খেলার খবর

0

প্রথম ফুটবলার হিসেবে বিলিয়নিয়ার হচ্ছেন রোনালদো
স্পোর্টস ডেস্ক॥ ক্রীড়াজগতে এখনও পর্যন্ত বিলিয়নিয়ার তথা ১০০ কোটি ডলার আয় করতে পেরেছেন মাত্র ৪ জন। সেই ৪ জন আবার ভিন্ন চার খেলার। তাদের বাইরে কোন খেলোয়াড়ই এখনও পর্যন্ত বিলিয়নিয়ার কাবে নাম লেখাতে পারেননি। তবে চলতি মৌসুম শেষে পঞ্চম খেলোয়াড় হিসেবে এই তালিকায় ঢুকতে যাচ্ছে পর্তুগিজ সুপারস্টার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর। ফুটবলারদের মধ্যে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ক্যারিয়ারের আয় ১০০ কোটি হতে চলেছে তার। বাস্কেটবলে মাইকেল জর্ডার, গলফে টাইগার উডস, প্রো-বক্সিংয়ে ফয়েড মেওয়েদার এবং ফর্মুলা রেসিংয়ে মাইকেল শুমাখার- ক্রীড়াজগতে এখনও পর্যন্ত এ চারজনই পেরেছেন বিলিয়নিয়ার কাবে ঢুকতে। তাদের সঙ্গেই উঠবে রোনালদোর নাম। করোনাভাইরাসের কারণে নিজের কাব জুভেন্টাস থেকে চার মাসের বেতন নেবেন না রোনালদো। যে কারণে গতবছর যেখানে কাব থেকে তার আয় ছিলো ১০৯ মিলিয়ন ডলার, সেটি এবার নেমে যাবে ৪৬ মিলিয়ন ডলারে। তবু নিজের স্পন্সরশিপ চুক্তি এবং সিআর৭ আন্ডারওয়্যার ব্র্যান্ড থেকে পাওয়া অর্থ মিলিয়ে চলতি মৌসুমেও প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার আয় হবে রোনালদোর। যা তার ১৮ বছরের ক্যারিয়ারের মোট আয়কে নিয়ে যাবে ১০০ কোটি ডলারে। করোনা পরিস্থিতির কারণে বর্তমানে নিজের জন্মস্থান পর্তুগালের মাদেইরাতেই অবস্থান করছেন রোনালদো। মহামারী এ ভাইরাসের কারণে খেলা বন্ধ থাকায়ই মূলত এসময়ে নিজ দেশে থাকার সুযোগ পেয়েছেন তিনি।

সাবিনার পরিবারের সার্বণিক খোঁজ রাখছে বাফুফে
স্পোর্টস ডেস্ক॥ প্রতিবেশীর হামলার শিকার জাতীয় নারী ফুটবল দলের অধিনায়ক সাবিনা খাতুন এবং তার পরিবারের ওপর সার্বণিক খোঁজ রাখছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। ইতিমধ্যে বাফুফের সাধারণ সম্পাদক মো. আবু নাঈম সোহাগ এবং নারী ফুটবলের প্রধান কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন কথা বলেছেন সাবিনা খাতুনের সঙ্গে। খোঁজ নিয়েছেন সেখানকার সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে। ‘খবর পাওয়ার পরই আমি সাবিনা খাতুনের সঙ্গে কথা বলেছি। হামলায় সাবিনার কিছু হয়নি। ওর বড় বোন সালমা খাতুন আহত হয়েছেন। হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নেয়ার পর এখন তারা বাড়িতেই আছেন। আমাদের সাতীরা জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (ডিএফএ) শেখ নাসিরুল হক ঘটনার পরপরই সেখানে গিয়ে সব ব্যবস্থা নিয়েছেন। আমি এখনো তার সঙ্গে কথা বললাম। সন্ধ্যার আগে তিনি আবার সাবিনাদের বাড়ি গিয়ে সব খোঁজ খবর নেবেন’- বলছিলেন বাফুফের সাধারণ সম্পাদক মো. আবু নাঈম সোহাগ। সারীরার নিজ বাসা থেকে বিকেলে সাবিনা খাতুন জানিয়েছেন, ‘রোববার বিকেলের ঘটনা। আমি তখনো ঘুমিয়েছিলাম। সামান্য কথা কাটাকাটির পর আমাদের বাড়ির পাশের লোক আমার বড় বোনের মাথায় আঘাত করেছে।’ এ ঘটনায় সাতীরা সদর থানায় মামলা হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত ইমন হোসেন ও লতা খাতুন নামের দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বিশ্বকাপ নিয়ে গুঞ্জন উড়িয়ে দিল আইসিসি
স্পোর্টস ডেস্ক॥ আগামী ১৮ অক্টোবর থেকে অস্ট্রেলিয়ায় শুরু হওয়ার কথা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। চলবে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত। হাতে অনেকটা সময় আছে। তবে করোনাভাইরাসের প্রকোপ যেভাবে বাড়ছে, তাতে ভরসা পাওয়া যাচ্ছে না। অস্ট্রেলিয়া এই করোনায় তিগ্রস্থ দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। অস্ট্রেলিয়ান সরকার পরিস্থিতি সামাল দিতে ছয় মাসের লকডাউন ঘোষণা করেছে। এই সময় আরও বাড়তে পারে। ফলে অনেকেই মনে করছেন, এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপটি আর মাঠে গড়ানো সম্ভব হবে না। করোনার তাণ্ডবে বাতিলই করতে হবে টুর্নামেন্ট। তবে এমন গুঞ্জনকে বাতাসেই উড়িয়ে দিল আইসিসি। বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা এখনও বলছে, শিডিউল অনুযায়ীই শুরু হবে টুর্নামেন্ট। আইসিসি এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘চলমান করোনাভাইরাস সংকট নিয়ে বলতে হয়, সংশিষ্ট কর্তৃপকে সঙ্গে নিয়ে আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২০-স্থানীয় আয়োজক কমিটি অবস্থা নিবিড় পর্যবেণে রেখেছে। সেটা চলবে। আইসিসি পুরুষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপটি ১৮ অক্টোবর থেকে ১৫ নভেম্বর অস্ট্রেলিয়ার সাতটি ভেন্যুতে হওয়ার কথা। আমাদের পরিকল্পনা হলো, শিডিউল অনুযায়ীই চালিয়ে যাওয়ার।’ তবে আইসিসি যতই বলুক, যদি পরিস্থিতির উন্নতি না হয়, তবে এ বছরের আসরটি বাতিল হয়ে যেতে পারে। সম্প্রতি এমন কথাও শোনা গেছে, আইসিসি এই টুর্নামেন্টটি ২০২২ সালে নিয়ে যাওয়ার কথা ভাবছে। কেননা আগামী বছর ভারতের মাটিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আরেকটি আসর। তাই ফাঁকা জায়গাও নেই।

ভারতীয়দের এহেন কাণ্ডে অবাক অশ্বিন-রোহিত
স্পোর্টস ডেস্ক॥ করোনার আক্রমণে কাঁদছে পুরো বিশ্ব। ভারতেও আস্তে আস্তে পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে। এমন সময়ে পুরো জাতিকে এক করতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রোববার রাতে নয় মিনিট আলো নিভিয়ে প্রদীপ, মোমবাতি জ্বালানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন। জনগণ বুঝলেন তার উল্টো! বিপদে নীরবতা পালন নয়, বরং এই সময়টায় আতশবাজি আর পটকা ফুটিয়েছেন ভারতের অনেকে। লকডাউন ভেঙে রাস্তায় নেমে এসে উৎসব উদযাপনেও মেতে উঠেন তারা। এই বিপদের মুহূর্তে জনগণের এমন কাণ্ড দেখে আসলে কি বলবেন বুঝে উঠতে পারছেন না রোহিত শর্মা, রবিচন্দ্রন অশ্বিনরা। দেশের মানুষকে সচেতন করতে টুইটারে নিজের নামই বদলে ফেলেছেন অশ্বিন। রোহিতও বারবার নানা ধরনের টুইটে সবাইকে সতর্ক করছেন। কিছুতেই তো কিছু হচ্ছে না! লকডাউনের মধ্যে আনন্দ উৎসব! অশ্বিন বিস্ময় প্রকাশ করে নিজের টুইটার অ্যাকাউন্টে লিখেছেন, ‘আমি সত্যিই ভেবে অবাক হচ্ছি, এত বাজি মানুষ কিনল কোথা থেকে? সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, বাজিগুলো কেনা হলো কখন!!’ জনগণের এমন কাণ্ড মানতে পারছেন না রোহিত শর্মাও। তিনি কিছুটা রসিকতার সুরে কটা করেছেন দেশবাসীকে। ভারতের ওয়ানডে দলের সহ-অধিনায়ক টুইট করেছেন, ‘সবাই ঘরে থাকুন। উৎসব পালন করতে রাস্তায় যাওয়ার দরকার নেই। বিশ্বকাপের এখনও অনেক দেরি।’ প্রসঙ্গত, চলতি বছরের অক্টোবরে অস্ট্রেলিয়ায় টি-২০ বিশ্বকাপের আসর বসার কথা। রোহিত সেদিকেই ইঙ্গিত করে খোঁচা দিয়েছেন উৎসব করা মানুষগুলোকে।

করোনা আক্রান্ত ফুটবল চিকিৎসকের আত্মহত্যা
স্পোর্টস ডেস্ক॥ স্ত্রীসহ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন ফ্রেঞ্চ লিগ ওয়ানের দল রেইমসের ৬০ বছর বয়সী চিকিৎসক বার্নার্ড গনজালেজ। কিন্তু এর বিরুদ্ধে লড়াই করেননি তিনি। একটি চিরকুট লিখে আত্মহত্যা করেছেন কিংবদন্তিতুল্য এ চিকিৎসক। এ খবর নিশ্চিত করেছেন রেইমসের মেয়র আর্নড রবিনেট। জানিয়েছেন বার্নার্ডের মৃত্যুতে শুধু রেইমস কাবই, পুরো শহরের মানুষ শোকাহত। কারণ সকলের খুব কাছের ছিলেন বার্নার্ড। তবে সুইসাইড নোটে কী লেখা ছিল সেটি পড়েননি রেইমস মেয়র। বার্নার্ডের মৃত্যুতে শোক জানিয়ে রবিনেট বলেন, ‘তিনি আমাদের কাবের চিকিৎসক ছিলেন। দারুণ পেশাদার একজন তিনি। যে কারণে সবাই তাকে ভালবাসে, সম্মান করে। তার পরিবারের জন্য আমার গভীর সমবেদনা। তিনি কোভিড-১৯ আক্রান্ত ছিলেন। আমি জানি তিনি একটা সুইসাইড নোট লিখেছেন। আমি সেটা পড়িনি। ফ্রেঞ্চ কাব রেইমসের হয়ে প্রায় ২৩ বছর ধরে কাজ করেছেন বার্নার্ড। যখন কাবের দুর্দিন ছিল, তখন বিনামূল্যেই স্বাস্থ্যসেবা দিয়েছেন তিনি। শুধু কাব নয়, শহরের সবার জন্যই খোলা ছিল বার্নার্ডের সাহায্যের দরজার। তাই তার প্রতি কৃতজ্ঞতার শেষ নেই রেইমসের। কাবের প্রেসিডেন্ট পিয়েরে কাইলট বলেন, ‘আমার কিছু বার ভাষা নেই। আমি এই খবরে বিমূর্ত হয়ে গেছি। রেইমসের হৃদয়ে আঘাত করলো এই মহামারী। তিনি (বার্নার্ড) রেইমসের একজন ব্যক্তিত্ব ছিলেন, কাবের অন্যতম সেরা পেশাদার ছিলেন।’ কাইলট আরও বলেন, ‘কাবের সঙ্গে ২০ বছরের বেশি সময় ধরে কাজ করেছেন তিনি। নিজের কাজের েেত্র পেশাদারিত্বে কখনও ছাড় দেননি। পুরোপুরি নিঃস্বার্থভাবে কাজ করেছেন। কাবের খারাপ সময়ে বিনামূল্যে সেবা দিয়েছেন। নিজের কাজকে একটা শিল্প বানিয়েছিলেন তিনি। তার মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।’

আর্থিক ক্ষতি পোষাতে বিশ্বকাপ-এশিয়া কাপের দিকে তাকিয়ে বিসিবি
স্পোর্টস ডেস্ক॥ এমনিতেই জনজীবন স্থবির। যত সময় গড়াচ্ছে, করোনা পরিস্থিতি তত জটিল হচ্ছে। এরকম অবস্থা চলমান থাকলে এবারের প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগ আদৌ হবে কি না? তা নিয়েই রয়েছে সংশয়। আর লিগ একদমই না হলে জাতীয় দলের ক্রিকেটার ও বিসিবির সাথে চুক্তিভুক্ত ক্রিকেটাররা ছাড়া বাকিদের ওপর নেমে আসবে চরম অর্থনৈতিক সংকট। কারণ এই প্রিমিয়ার লিগই তাদের আয় রোজগারের একমাত্র মাধ্যম। এই লিগ খেলে গড়পড়তা অনেকেই ৫-৭ থেকে লাখ দশেক টাকা পান। তা দিয়েই নিজে ও পরিবারের ভরনপোষণ করেন। লিগ না হলে তারা নিদারুণ অর্থ কষ্টে পড়ে যাবেন। তাদের বছরের পুরো সময় পার করাই হবে মুশকিল। জাগো নিউজের পাঠকরা সে সম্পর্কে আগেই ধারণা পেয়েছেন, প্রিমিয়ার লিগ আদৌ না হলে কী হবে? তা নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এখন দেখার বিষয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কী অবস্থা? সবরকম ক্রিকেটীয় কর্মকান্ড বন্ধ। হোম সিরিজ নেই। দেশের বাইরে গিয়ে কোথাও খেলার সুযোগ ও সম্ভাবনা নেই। এরই মধ্যে দুইটি সিরিজ স্থগিত হয়ে গেছে। এপ্রিলে পাকিস্তান আর মে মাসে আয়ারল্যান্ড-ইংল্যান্ড সফর ছিল, সেটাও বন্ধ। চারদিকের এরকম স্থবির অবস্থায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কী অবস্থা হবে? একটা ধাক্কা নিশ্চয়ই বিসিবির গায়ে এসে লগবে। বিসিবির সামনেও হয়ত আর্থিক তির হুমকি থাকবে। যদি সত্যিই আর্থিক তির শঙ্কা থাকে, তাহলে সেটা কী পরিমাণ? ঐ ঘাটতি পুষিয়ে নেয়ার পর্যাপ্ত সামর্থ্য কি বোর্ডের আছে?
যদিও কদিন আগে বোর্ডের প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজন জাগো নিউজকে আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন, এখনই তেমন আর্থিক তির সম্ভাবনা কম। বোর্ডের আয়ের যে সব বড় বড় খাত ও উৎস আছে, তার কোনটাই এখনও তিগ্রস্ত বা বন্ধ হয়নি। এটা একটা বড় স্বস্তি এবং আগামী কয়েক মাসেও এমন কোন ত্রে নেই, যা না হলে ব্যাপক তি হয়ে যাবে। তবে বিসিবি সিইও নিজামউদ্দীন চৌধুরী সুজন এও বলেছিলেন, এ অবস্থা বেশি দিন চললে ভিন্ন কথা। তখন তো একটা ধাক্কা এসে লাগবেই। এখন সেই ধাক্কা কত ব্যাপক ও বড় হতে পারে? বোর্ডে এ প্রশ্নের উত্তর যার সবচেয়ে ভাল জানার কথা, সেই অর্থ কমিটির চেয়ারম্যান ইসমাইল হায়দার মলিক অবশ্য এখনই খুব চিন্তিত নন। তার ভাবটা এমন, হ্যাঁ করোনার একটা নেতিবাচক প্রভাব তো পড়বেই। তবে বড় ধরনের আর্থিক তির সম্ভাবনা কম। আজ (সোমবার) দুপুর গড়ানোর আগে জাগো নিউজের সঙ্গে আলাপে ইসমাইল হায়দার মলিক বলেন, ‘আশা করছি ওরকম লস হবে না। জার্সি স্পন্সর, গ্রাউন্ডস রাইটস, টিভি রাইট- এগুলোর মূল্য তো কিছু কমবেই। সেটা আমার হিসেবে ২০-২৫ শতাংশ হতে পারে। টাকার অংকে হয়তো ৩০-৪০ কোটি টাকার মত হতে পারে। আমাদের ফান্ডে হয়তো অতিরিক্ত কোন টাকা গচ্ছিত থাকবে না। তবে আমাদের স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনায় আশা করি সমস্যা হবে না। আমাদের বোর্ডের সব কার্যক্রম আশা করি স্বাভাবিকভাবে চলবে। তবে কিছু টাকা তো কমবেই।’ মলিক আরও বোঝানোর চেষ্টা করেন, বিসিবির নিজস্ব আয়ের যে সব উৎস বা ত্রে আছে, করোনার প্রভাব তো তাদের ওপরও পড়বে। তাই বিভিন্ন স্পন্সর খাত থেকে আয় যাবে কমে।
তাই মলিকের মুখে এমন কথা, ‘আমাদের যারা স্পন্সর আছে তারাও তো ভাল নেই। তারা নিশ্চয় শতভাগ দিতে চাইবে না। দেয়ার অবস্থাও হয়তো থাকবে না। তাই ধরে নিতে হবে কিছু কম দেবে। আমাদের জার্সি স্পন্সর স্বত্ত্ব বিক্রি হয়নি এখনও। এই করোনা সংক্রমণের কারণেই করা সম্ভব হয়নি। জার্সি স্পন্সর থেকে যে মূল্যটা পাই, করোনার প্রভাবে তা নিশ্চয়ই কমবে। গ্রাউন্ডস স্বত্ত্ব থেকে যা পাই মানে যে সব স্পন্সরশিপ বিক্রি হয়ে গেছে, সেখান থেকেও তো কম পাওয়া যাবে। কারণ ঐ স্বত্ত্ব যারা কিনেছে, তাদের ওপরও তো করোনার প্রভাব আছে। তারাও তো তিগ্রস্ত হচ্ছে। এখন তারা দেয়ার সময় নিশ্চয়ই কিছু পরিমাণ কম দিতে চাইবে বা কম দেবে।’ তাহলে করোনার প্রভাবে বিসিবির অর্থনৈতিক অবস্থা কি দাড়াতে পারে? জবাবে মলিকের ব্যাখ্যা, ‘আমাদের বর্তমান ও ভবিষ্যত অবস্থা কী হতে পারে?- তা নির্ণয় করার জন্য আমরা বসেছিলাম। তাতে আমাদের পর্যালোচনায় বেরিয়ে এসেছে, ২০-২৫ শতাংশ কম আয় হবে।’ একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের বোর্ডের মোট আয়ের মূল উৎস আসলে দুইটি। একটি আমরা মানে বিসিবি জেনারেট করি। বিভিন্ন স্পন্সর, রাইটস বিক্রি, ঘরোয়া সিরিজ আয়োজন থেকে আসে। আর বাকি ৫০ ভাগের উৎস হলো আইসিসি ও এসিসি। বিশ্ব ক্রিকেটের অভিভাবক সংস্থা আর এশিয়ান ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থা থেকেও মেলে বিভিন্ন অনুদান। এর বাইরে মহাদেশীয় ও বিশ্ব আসরে অংশ নেয়া এবং আনুষঙ্গিক সাহায্য ও সহযোগিতা থেকেও একটা বড়সড় অংক আসে।’ মলিক বোঝানোর চেষ্টা করেন, বিসিবির নিজের আয় ২০-২৫ শতাংশ কমলেও আইসিসি ও এসিসির আয়ের উৎস তো আর বন্ধ হয়নি। তার ভাষায়, ‘আইসিসি আর এসিসির কোন ইভেন্ট তো বাতিল হয়নি। দুটিই আছে।’ আইসিসি আর এসিসির খাত বলতে বিসিবি অর্থ কমিটির চেয়ারম্যান আসলে এশিয়া কাপ ও বিশ্ব টি-টোয়েন্টি আসরের কথা বুঝিয়েছেন। তার সরল ব্যাখ্যা, ‘ধরেন ঐ দুই আসরে অংশগ্রহণের একটা আয় থাকে। এর বাইরেও আনুষঙ্গিক অর্থনৈতিক সুযোগ সুবিধা থাকে। এখন যদি সেই দুই ইভেন্ট হয় তাহলে তো আমরা কিছু রেভিনিউ পাবোই। হয়তো কিছু কমবে। কমলেও আমাদের জন্য অত ভয়ের কিছু দেখি না।’ কেন ভয়ের কিছু দেখেন না? মলিকের আস্থাপূর্ণ উচ্চারণ, ‘আমাদের একটা উদ্ধৃত তহবিল আছে। নাজমুল হাসান পাপন বোর্ডের দায়িত্ব নেয়ার পর যেটা হয়েছে। এতে করে বোর্ডের অন্যরকম একটা অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা চলে এসেছে। আমার স্থির বিশ্বাস, ঐটা দিয়ে আমরা ৪-৫ বছরের সমস্যা সমাধান করতে পারবো, তি পুষিয়ে চলতে পারবো। তবে আমার ধারণা এক-দেড় বছরের মধ্যেই পরিস্থিতি ঘুরে যাবে। সেটা ঘুরে গেলে আমাদের জন্য বিশেষ সমস্যা হবে না। তবে প্রাথমিকভাবে কিছু ধাক্কা আসবেই, ২০-২৫ শতাংশ রেভিনিউ কমে যাবে।’ উলেখ্য, আগামী সেপ্টেম্বরে এশিয়া কাপ। আর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ অক্টোবর-নভেম্বরে। এখন করোনা পরিস্থিতি ভাল হয়ে গেলে হয়তো ঐ দুই আসর মাঠে গড়াতে পারে। সেেেত্র বিসিবির মোট আয়ের যে অর্ধেক খাত আছে, সেখান থেকে যা পাওয়ার কথা- তা যদি ২০ ভাগ কমও মেলে, তারপরও মোটামুটি ভাল অর্থই আসবে। কিন্তু করোনার প্রভাবে ঐ দুই আসর না হলে বিসিবির আয়ের দুইটি বড় ত্রে যাবে বন্ধ হয়ে। মানে একটা বড় ধাক্কা লাগবে এবং সেেেত্র বিসিবির সম্ভাব্য আয়ের ৫০ শতাংশ যাবে কমে। এখন দেখার বিষয় এশিয়া কাপ আর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ হয় কি না? হলে খানিক কম মিললেও সম্ভাব্য আয়ের অন্তত ৭৫-৮০ ভাগ ঠিকই চলে আসবে। আর না হলেই চিন্তা। তখন মোট তির পরিমাণ ২০-২৫ শতাংশ অর্থাৎ ৩০-৪০ কোটি টাকা থাকবে না। বেড়ে দ্বিগুণ তথা ৬০-৭০ কোটি টাকা হয়ে যাবে।