যশোরে দলীয় রেষারেষিতে তুচ্ছ কারণে এক ভাইকে হত্যা,অপরজনকে জখম

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোর সদরের আরবপুর ইউনিয়নে মতাসীন আওয়ামী লীগের দুই পরে দীর্ঘ দিনের রেষারেষিতে তুচ্ছ ঘটনায় এক ভাই খুন ও অপর ভাই জখম হয়েছে। নিহত সাব্বির আহমেদ রাসেল (২৩) বঙ্গবন্ধু ছাত্র পরিষদ যশোর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক। জখম হয়েছে তার ভাই আল-আমিন (২৬)। তাদের বাবা আরবপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি। বুধবার রাত সাড়ে ১১টায় ইউনিয়নের বালিয়া ভেকুটিয়ায় এ ঘটনা ঘটে। আহত আল আমিনকে ওই রাতেই যশোর জেনারেল হাসপাতাল থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়।
নিহত সাব্বির আহমেদ রাসেল শহরতলীর ধর্মতলার মডেল পলিটেকনিক ইনসটিটিউটের ইলেক্ট্রনিক বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্র ছিলেন। তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতি করতেন সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও আরবপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহারুল ইসলামের সাথে। নিহতের পিতা আবু সালেক মৃধা জানান, গত বুধবার বিকেলে তাদের বাড়ির সামনে ইউনিয়ন পরিষদের মহিলা মেম্বার চায়না খাতুনসহ তিনি তার ছেলে রাসেল এলাকার লোকজনকে ত্রাণ দেওয়ার জন্য তালিকা তৈরি করছিলেন। এ সময় সেখান দিয়ে ধুলা উড়িয়ে মোটরসাইকেল চালিয়ে যাচ্ছিলো একই গ্রামের সামিরুল ও ছোট বাবু ওরফে পিচ্চি বাবু। এসময় তার ছেলে রাসেল তাদেরকে এভাবে ধুলা উড়িয়ে মোটরসাইকেল চালানোর ব্যাপারে প্রতিবাদ করে। এতে তারা তার ছেলের ওপর ক্ষিপ্ত হয়। তাছাড়া সামিরুল ও ছোট বাবু তাদের দলীয় প্রতিপক্ষ সদর উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক শহিদুল ইসলাম শহিদ মেম্বারের সাথে রাজনীতি করে। রাজনৈতিক কারণে তাদের ওপর আগে থেকে ক্ষিপ্ত ছিলো তারা। তার ছেলে ধুলা ওড়ানোর প্রতিবাদ করার কারণে তারা আরো ক্ষিপ্ত হয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে সামারুল তার ছেলেকে খুন করার হুমকি দিয়ে চলে যায়। তিনি তার ছেলের জন্য তাদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করলেও তারা শোনেনি। এ ঘটনার পর রাত ১০টার দিকে তিনি বাড়ির সামনে অবস্থান করছিলেন। গরম পড়ার কারণে তার ছেলে রাসেলও বাড়ির সামনে চলে আসে। এ সময় শহিদ মেম্বারের নেতৃত্বে সামিরুল, ছোট বাবু, সাগর ও সোহাগসহ বেশ কয়েকজন কয়েকটি মোটরসাইকেলে এসে বাড়ির সামনে থেকে তার ছেলে রাসেলকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। চিৎকার চেঁচামেচি শুনে এ সময় তার আরেক ছেলে আল আমিন ছুটে এসে ভাইকে রক্ষা চেষ্টা চালালে প্রতিপক্ষ সন্ত্রাসীরা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে রাসেলকে তুলে নিয়ে যায়। পরে তাকে বাড়িরদূরে ঈদগাহ মাঠে নিয়ে তার ছেলে রাসেলকে কুপিয়ে ও জবাই করে হত্যা করে। তিনি অভিযোগ করেন, হত্যার আগে শহিদ মেম্বারের বাড়িতে মিটিং করেছিলো সন্ত্রাসীরা।
যশোর কোতয়ালি থানা পুলিশের ইনসপেক্টর (তদন্ত) শেখ তাসমীম আলম জানান, খবর পেয়ে তারা হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের আটকের জন্য রাতভর অভিযান চালিয়েছেন। কিন্তু কাউকে আটক করতে পারেননি। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোন অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। এদিকে স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, পুলিশ হত্যাকান্ডে জড়িত অভিযোগে সাগর নামে একজনকে আটক করেছে। এছাড়া হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে। তবে কাউকে আটক বা মোটরসাইকেল উদ্ধারের কথা অস্বীকার করেছেন কোতয়ালি থানা পুলিশের ইনসপেক্টর (তদন্ত) শেখ তাসমীম আলম। অপরদিকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে বৃহস্পতিবার দুপুরে এলাকাবাসী শহরের লাশ নিয়ে মিছিল করেছেন। মিছিলে আরবপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহারুল ইসলাম ছিলেন।