লোকসমাজ ডেস্ক ॥ চট্টগ্রাম-৮ আসনের উপনির্বাচনে প্রচারণা চালানোর সময় বোয়ালখালী উপজেলার একটি এলাকায় হামলা চালিয়েছে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সমর্থকরা। এ সময় কর্মী সমর্থকদের মারধর ও প্রার্থীকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে বিএনপি। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। গতকাল সকাল ১০টার দিকে বোয়ালখালী পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের নবাব আলী সওদাগর বাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে বোয়ালখালী পৌরসভা বিএনপি’র সভাপতি ও পৌর মেয়র হাজী আবুল কালাম আবু। তিনি বলেন, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আবু সুফিয়ান, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোস্তাক আহমদ খানসহ নবাব আলী সওদাগর বাড়ি এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণায় গেলে আওয়ামী লীগের লোকজন লাটিসোটা নিয়ে হামলা চালায়। এ সময় আমরা মানুষের বাড়ি ঘরে আশ্রয় নিই। দীর্ঘক্ষণ অবরুদ্ধ থাকার পর এলাকবাসীর সহযোগিতায় ওই এলাকা ত্যাগ করি। নির্বাচনী প্রচারণায় যাওয়া বিএনপির কর্মী-সমর্থক ও সাধারণ মানুষদের মারধর করে আহত করেছে তারা।
স্থানীয় লোকজন জানায়, বিএনপির প্রার্থী আবু সুফিয়ান কর্মী সমর্থকদের নিয়ে শুক্রবার সকালে ঘরে ঘরে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করতে আসলে আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন কর্মী সমর্থক তাদের ঘিরে ফেলে এবং অবরুদ্ধ করে রাখেন। প্রচারণা না চালিয়ে এলাকা ত্যাগ করার জন্য বলেন। এ সময় ধানের শীষের কয়েকজন কর্মী-সমর্থককে মারধর করেন। পরবর্তীতে তারা প্রচারণা না চালিয়ে চলে যান। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিএনপির প্রার্থীসহ কর্মী সমর্থকদের অবরুদ্ধ করে রাখার খবরে পুলিশ, উপজেলা নির্বাহী অফিসার আছিয়া খাতুন ও সহকারি কমিশনার (ভূমি) একরামুল ছিদ্দিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। বোয়ালখালী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মুহাম্মদ হেলাল উদ্দিন ফারুকী জানান, এ ধরনের কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি দুইটি এলাকায় দুই প্রার্থী নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছে। আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের নিয়মিত টহল জোরদার রয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার আছিয়া খাতুন বলেন, বিএনপির প্রার্থীর অভিযোগ পেয়ে সাথে সাথে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। অপ্রীতিকর কোনো ঘটনা ঘটেনি।
উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সমপাদক পৌর প্যানেল মেয়র এসএম মিজানুর রহমান বলেন, নির্বাচনী শান্ত ও সুন্দর পরিবেশকে বিনষ্ট করার লক্ষ্যে বিএনপি গুজব সৃষ্টি করছে। জনমনে আতঙ্ক তৈরি করতে এই ধরণের আজগুবি গল্পকাহিনী প্রচার করছে। বিষয়টি জানতে আবু সুফিয়ানের মুঠোফোনে একাধিক বার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে তাঁর নির্বাচনী প্রচারণায় থাকা চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম সমপাদক আনোয়ার হোসেন লিপু বলেন, সকালে আমরা কালুরঘাটের পশ্চিম পাড়ে জনসংযোগ করতে যাই। এসময় দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি বোরহানের নেতৃত্বে একদল যুবক আমাদের উপর হামলা করে। এসময় আমাদের বেশকিছু নেতাকর্মী আহত হয়। পরে পুলিশ এসে আমাদের উদ্ধার করে।
চট্টগ্রামে বিএনপি প্রার্থীর প্রচারণায় হামলা
৬ বছরেও চার্জশিট দিতে পারেনি তদন্তকারীরা
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ গোপীবাগে কথিত পীর লুৎফর রহমান ফারুকী ও তার ছেলেসহ ছয় জনকে গলা কেটে হত্যা ঘটনায় ৬ বছরেও চার্জশিট দিতে পারেনি তদন্তকারী সংস্থা। এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলাটি থানা পুলিশ থেকে ডিবি এরপর কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটে আসে। এ ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এর মধ্যে একজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। একজনের স্বীকারোক্তি মতে এখনো অধরা রয়েছে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জেএমবির চার সদস্য। তদন্তকারীদের ভাষ্য, কথিত পীর খিজির খান হত্যার সঙ্গে জড়িত জেএমবি’র আট সদস্যের টিমের সঙ্গে গোপীবাগের সিক্স মার্ডারের সংশ্লিষ্টতা আছে। এছাড়া হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলা মামলায় ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত হাদিসুর রহমান সাগর ও মামুনুর রশিদ রিপনের সঙ্গে সিক্স মার্ডারের পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে। এ কারণে সাগর ও রিপনকেও সিক্স মার্ডার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। ২০১৩ সালের ২১ ডিসেম্বর রাজধানীর গোপীবাগের আর কে মিশন রোডে ৬৪/৬ নম্বর আয়না বাড়ির দোতলায় কথিত ইমাম মাহাদীর প্রধান সেনাপতি পরিচয় দানকারী লুৎফর রহমান ফারুক (৬০), তার ছেলে মনির হোসেন (৩০), মুরিদ সাইদুর রহমান (৩০), মজিবর রহমান (৩২), রাসেল (৩০) ও বাসার তত্ত্বাবধায়ক মঞ্জুর আলম ওরফে মঞ্জুকে গলাকেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।
এ ঘটনায় নিহতের ছেলে আবদুলাহ আল ফারুক বাদী হয়ে ওয়ারী থানায় অজ্ঞাতনামা ১০-১২ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। ঘটনায় দায় স্বীকার করে গ্রেপ্তার হওয়া জেএমবির সদস্য তরিকুল ইসলাম আদালতে ১৬৪ ধারা জবানবন্দি দেন। তিনি জবানবন্দিতে জানান যে, জেএমবির শীর্ষ নেতারাই এই হত্যাকান্ডের পরিকল্পনা করেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মামলার তদন্তের প্রধান সমন্বয়কারী ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্স ন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের ডিসি জানান, ‘মামলার চার্জশিট এখনো আদালতে দেয়া হয়নি। কবে নাগাদ চার্জশিট জমা দেয়া হবে তা বলা যাচ্ছে না। তিনি আরও জানান, খিজির খান হত্যার সঙ্গে সরাসরি জড়িত তরিকুল ইসলাম ও আব্দুল গাফফার নামে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদের মধ্যে তরিকুল আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। তরিকুলের জবানবন্দি অনুযায়ি, এই হত্যাকান্ডে আটজন অংশ নেয়। মাহফুজ, রনি, জাহিদ ও আতিক নামে চার জনের নাম স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছে। এছাড়া হলিআর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার ঘটনায় ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত হাদিসুর রহমান সাগর ও মামুনুর রশিদ রিপনকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।’
মামলা তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, নিহত লুৎফর নিজেকে ইমাম মাহদীর প্রধান সেনাপতি ও পীর দাবি করতেন। তিনি ও তার অনুসারীরা ধর্মের প্রচলিত রীতিনীতি ও অনুশাসনের বাইরে নিজস্ব ধর্মীয় মতবাদ প্রচারের চেষ্টা করতেন। ধর্ম নিয়ে ভ্রান্তরীতি প্রচার করায় পুরনো জেএমবির কিলিং স্কোয়াডের সদস্য জামাই ফারুকের পরিকল্পনায় হত্যার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। কিলিং মিশনে সরাসরি অংশ নেয় ৮ জন। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় জেএমবির দলটি প্রথমে লুৎফরের বাসায় ভক্ত সেজে ঢোকে। এরপর তার স্ত্রী ও পুত্রবধূকে পাশের কক্ষে আটকে রেখে ছয়জনকে হত্যা করে।
সূত্র জানায়, রহস্যঘেরা সিক্স মার্ডার নিয়ে তদন্ত কর্মকর্তারা শুরুর দিকে একেবারেই অন্ধকারে ছিলেন। ২০১৫ সালে বাড্ডায় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান ও পীর খিজির হায়াত খান হত্যাকান্ডের তদন্ত করতে গিয়েই মূলত সিক্স মার্ডারের রহস্যের জট খুলতে শুরু করে। দুটি হত্যাকান্ড ও লুটপাটের ধরন প্রায় একই ছিল। এতে খিজির খান হত্যাকান্ডে গ্রেপ্তার তরিকুলকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সিক্স মার্ডারের বিষয়ে তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। পরে তাকে সিক্স মার্ডার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তার দেয়া তথ্যে ভিত্তিতে জঙ্গি গাফফারকে গ্রেপ্তার করা হয়। তরিকুল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। সূত্র জানায়, তরিকুলের জবানবন্দি অনুযায়ি,এই হত্যাকান্ডে আটজন অংশ নেয়। মাহফুজ, রনি, জাহিদ ও আতিক নামে চার জনের নাম স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে উল্লেখ করে। তরিকুলের দেয়া নামগুলো জঙ্গিদের ছদ্মনাম হতে পারে। ওই চারজন ছাড়া আরও কেউ হত্যায় জড়িত থাকতে পারে। চলতি বছরের মে মাসে তদন্তকারী সংস্থা হলিআর্টিজানে জঙ্গি হামলার পরিকল্পনাকারীদের হাদিসুর রহমান সাগর ও মামুনুর রশীদ রিপনকে গ্রেপ্তার দেখায়। মামলার বাদী নিহতের ছেলে আবদুল্লাহ আল ফারুক জানান, তদন্তকারীরা এখনো চার্জশিট দিতে পারেনি। কেন আমার বাবাকে খুন করা হলো তা জানতে পারলাম না।
মানুষ চায় সরকার পতনের জন্য বিরোধী দল আন্দোলন করুক : মান্না
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ বাংলাদেশের মানুষ এখন এক বাক্যে এই সরকারকে প্রত্যাখ্যান করেছে বলে মন্তব্য করেছেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। রাজনৈতিক আন্দোলন শিল্পের মতো উল্ল্যেখ করে তিনি বলেন, মানুষ চায় সরকার পতনের জন্য বিরোধী দল আন্দোলন করুক। আপনাদের বোঝা দরকার, কখন কোথায় কিভাবে আন্দোলন শুরু করবেন। যারা আন্দোলন গড়ে তুলবেন, তাদের সামগ্রিক বিষয়টা বুঝতে হবে, তা না হলে হবে না।
শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের মওলানা মুহাম্মদ আকরাম খাঁ হলে জাতীয়তাবাদী তাঁতী দল আয়োজিত ‘স্বাধীনতা ও ভোটাধিকার হরণ এবং খালেদা জিয়ার জামিন প্রতিহিংসার বিচারে অবরুদ্ধ’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ক্ষমতাসীনরা প্রায়ই বলেন বিএনপি কি আন্দোলন করবে, বিএনপির আন্দোলনের কি বুঝে। কিভাবে আন্দোলন করতে হয় তা আমরা জানি। আওয়ামী লীগ জানে… তাহলে ছয় দফা দেওয়ার পরে তিন বছর বসেছিলেন কেন। শেখ মুজিবকে তাহলে বার বার কারাগারে যেতে হয়েছে কেন। আন্দোলন তো আওয়ামী লীগ করে শেখ মুজিবকে কারাগার থেকে বের করেনি। অত বড় নেতা শেখ মুজিবুর রহমান মারা গিয়েছিলেন তারপর তো আওয়ামী লীগ আন্দোলন করতে পারেনি। কেন তারা বার বার বলে তাহলে আমরা আন্দোলন করতে জানি? আর কেউ জানেনা। এইবার আমি সবাইকে ঐরকম একটা আন্দোলন করে তুলবার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। ওদেরকে শিখিয়ে দেন, তোমরা আন্দোলন ভাঙতে জানো, আন্দোলন করতে জানি আমরা।
সরকারকে অনুরোধ জানিয়ে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, বিজিবি মহাপরিচালক বলেছেন ওরা সবাই বাংলাদেশী, উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। যেহেতু এখন স্বীকার করেছেন, ওখান থেকে ওরা আসছে। আমি জানতে চাই মোট কতজন বাংলাদেশে ঢুকেছে? এরা কবে ভারতে গিয়েছিল, এখন ঢুকলো কেন, কোথায় আছেন তারা এখন? সাংবাদিকরা যেন সেই লিস্ট ধরে কথা বলতে পারেন। আমি জানতে চাই, মানুষ জানতে চায় যে, তারা সত্যি সত্যি বাংলাদেশের ছিল কিনা। বর্তমান সরকারকে অবৈধ মন্তব্য করে মান্না বলেন, ‘একটাই কথা, তোকে আর চাই না। তুই অবৈধ। ক্ষমতায় যে আছে সেটা কোন নির্বাচনের মাধ্যমে নয়, তাহলে মানবো কেন তাকে আমি। মানবো না বলেই তাঁর পদত্যাগ চাই। তিনি ব্যর্থ, তিনি মানুষের জীবনের নিরাপত্তা দিতে পারে না। তার উন্নয়নের সব বাতাস এখন ঝড়ের মত মনে।’
যশোরে ৫,৬ ও ৭ : জানুয়ারি স্বগতকণ্ঠের সঙ্গীত কর্মশালা
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ স্বগতকণ্ঠ যশোর তিন দিনব্যাপী সঙ্গীত বিষয়ক কর্মশালার আয়োজন করেছে। আগামী ৫, ৬ ও ৭ জানুয়ারি-২০২০ অনুষ্ঠেয় কর্মশালায় প্রধান প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ভারতের গুণী শিল্পী ইন্ডিয়ান আইডল একাডেমির মেন্টর ও জি বাংলা সা-রে-গা-মা-পা’র গ্রুমার কল্যাণ ভট্টাচার্য্য। সহযোগী প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন কলকাতার প্রভাতী সঙ্গীত নিকেতনের অধ্যক্ষ ও বারাসাত গায়ন সঙ্গীত কলাকেন্দ্র-এর পরীক্ষক চন্দন ভট্টাচার্য।
প্রশিক্ষণের বিষয়: ভয়েস ট্রেইনিং, পারফর্মিং আর্ট, রিয়েলিটি শো গ্রুমিং এবং ট্রাডিশনাল কাসিক মিউজিক। যশোর শিল্পকলা একাডেমির প্রশিক্ষণ কক্ষে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত কর্মশালা অনুষ্ঠিত হবে।
কালীগঞ্জে নিখোঁজের ২৬ দিনেও হদিস মেলেনি রিকশা চালকের
কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) সংবাদদাতা ॥ ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে নান্টু কুমার দাস নামের এক রিকশাচালক নিখোঁজ হওয়ার ২৬ দিন পার হলেও পরিবারের লোকজন তার সন্ধান পায়নি। এ ঘটনায় তার ছোট ভাই শ্রী নিপেন কুমার দাস কালীগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। রিকশাচালক নান্টু দাস কালীগঞ্জ উপজেলার নিশ্চিন্তপুর গ্রামের অধীর কুমার দাসের ছেলে। পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ৭ ডিসেম্বর বিকেলে কালীগঞ্জ বাজারের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন নান্টু দাস। এরপর তিনি আর বাড়িতে ফেরেননি। পরিবারের লোকজন আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে খোঁজাখুজি করেও তাকে পায়নি। তার কোনো সন্ধান না পেয়ে ঘটনার ৪ দিন পর গত ১১ ডিসেম্বর তার ছোট ভাই নিপেন দাস কালীগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। নিপেন দাস জানান, ঘটনার দিন তিনি রিকশা চালাতেও যান। কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহা. মাহফুজুর রহমান মিয়া জানান, রিকশা চালক নিখোঁজের ঘটনায় থানায় জিডি হয়েছে। এসআই সমিরন কুমার বৈদ্য তদন্ত করছেন। সন্ধান পেলে তার পরিবারকে জানানো হবে।
“দেশ আজ এক ভয়ঙ্কর অন্ধকারের দিকে যাচ্ছে”
স্টাফ রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশ যুব মৈত্রীর যশোর জেলা কমিটির এক সভা শুক্রবার সকাল ১১টায় সংগঠনের নীল রতন ধর রোডস্থ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন কমিটির জেলা সহসভাপতি শেখ আলাউদ্দিন। সভার শুরুতেই অনশনরত পাটকল শ্রমিকদের মৃত্যুতে শ্রদ্ধা জানিয়ে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। সভায় জানুয়ারি মাসকে সাংগঠনিক মাস ঘোষনা করা হয়। এ মাসে জেলার সকল উপজেলা ও আঞ্চলিক কমিটি পুনর্গঠনসহ কর্মীসভার মাধ্যমে জেলা কমিটি পুনর্গঠন করার সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। সভায় বক্তব্য রাখেন যুবনেতা রুহুল আমিন, মো. মাসুদুর রহমান, চন্দন বিশ্বাস, মন্জুরুল আলম, শাহনেওয়াজ আনোয়ার লেনিন, হুমায়ুন কবীর সেতু, লিপ্টন প্রমুখ। সভায় বিশেষভাবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি (মার্কসবাদী) যশোর জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক কমরেড জিল্লুর রহমান ভিটু ও বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রীর সাবেক কেন্দ্রীয় সাধারন সম্পাদক মামুনুর রশিদ। সভায় নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশ আজ এক ভয়ঙ্কর অন্ধকারের দিকে যাচ্ছে। দেশে সুশাসন নাই। ঘুষ, দুর্নীতি, লুটপাট, মারামারি, হানাহানি, গুম হত্যা, সাম্প্রদায়িকতা ইতাদি বিরাজমান। তরুণ-যুব সমাজের ভবিষ্যৎ আজ লুট হয়ে যাচ্ছে। লুট হচ্ছে দেশের সম্পদ, ব্যাংক, শেয়ার বাজার। দখল হচ্ছে জনগণের সম্পদ। এই লুটেরা সরকার থেকে এসব দাবি আদায় করতে হলে যুব সমাজকে জাগতে হবে, জাগাতে হবে। এই কাজটি করতে দেশপ্রেমিক যুবসমাজকে এগিয়ে আশার আহবান জানান নেতৃবৃন্দ।
চৌগাছায় সাংবাদিক সুজনের পিতার সুস্থতা কামনা
স্টাফ রিপোর্টার, চৌগাছা (যশোর) ॥ যশোরের চৌগাছা রিপোর্টার্স কাবের নির্বাহী সদস্য সুজন দেওয়ানের পিতা হাজী আবুল হোসেন দেওয়ান (৯০) অসুস্থ হয়ে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গত ৩০ ডিসেম্বর তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হলে প্রথমে চৌগাছা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটলে দ্রুত যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। তার আশু সুস্থতা ও দীর্ঘায়ূ কামনা করে বিবৃতি দিয়েছেন চৌগাছা রিপোর্টার্স কাবের সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ। বিবৃতিদাতারা হলেন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. বাবু, সাবেক সভাপতি কবি ও সাংবাদিক শাহানুর আলম উজ্জ্বল, সহ-সভাপতি বাবলুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মুকুরুল ইসলাম মিন্টু, যুগ্ম সম্পাদক এম হাসান মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক অমেদুল ইসলাম, সাংবাদিক খলিলুর রহমান জুয়েল, কবিরুল ইসলাম, আমিনুর রহমান, শামীম রেজা, শওকত আলী, টিপু সুলতান, সেঁজুতি নূর, ইমাম হোসেন সাগর, মহিদুল ইসলাম প্রমুখ।
ঢাকা সিটি নির্বাচন : উত্তরে তোফায়েল, দক্ষিণের দায়িত্ব পেলেন আমু
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের নির্বাচন পরিচালনায় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর দুই সদস্য আমির হোসেন আমু ও তোফায়েল আহমেদকে দায়িত্ব দিয়েছে দলটি। আমুকে ঢাকা দক্ষিণ ও তোফায়েলকে ঢাকা উত্তর সিটি নির্বাচন পরিচালনা কমিটির নেতৃত্বে থাকবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ।
গণমাধ্যমকে তিনি জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে শুক্রবার সকালে দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ ও উপদেষ্টা পরিষদের যৌথসভায় দুই কমিটির অনুমোদন দেয়া হয়। নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সংখ্যা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। কেন্দ্রীয় কমিটি ও উপদেষ্টা পরিষদের আগ্রহী সদস্যরা এবং ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখা আওয়ামী লীগের সভাপতি কমিটিতে থাকবেন। আওয়ামী লীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির ও উত্তরের সাধারণ সম্পাদক এস এম মান্নান কচি দুই নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন।
এছাড়া দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাককে দক্ষিণের ও ফারুক খানকে উত্তরের কমিটিতে সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে যৌথসভায় দলটির কার্যনির্বাহী সংসদ ও উপদেষ্টা পরিষদের প্রায় সব সদস্য উপস্থিত ছিলেন। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ৩০ জানুয়ারি ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের নির্বাচন হবে। এর মধ্যেই প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ শেষ করেছে নির্বাচন কমিশিন। ৯ জানুয়ারি প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পরদিন প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়ার পর ভোটের প্রচার শুরু হবে। প্রথমবারের মতো ইভিএমের মাধ্যমে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত হিসেবে ঢাকা মহানগর দক্ষিণে শেখ ফজলে নূর তাপস ও উত্তরে আতিকুল ইসলাম লড়বেন।
ঝিকরগাছায় আন্তর্জাতিক কারাতে চ্যাম্পিয়নশিপের উদ্বোধন
ঝিকরগাছা (যশোর) সংবাদদাতা ॥ যশোরের ঝিকরগাছা কারাতে একাডেমি আয়োজিত ওয়ালটন তৃতীয় আন্তর্জাতিক কারাতে চ্যাম্পিয়নফশপ-২০২০-এর উদ্বোধন করা হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে ঝিকরগাছা বিএম হাইস্কুল চত্বরে ২ দিনব্যাপী এই প্রতিযোগিতার প্রধান অতিথি হিসেবে বেলুন উড়িয়ে উদ্বোধন করেন ওয়ালটন গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক এফ এম ইকবাল বিন আনোয়ার ডন। ঝিকরগাছা উপজেলা চেয়ারম্যান ও আয়োজক কমিটির সভাপতি মো. মনিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (অ. দা.) সাধন কুমার বিশ্বাস, থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুর রাজ্জাক ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সেলিম রেজা। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কারাতে চাম্পিয়নশিপের টেকনিক্যাল ডাইরেক্টর হুমায়ুন কবির জুয়েল, জাপানি কোচ তেসতুরা কিতামোরা, ঝিকরগাছা কারাতে একাডেমির নির্বাহী পরিচালক রফিকুল ইসলাম রফিক। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সাংবাদিক এম আর মাসুদ ও ফারিহা জেবা। প্রতিযোগিতায় স্বাগতিক বাংলাদেশসহ ভারত, নেপাল, শ্রীলংকা, ভুটান ও জাপানের ১ শ ৫০ জন প্রতিযোগী ৫০ টি ইভেন্টে অংশগ্রহণ করবেন বলে জানা গেছে।
২২% হারে আইসিডি চার্জ বন্ধে তৎপর পোশাক শিল্প
লোকসমাজ ডেস্ক॥ চট্টগ্রাম বন্দরসংশ্লিষ্ট বেসরকারি ইনল্যান্ড কনটেইনার টার্মিনালগুলোর (আইসিডি) মাশুল বেড়েছে। বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোস অ্যাসোসিয়েশনের (বিকডা) প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, গতকাল থেকে বর্ধিত হারে বিল করা শুরু হয়েছে। সেবাগ্রহীতা রফতানিকারকদের অভিযোগ, একতরফাভাবে ২২ শতাংশ হারে মাশুল বৃদ্ধি করা হয়েছে। প্রধান রফতানি পণ্য পোশাকের শিল্প মালিকরা বর্ধিত হারে এ চার্জ আদায় বন্ধে তৎপর হয়েছেন।
নতুন মাশুল হার অনুযায়ী, ২০ ফুট দৈর্ঘ্যের রফতানি কনটেইনারের প্যাকেজ চার্জ নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার ৩৯০ টাকা। আগে এ চার্জ ছিল ৩ হাজার ৬০০ টাকা। এছাড়া ৪০ ফুট দৈর্ঘ্যের কনটেইনারের ক্ষেত্রে নতুন নতুন মাশুল ধরা হয়েছে ৫ হাজার ৮৫০ টাকা, আগে যা ছিল ৪ হাজার ৮০০ টাকা।
২০ ফুট দৈর্ঘ্যের রফতানি খালি কনটেইনারের গ্রাউন্ড রেন্ট বাড়িয়ে করা হয়েছে দৈনিক ১১২ ও ৪০ ফুট দৈর্ঘ্যের কনটেইনারের জন্য ২২৪ টাকা। আগে এ হার ছিল ২০ ফুট কনটেইনারের ক্ষেত্রে ১০০ ও ৪০ ফুটের ক্ষেত্রে ২০০ টাকা। প্রতি টনে ল্যান্ডিং চার্জ ১৮০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২২০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিকডার সচিব রুহুল আমিন সিকদার (বিপ্লব) বলেন, আজ (গতকাল) থেকে নতুন ট্যারিফ অনুযায়ী বিল করা হচ্ছে।
বিকডা-সংশ্লিষ্টদের দাবি, অনেক আগেই চার্জ বৃদ্ধির কথা ছিল। গত বছরের এপ্রিলে মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার পর এক সপ্তাহের মধ্যে নতুন চার্জ নির্ধারণের নির্দেশ দেয়া হয়। এর মধ্যে বৃদ্ধিও করেছিলাম, যা পরে সরকারের অনুরোধে বন্ধ করা হয়। বৃদ্ধির প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম হার নির্ধারণ করা হয়েছে। আমদানি-রফতানিকারকদের এতে কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়। যদিও রফতানিকারকদের দাবি, প্রতিযোগিতার সক্ষমতা দুর্বল হবে।
গত ৩১ ডিসেম্বর নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় বরাবর একটি চিঠি পাঠিয়েছে পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ। প্রাইভেট আইসিডি/অফডক কর্তৃক রফতানি পণ্যবাহী কনটেইনারের বিপরীতে বিভিন্ন চার্জ বর্ধিত হারে আদায় বন্ধ করা প্রসঙ্গে ওই চিঠিটি পাঠানো হয় মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর। চিঠির অনুলিপি দেয়া হয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরোয়ার্ডাস অ্যাসোসিয়েশনের (বাফা) সভাপতি এবং বিকেএমইএ সভাপতিকে।
বিজিএমইএর দাবি, প্রাইভেট আইসিডি/অফডকগুলো বর্তমানে সম্পূর্ণ একতরফাভাবে রফতানি পণ্যবাহী কনটেইনারের ওপর বিভিন্ন চার্জ ১ জানুয়ারি ২০২০ থেকে ২২ শতাংশ বর্ধিত হারে আদায় করবে মর্মে বিভিন্ন শিপিং এজেন্ট ও ফ্রেইট ফরোয়ার্ডারদের চিঠি পাঠিয়েছে। আকস্মিকভাবে এ ধরনের চার্জ বৃদ্ধির ফলে দেশের সর্ববৃহৎ রফতানি খাত তৈরি পোশাক শিল্পের রফতানি কার্যক্রমে ব্যয় বৃদ্ধি পেয়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
পূর্বসিদ্ধান্ত অনুযায়ী মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া প্রাইভেট আইসিডি কর্তৃক একতরফাভাবে চার্জ বৃদ্ধি করা যাবে না মর্মে সিদ্ধান্ত রয়েছে—এমন তথ্য উল্লেখ করে নৌ-পরিবহন সচিব বরাবর পাঠানো চিঠিতে বিজিএমইএ বলে, বর্তমানে দেশের পোশাক শিল্প চরম সংকটপূর্ণ সময় অতিক্রম করছে। বিশ্বব্যাপী পোশাক শিল্প বাজারে সিএম (কাটিং-মেকিং চার্জ) কমে যাওয়া, বিদেশী ক্রেতাদের নিত্যনতুন শর্তারোপ ও অভ্যন্তরীণ বহুবিধ প্রতিবন্ধকতার কারণে এমনিতে শিল্পে ক্রান্তিকাল চলছে।
রফতানি পণ্যবাহী কনটেইনারের প্রাইভেট আইসিডি কর্তৃক বর্ধিত চার্জ আদায় করা হলে তৈরি পোশাক শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিযোগী দেশের তুলনায় রফতানি সক্ষমতা হারাবে চিঠিতে এ দাবি জানিয়ে বলা হয়, নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া প্রাইভেট আইসিডিগুলো যাতে রফতানি পণ্যবাহী কনটেইনারের বিপরীতে বর্ধিত চার্জ আরোপ করতে না পারে, সে বিষয়ে জরুরি ভিত্তিতে আইসিডি/অফডকগুলোকে নির্দেশনা প্রদানের অনুরোধ করছি।
বিকেএমইএর প্রথম সহসভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, কোনো আলোচনা ছাড়াই আইসিডি চার্জ বৃদ্ধি করা হয়েছে, এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
বেসরকারি আইসিডি/সিএফএস নীতিমালা-২০১৬ অনুযায়ী ট্যারিফ নির্ধারণের লক্ষ্যে গত ২১ এপ্রিল নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় কর্তৃক গঠিত কমিটির কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এ মুহূর্তে একতরফাভাবে বর্ধিত চার্জ আদায়ের পদক্ষেপ গ্রহণ নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার পরিপন্থী। ২০১৬ সালের আইসিডি নীতিমালা অনুযায়ী আইসিডির মাশুল নির্ধারণের দায়িত্ব ট্যারিফ কমিটির।
প্রসঙ্গত, চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে রফতানি হওয়া পণ্যের প্রায় ৯০ শতাংশই হ্যান্ডলিং হয় প্রাইভেট আইসিডির মাধ্যমে। রফতানিকারকরা ট্রাক বা কাভার্ড ভ্যানে পণ্য বন্দরের আশপাশে গড়ে ওঠা আইসিডিগুলোয় এনে বোঝাই করেন। সেখান থেকে রফতানি কনটেইনার বন্দরে নিয়ে জাহাজে তোলা হয়। পুরো প্রক্রিয়াটি বেশ কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হয়, যার জন্য রফতানিকারকের কাছ থেকে নির্দিষ্ট হারে মাশুল নিয়ে থাকে সংশ্লিষ্ট আইসিডি। অন্যদিকে আমদানি পণ্যের ২১ শতাংশ বন্দর থেকে আইসিডিতে নেয়া হয়। শুল্কায়ন শেষে সেগুলো নিয়ে যান আমদানিকারকরা। এছাড়া আইসিডিগুলো খালি কনটেইনারও সংরক্ষণ এবং পরিবহন করে থাকে।





