কালীগঞ্জে গরম পানি দিয়ে ঝলসে দেয়া হলো যুবকের মুখমণ্ডল

0

কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) সংবাদদাতা ॥ সেচের অভাবে বোরো তে নষ্ট হচ্ছে। আবার এসেছো সেচের টাকা নিতে। এটা তো অন্যায়। এ কথা বলেই চা দোকানি তার কেটলির গরম ফুটন্ত পানি ছুড়ে মারলেন মুখে। এখন ঝলসানো ত মুখ নিয়ে হাসপাতালের বেডে শুয়ে কাতরাচ্ছেন নিখিল দাস (৪০)। তিনি উপজেলার জামাল ইউনিয়নের হরদেবপুর গ্রামের মৃত অধির দাসের ছেলে। আর এমন অমানবিক কাজটি করেছেন ওই গ্রামের প্রভাবশালী সুকুমার দাসের ছেলে বাপ্পি দাস।
ভুক্তভোগী নিখিল দাস জানান, তিনি খুব গরিব মানুষ। বসতভিটার মাত্র ২ শতক জমিই তার একমাত্র সম্বল। দিনের বেলায় পরের পানবরজে মজুরিভিত্তিতে কাজ করেন। আর সন্ধ্যার পর গ্রামের মধ্যে নিজে একটা চায়ের দোকান চালান। কিছু পয়সা জোগাড় করে এ বছর তাদের গ্রামের সাগর দাস আর জাফর মোল্লার কাছ থেকে মোট ১০ কাঠা জমি ইজারা নিয়ে বোরো ধানের চাষ করেছেন। গ্রামের সুকুমার দাসের স্যালো মেশিনে ৪ হাজার টাকার চুক্তিতে সেচের দায়িত্ব দেন। সেচ বাবদ এ পর্যন্ত বেশ কিছু টাকাও দিয়েছেন। কিন্ত কিছুদিন হলো তার েেত সেচ না দেয়ায় ধান নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এটা বারবার বলার পরও কাজ হয়নি। উল্টো সেচের টাকার তাগেদায় এসে টাকার জন্য গালমন্দ করতে থাকে। সে সেচের অভাবে তার তে নষ্ট হচ্ছে সেটা না দেখে টাকার জন্য গালমন্দ করাটা ঠিক হচ্ছে না। এ কথা বলতেই সুকুমারের ছেলে বাপ্পি মারার জন্য তেড়ে আসলে কথা কাটাকাটি এক পর্যায়ে দোকানের চায়ের কেটলির ফুটন্ত পানি শরীরে ঢেলে দিয়ে তার মুখোমন্ডল ঝলসে দিয়েছে। পরে গ্রামবাসী তাকে উদ্ধার করে কালীগঞ্জ হাসপাতালে ভর্তি করে। অবস্থার অবনতি হলে স্থানীয় চিকিৎসকেরা তাকে যশোরে রেফার্ড করলেও পয়সার অভাবে এ হাসপাতাল ছাড়তে পারেননি তিনি বলে যোগ করেন ভুক্তভোগী নিখিল দাস।
নিখিলের স্ত্রী মুক্তি রানী দাস জানান, তারা খুব গরিব মানুষ। যেভাবে গরম পানি দিয়ে তার স্বামীকে ঝলসে দেয়া হয়েছে তা লোমহর্ষক। এখন সংসারের একমাত্র উপার্জনশীল ব্যক্তি হাসপাতালে শুয়ে কাতরাচ্ছে। আবার চিকিৎসার জন্য খরচও নেই কি করবেন বুঝতে পারছেন না এই বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন। আইনের আশ্রয়ের প্রশ্নে তিনি জানান, আগে প্রয়োজন জীবন বাঁচানো পরে বিচার। তাই এখনও থানায় মামলা দেননি।
গ্রামবাসী জানান, েেত পানি সেচ কম দেয়া আর টাকার তাগেদা করাকে কেন্দ্র করে কথা কাটাকাটি। তবে রাগান্বিত হয়ে কেটলির গরম পানি ছুঁড়ে মারাটা অমানবিক। জামাল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোদাচ্ছের হোসেন মন্ডল পিবিএ’কে জানান, কারও সাথে কথা কাটাকাটি হতেই পারে। তাই বলে ফুটন্ত গরম পানি কারও শরীরে নিপে করাটা চরম অপরাধ। তিনি আরও বলেন বিষয়টি লোমহর্ষকও বটে।
এ ব্যাপারে কালীগঞ্জ হাসপাতালের আর এম ও সুলতান আহম্মেদ জানান, গরম পানিতে নিখিলের মুখোমন্ডল ঝলসে গেছে। বার্ন ইউনিটের চিকিৎসার যথাযথ ব্যবস্থাপত্র না থাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার্ড করা হয়েছিল। কিন্ত রোগী অত্যন্ত গরীব হওয়ায় সে এখান থেকে যেতে চায়নি। ফলে তাকে সুস্থ করে তুলতে কালীগঞ্জ হাসপাতালের চিকিৎসকেরা সাধ্যমত চেষ্টা করে যাচ্ছেন। তবে সময় লাগবে। এ ব্যাপারে কালীগঞ্জ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাঃ মাহাফুজুর রহমান মিয়া জানান, এমন ঘটনা নিয়ে এখনও কেউ থানা অভিযোগ নিয়ে আসেন নি। আসলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নিবেন।