সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে দোকানপাট বন্ধের নির্দেশনা যশোরে মানছে না অনেকেই

0
ছবি: লোকসমাজ।

স্টাফ রিপোর্টার ॥ মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানি ও অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় সরকার সারাদেশে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশনা জারি করেছে। দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতো জরুরি কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধে যশোরেও এ সিদ্ধান্ত কার্যকরের কথা থাকলেও বাস্তব চিত্রে দেখা যাচ্ছে ভিন্নতা। অনেক ব্যবসায়ী সরকারি নির্দেশনা মেনে চললেও একটি অংশ এখনো তা উপেক্ষা করছেন।

সরেজমিনে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সাড়ে সাতটার দিকে শহরের মাইকপট্টি ও মুজিব সড়ক এলাকায় একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা থাকতে দেখা গেছে। একই চিত্র দেখা গেছে উপশহর খাজুরা বাসস্ট্যান্ড, মনিহার এলাকাসহ শহরের আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকায়। এতে করে সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

যেসব ব্যবসায়ী নিয়ম মেনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দোকান বন্ধ করছেন, তারা এ অবস্থায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, সবাই যদি সমানভাবে নির্দেশনা মেনে না চলে, তাহলে যারা নিয়ম মানছেন তারা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছেন এবং আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

উপশহর খাজুরা বাসস্ট্যান্ড এলাকার ব্যবসায়ী মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, আমরা নিয়ম মেনে ঠিক সময়েই দোকান বন্ধ করছি। কিন্তু পাশের অনেক দোকান খোলা থাকছে রাত পর্যন্ত। এতে করে আমরা ক্রেতা হারাচ্ছি। এভাবে চলতে থাকলে নিয়ম মানার আগ্রহ কমে যাবে।

চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড বাজার এলাকার রবিউল ইসলাম বলেন, সরকারি সিদ্ধান্ত সবার জন্য সমান হওয়া উচিত। কেউ যদি তা না মানে, তাহলে প্রশাসনের উচিত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া। নইলে যারা নিয়ম মেনে চলছে, তারা অন্যায়ভাবে ক্ষতির মুখে পড়বে।

অন্যদিকে, কিছু ব্যবসায়ী বলছেন, বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে আগেভাগে দোকান বন্ধ করলে তাদের পক্ষে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে। তারা দাবি করছেন, দিনের বেলায় বিক্রি কম থাকায় সন্ধ্যার পরের সময়টাই তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

এ বিষয়ে যশোর এইচএমএম রোডস্থ বড়বাজার পাদুকা ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মফিজুল হক রাজ ও সাধারণ সম্পাদক তুষার বলেন, আমরা সরকারের এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই। যদিও এতে আমাদের ব্যবসায়িক কিছুটা ক্ষতি হচ্ছে, তবে দেশের সার্বিক স্বার্থের কথা বিবেচনা করলে এই উদ্যোগ প্রয়োজনীয়। তবে সবাই যাতে এই সিদ্ধান্ত মেনে চলে, সে বিষয়ে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি থাকা জরুরি। পাশাপাশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশের টহল আরও জোরদার করা প্রয়োজন বলে তারা মত দেন।

সন্ধ্যার পর শহরের অনেক এলাকায় জনসমাগম কমে যাওয়ায় নিরাপত্তা শঙ্কাও বাড়ছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। যারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দোকান বন্ধ করছেন, তারা আশঙ্কা করছেন ফাঁকা হয়ে যাওয়া এলাকায় চুরি বা নাশকতার ঘটনা ঘটতে পারে। অপরদিকে, যারা দোকান খোলা রাখছেন, তারাও নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সাধারণ নাগরিকদের মধ্যেও এ বিষয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কেউ কেউ বলছেন, সংকট মোকাবেলায় সরকারি সিদ্ধান্ত মেনে চলা জরুরি, আবার কেউ মনে করছেন হঠাৎ করে এমন সময়সীমা নির্ধারণ ব্যবসায়ীদের জন্য চাপ সৃষ্টি করছে।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। যারা নির্দেশনা অমান্য করছেন, তাদের সতর্ক করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে পুলিশি টহল জোরদারের কথাও জানানো হয়েছে।

সার্বিকভাবে দেখা যাচ্ছে, সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে যশোরে এখনো পূর্ণাঙ্গ শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। একাংশের অবহেলা পুরো ব্যবস্থাপনাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছে। তাই সমন্বিত উদ্যোগ, কঠোর নজরদারি এবং সচেতনতার মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা এখন সময়ের দাবি।