বাগেরহাট অফিস ॥ বাগেরহাটে প্রবীণদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। শনিবার দুপুরে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা রিসোর্স ইন্টিগ্রেশন সেন্টার (রিক) এর প থেকে এই এই শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়। রিকের বাগেরহাট জেলা কার্যালয়ে শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. কামরুল ইসলাম। গণবিদ্যালয়ের সাবেক অধ্য সাইফুদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন, সমাজসেবক মুহাব্বাত হোসেন, রিকের এরিয়া ম্যানেজার কামাল হোসেন, সাংবাদিক আলী আকবর টুটুল। অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বাগেরহাট সদর উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের ১২০ জন প্রবীণ মানুষকে একটি কম্বল, টুপি, হাত ও পায়ের মোজা দেওয়া হয়েছে। আয়োজকরা জানান, প্রচন্ড শীতে সব থেকে বেশি অসহায় থাকে প্রবীণরা। তাদের শীত উপশমের জন্য আমাদের এই উদ্যোগ।
শাহজালালে ৬৪ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৬৪ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার করেছেন কাস্টমস কর্মকর্তারা। শনিবার রাতে বিমানবন্দরের আমদানি কার্গোতে অভিযান চালিয়ে এসব স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়। ঢাকা কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার সাজ্জাদ হোসেন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিমানবন্দরের আমদানি কার্গোতে অভিযান চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় ৬৪০টি স্বর্ণের বার পাওয়া যায়। এসব স্বর্ণের ওজন হয়েছে ৬৪ কেজি। কারা এই স্বর্ণ এনেছে এবং কার কাছে এগুলো যাওয়ার কথা ছিল সে বিষয়গুলো তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
খেলার খবর
মুশফিক নৈপুন্যে জয়ের ধারায় ফিরলো খুলনা
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ টানা দুই ম্যাচ হারের পর মুশফিকুর রহিম-শহিদুল ইসলামের নৈপুন্যে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) টি-২০ ক্রিকেটে জয়ের ধারায় ফিরলো খুলনা টাইগার্স। ঢাকার দ্বিতীয় পর্বে টুর্নামেন্টের ২২তম ম্যাচে রংপুর রেঞ্জার্সকে ৫২ রানে হারিয়েছে খুলনা। ব্যাট হাতে অধিনায়ক মুশফিক ৪৮ বলে ৫৯ রান ও বল হাতে শহিদুল ২৩ রানে ৪ উইকেট নেন। মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং বেছে নেয় রংপুর। ব্যাট হাতে নেমে ভালো শুরু করতে পারেনি খুলনা। ৪৫ রানের মধ্যে ৩ উইকেট হারায় তারা। মেহেদি হাসান মিরাজ ১২, দক্ষিণ আফ্রিকার রিলি রুশো শূন্য ও শামসুর রহমান ১৩ রান করে ফিরেন। আরেক ওপেনার নাজমুল হোসেন শান্ত ভালো শুরুর পরও ২২ বলে ৩০ রান করে আউট হন।
দলীয় ৮৪ রানে শান্ত’র বিদায়ের পর পঞ্চম উইকেটে আফগানিস্তানের নাজিবুল্লাহ জাদরানকে নিয়ে ৮২ রানের জুটি গড়েন মুশফিক। মারমুখী মেজাজে থাকা জাদরান ৬টি চার ও ১টি ছক্কায় ২৬ বলে ৪১ রান করে আউট হন। তবে এক প্রান্ত আগলে হাফ-সেঞ্চুরি তুলে শেষ ওভারে আউট হন মুশফিক। ৪৮ বলে ৪টি চার ও ২টি ছক্কায় ৫৯ রান করেন মুশফিক। ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৮২ রানের বড় সংগ্রহ পায় খুলনা। রংপুরের মুস্তাফিজ ২৮ রানে ৩ উইকেট নেন। জবাবে জয়ের জন্য ১৮৩ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে ভালো শুরু হয়নি রংপুরেরও। ৪২ রানে ৩ উইকেট হারায় তারাও। তবে খুলনার বোলারদের তোপে রংপুরের পরের দিকের ব্যাটসম্যানরা বড় ইনিংস খেলতে পারেনি। ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৩০ রান পর্যন্ত যেতে পারে রংপুর। দলের পক্ষে আগের ম্যাচের হিরো লুইস গ্রেগরি সর্বোচ্চ ৩৪ রান করেন। এছাড়া শেষ ব্যাটসম্যান মুস্তাফিজুর রহমান ১১ বলে অপরাজিত ২১ ও ওপেনার মোহাম্মদ নাইম ২০ রান করেন। খুলনার শহিদুল ২৩ রানে ৪ উইকেট নেন। এই জয়ে ৬ খেলায় ৪ জয় ও ২ হারে ৮ পয়েন্ট হলো খুলনার। আর সমানসংখ্যক ম্যাচে ১ জয় ও ৫ হারে ২ পয়েন্টই থাকলো রংপুরের।
সৌম্যর ব্যাটে তাণ্ডব, তবু হার কুমিল্লার
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ কি ব্যাটিংটাই না করলেন সৌম্য সরকার! উইকেটের চারদিকে চার-ছক্কার ফুলঝুরি ছোটালেন। খেললেন চোখ ধাঁধানো এক ইনিংস। কিন্তু দলকে জেতাতে পারলেন না। শেষ করতে হলো ট্রাজিক হিরো হয়ে। চলতি বিপিএলে প্রায় প্রতি ম্যাচেই রান পাচ্ছেন সৌম্য সরকার। তবে ফিফটি হচ্ছিল না। এবার সেই আক্ষেপ পূরণ করলেন। আরেকটু সুযোগ পেলে তো সেঞ্চুরিটাও করে ফেলতে পারতেন। সে সুযোগ হলো না। ৪৮ বলে ৮৮ রানে অপরাজিত থাকলেন সৌম্য। আর তার এমন ইনিংসের পরও রাজশাহী রয়্যালসের কাছে ১৫ রানের হার দেখতে হলো কুমিল্লা ওয়ারিয়র্সকে। ১৯১ রানের বড় লক্ষ্য। শুরুটা যেমন হওয়ার দরকার ছিল, তেমনটা পায়নি কুমিল্লা। দুই ওপেনার রবিউল ইসলাম রবি (১৫ বলে ১২) আর স্টিয়ান ফন জিল (২৩ বলে ২১) টি-টোয়েন্টির ব্যাটিংটা করতে পারেননি। ডেভিড মালানও ৫ বলে মাত্র ৩ রান করে সাজঘরের পথ ধরেন। সতীর্থদের এমন ব্যর্থতার মাঝেও নিজের সহজাত ব্যাটিংটাই করে যাচ্ছিলেন সৌম্য সরকার। শুরুই করেন দুই বাউন্ডারি দিয়ে। পরে চার-ছক্কার ফুলঝুরি ছুটিয়েছেন। বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যানের আগ্রাসন চলেছে ইনিংসের শেষ পর্যন্ত। কিন্তু ওই যে সতীর্থদের ব্যর্থতা! তারা তো বল নষ্ট করে দলকে বিপদে ফেলে গেছেন আগেই। সৌম্যর ইনিংসটা তাই দলের পরাজয়ের ব্যবধানটাই যা কমিয়েছে। শেষ পর্যন্ত বিধ্বংসী সৌম্য অপরাজিত থাকেন ৪৮ বলে ৮৮ রানে, যে ইনিংসটি তিনি সাজান ৫টি চার আর ৬টি ছক্কায়। এর আগে শুরুটা করেছিলেন আফিফ হোসেন ধ্রুব আর শেষ করেন শোয়েব মালিক ও অধিনায়ক আন্দ্রে রাসেল। এ তিন উইলোবাজের উত্তাল ব্যাটিংয়ে ৪ উইকেটে ১৯০ রানের বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করায় রাজশাহী রয়্যালস। টস জিতে আগে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নেয় কুমিল্লা। তবে তাদের এ সিদ্ধান্তকে যথাযথ প্রমাণ করতে দেয়নি রাজশাহীর ব্যাটসম্যানরা। কুমিল্লার বোলারদের রীতিমত পাড়া মহল্লামানের বানিয়ে ছাড়েন মালিক-আফিফরা। ব্যাট হাতে ফিফটি পান শোয়েব মালিক। ফিফটির দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেন আফিফ হোসেন ও আন্দ্রে রাসেল। ঝড় তোলা ব্যাটিংয়ে শেষ ৭ ওভারে ৮৪ রান যোগ করেন রাসেল ও মালিক। আফিফ ৪৩ ও মালিক ৬১ রানে আউট হলেও রাসেল ৩৭ রানে অপরাজিত ছিলেন। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের শুরুটা দারুণ করেছিলেন দুই ওপেনার আফিফ ও লিটন দাস। প্রথম পাওয়ার প্লেতে ৫০ রান যোগ করে তাদের জুটি ভাঙে ৫৬ রানের মাথায়। ভালো শুরুর পর সানজামুল ইসলামের বোলিংয়ে আলগা শটে ক্যাচ আউট হন লিটন, করেন ১৯ বলে ২৪ রান। একই পরিণতি ঘটে আফিফের সম্ভাবনাময় ইনিংসেরও। সৌম্য সরকারের বোলিংয়ে সরাসরি বোল্ড হওয়ার আগে ৬ চার ও ১ ছয়ের মারে ৩০ বলে ৪৩ রান করেন এ বাঁহাতি তরুণ। দলের রান তখন মাত্র ৮০। বেশি কিছু করতে পারেননি রবি বোপারা। আউট হয়ে যান ১২ বলে ১০ রান করে। এরপরই কুমিল্লার বোলারদের ওপর ছড়ি ঘোরান রাসেল ও মালিক। উইকেটের চারদিকে শট খেলে দুজন মিলে গড়েন ৮৪ রানের জুটি। ইনিংসের একদম শেষ বলে রান আউট হন মালিক। ৫টি চারের সঙ্গে ৩ ছয়ের মারে ৩৮ বলে ৬১ রান করেন তিনি। অন্যদিকে অধিনায়ক রাসেল ৪ ছয়ের মারে ২০ বলে ৩৭ রানে অপরাজিত থাকেন।
দানিশ কানেরিয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইনজামাম
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ পাকিস্তানের কিংবদন্তি ক্রিকেটার ইনজামাম-উল-হক বলেছেন, অমুসলিম বলে যে দানিশ কানেরিয়ার সঙ্গে খারাপ আচরণ করা হয়েছে বা তাকে যথাযথ সুযোগ দেয়া হয়নি এমন কোনো বিষয় ছিল না। আমার অধীনেই দানিশ কানেরিয়া সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলেছে। আমরা (পাকিস্তানিরা) ছোট্ট হৃদয়ের মানুষ নই যে অমুসলিম বলে তার সঙ্গে খারাপ কিছু করব। ইউটিউব চ্যানেলে পাকিস্তানের সাবেক এ অধিনায়ক আরও বলেন, যখন আমরা শারজায় সফর করতাম, ভারতীয় ও পাকিস্তানি খেলোয়াড়রা একই হোটেলে থাকত এবং আমি প্রায়ই খেলোয়াড়দের রুমে গিয়ে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মজা করতাম এবং একসঙ্গে খেতাম। ইনজামাম আরও বলেন, মোশতাক আহমেদ শৈশবকাল থেকেই আমার খুব ভালো বন্ধু ছিলেন। কিন্তু আমি দানিশ কানেরিয়াকে দলে বাছাইয়ে বেশি অগ্রাধিকার দিয়েছিলাম কারণ সে পাকিস্তানের ভবিষ্যৎ এবং মুশতাককে আমার অধিনায়কত্ব থেকে বাদ দেয়া হয়েছিল। শুধু তাই নয়, খেলোয়াড়দের কেবল নামাজ দিয়েই মূল্যায়ন করা হয়নি। তাদের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতেই দলে সুযোগ দেয়া হয়েছে। প্রসঙ্গত, পাকিস্তানের কিংবদন্তি ক্রিকেটার শোয়েব আখতার সম্প্রতি বলেছেন, দানিশ কানেরিয়া হিন্দু হওয়ার কারণে জাতীয় দলে যথাযথ সুযোগ পাননি। শোয়েব আখতারের এই বিস্ফোরক মন্তব্যের পর দানিশ কানেরিয়া পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম পিটিভি স্পোর্টসকে বলেন, শোয়েব সত্যি বলেছেন। আমি হিন্দু হওয়ায় পাকিস্তান ক্রিকেট দলের যেসব সদস্যরা আমার সঙ্গে কথা বলতেন না তাদের নাম জানাব। এতদিন মুখ খোলার মতো সাহস পাইনি। কিন্তু এবার বলব। পাকিস্তানের হয়ে ৬১টি টেস্ট ও ১৮টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলে ২৭৬ উইকেট শিকার করেন দানিশ কানেরিয়া। তবে ২০০৯ সালে ডারহামে এসেক্সের হয়ে কাউন্টি ক্রিকেটে স্পট ফিক্সিংয়ে অভিযুক্ত হন কানেরিয়া। দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় আজীবন নিষেধাজ্ঞা দেয় ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)।
রাসেলের ‘৪০০’ ছক্কা
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের হার্ডহিটার আন্দ্রে রাসেল। বঙ্গবন্ধু বিপিএলে কুমিল্লা ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে ২১ বলে ৩৭ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেছেন তিনি। এ পথে ৪টি ছক্কা মেরেছেন রাজশাহী রয়্যালস অধিনায়ক। তাতে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ৪০০ ছক্কার এলিট ক্লাবে নাম লিখিয়েছেন ক্যারিবীয় ব্যাটার। শনিবার মিরপুরে খেলতে নামার আগে রাসেলের নামের পাশে ছিল ৩৯৭টি ছক্কা। এদিন কুমিল্লা পেসার আল-আমিন হোসেনকে সোজা ব্যাটে ছয় মেরে ৪০০ ছক্কার ল্যান্ডমার্কে পৌঁছান তিনি। বিশ্বের পঞ্চম ব্যাটসম্যান হিসেবে এ কীর্তি গড়লেন দ্রি রাস। এর আগে এ মাইলফলক অতিক্রম করেন ৪ ব্যাটসম্যান। ৪০০ ম্যাচে ৯৬৬টি ছক্কা মেরে সবার ওপরে ক্যারিবিয়ান ব্যাটিং দানব ক্রিস গেইল। ৪৯৬ ম্যাচে ৬৪৭টি ছক্কা হাঁকিয়ে দ্বিতীয় স্থানে তার সতীর্থ কাইরন পোলার্ড। ৩৭০ ম্যাচে ৪৮৫টি ছয় মেরে তৃতীয় নিউজিল্যান্ডের ব্রেন্ডন ম্যাককালাম।আর ৩১৭ ম্যাচে ৪৩১টি ছক্কা মেরে চার নম্বরে অস্ট্রেলিয়ান শেন ওয়াটসন
১৪৮ রানেই অলআউট নিউজিল্যান্ড
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ পেট কামিন্সের আগুনঝরা বোলিংয়ে কুপোকাত নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দল। সময়ের ব্যবধানে উইকেট হারিয়ে ১৪৮ রানেই অলআউট ব্লাক ক্যাপসরা। তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টে পার্থে ২৯৬ রানে হেরে যাওয়া নিউজিল্যান্ড দ্বিতীয় টেস্টেও চরম বিপর্যয়ে পড়েছে। আগের টেস্টে দুই ইনিংসে ১৬৬ ও ১৭১ রানে অলআউট হওয়া নিউজিল্যান্ড চলতি মেলবোর্ন টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার করা ৪৬৭ রানের জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে ১৪৮ রানে অলআউট। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৫০ রান করেন ওপেনার টম লাথাম। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে পেট কামিন্স ১৭ ওভারে মাত্র ২৮ রান খরচ করে ৫ উইকেট শিকার করেন। ১৫ ওভারে ৩৪ রানে ৩ উইকেট শিকার করেন জেমস পেটিনসন। এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ট্রাভিস হেডের (১১৪) সেঞ্চুরি আর স্টিভ স্মিথ (৮৫), টিম পেইন (৭৯) ও লাবুসেনের (৬৩) ফিফটিতে ৪৬৭ রানের পাহাড় গড়ে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া। ৩১৯ রানে এগিয়ে থেকে শনিবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৩৭ রান সংগ্রহ করেছে অস্ট্রেলিয়া। মেলবোর্ন টেস্টের তৃতীয় দিনের খেলা শেষে অস্ট্রেলিয়ার লিড ৪৫৬ রান।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
অস্ট্রেলিয়া: ১ম ইনিংস- ৪৬৭/১০ (ট্রাভিস ১১৪, স্মিথ ৮৫, পেইন ৭৯, লাবুসেন ৬৩, ওয়ার্নার ৪১; নেইল ওয়াগনার ৪/৮৩, টিম সাউদি ৩/১০৩)। এবং ২য় ইনিংস-১৩৭/৪ (ওয়ার্নার ৩৮, জো বার্ন ৩৫, লাবুসেন ১৯, স্মিথ ৭, হেড ১৫*, ট্রাভিস ১২*)।
নিউজিল্যান্ড: ১ম ইনিংস-১৪৮/১০ (লাথাম ৫০; কামিন্স ৫/২৮, পেটিনসন ৩/৩৪)।
যে অভিযোগে নুরের বিরুদ্ধে ডিজিটাল আইনে মামলা
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ ফেসবুকে মিথ্যা তথ্য প্রকাশ, গুজব ছড়ানোসহ উসকানিমূলক বক্তব্য প্রকাশের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির চেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুরের বিরুদ্ধে। ধানমন্ডি থানায় তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলাটি দায়ের করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল শাখা ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক এবং হল সংসদের বহিরাঙ্গণ ক্রীড়া সম্পাদক অর্ণব হোড়। মামলার বাদী বলেন, ‘নুর উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সহিংসতা ছড়ানোর চেষ্টা করছেন। তারা গুজব ছড়াচ্ছেন, মিথ্যা তথ্য প্রচার করছেন, তথ্য প্রমাণ ছাড়া নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মানহানিকর তথ্য প্রচার করছেন। এসব কারণে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।’
এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৬ ডিসেম্বর ধানমন্ডি থানায় দায়ের করা মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, নুর গত ২৩ ডিসেম্বর ডাকসু ভিপি নামে ফেসবুক পেইজে পোস্ট করেছেন। এতে বলা হয়েছে, ‘বুয়েট ছাত্র আবরার, ঢাবির আবুবক্কর, চবির দিয়াজ, পুরান ঢাকার বিশ্বজিৎদের হত্যাকারী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ত্রাস, ভিন্নমতের ওপর প্রতিনিয়ত হামলাকারী, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলাই এই সময়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। স্বৈরাচারের বিরোধিতা ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাস, হত্যাসহ নানা ধরনের বর্বরতার প্রতিবাদ করার কারণেই এ পর্যন্ত ৯ বার আমাকে হত্যাচেষ্টা করা হয়। সর্বশেষ গতকাল ডাকসুতে ঢাবি ছাত্রলীগের সভাপতি, ভারতীয় ‘র’-এর এজেন্ট, সনজিদ ও সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম এবং তথাকথিত মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ নামক ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী মঞ্চের সভাপতি বুলবুল ও মামুনের নেতৃত্বে আমাকে হত্যাচেষ্টায় ডাকসুতে ৩ দফা আমার ওপর হমলা চালানো হয়। সংগঠনের সহযোদ্ধাদের ওপর অসংখ্যবার হামলা চালানো হয়। আওয়ামী লুটেরা, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসীরা আজ পাকিস্তানি হানাদারদের থেকেও বর্বর হয়ে গেছে। সেটা তাদের কাজ-কর্মে, কথাবার্তায় ইতোমধ্যেই আপনারা টের পেয়েছেন। তাই দেশকে মুক্ত করতে, জনগণকে বাঁচাতে এই অপশক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলুন।’ এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২২ ডিসেম্বর একই পেজ থেকে লাইভে আসেন রাশেদ খান। লাইভে তিনি বলেন, ‘আমাদের সবার এই যে মাথা আলাদা কইরা ফেলাইছে’ যা ডাকসু ভিপি নূরের কক্ষ থেকে প্রচার করা হয়। যা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। মামলার বাদী এজাহারে উল্লেখ করেছেন, ফেসবুক লাইভে প্রচার করা মিথ্যা গুজবের কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারাদেশে ছাত্র-ছাত্রী ও সাধারণ জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এরফলে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি হওয়ার উপক্রম হয়। ২৩ তারিখের পোস্টকে উসকানিমূলক দাবি করে বাদী অর্ণব হোড় বলেন, ‘উল্লিখিত উসকানিমূলক পোস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাসের সম্পর্কে সাম্প্রদায়িক সম্পৃতি বিনষ্ট করাসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের জন্য অসম্মানজনক, মানহানিকর। এই কর্মকাণ্ডগুলো দেশ ও সমাজের সামাজিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। দেশের আইনশৃঙ্খলা বিনষ্ট করে। মামলার বিষয়ে ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হুমায়ুন কবির বলেন, ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়েছে। এখন তদন্ত করে অভিযোগের পক্ষে তথ্যগুলো যাচাই-বাছাই হচ্ছে।’ তদন্তে যা পাওয়া যাবে, সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
রাজনৈতিক সঙ্কট উত্তরণে আন্দোলনের বিকল্প নেই : মির্জা ফখরুল
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বর্তমান সময়ে দেশে রাজনৈতিক সঙ্কট চলছে। এই সঙ্কট থেকে উত্তোরণের জন্য জনগণের আন্দোলনের বিকল্প নেই। শনিবার রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির কেন্দ্রীয় কাউন্সিল উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এ মন্তব্য করেন তিনি। ফখরুল বলেন, আমরা অত্যন্ত আশা নিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করেছিলাম। নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রের সংগ্রাম জয় করতে চেয়েছিলাম কিন্তু আমরা পারিনি। কিন্তু আমাদের পারতে হবে, আমাদের আরো বৃহত্তর ঐক্য তৈরি করতে। শুধু ঐক্যফ্রন্ট এবং অন্যান্য কোনো জোট নয় দেশের সকল মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে আমাদের লড়াই করতে হবে, সংগ্রাম করতে হবে এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, জাসদ সৃষ্টি হয়েছিল স্বাধীনতার মূল চেতনাকে গড়ে তোলার জন্য। সেই লড়াইয়ে জাসদ এখনো চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু দুর্ভাগ্য আমাদের ঠিক একই কথা স্বাধীনতার ৪৯ বছর পর এসেও আমাদের বলতে হচ্ছে যে আমরা গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে চাই। বর্তমানে দেশে যে রাজনৈতিক গভীর সঙ্কট চলছে, সেই সঙ্কট সমাধানের জন্য জনগণের অভ্যুত্থান বা জনগণের আন্দোলন ছাড়া কখনোই সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় আটকে রাখা হয়েছে। এখন খালেদা জিয়া যিনি আইনগত জামিন পাওয়ার যোগ্য কিন্তু তাকে জামিন দেয়া হচ্ছে না। আজকে যারা জোর করে ক্ষমতায় বসেছে তারা জানে বেগম খালেদা জিয়া বাইরে থাকলে তাদের যে রাজনৈতিক নীলনকশা সেটা তারা পরিপূর্ণ করতে পারবেন না। তিনি আরো বলেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় যে স্বপ্ন দেখেছিলাম আমরা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করব। আমাদের গণতান্ত্রিক মুক্তি আসবে, আমাদের অর্থনৈতিক মুক্তি আসবে, আমরা একটা স্বাধীন মুক্ত বাতাসে নিঃশ্বাস গ্রহণ করতে পারব। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় এই স্বপ্নগুলো ভেঙ্গে চুরমার করে দিচ্ছে।
কনকনে শীতের মাঝে যশোরে দেখা মিললো স্বস্তির রোদ
স্টাফ রিপোর্টার ॥ টানা তিনদিন পর অবশেষে শনিবার দুপুরে যশোরে রোদের দেখা মেলে। রোদ উঠলেও শীতের তীব্রতা আগের মতই ছিলো। তবে কনকনে ঠান্ডার মাঝে মিষ্টি রোদ দেখা পাওয়ায় স্বস্তি দেখা দেয় কর্মব্যস্ত মানুষের মাঝে। দুপুরের পর বিভিন্ন এলাকায় মানুষকে রোদ পোহাতে দেখা যায়।
যশোর বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান বিমান ঘাঁটির আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, শনিবার যশোরে সর্বনি¤œ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা অনেকটা স্বাভাবিক তাপমাত্রা। তবে বিকেলের দিক থেকে এ অঞ্চলে মৃদু শৈত্য প্রবাহ শুরু হয়েছে। যা আজ রোববার ও সোমবার পর্যন্ত বলবৎ থাকতে পারে। এ সময়ে তাপমাত্রা ২ থেকে তিন ডিগ্রি কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
গত এক সপ্তাহ ধরে যশোরসহ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে শীতের তীব্রতা দেখা দেয়। এ সময়ে এ অঞ্চলের তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির মধ্যে ওঠানামা করে। তীব্র শীতের কারণে এ কদিন এ অঞ্চলের মানুষকে চরম কষ্ট ভোগ করতে হয়। বিশেষ করে কর্মব্যস্ত মানুষের ভোগান্তির শেষ ছিলো না। মানুষের কাজ কর্ম থমকে দেয় কুয়াশা আর হিমেল বাতাস। এমনি পরিস্থিতিতে শনিবার দুপুর থেকে রোদের দেখা মেলায় মানুষের মাঝে উৎফুল্লতা দেখা যায়। শহর ও গ্রামাঞ্চলের শহর-বাজারে মানুষের উপস্থিতিও বেড়ে যায়। এদিকে কুয়াশা কেটে রোদের দেখা দেওয়ায় গতকাল যশোর বিমানবন্দরে বিমান চলাচল স্বাভাবিক ছিলো। সকাল ও বিকেলের দিকের ফাইটগুলো যথাসময়ে যশোর বিমানবন্দর থেকে ছেড়ে গেছে। ইউএস বাংলার যশোর বিমান বন্দরের ম্যানেজার সাব্বির হোসেন বলেন, শুক্রবারের মতো শনিবারও বিমান চলাচলে কোনো সমস্যা হয়নি। সবকটি ফাইট যথাসময়ে ছেড়ে গেছে। তবে বিমান ছেড়ে গেলেও বাস ও ট্রেন যাত্রায় ভোগান্তি আগের মত আছে। শুক্রবার রাতেও দৌলতদিয়া ও পাটুরিয়া ঘাটে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় রাতের বেলায় কোনো বাস পার হতে পারেনি। যেকারণে অধিকাংশ পরিবহন সকালের দিকে যশোরের এসে পৌছে। ট্রেনের সিডিউল বিপর্যয় না হলেও দুই থেকে তিন ঘন্টা দেরিতে যশোর রেলস্টেশন থেকে যাতায়াত করছে। এতে যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ে। যশোর রেলস্টেশনের সূত্রে জানা গেছে, ঘন কুয়াশার কারণে ট্রেনের গতি কমিয়ে দিয়ে যাতায়াত করছে। যেকারণে দেরিতে ট্রেন গন্তব্যে পৌছাচ্ছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদ
এবার নেচে নেটিজেনদের হৃদয় কাড়লেন রাহুল গান্ধী
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ মুসলিমবিদ্বেষী নাগরিকত্ব আইন বাতিলে যখন উত্তাল ভারত, বিক্ষোভকারীদের ঠেকাতে হিমশিম খাচ্ছে নিরাপত্তা রক্ষী কর্মীরা তখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হলে দেশটির কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর নাচের দৃশ্য। ভিডিওটি নিজেদের ফেসবুক পেজে আপলোড করে ভারতের সংবাদ সংস্থা এএনআই। আর এরপরই ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা গেছে, মাথায় ঐতিহ্যবাহী লাল পাগড়ি বেঁধে, ঢোল পিটিয়ে আদিবাসী সম্প্রদায়ের সদস্যদের সঙ্গে নাচে মগ্ন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। অনুষ্ঠান যে তিনি বেশ উপভোগ করছেন তা তার অঙ্গভঙ্গি ও হাস্যজ্জ্বল মুখ দেখেই নিশ্চিত হয়েছেন নেটিজেনরা। ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেশ বাঘেল এবং দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের দেখা গেছে রাহুল গান্ধীর সঙ্গে। এএনআই জানিয়েছে, ভারতের ছত্তিশগড়ের রায়পুরে জাতীয় নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠী নৃত্য উৎসবের আয়োজন করে। আর সেই অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করে ওই গোষ্ঠীর সদস্যদের সঙ্গে তাদের ঐতিহ্যবাহী নাচে অংশ নেন রাহুল। এ নিয়ে টুইটও করেছেন রাহুল। তিনি লেখেন, এই অনন্য উত্সব ভারতের সমৃদ্ধ আদিবাসী সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য প্রদর্শন এবং সুরক্ষার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর, ভারতের ২৫টি রাজ্য এবং ছয়টি দেশ থেকে মোট ১৩৫০ জনের বেশি মানুষ তিন দিনের এই নৃত্য উৎসবে অংশ নেবেন। এ অনুষ্ঠানে জড়ো হবে ২৯ উপজাতি দল। তারা চারটি নৃত্যের ৪৩ টিরও বেশি শৈলী উপস্থাপনা করবেন। এই উৎসবে কংগ্রেস নেতা প্রিয়াঙ্কা গান্ধীও অংশ নেবেন বলে জানা গেছে।
ভারতের আরএসএস কে নাৎসি বাহিনীর সঙ্গে তুলনা ইমরানের
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ ভারতের রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘকে (আরএসএস) দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় গঠিত জার্মানের নাৎসি বাহিনীর সঙ্গে তুলনা করলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। শনিবার এক টুইট বার্তায় উর্দুতে তিনি জানান, এখনই বিশ্ব বিষয়টি নিয়ে সচেতন না হলে সামনে গণহত্যা সংগঠিত হবে। টুইট বার্তায় ইমরান খান লেখেন, যে মানসিকতা নিয়ে নাৎসি বাহিনী গঠিত হয়েছিল একই মানসিকতা নিয়ে চলছে আরএসএস। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস) ভারতের একটি ডানপন্থী হিন্দু জাতীয়তাবাদী, আধাসামরিক ও বেসরকারী স্বেচ্ছা-সেবক সংগঠন। সম্প্রতি হিন্দু উগ্রবাদী বেশকিছু কার্যক্রমের সঙ্গে এই সংঘটিক সম্পৃক্ততা তীব্র সমালোচনার জন্ম দেয় ভারতীয় মিডিয়া। সেইসঙ্গে নাগরিকত্ব আইন নিয়ে ভারতে চলা সংঘর্ষ ও সহিংসতায় আরএসএস পরবর্তীতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা পোষণ করে আসছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী।
সিএএ ভারতে ২০ কোটি মুসলিমদের উপর প্রভাব ফেলবে, উদ্বেগ মার্কিন রিপোর্টে
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সরকারের সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) ভারতের ২০ কোটি মুসলিম নাগরিকের সার্বিক অবস্থার উপর প্রভাব ফেলবে। মার্কিন কংগ্রেসের থিঙ্কট্যাঙ্ক ‘কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিস (সিআরএস)’-এর সাম্প্রতিক রিপোর্টে এই উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। ভারতে সিএএ-র প্রভাব নিয়ে ওই রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে মার্কিন বিদেশ দফতরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিভাগের তদারকি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অ্যালিস ওয়েলসের মন্তব্যও। ভারতের নতুন আইন নিয়ে ‘গভীর উদ্বেগ’ প্রকাশ করে অ্যালিস বলেছেন, ‘‘সিএএ-র মতো সামাজিক ইস্যুগুলি যে শুধুই মূল্যবোধকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ব্যাপারে ভারতের আন্তরিকতাকে ক্ষুণ্ণ করবে, তা নয়; ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকার দেশগুলিতে আমরা (আমেরিকা) যে মুক্ত ও অবাধ স্বাধীনতার বাতাবরণ তৈরি করতে চাইছি, সেই প্রচেষ্টায় শামিল হওয়ার পথ থেকেও ভারতকে দূরে সরিয়ে দেবে।’’ সরকারি ভাবে মার্কিন কংগ্রেসের রিপোর্ট না হলেও সিআরএস-এর এই রিপোর্ট বানানো হয়েছে কংগ্রেস সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশের মতামতের ভিত্তিতেই। মার্কিন কংগ্রেসের থিঙ্কট্যাঙ্কের সাম্প্রতিক রিপোর্টে বলা হয়েছে, ভারত শুধুই বিদেশি আগ্রাসনকারীদের হাতে লু্ণ্িঠত হয়েছে, এই ভাবেই সে দেশের ইতিহাসটাকে ব্যাখ্যা করতে চাইছেন হিন্দু জাতীয়তাবাদীরা। শুধু এই ভাবেই বিষয়টিকে তাঁরা দেখছেন। দেখাতে চাইছেন। তার ফলে, তাঁরা আধুনিক ভারতের দুই প্রতিষ্ঠাতা জওহরলাল নেহরু ও মোহনদাস কর্মচন্দ গাঁধীর দর্মনিরপেক্ষতার ভাবাদর্শকেও বাতিল করে দিয়েছেন। রিপোর্টে লেখা হয়েছে, ‘‘বহু বিশেষজ্ঞের ধারণা, দেশের উত্তরোত্তর ঝিমিয়ে পড়া অর্থনীতি থেকে মানুষের নজর অন্য দিকে ঘুরিয়ে রাজনৈতিক সমর্থন ধরে রাখতে বিজেপি সরকার এখন আবেগের উপরেই গুরুত্ব দিচ্ছে। হাতিয়ার করছে ধর্মকে।’’ সূত্র: আনন্দবাজার।
আন্দোলনকারীদের পাকিস্তান চলে যেতে বলল ভারতের পুলিশ
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ ভারতের নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে চলা আন্দোলনে উত্তর প্রদেশের এক পুলিশ আন্দোলনকারীদের পাকিস্তান চলে যেতে বললেন। এসময় তিনি আরও বলেন এখানে এসব চলবে না। উপস্থিত মুসলমানদের গালাগালিও করেন তিনি। শুক্রবার ভারতের মুসলিম অধ্যুষিত উত্তর প্রদেশের একটি অঞ্চলে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে পুলিশের। সে সময়ে নামাজ পড়ে ফিরে আসা কিছু মুসলিমের হাতে আন্দোলনকারীদের সমর্থনে নীল ও কালো ব্যাজ দেখা যায়। আইনের বিরোধিতাকারীদের শক্ত হাতে দমন করতে প্রথম দিন থেকেই তৎপর ছিল ভারতের পুলিশ। শুধুমাত্র মিরাটেই ছয়জন বিক্ষোভকারী গুলিতে নিহত হয়েছেন যাদিও পুলিশ বলছে তারা নাকি বিক্ষোভে গুলি চালায়নি। জুম্মার নামাজের পরও বিক্ষোভ হয়েছে সেখানে। এর পরই শহরের মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় গিয়ে বাসিন্দাদের উদ্দেশে কথা বলেন পুলিশ সুপার অখিলেশ নারায়ণ সিং। ২ মিনিটেরও কম ওই ভিডিওতে অখিলেশ মুসলিমদের উদ্দেশে হিন্দিতে কথা বলেন যার অর্থ দাঁড়ায় এরকম, “কোথায় যাবেন? এই এলাকাটা তো আমি ঠিক করে ফেলব।” উপস্থিত লোকজন নামাজ শেষ করে ফেরার কথা জানালে তিনি আবার বলেন, “সে ঠিক আছে। না হলে আপনাদের যারা কালো আর নীল ব্যাজ পরে আছেন, তাদের পাকিস্তানে চলে যেতে বলুন।” ভিডিওতে দেখা যায় অখিলেশ সিং এবং অন্যান্য পুলিশ সদস্যরা তারপর এগিয়ে যেতে শুরু করেন। বেশ ক্ষুব্ধ দৃষ্টিতেই অফিসার কমপক্ষে তিনবার ওই মুসলিমদের কাছে ফিরে এসে বলেন, “সব বাড়ির সবাইকে আমি জেলে পুরে দেব।” একেবারে শেষে তাকে বলতে শোনা যায়, “আমি সবাইকে শেষ করে দেব।” ভিডিওর ব্যাপারে ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “সেখানে অসামাজিক কিছু মানুষ পাকিস্তানপন্থী বক্তব্য দিচ্ছিলেন। আমরা সবাই ওখানে দেখতে এসেছিলাম কারা কারা পাকিস্তানপন্থী বক্তব্য রাখছে।”
ধারে চলছে সরকার
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ প্রধান আর্থিক জোগানদাতা রাজস্ব খাত থেকে কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ অর্থ পাচ্ছে না সরকার। আবার দেশের বাইরে থেকেও আগের মতো ঋণ পাওয়া যাচ্ছে না। অথচ সরকারের খরচ দিনে দিনে বেড়েই চলেছে। এমন পরিস্থিতিতে ব্যাংক খাত থেকে ঋণ নিয়ে চলতে হচ্ছে সরকারকে। এই ঋণের টাকায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনও দিতে হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য মতে, ছয় মাস না যেতেই এই অর্থবছরের পুরো টাকাটাই নিয়ে ফেলেছে সরকার। এতে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে ব্যাংক খাতের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের মধ্যেও। তবে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, নতুন বছরে এই সংকট আরও ঘনীভূত হবে। তাদের মতে, সামনের দিনগুলোতে আরও খারাপ পরিস্থিতি অপেক্ষা করছে। অর্থনীতিতে একটা বড় ধাক্কা লাগতে যাচ্ছে। ব্যাংকের টাকা উৎপাদনশীল খাতের চেয়ে অনুৎপাদনশীল খাতে বেশি যাচ্ছে। এ প্রসঙ্গে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘ব্যাংকের টাকা উৎপাদনশীল খাতে গেলে অর্থনীতি চাঙ্গা হয়। কিন্তু দুর্ভাগ্য, বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি অব্যাহতভাবে কমছে। এতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড স্থবির হচ্ছে। অন্যদিকে রাজস্ব আয় না বাড়ার ফলে সরকার ব্যাংক থেকে টাকা ধার নিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ভাতা দিচ্ছে।’
প্রসঙ্গত, ২০১৯-২০ অর্থবছরে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকার ৪৭ হাজার ৩৬৩ কোটি টাকা ঋণ নেবে বলে ঠিক করেছে। কিন্তু ছয় মাস না যেতেই সরকার ৪৪ হাজার ৭৭৬ কোটি টাকা ধার হিসেবে নিয়েছে। এই অর্থবছরে ব্যাংক থেকে সরকারের ধারের পরিমাণ এক লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সাধারণত অর্থবছরের শেষ দিকে সরকারের টাকার টান পড়ে বেশি। কিন্তু এবার অর্থবছরের শুরুতেই টাকার টান পড়েছে। ফলে প্রথম ছয় মাসে ব্যাংক থেকে টার্গেটের প্রায় সমান ধার নিয়ে ফেলেছে সরকার। এদিকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্যমতে, চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাস অর্থাৎ জুলাই থেকে অক্টোবরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব আয়ের প্রধান তিন খাতেই আদায় কমেছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের প্রফেসর এমএ তসলিম বলেন, ‘সরকার রাজস্ব খাত থেকে কাঙ্ক্ষিত হারে টাকা পাচ্ছে না। আবার বিদেশ থেকেও আগের মতো ঋণ আসছে না। ফলে সরকার বাধ্য হয়েই ব্যাংক খাতের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।’ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, গত ১০ বছরের মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের সবচেয়ে বেশি ধার করার রেকর্ডটি ছিল ২০১৮-১৯ অর্থবছরের। ওই অর্থবছরে ধার নেওয়ার পরিমাণ ছিল ৩০ হাজার ৮৯৫ কোটি টাকা। অথচ এই অর্থবছরের পাঁচ মাসেই পুরো অর্থবছরের টাকা নেওয়া শেষ করেছে সরকার। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, বেসরকারি ব্যাংক থেকে বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তারা যে পরিমাণ ঋণ পাচ্ছে, সরকার ঋণ পাচ্ছে তার চেয়েও বেশি। গত ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকারের কাছে ব্যাংকের পাওনা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫২ হাজার ৮৭২ কোটি টাকা। এর মধ্যে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো সরকারের কাছে পাবে ১ লাখ ১০ হাজার ৯৮০ কোটি টাকা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক পাবে ৪১ হাজার ৮৯২ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে গত ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত (সাড়ে ৫ মাসে) সরকার ব্যাংক খাত থেকে টাকা ধার নিয়েছে ৪৪ হাজার ৭৭৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক দিয়েছে ৭ হাজার ৯৪৭ কোটি টাকা; আর বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে নিয়েছে ৩৬ হাজার ৮২৯ কোটি টাকা। এভাবে চলতে থাকলে বেসরকারি খাত চাহিদামতো ঋণ পাবে না বলে মনে করেন আহসান এইচ মনসুর। তিনি উল্লেখ করেন, সরকারের টাকা ধার নেওয়ার প্রবণতা বাড়লে কর্মসংস্থানের বাধা সৃষ্টিসহ জাতীয় অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এর ফলে মূল্যস্ফীতির চাপও বেড়ে যাবে। তিনি মনে করেন, এই পরিস্থিতিতে রাজস্ব আহরণে সরকারের মনোযোগ দেওয়া জরুরি। তার মতে, উচ্চ সুদে সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ নেওয়ার চেয়ে ব্যাংক থেকে নেওয়া মন্দের ভালো।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাস অর্থাৎ জুলাই-অক্টোবরে এনবিআরের রাজস্ব ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার ২২০ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। সরকারের ঘোষিত বাজেট বাস্তবায়ন করতে হলে এই অর্থবছরে এনবিআরকে সার্বিকভাবে প্রায় ৪৫ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হবে। অথচ চার মাসে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪ শতাংশের কিছু বেশি। এই সময়ে আয়কর, শুল্ক ও মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট—কোনও খাতেই লক্ষ্য অর্জিত হয়নি। যদিও চলতি অর্থবছরে এনবিআরকে ৩ লাখ ২৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকার রাজস্ব আদায় করার টার্গেট দেওয়া আছে। এদিকে সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ নেওয়ার কথা ২৭ হাজার কোটি টাকা। তবে সঞ্চয়পত্র কেনায় নিয়মকানুন কড়াকড়ি করায় সঞ্চয়পত্র বিক্রি কমে গেছে। জাতীয় সঞ্চয় অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই-অক্টোবর সময়ে সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে কেবল ৫ হাজার ৫২১ কোটি টাকার। গত অর্থবছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ১৭ হাজার ৮২৯ কোটি টাকা। প্রসঙ্গত, বাজেট ঘাটতি মেটাতে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ৭৭ হাজার ৩৬৩ কোটি টাকা ধার করার কথা সরকারের। এর মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে নেওয়ার কথা ৪৭ হাজার ৩৬৩ কোটি টাকা, সঞ্চয়পত্র থেকে ২৭ হাজার কোটি টাকা এবং অন্যান্য খাত থেকে ৩ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার কথা রয়েছে। এদিকে সরকারের ঋণ নেওয়ার প্রবণতা বাড়ায় আশানুরূপ ঋণ পাচ্ছে না বেসরকারি খাত। গত কয়েক মাস ধরে ঋণ প্রবৃদ্ধির হার ধারাবাহিক কমছে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের তুলনায় অক্টোবরে বেসরকারি খাতে ঋণের হার কমেছে প্রায় দশমিক ৬২ শতাংশ। অক্টোবরে ১০ দশমিক ০৪ শতাংশ ছিল ব্যাংক ঋণের হার। এই হার গত দশ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরের অক্টোবরে ঋণ প্রবৃদ্ধি ১০ দশমিক ০৪ শতাংশ হয়েছে। যা আগের মাস, সেপ্টেম্বরে ছিল ১০ দশমিক ৬৬ শতাংশ। আগস্টে ছিল ১০ দশমিক ৬৮ শতাংশ।
এ প্রসঙ্গে বেসরকারি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের সংগঠন ‘অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ’ এর চেয়ারম্যান সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘সরকার যেভাবে ঋণ নিচ্ছে তাতে বেসরকারি খাত কিছুটা বাধাগ্রস্ত তো হবেই। চলমান প্রবণতা দেখে মনে হচ্ছে, আগামীতে সরকারের ঋণের পরিমাণ আরও বাড়বে।’ এতে ব্যাংক খাতে কিছুটা প্রভাব পড়বে বলেও মনে করেন তিনি। এ প্রসঙ্গে সরকারের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিব ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এনবিআর চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, ‘রাজস্ব আয় বাড়ানোর জন্য সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। টার্গেটের চেয়ে এখন কিছুটা ঘাটতি থাকলেও বছর শেষে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সক্ষম হবে এনবিআর। ইতোমধ্যে ঢাকাসহ সব শহরের বাড়িওয়ালারা যাতে সরকারকে ট্যাক্স দেয়, সেই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বরধারী (টিআইএন) সবাই যাতে আয়কর রিটার্ন দাখিল করেন, সেই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আশা করা যায়, সবকিছু ঠিক থাকলে এনবিআরের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে সক্ষম হবে। লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সক্ষম হলে সরকারের ব্যাংক ঋণও কমে আসবে।’
অনিয়ম করলে বিমানে চড়া বন্ধ, মন্ত্রী-এমপিদের শেখ হাসিনা
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ মন্ত্রী, সংসদ সদস্য (এমপি), বিভিন্ন সংস্থার প্রধান এবং সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আপনারা বিমানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এখানকার আইন-কানুন মেনে চলবেন। কেউ আইন-কানুন লঙ্ঘন করবেন না। যদি কেউ অনিয়ম করেন, তাহলে তার বিমানে চড়া বন্ধ হয়ে যাবে। বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়ম কানুন মেনে চলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সুতরাং এটাকে কেউ অবহেলা করবেন না।’ শনিবার (২৮ ডিসেম্বর) হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের নির্মাণ কাজ ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে নতুন যুক্ত হওয়া ড্রিমলাইনার ৭৮৭-৯ সিরিজের নতুন দুই উড়োজাহাজ ‘সোনার তরী’ ও ‘অচিন পাখি’ উদ্বোধনের পর আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিমানে যাত্রী সেবার পাশাপাশি লাভের বিষয়টাও দেখতে হবে। টিকিট নেই, বিমান খালি যায়, এ অবস্থা যেন না চলে। এছাড়া বিমানে যাত্রীরা যাতে হয়রানি না হয় সেজন্য কর্তৃপক্ষকে কড়া নজরদারি করতে হবে। আমাদের দেশে যারা বিদেশে থাকেন তারা অত্যন্ত কষ্ট করে পয়সা উপার্জন করেন। তাদের পাঠানো টাকায় বাংলাদেশের উন্নয়ন হয়। তারা যেন কোনোক্রমেই এ বিমানবন্দরে নেমে হয়রানির শিকার না হয় এ বিষয়টা লক্ষ্য রাখতে হবে।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘আজ আমরা তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করলাম। এখানে কার্গো বিমান নামার ব্যবস্থা থাকবে। কার্গো ভিলেজ গড়ে তোলা হবে। আমারা দুটি কার্গো বিমান ক্রয় করব। কারণ কার্গো বিমানে লাভ বেশি। তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ করাটা বিশাল একটা কর্মযজ্ঞ। এ টার্মিনাল নির্মাণ কাজ এবং ড্রিমলাইনার ৭৮৭-৯ সিরিজের নতুন দু’টি উড়োজাহাজ ‘সোনার তরী’ ও ‘অচিন পাখি’ ক্রয় আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নের আরেকটি সূচক।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন অনুযায়ী বাংলাদেশকে ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত এবং উন্নত দেশ হিসেবে গড়তে চাই। এই লক্ষ্য নিয়ে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। শুধু বিমান নয় অন্য সেক্টরেও আমরা উন্নয়ন করছি। যে কারণে বাংলাদেশ আজ এগিয়ে যাচ্ছে। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনকালে আমরা বাংলাদেশকে ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত দেশ হিসেবে উদযাপন করব। বাংলাদেশকে উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য আমরা নানা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে উন্নত দেশ হিসেবে পরিণত হবে। আমরা ডেল্টা প্লান ২১০০ প্রণয়ন করেছি। আগামী প্রজন্ম যেন সুন্দর ও সুস্থভাবে একটা উন্নত দেশে জীবন-যাপন করতে পারে সেই পরিকল্পনা আমরা গ্রহণ করেছি।’ তিনি বলেন, ‘আমরা দেশের উন্নয়নের জন্য সন্ত্রাস জঙ্গিবাদ মাদক ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করছি। এ অভিযান অব্যাহত থাকবে। দুর্নীতিবাজ যেই হোক, যত বড় শক্তিশালী হোক তাকে ছাড়া হবে না। দেশের সাধারণ মানুষ দিন রাত খেটে মরবে তাদের ভাগ্যের উন্নয়ন হবে না। অথচ অনিয়ম দুর্নীতি করে কেউ কেউ রাতারাতি কোটিপতি হয়ে যাবেন এটা চলবে না। দুর্নীতি করলে তাকে শাস্তি পেতে হবেই।’
আশা নিয়ে ঐক্যফ্রন্ট গঠন করেছিলাম, কিন্তু পারিনি : মির্জা ফখরুল
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ অত্যন্ত আশা নিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করেছিলেন জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, কিন্তু গণতন্ত্রের সংগ্রামে জয়ী হতে পারিনি। শনিবার রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির কেন্দ্রীয় কাউন্সিল উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত আশা নিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করেছিলাম। নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রের সংগ্রাম জয় করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু আমরা পারিনি।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের পারতে হবে, আমাদের আরও বৃহত্তর ঐক্য তৈরি করতে হবে। শুধু ঐক্যফ্রন্ট এবং অন্যান্য কোনো জোট নয়, দেশের সকল মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে আমাদের লড়াই করতে হবে, সংগ্রাম করতে হবে। দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে।’
বর্তমানে দেশে রাজনৈতিক সংকট চলছে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এই সংকট সমাধান জনগণের অভ্যুত্থান বা জনগণের আন্দোলন ছাড়া কখনোই সম্ভব নয়।’ তিনি বলেন, ‘জাসদ সৃষ্টি হয়েছিল স্বাধীনতার মূল চেতনাকে গড়ে তোলার জন্য। সেই লড়াইয়ে জাসদ এখনো চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু দুর্ভাগ্য আমাদের ঠিক একই কথা স্বাধীনতার ৪৯ বছর পর এসেও আমাদের বলতে হচ্ছে যে আমরা গণতন্ত্র ফিরে পেতে চাই।’ বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘১৯৭১ সালে স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় স্বপ্ন দেখেছিলাম আমরা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করব। আমাদের গণতান্ত্রিক মুক্তি আসবে, আমাদের অর্থনৈতিক মুক্তি আসবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় এই আওয়ামী লীগ সরকার তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় এসে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা আর সেই স্বপ্নগুলো ভেঙে চুরমার করে দিচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘১৯৭৫ সালে সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলোকে নিষিদ্ধ করে বাকশাল প্রতিষ্ঠা করেছিল আওয়ামী লীগ। সেদিন তারা সমস্ত পত্রিকা বন্ধ করে দিয়ে মানুষের অধিকার হরণ করে নিয়েছিল। এখন আবার তারা ভিন্ন আঙ্গিকে ভিন্ন মুখোশে একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছে।’ এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, জাতীয় পার্টি (জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, নাগরিক ঐক্যর আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, বিকল্পধারার (একাংশ) সভাপতি নুরুল আমীন বেপারী, বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক কমরেড সাইফুল হক, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অধ্যাপক আবু সাঈদ, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি প্রমুখ।








