে মেলা বন্ধ হয়ে যায়।
মেলার মাঠে একটি ডিজিটাল ফোয়ারসহ প্রায় দুইশ’ দেশি-বিদেশি স্টল ও প্যাভিলিয়ন রয়েছে। মেলা প্রাঙ্গণে শিশুদের জন্য শিশুজোন, পুরুষ এবং নারীদের জন্য পৃথক নামাজের স্থান, ওজুখানা, টয়লেট ও ফ্রি ওয়াই-ফাই জোনের ব্যবস্থাসহ সম্পূর্ণ মেলা প্রাঙ্গণ ৪০টি সিসি ক্যামেরায় নিয়ন্ত্রিত।
মেলায় থাকা খুলনা যুব অ্যাগ্রোফিস এর উপদেষ্টা শাহ মো. মাসুম বিল্লাহ বলেন, ‘মেলা বন্ধ হওয়ার পর বের করতে না দেওয়ায় তিন দিনে আমার ৪০ হাজার টাকার অ্যাকুরিয়াম ফিস নষ্ট হয়েছে।’ মেলায় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা মো. ইউসুফ হাওলাদার বলেন, ‘পাঁচ জন মেলার নিরাপত্তা বিধানে রয়েছেন। এখানে ৪০টি সিসি ক্যামেরায় সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। মেলায় দুটি অ্যাকুরিয়ামে মাছ ছিল। একটি থেকে মাছ নিয়ে গেছে। আরেকটির বড় মাছ তিগ্রস্ত হয়েছে। এখন সেখানে কিছু ছোট ছোট মাছ আছে। আর কয়কটি প্রতিষ্ঠান থেকে দুধ, কেক, বিস্কুটসহ পঁচনশীল ও মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যসামগ্রী নষ্ট হচ্ছিল। দুদিন আগে নষ্ট ও মেয়াদোত্তীর্ণ সামগ্রী সরিয়ে নিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
মেলায় আরএফএল ও প্রাণ গ্র“পের স্টলের নিরাপত্তায় থাকা মো. রাসেল মোল্লা বলেন, ‘এখানে কোম্পানির চারটি স্টলে অনেক টাকার মালামাল রয়েছে। এগুলোর নিরাপত্তার জন্য তারা দায়িত্ব পালন করছেন। তারা নিজেরাই রান্না করে খাচ্ছেন। কোম্পানি থেকে তাদের বেতন নিয়মিত হচ্ছে।’ লিনা সুজ এর স্টলে থাকা নিরাপত্তাকর্মী সাধু মোল্লা বলেন, ‘স্টলে প্রায় ১৭ লাখ টাকার সামগ্রী রয়েছে। আমি নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছি। প্রতিষ্ঠান থেকে নিয়মিত খরচ পাচ্ছি। বেতন ঢাকায় ফেরার পর পাবো।’ মেলার আয়োজক মো. রাসেল বলেন, ‘এ মেলাঙ্গনকে দৃষ্টিনন্দন করার জন্য পুরো মাঠ সাজানো, গেট তৈরি, ফোয়ারা তৈরি, ওয়াচ টাওয়ার স্থাপনসহ সার্বিক প্রস্তুতিতে সোয়া কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। মেলায় ২০০টি ছোট বড় স্টল রয়েছে। বেচা কেনা করে দোকানিরা স্টল ভাড়া পরিশোধ করতো। কিন্তু মেলা বন্ধ থাকায় বেচাকেনা নেই। দোকানের ভাড়া দেবে কী, দোকানের মালামাল রা করার চিন্তাতেই উদ্বিগ্ন ব্যবসায়ীরা।’