লোকসমাজ ডেস্ক ॥ বছরে শুধু একবার নয়, একাধিকবার বিদ্যুৎ-জ্বালানির দামে পরিবর্তন (কমানো বা বাড়ানো) আনতে পারবে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। এমন বিধান রেখে ‘বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (সংশোধন) আইন, ২০১৯’ এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এতে সভাপতিত্ব করেন। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান। বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং গ্যাস সম্পদ ও পেট্রোলিয়ামজাত পদার্থের সঞ্চালন, পরিবহন ও বাজারজাতকরণে বেসরকারি বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি, এ খাতে ব্যবস্থাপনা, পরিচালনা, ট্যারিফ নির্ধারণে স্বচ্ছতা আনা, ভোক্তার স্বার্থ সংরণ ও প্রতিযোগিতামূলক বাজার সৃষ্টিতে কাজ করে বিইআরসি।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘আগের আইনটি ছিল ২০০৩ সালের। তাতে একটা প্রভিশন ছিল, কমিশনের নির্ধারিত ট্যারিফ কোনো অর্থবছরে একবারের বেশি পরিবর্তন করা যাবে না, যদি না জ্বালানি মূল্যের পরিবর্তনসহ অন্য কোনোরূপ পরিবর্তন ঘটে।’ তিনি বলেন, ‘সংশোধিত আইনে এটাকে পরিবর্তন করে করা হয়েছে কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত ট্যারিফ কোনো অর্থবছরে কমিশনের একক বা পৃথক পৃথক আদেশ দ্বারা, প্রয়োজন অনুসারে এক বা একাধিকবার পরিবর্তন করতে পারবে। সংশোধিত আইনে শুধু এইটুকুই পরিবর্তন আনা হয়েছে। অন্যান্য যে বিধান আছে সেগুলো ঠিক আছে।’ এ পরিবর্তন আনার ব্যাখ্যা জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘ওনারা (বিইআরসি) দেখতেছেন অনেক সময়ই (বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম) পরিবর্তন করা প্রয়োজন হতে পারে। রিজিট না থেকে অপশন রইল, সেজন্যই। যদি ইন্টারন্যাশনাল মার্কেটে…অনেক সিনারিও আসতে পারে, হঠাৎ করে চেইঞ্জ করা লাগতে পারে। কিন্তু আগের আইনে রিজিট (অনমনীয়) ছিল, এখন ফেক্সিবল (নমনীয়) করা হলো।’ এর মানে এই আইন হলে বিদ্যুৎ, গ্যাস, ডিজেল, পেট্রলসহ জ্বালানির দাম বছরে একাধিকবার বাড়াতে পারবে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন- জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘এক বা একাধিকবার পরিবর্তন করতে পারবে। বাড়াতে পারবে, কমাতেও পারবে।’
বছরে একাধিকবার পরিবর্তন করা যাবে বিদ্যুৎ-জ্বালানির দাম
যশোরে হেমন্ত সরকারের স্মরণ সভা
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ গতকাল সোমবার বিকাল সাড়ে ৩টায় যশোরের দড়াটানা শহীদ চত্বরে জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় উদ্যোগে কমিউনিস্ট বিপ্লবী নেতা কমরেড হেমন্ত সরকার’র ২১তম মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি তোজাম্মেল হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান বক্তা হিসাবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম. জাহাঙ্গীর হুসাইন। বিশেষ বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখবেন কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ দত্ত। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কৃষক সংগ্রাম সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি হাফিজুর রহমান, যুগ্ম সম্পাদক অধ্যাপক তাপস বিশ্বাস, বি.এম. শামীমুল হক, জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের খুলনা জেলা সভাপতি আবুল হোসেন, কুষ্টিয়া জেলা সম্পাদক মোক্তারুল ইসলাম মুক্তি, ঝিনাইদহ জেলা সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন, যশোর জেলা সহ-সভাপতি আশুতোষ বিশ্বাস, কৃষক সংগ্রাম সমিতির কেন্দ্রীয় সদস্য ও মাগুরা জেলা সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান, যশোর জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক সমীরণ বিশ্বাস এবং জাতীয় ছাত্রদলের অন্যতম নেতা মধুমঙ্গল বিশ্বাস প্রমুখ। সভাটি পরিচালনা করেন কেন্দ্রীয় সদস্য কামরুল হক লিকু। সভায় প্রধান অতিথি বলেন, দেশের শ্রমিক-কৃষক-জনগণ গভীর অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক তথা সামগ্রিক সংকটে জর্জরিত হয়ে তাদের জীবন-জীবিকা আজ দুঃখ-কষ্টের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হচ্ছে। অতীতের ধারাবাহিকতায় সা¤্রাজ্যবাদ ও তার দালাল ক্ষমতাসীন সরকার ও শোষকগোষ্ঠী জনগণের দৃষ্টি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য তথাকথিত উন্নয়নের নামে সা¤্রাজ্যবাদী লগ্নি পুঁজির স্বার্থে প্রাকৃতিক ভারসাম্য বিনষ্টকারী, পরিবেশ বিধ্বংসী নানা প্রকল্প বাস্তবায়ন করে চলেছে সরকার। সা¤্রাজ্যবাদ এবং তাদের দালালদের বেপরোয়া লুটপাটের স্বার্থেই সরকার এই সমস্ত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে চলেছে। ধন-সম্পদ-বৈষম্য ও শ্রেণি বৈষম্য বৃদ্ধি করা হয়েছে চরম সীমায়। তিনি আরও বলেন, কমরেড হেমন্ত সরকার ছিলেন এমন এক দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী মহান ব্যক্তিত্ব। যিনি রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার পর থেকে আমৃত্যু প্রতিটি সময়, ক্ষণ ও মুহূর্ত জনগণের মুক্তির জন্য নিবেদিত করেছেন। মার্কসবাদী-লেনিনবাদী তত্ত্বের প্রতি অনুগত থেকে ব্যক্তি জীবনের সুখ-সুবিধা ত্যাগ করে এদেশের শ্রমিক-কৃষকের স্বার্থের প্রতি গভীরভাবে অনুগত থেকেছেন। আর তাই এই সব নিরন্ন মানুষের জীবনের সাথে হয়ে গিয়েছিলেন একাকার।
সিআইডির চার্জশিটে বাদীর নারাজি : মণিরামপুরে রানী দাস হত্যা মামলা পুনঃতদন্তের আদেশ
স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরের মণিরামপুর উপজেলার খেদাপাড়া গ্রামের গৃহবধূ রানী দাস হত্যা মামলা পুনঃতদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) আদেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মাহাদী হাসান চার্জশিটের ওপর বাদীর নারাজি আবেদনের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। মামলা সূত্রে জানা যায়, ১১ বছর আগে যশোর সদর উপজেলার ফতেপুর গ্রামের কান্ত দাসের মেয়ে রানী দাসকে বিয়ে করেন খেদাপাড়ার বাসিন্দা প্রদীপ দাস। কিন্তু বিয়ের পর থেকে নানা অজুহাতে রানী দাসের ওপর নির্যাতন চালাতেন শ্বশুর বাড়ির লোকজন। এরই মধ্যে প্রদীপ দাস পরকীয়ায় আসক্ত হয়ে পড়েন। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মনোমালিন্যের সৃষ্টি হয়। ২০১৭ সালের ১৯ নভেম্বর পারিবারিক কলহের এক পর্যায়ে স্বামীসহ পরিবারের লোকজন রানী দাসকে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা এবং মুখে কীটনাশক ঢেলে দিয়ে পালিয়ে যান। এ খবর পেয়ে রানী দাসের স্বজনেরা এসে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। কিন্তু চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এ ঘটনায় নিহতের মা নমিতা দাস ৪ জনকে আসামি করে আদালতে মামলা করেন। পরে আদালতের আদেশে সেটি মণিরামপুর থানায় নিয়মিত মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়। মামলাটি প্রথমে থানা পুলিশ এবং পরে সিআইডি পুলিশ তদন্তের দায়িত্ব পায়। তদন্ত শেষে সিআইডি পুলিশ নিহতের স্বামী প্রদীপ দাসকে অভিযুক্ত ও এজাহারভুক্ত অপর আসামি শংকর দাস, গনেশ দাস ও যুমনা দাসের অব্যহতি চেয়ে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। কিন্তু বাদী চার্জশিটের ওপর আদালতে নারাজি আবেদন করেন। সোমবার শুনানি শেষে বিচারক মামলাটি পুনঃতদন্তের জন্য পিবিআইকে আদেশ দেন।
যশোরে ইয়াবাসহ তিনজন আটক
স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোর সদর উপজেলার ভাতুড়িয়ায় সোমবার সকালে অভিযান চালিয়ে ইয়াবা ট্যাবলেটসহ ৩ জনকে আটক করেছে র্যাব। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, র্যাব-৬ সিপিসি-৩ যশোর ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি কমান্ডার লে. এম মাহামুদুর রহমান মোল্লার নেতৃত্বে একটি দল সকাল আটটার দিকে ভাতুড়িয়া দাড়িপাড়া নূরানী হাফেজিয়া মাদ্রাসা মোড়ে অভিযান চালায়। এ সময় র্যাব সদস্যরা সেখান থেকে ৩ জনকে আটক করেন। এরা হচ্ছেন-চাঁচড়া মধ্যপাড়ার মৃত আব্দুল মতিন মুন্সীর ছেলে রবিউল ইসলাম (৪২), আব্বাস মোড়লের ছেলে রাজু আহম্মেদ (৪০) ও দাড়িপাড়ার মৃত ইসহাক বিশ্বাসের ছেলে মারুফ বল্টু (৪০)। পরে তাদের কাছ থেকে ১৩৩ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
কালীগঞ্জে গণতন্ত্র হত্যা দিবস উপলক্সে মিছিল ও সমাবেশ
কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) সংবাদদাতা ॥ গণতন্ত্র হত্যা দিবস উপলে বিএনপি ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা ও পৌর শাখার উদ্যোগে সমাবেশ ও বিােভ মিছিল হয়েছে। সোমবার সকাল ১১ টার সময় কালীগঞ্জ হাসপাতাল সড়কে দলীয় কার্যালয়ে কালীগঞ্জ পৌর বিএনপির আহবায়ক আতিয়ার রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয় সমাবেশ। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক হামিদুল ইসলাম হামিদ। বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম রবি, পৌর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আব্দুল মান্নান মনা, আব্দুল ওয়াহেদ, উপজেলা বিএনপির সদস্য আশরাফ আলী, আব্দুস সাত্তার, জুমারত আলী, মফিজুর রহমান নান্নু, জেলা তারেক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মাজেদ, উপজেলা যুবদলের সিনিয়র সহ সভাপতি আজিজুল ইসলাম লস্কর, সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুর রহমান মিলন, জেলা যুবদলের সদস্য সাইফুজ্জামান স্বপন, উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক তরিকুল ইসলাম, মিলন হোসেন, নাজমুল ইসলাম, পৌর ছাত্রনেতা গোলাম মোর্তুজা জিকো, আহসান হাবীব প্রমুখ। পরে বিােভ মিছিল বের করা হয়।
হ্যান্ডকাপ ফেনসিডিল ও মোটরসাইকেলসহ যশোরে আটক পুলিশ কর্মকর্তার গাড়িচালক
স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোর কোতয়ালি থানা পুলিশের সাবেক সিভিল টিমের প্রভাবশালী এসআই হাসানুর রহমানের গাড়িচালক ছিলেন ইয়াছিন আরাফাত নামে এক যুবক। সোর্সের কাজও করতেন তিনি। কিন্তু এখন তিনি নিজেই পুলিশ পরিচয়ে হ্যান্ডকাপ নিয়ে মাদক ব্যবসাসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। ডিবি পুলিশের হাতে ধরা পড়ার পর তার এ সকল জারিজুরি ফাঁস হয়ে গেছে। গত শনিবার বিকেলে সদর উপজেলার আব্দুলপুর বাজার থেকে হ্যান্ডকাপ, পুলিশ লেখা ব্যাগ, মোটরসাইকেল ও অর্ধশত বোতল ফেনসিডিলসহ তাকে আটক করে ডিবি পুলিশ। আটক ইয়াছিন আরাফাত সদর উপজেলার িিতবদিয়া গ্রামের জয়নাল মন্ডলের ছেলে।
ডিবি পুলিশের এসআই সোলায়মান আক্কাস জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত শনিবার বিকেল পাঁচটার দিকে তিনি ফোর্স নিয়ে যশোর-চৌগাছা রোডের আব্দুলপুর বাজারে অভিযান চালান। এ সময় সেখান থেকে ইয়াছিন আরাফাত নামে ওই যুবককে আটক করেন। তিনি জানান, ইয়াছিন আরাফাত নিজেকে পুলিশ পরিচয় দিয়ে পার পাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু পরিচয়পত্র দেখতে চাওয়ায় অবস্থা বেগতিক বুঝে তিনি পুলিশ নন বলে স্বীকার করেন। ডিবি পুলিশের ওই কর্মকর্তা বলেন, ইয়াছিন আরাফাতের কাছ থেকে একটি হ্যান্ডকাপ, পুলিশ লেখা একটি ব্যাগ (পিঠে ঝোলানো ব্যাগ), সামনে পুলিশ লেখা একটি অ্যাপাচি মোটরসাইকেল (কুষ্টিয়া-ল-১১-৬৫৪২) এবং ৫০ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে কোতয়ালি থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি এবং পুলিশ পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগে আরেকটি মামলা দায়ের করেছেন এসআই সোলায়মান আক্কাস। এদিকে আটক ইয়াছিন আরাফাত জানান, তিনি কোতয়ালি থানা পুলিশের তৎকালীন সিভিল টিমের এসআই হাসানুর রহমানের গাড়ি চালাতেন। ৬ মাস তার গাড়ি চালিয়েছেন। তবে সিভিল টিম বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর তিনি ওই পুলিশ কর্মকর্তার গাড়ি চালানোর কাজ ছেড়ে দেন। অপরদিকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের এসআই আব্দুল মালেক জানান, রোববার ইয়াছিন আরাফাতকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। একই সাথে আদালতে তার পাঁচদিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে যশোর জেলা ছাত্রদলের নানা কর্মসূচি
স্টাফ রিপোর্টার ॥ আগামীকাল বুধবার ১ জানুয়ারি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ৪১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। এ উপলক্ষে ওই দিন যশোর জেলা ছাত্রদল দিনব্যাপী বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, দুস্থদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ, বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলামসহ প্রয়াত নেতাদের কবর জিয়ারত ও ছাত্র-গণজমায়েত। ওইদিন সকাল ৯টায় বিএনপি কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শুরু হবে। এরপর একই স্থানে সকাল সাড়ে ৯টায় দুস্থদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হবে। সকাল সাড়ে ১০টায় কারবালা কবরস্থানে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলামের কবর জিয়ারত করা হবে। এ সময় প্রয়াত সকল নেতাসহ শহীদ ছাত্রনেতাদের কবর জিয়ারত করা হবে। দুপুর ২টায় বিএনপির কার্যালয়ে কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপার্সন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে ছাত্র গণজমায়েত অনুষ্ঠিত হবে। সকল কর্মসূচিতে দলের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের যথাসময়ে উপস্থিত হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন জেলা ছাত্রদলের সভাপতি রাজিদুর রহমান সাগর, সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান বাপ্পি ও সাংগঠনিক সম্পাদক শাহনেওয়াজ ইমরান।
লোনঅফিসপাড়ায় অনুষ্ঠিত হলো শিশু নিকেতনের ব্যাডমিন্টন
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ যশোর শহরের লোক অফিসপাগাডয় গতকাল সোমবার শিশু নিকেতনের মাঠে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘শিশু নিকেতন ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্ট-২০১৯’। শিশু নিকেতন বয়েজ কাব আয়োজনে মাধ্যমে ২ দিনব্যাপী ব্যাডমিন্টন খেলা হয়। খেলা শেষে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন প্রধান অতিথি হিসেবে মোশারফ হোসেন বাবু। বিশেষ অতিথি ছিলেন জহিরুদ্দিন কাজল ও আবুল কালাম আজাদ। টুর্নামেন্টের আয়োজনে ছিল আফ্রিদি সরদার, অরিয়ান খান, আকাশ কুনাল অধিকারী, বনি সাহা, শিমুল কাজী, মনোয়ার রেজা অন্তিক, শেখ রাসিব রহমান প্রমুখ।
ইয়াসিনরা জনগন ও পুলিশের শত্রু
যশোরে পুলিশ পরিচয়ে ব্যবসায়ী অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়, মোটরসাইকেল, টাকা ছিনতাই, মাদক পাচারসহ নানাবিধ অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে সংবাদপত্রে হরহামেশাই খরব হয়। বিষয়টি নিয়ে আইন-শৃঙ্খলা সভায় আলোচনা হয়েছে বহুবার। জেলা পুলিশ কর্তারা সাংবাদিকদের মুখোমুখি হলেই প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছেন বারবার। তবে, তাদের উত্তর হয়েছে পুলিশের কেউ এমন কাজে জড়িত নয়। অপরদিকে, ধরার চেষ্টা চলছে। আটক হলেই সব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে। এটি একটি চক্র বলেও পুলিশ কর্তারা জানিয়েছেন সব সময়। সংবাদ মাধ্যম কর্মীরাও একই রকম ধারণা করে তাই বিশেষ কিছু লেখা থেকে বিরত থাকেন। অবশেষে পুলিশের বক্তব্য সত্য হয়েছে। তারা পুলিশ পরিচয়ে পুলিশের সরঞ্জাম নিয়ে মাদক পাচারে জড়িত থাকা এক যুবককে আটক করেছে। তার কাছ থেকে পুলিশ লেখা একটি মোটরসাইকেল, একটি হাতকড়া ও পুলিশ লেখা ব্যাগ উদ্ধার করেছে। ইয়াছিন আরাফাত নামের ওই যুবক পুলিশ না হলেও এক পুলিশ অফিসারের গাড়ির চালক ও পুলিশের সোর্স ছিল। সঙ্গত কারণে তার সাথে কোনো পুলিশের যোগসূত্র থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা অমূলক নয়। এ কারণে আমরা মনে করি, ইয়াছিন আরাফাতকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করে পুরো গ্যাং খাঁচায় বন্দি করা।
লোকসমাজে সোমবার প্রকাশিত হ্যান্ডকাপ, ফেনসিডিল ও মোটরসাইকেলসহ ‘যশোরে আটক পুলিশ কর্তার গাড়িচালক’ শীর্ষক খবরে বলা হয় শনিবার বিকেলে যশোর-চৌগাছা সড়কের আব্দালপুর বাজারে ডিবি এসআই সোলাইমান আক্কাস অভিযান চালান। এ সময় ‘পুলিশ’ লেখা মোটরসাইকেল, ব্যাগ ও হ্যান্ডকাপসহ হাজির হয় ইয়াসিন আরাফাত। সে নিজেকে পুলিশ বলে পরিচয়ও দেয়। কিন্তু ডিবি এসআই আক্কাস সন্দিহান হয়ে তার কাছে পরিচয়পত্র চান। পরিস্থিতি বিরূপ দেখে ইয়াছিন সত্য প্রকাশ করে। সে জানায়, যশোর কোতয়ালির সিভিল টিমের বহুল আলোচিত ও বিতর্কিত এসআই হাসানুর রহমান হাসানের প্রাইভেট চালক ছিলেন। হাসানের বদলির পর পুলিশের সোর্স হিসেবে কাজ করে। ডিবি অফিসার প্রতারক নিশ্চিত হয়ে তল্লাশি চালান এবং ৫০ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করেন। ইয়াসিন জানিয়েছে, তার বাড়ি খিতিবদিয়া গ্রামে। ডিবি পুলিশ রোববার তাকে রিমান্ড আবেদন জানিয়ে আদালতে প্রেরণ করে। আমরা মনে করি, বছরাধিককাল ধরে যশোরে পুলিশ পরিচয়ে অপরাধের পর অপরাধ করে পুলিশ বিভাগের বদনাম করা চক্র ধরতে ইয়াসিন আরাফাতকে অন্যতম একটি অস্ত্র হতে পারে। ইয়াসিনের কাছ থেকেই জানা যেতে পারে এই চক্রের প্রকৃত পুলিশের কে কে আছে। কারণ, ইয়াসিন যেহেতু এসআই হাসানের বহু বিতর্কিত কর্মের সাথী এবং পুলিশের সোর্স ছিল, সেহেতু তার পক্ষে অনেক কিছুই জানা সম্ভব। আমাদের ধারণা, হ্যান্ডকাপের পেছনেও কোন পুলিশের ভূমিকা থাকতে পারে। থাকতে পারে ইয়াসিনের নেতৃত্বে পুলিশ পরিচয়ে অপরাধী চক্র। অস্ত্র থাকাও অস্বাভাবিক নয়। সবচেয়ে বড় কথা পুলিশের বদনামকারীদের সন্ধান পাওয়া সম্ভব। আমরা তাই আশা করবো, পুলিশ তার নিজের প্রয়োজনেই ইয়াসিনের আদ্যপান্ত উদ্ঘাটন করবে। আমরা মনে করি, ইয়াসিনরা পুলিশ ও জনগণের শত্রু। এদের বিচার হওয়া প্রয়োজন।









