চিতলমারীতে শিশু রিফাতকে চাচাতো ভাইয়েরা হত্যা করে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে

0

বাগেরহাট সংবাদদাতা ॥ জমিজমা নিয়ে একই বংশের প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে বাগেরহাটের চিতলমারীতে চাঞ্চল্যকর শিশু রিফাত হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন ও হত্যার সাথে জড়িত তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গ্রেফতারকৃতরা হলো, চিতলমারী উপজেলার সাবোখালী গ্রামের হামিদ তালুকদারের ছেলে মো. হাফিজুর রহমান তালুকদার ওরফে ছোট (২৯), শওকত তালুকদারের ছেলে ইকবাল তালুকদার (১৯) এবং আব্দুল হান্নান তালুকদারের ছেলে সাকিব তালুকদার (১৪)। শাকিব ও ইকবাল শিশু রিফাতের চাচাতো ভাই। এদের মধ্যে হাফিজুর রহমান বাগেরহাট জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সমির মল্লিকের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে নিকট আত্মীয়ের পরিকল্পনায় শিশু রিফাতের চাচাতো ভাইয়েরাই তাকে হত্যা করেছে বলে দাবি করেছে পিবিআই। মঙ্গলবার দুপুরে পিবিআই বাগেরহাট কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান খুলনা বিভাগীয় প্রধান বিশেষ পুলিশ সুপার আতিকুর রহমান মিয়া। এ সময় বাগেরহাট কার্যালয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোজাম্মেল হক, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক মো. শহিদুর রহমান, বাগেরহাট প্রেস ক্লাবের সভাপতি অ্যাড. মোজাফফর হোসেন, সাধারণ সম্পাদক এ বাকী তালুকদারসহ পিবিআই সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশ সুপার বলেন, ’জমিজমা নিয়ে একই বংশের প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে ২০১৯ সালের ২৬ নভেম্বর চিতলমারী উপজেলার চৌদ্দহাজারি গ্রামের মান্নান তালুকদারের ৫ বছর বয়সী ছেলে রিফাতুল তালুকদারকে হত্যা করে স্থানীয় ওদুদ মেম্বারের পুকুরে ফেলে রেখে যায়। পরে ২৮ নভেম্বর চিতলমারী থানায় একটি হত্যা মামলা হয়। পরবর্তীতে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব প্রদান করা হয় পিআইবিকে। দীর্ঘ তদন্ত শেষে জানা যায়, ঘটনার এক সপ্তাহ আগে রিফাতুলের নিকট আত্মীয় নুরুল আমীন তালুকদার ও তার বন্ধু মো. হাফিজুর রহমান তালুকদার ওরফে ছোট রিফাতুলকে হত্যার পরিকল্পনা করে। হাফিজুর জানতে চাই ছোট শিশুকে কেন হত্যা করবো। নুরুল আমীন বলে, রিফাতুলের শারীরিক সমস্যা আছে এবং খালিদ হত্যার সকল আসামি জামিনে বের হয়ে আসলে আমাদের আরও সমস্যা হবে। এতেও ছোট রাজি না হওয়ায় নুরুল আমীন তাকে বলে তোর কিছু করতে হবে না, যা করার ইকবাল ও সাকিব করবে। সে অনুযায়ী ঘটনার দিন দুপুর একটায় ইকবাল ও সাকিব রিফাতুলকে বাড়ির পাশে মুকুল হালদারের সুপারির বাগানে নিয়ে যায়। সাকিব রিফাতুলকে বাগানের পাশে পানিতে ফেলে গলা কাদার মধ্যে চেপে ধরে। এতে রিফাতুলের মৃত্যু হয়। তারপর নুরুল আমীন, সাকিব ও ইকবাল ছোটকে হুমকি দিয়ে বলে এ ঘটনা তুই যদি কাউকে জানাস তাহলে তোকেও হত্যা করা হবে। ঘটনার পর ছোট ঢাকায় চলে যায়। ছোট হত্যার সাথে জড়িত নিশ্চিত হওয়ার পরে ২৬ জানুয়ারি পিবিআই তাকে গ্রেফতার করে। ছোটর স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ২৪ ফেব্রুয়ারি বাড়ি থেকে ইকবালকে এবং হাসপাতাল থেকে সাকিবকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়। হত্যার সাথে জড়িত অন্যদেরও গ্রেফতারে পুলিশ সচেষ্ট রয়েছে বলে জানান তিনি’।
এদিকে শিশু রিফাতুল হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটনের খবর ও মূল আসামি ধরা পড়ায় ওই এলাকার নির্যাতিত শতাধিক নারী-পুরুষ পিবিআই কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়। এ সময় তারা মূল আসামি ধরা পড়ায় পিবিআইকে ধন্যবাদ জানিয়ে অন্য আসামিদের গ্রেফতারের জন্য অনুরোধ জানান।