একাত্তরে পাক বাহিনীর সহযোগী হিসেবে জামায়াতের নাম বহাল রেখে বিল পাস

0
কণ্ঠভোটে পাস হলো জামুকা অধ্যাদেশ সংশোধন বিল; এনসিপির সমর্থন, জামায়াতের নোট অব ডিসেন্ট।। প্রতীকী ছবি: এআই/লোকসমাজ

লোকসমাজ ডেস্ক ॥ একাত্তরে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সহযোগী হিসেবে তখনকার মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী ও নেজামে ইসলাম পার্টির নাম বহাল রেখেই জাতীয় সংসদে ‘জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) অধ্যাদেশ’ সংশোধন করে বিল পাস হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সংসদ অধিবেশনে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বিলটি উত্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়।

সংসদের বিশেষ কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টি হুবহু বিল আকারে উত্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে জামুকা অধ্যাদেশটির ওপর নোট অব ডিসেন্ট (আপত্তি) জানান জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্যরা। তাদের আপত্তিতে বলা হয়, এই বিল বর্তমান অবস্থায় পাস হলে মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী ও নেজামে ইসলামের মতো দলগুলো পাক হানাদার বাহিনীর সহযোগী হিসেবেই চিহ্নিত থাকবে, যা তারা অযৌক্তিক বলে দাবি করেন।

বিলে আপত্তি জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির শফিকুর রহমান বলেন, ২০০২ সালে তৎকালীন জোট সরকারের আইনে এই দলগুলোকে পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগী বলা হয়নি। রাজনৈতিক দলকে সশস্ত্র বাহিনী হিসেবে চিহ্নিত করাকে তিনি ফ্যাসিবাদী রাজনীতির প্রতি সমর্থন হিসেবে আখ্যা দেন এবং ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’ ও ‘মুক্তিযুদ্ধের’ সংজ্ঞায় পরিবর্তনের দাবি জানান।

অন্যদিকে, জামায়াতের জোটসঙ্গী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পক্ষ থেকে এই বিলে কোনো আপত্তি নেই বলে স্পিকারকে লিখিতভাবে জানানো হয়। সব বিতর্ক ও আপত্তি শেষে বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হওয়ার মাধ্যমে একাত্তরে এই দলগুলোর বিতর্কিত ভূমিকা আইনিভাবে অপরিবর্তিত থাকল।