ভাষা আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক সুলতানের ৩৬তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত
লোকসমাজ ॥ ভাষা আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক, পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠতা সভাপতি ও প্রগতিশীল যুবলীগের প্রতিষ্ঠতা যুগ্ম-সম্পাদক এবং প্রগতিশীল লেখক-প্রকাশক সাম্রাজ্যবাদ -সামান্তবাদ বিরোধী মহান নেতা মোহাম্মদ সুলতানের ৩৬তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত।
গত বৃহস্পতিবার জাতীয় ছাত্রদলের যশোর জেলা কার্যালয়ে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, প্রগতিশীল যুবলীগ (তৎকালীন কমিউনিস্ট পার্টির ছাত্র-যুব সংগঠণ) এর প্রতিষ্ঠতা যুগ্ম-সম্পাদক ও ভাষা আন্দোলনের অন্যতম সেনাপতি মোহাম্মদ সুলতানের ৩৬ তম মৃত্যুবার্ষিকীতে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। আলোচনা সভার সভাপতিত্ব করেন আহ্বায়ক বিশ্বজিৎ বিশ্বাস। আলোচনা সভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির আহবায়ক ফরিদা পারভীন, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের যশোর জেলা প্রচার সম্পাদক আইয়ুব হোসেন, গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির যুগ্ম-আহবায়ক পারভীন সুলতানা।সভায় বক্তব্য রাখেন জাতীয় ছাত্রদলের জেলা যুগ্ম-আহবায়ক নাতাশা রায়,সদস্য মধুমঙ্গল বিশ্বাস, জিহাদ হোসেন, নিদ্রিতা আফরোজ প্রমুখ।
আলোচনাসভায় বক্তরা বলেন, সা¤্রাজ্যবাদ – সামান্তবাদ বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক মোহাম্মদ সুলতান আমৃত্যু এ দেশের শ্রমিক, কৃষক ও মেহনতি মানুষের মুক্তির সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। মোহাম্মদ সুলতানের রাজনৈতিক জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে সা¤্রাজ্যবাদ – সামান্তবাদ বিরোধী আন্দোলনকে অগ্রসর করার আহ্বান জানান এবং আলোচনাসভায় তাঁর জীবনের উলেখযোগ্য ঘটনাবলী উপর আলোকপাত করেন। উল্লেখ্য মোহাম্মদ সুলতান এর জন্ম ১৯২৬ সালের ২৪ ডিসেম্বর পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলার অন্তর্গত মাঝ-গ্রামে। বৃটিশ আমলের পুলিশ বিভাগের ঝানু অফিসার ডেপুটি সুপারিনন্টেন্ডেন্ট অব পুলিশ পিতা মরহুম মোহাম্মদ শমসের আলী ছিলেন কর্তব্যপরায়ন এবং স্বাধীনচেতা। মোহাম্মদ সুলতান যশোর জেলা স্কুল থেকে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবার আগেই মা কে হারান। স্নাতক ডিগ্রী অর্জন করেন রাজশাহী সরকারি কলেজ থেকে। তারপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৫৩ সালে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে মোহাম্মদ সুলতান স্নাতকোত্তর ডিগ্রী লাভ করেন। মোহাম্মদ সুলতান কৈশোরেই ‘ভারত ছাড়’ বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে প্রথম আকৃষ্ট হন রাজনীতিতে। ১৯৪৬ সালে পাকিস্তান আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন। পরবর্তীকালে ১৯৪৮ সালে রাজশাহীতে ভাষা আন্দোলন এবং ছাত্র আন্দোলনে মোহাম্মদ সুলতান অগ্রনী ভূমিকা পালন করেন। ১৯৫১ সালে প্রগতিশীল যুবলীগে যোগ দেন এবং প্রগতিশীল যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক নির্বাচিত হন। মোহাম্মদ সুলতান ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম কালো পতাকা উত্তোলনকারী ছাত্র। সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ ১৪৪ ধারা ভংগ না করার সিদ্ধান্ত নেয়ার পর যে ১১ জন সংগ্রামী ছাত্রনেতা ফজলুল হক হলের পুকুর পাড়ের সিঁড়িতে বসে রাত্রি ১টায় ১৪৪ ধারা ভাঙ্গার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন মোহাম্মদ সুলতান ছিলেন তাদের অন্যতম। রাজনৈতিক আন্দোলনের সাথে সাথে সাংস্কৃতিক আন্দোলনের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সুলতান বিশেষভাবে ওয়াকিবহাল ছিলেন এবং আন্দোলনের ইতিহাসকে লিপিবদ্ধ করে রাখার উপর সর্বাধিক গুরুত্ব আরোপ করেন। ভাষা আন্দোলনের পর তিনি এম আর আক্তার মুকুলের অংশীদারিত্বে প্রধানত রাজনৈতিক উদ্দ্যেশে পুস্তক বিক্রয় কেন্দ্র ‘পুঁথিপত্র’ প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৫৩ সালের মার্চ মাসে কবি হাসান হাফিজুর রহমানের সম্পাদনায় ভাষা আন্দোলনের ঐতিহাসিক সংকলন ‘একুশে ফেব্রুয়ারী’ প্রকাশ করেন। ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসকে সাহিত্যের মাধ্যমে ধরে রাখার ঐতিহাসিক দায়িত্ব তিনি পালন করেন। অবশ্য প্রকাশনার কিছুদিন পরেই মুসলিম লীগ সরকার ‘একুশে ফেব্রুয়ারী’ বইটি বাজেয়াপ্ত করেন। ১৯৮৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে ৩নং ওয়ার্ডের করিডোরে চিরতরে বিদায় নেন সর্বজন শ্রদ্ধেয় রাজনীতিক, ভাষা সেনাপতি মোহাম্মদ সুলতান। সবশেষে সভাপতি বলেন, বিপ্লবী ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অনন্ত প্রেরণার উৎস মোহাম্মদ সুলতান আজ সাম্রাজ্যবাদ ও দালাল বিরোধী লড়াইয়ের নেতাকর্মীদের কাছে স্মরণীয়, বরনীয় ও শিক্ষণীয়।
যশোরে সাবেক চরমপন্থি হোসেন আলী ঘাতক জুয়েল-মুন্না এখনও আটক হয়নি
স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোর সদর উপজেলার হাশিমপুর বাজারে সাবেক চরমপন্থি ও বিশেষ আনসার সদস্য হোসেন আলী তরফদার খুনের নায়ক কুখ্যাত কিলার চরমপন্থি জুয়েল ও মুন্না আজো আটক হয়নি। ইতিমধ্যে ঘটনার ৫ সপ্তাহ অতিবাহিত হয়েছে। ওই দুজন কিলার পালিয়ে কোথায় রয়েছে তা নিয়েও নানা আলোচনা চলছে। তবে মামলার তদন্ত সংস্থা ডিবি পুলিশ বলছে, তাদেরকে আটকের জন্য চেষ্টা চলছে।
হাশিমপুর বাজারে গত ৩০ নভেম্বর সকালে প্রকাশ্যে নিষিদ্ধ সংগঠন সর্বহারা পার্টির স্থানীয় ক্যাডাররা গুলি চালিয়ে হত্যা করে প্রতিপ হোসেন আলী তরফদারকে। হোসেন আলী এক সময় চরমপন্থি সংগঠন পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। হাশিমপুরের সর্বহারা পার্টির ক্যাডার আমিরুল ইসলাম বুলি ও বাবলা কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ায় এর পেছনে তার হাত রয়েছে বলে প্রতিপরা সন্দেহ করতো। তাছাড়া নানা কারণে আমিরুল ইসলাম বুলির স্ত্রীর বোনের ছেলে চরমপন্থি ও কিলার জুয়েল এবং তার সহযোগীদের সাথে বিরোধে জড়িয়ে পড়েছিলেন হোসেন আলী। খুন হওয়ার দু দিন আগে জুয়েল ও হোসেন আলী একে অন্যকে দেখে নেয়ার হুমকি দিয়েছিলো। এর পরপরই জুয়েল ও মুন্না গংয়ের হাতে খুন হন হোসেন আলী। অপর কিলার মুন্না কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত আমিরুল ইসলাম বুলির ছেলে। হোসেন আলী খুনের ঘটনায় জড়িতদের আটকে ব্যাপক তৎপর হয় পুলিশ প্রশাসন। কোতয়ালি থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশ জড়িতদের আটকে অভিযানে নামে। প্রথমে কোতয়ালি থানা পুলিশের হাতে আটক হন আমিনুর রহমান মিঠু নামে এক ব্যক্তি। তিনি ইছালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মরহুম লুৎফর রহমানের ছেলে। জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পারে তিনি হত্যা পরিকল্পনার সাথে জড়িত ছিলেন। এরপর ডিবি পুলিশ তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে এবং তথ্য প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে রাজধানী ঢাকার কাফরুল ও ভাষানটেক এলাকায় অভিযান চালিয়ে আটক করে হোসেন আলী খুনের সাথে জড়িত আরো ৪ জনকে। পরে মাগুরার শালিখা উপজেলার সীমাখালীতে চরমপন্থি জুয়েলের শ্বশুরের ভাড়া বাড়িতে অভিযান চালিয়ে আরো একজনকে আটক করা হয়। এছাড়া হাশিমপুর থেকে দু জন আটক হয়। এরা হচ্ছে-রাসেল, আনোয়ার, হাবিল ওরফে বার্মিজ, সুজন, সজল, বিজয় ও ছোট বাবু। আটকের পর সন্ত্রাসীদের কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দুটি মোটরসাইকেল এবং একটি রক্তামাখা চাকু উদ্ধার করা হয়। অপরদিকে আটককৃতদের মধ্যে আনোয়ার ও ছোট বাবু আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। সর্বশেষ গত ৩১ ডিসেম্বর রাতে সদর উপজেলার বাউলিয়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে জড়িত পিকুল নামে আরেক সন্ত্রাসীকে আটক করে ডিবি পুলিশ। পরে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে সে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। তার জবানবন্দিতে বেরিয়ে আসে যে, জুয়েলকে হুমকি দেয়ার কারণে হোসেন আলী খুন হয়েছেন। এদিকে হোসেন আলী খুনের পর আলোচনায় আসা কুখ্যাত কিলার ২১ মামলার আসামি জুয়েল এখন কোথায় তা নিয়ে নানা আলোচনা রয়েছে। শুধু জুয়েল নয়, আরেক কিলার মুন্নাকেও আটক করতে পারেনি ডিবি পুলিশ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাশিমপুর এলাকার একাধিক সূত্র জানায়, জুয়েল ও মুন্না পালিয়ে থাকলেও একজন রাজনৈতিক নেতার সাথে যোগাযোগ রেখে চলেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তারা ওই নেতার লোক হিসেবে পরিচিত। অপরদিকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের এসআই মফিজুল ইসলাম জানান, জুয়েল ও মুন্নাকে তারা আটকের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
শেখহাটিতে স্কুলছাত্রীকে অপহরণের অভিযোগে মামলা
স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোর শহরতলীর শেখহাটিতে নবম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে কথিত অপহরণের অভিযোগে কোতয়ালি থানায় একটি মামলা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে দায়ের করা ওই মামলায় মুন্না (২৮) নামে এক যুবককে আসামি করা হয়েছে। মুন্না শেখহাটি তমালতলা এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে।
স্বজনদের অভিযোগ, ওই ছাত্রী শহরের একটি স্কুলে নবম শ্রেণিতে লেখাপড়া করে। স্কুলে যাতায়তের পথে তাকে প্রায় সময় প্রেমের প্রস্তাব দিতো মুন্না। কিন্তু প্রেমে সাড়া না দেয়ায় তাকে অপহরণ করে বিয়ে করার হুমকি দেয়া হয়। গত ২৮ ডিসেম্বর বিকেলে ওই মেয়ে তার ফুফুবাড়ি যাচ্ছিলো। পথে তমালতলা মোড়ে পৌঁছালে মুন্নাসহ ও অজ্ঞাত আরো একজন মেয়েটিকে ফুসলিয়ে ও অপহরণ করে নিয়ে যায়।
যশোরে স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা জুনায়েদ তৌফিক সিদ্দিকী স্মরণে দোয়া মাহফিল
স্টাফ রিপোর্টার ॥ সদ্যপ্রয়াত যশোর জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য জুনায়েদ তৌফিক সিদ্দিকী স্মরণে যশোরে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বাদ আছর যশোর জেলা বিএনপি কার্যালয়ে জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের উদ্যোগে এ দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন, যশোর জেলা বিএনপির আহবায়ক বিশিষ্ট শিাবিদ অধ্যাপক নার্গিস বেগম। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহবায়ক দেলোয়ার হোসেন খোকন। যশোর জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের সভাপতি রবিউল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য সিরাজুল ইসলাম, সদর উপজেলা বিএনপির প্রকাশনা সম্পাদক আন্জুরুল হক খোকন, মরহুমের বড় ভাই নগর বিএনপি নেতা জুবায়ের তানভীর সিদ্দিকী জয়, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আনসারুল হক রানা, সাংগঠনিক সম্পাদক কবীর হোসেন বাবু, সিনিয়র যুগ্ম-সম্পাদক নাজমুল হোসেন বাবুল, জেলা তাঁতীদলের সিনিয়র যুগ্ম-আহবায়ক মাসুদুর রহমান মাসুদ, জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি নির্মল কুমার বীট, সাংগঠনিক সম্পাদক আলী হায়দার রানা, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি রাজিদুর রহমান সাগর, জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান মিলন, রকিবুল ইসলাম রকিব, মাহমুদ হাসান চুন্নু, সায়েদ হোসেন হীরা, সাবেক ছাত্রদল নেতা মারুফুজ্জামান কাঞ্চন, রফিকুল ইসলাম রতন, আরিফুল ইসলাম, জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহনেওয়াজ ইমরান, জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের যুগ্ম-সম্পাদক রাজু আহমেদ, শেখ আসলাম, কামরুজ্জামান বাবলু, তামজিদুর রহমান তানিম, ওসমান গণি, প্রচার সম্পাদক ইমরান হোসেন বনি, দপ্তর সম্পাদক সাইফুল বাশার সুজন, সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য সাইদুল ইসলাম, আত্তাবুল ইসলাম পরাগ, ইমদাদ শাওন, রুহুল আমিন, রফিকুল ইসলাম, রিদায় হাসান রাকিব, সদর উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি তানভীর রায়হান তুহিন, সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ। অনুষ্ঠানে বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদলসহ অন্যান্য সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। এসময় মরহুম জুনায়েদ তৌফিক সিদ্দিকীর আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া করা হয়।
তালায় জিয়া পরিষদের নেতা লোকমান হেকিমের ইন্তিকাল, নেতৃবৃন্দের শোক
তালা (সাতীরা) সংবাদদাতা ॥ সাতক্ষীরার তালা উপজেলা জিয়া পরিষদের সাধারণ সম্পাদক লোকমান হেকিম গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্তিকাল করেছেন, ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৫২ বছর। তিনি স্ত্রী,এক ছেলে ও দুই কন্যাসহ বহু গুণগ্রাহী রেছে গেছেন। তিনি উপজেলার ইসলামকাটি ইউনিয়নের চাঁদপুর গ্রামের মৃত কছিম উদ্দীনের ছেলে। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তালা বিদে সরকারি হাইস্কুল মাঠে প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর তার গ্রামের বাড়ি চাঁদপুর গ্রামে বাদজোহর দ্বিতীয় জানাজা নামাজ শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। লোকমান হেকিমের মৃত্যুতে সাবেক সংসদ সদস্য কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা হাবিবুল ইসলাম হাবিব,উপজেলা বিএনপি সভাপতি মৃণাল কান্তি রায়,সাধারণ সম্পাদক উপাধ্যক্ষ শফিকুল ইসলাম,বিএনপি নেতা অধ্যাপক মোশারফ হোসেন,মির্জা আতিয়ার রহমান,জেএসডির কেন্দ্রীয় নেতা মীর জিল্লুর রহমানসহ রাজনৈতিকি,সামাজিক ব্যক্তিবর্গ শোক প্রকাশ করে তার আতœার মাগফিরাত কামনা করেছেন।
সয়াবিন তেল কেজিতে বাড়ল ১৩ টাকা
শেখ আব্দুল্লাহ হুসাইন ॥ সয়াবিন তেলের দাম লাগামহীনভাবে বেড়েই চলেছে। গত দু সপ্তাহে খোলা সয়াবিন তেল প্রতি কেজিতে বেড়েছে ১৩ টাকা। গড়ে প্রতিদিনই কেজিতে ১ টাকা করে বাড়ছে। দাম বাড়ার সঠিক কারণ কেউ বলতে পারছেন না। কেউ বলছেন আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়েছে, আবার কেউবা বলছেন মিলাররা দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। তবে বাজার কর্মকর্তা বলেছেন পামতেল শীতকালে জমে যাওয়ায় সয়াবিন তেলে মেশানো যায় না-এ কারণে সয়াবিন তেলের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন বড় ব্যবসায়ীরা। ভোক্তাদের অভিমত, সরকার বাজার নিয়ন্ত্রণে সঠিক দায়িত্ব পালন করতে পারছে না। যে কারণে ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমত দাম বাড়িয়ে চলেছেন। গতকাল শুক্রবার যশোরের বড় বাজারের বিভিন্ন দোকানে খোলা সয়াবিন তেল প্রতি কেজি ১০০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। সপ্তাহ দুয়েক আগে বাজারে ৮৭ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছিল। মাত্র ১৪-১৫ দিনের ব্যবধানে প্রতি কেজি সয়াবিন তেলে ১৩ টাকা বেড়েছে। অবশ্য বড় বাজারে শুধুমাত্র তেল বিক্রেতা রবি ব্যানার্জি খোলা সয়াবিন তেল খুচরা প্রতি কেজি ৯৮ টাকা দরে বিক্রি করছেন। ভোক্তারা বলছেন, প্রায় প্রতিদিন অযৌক্তিকহারে তেলের দাম বেড়ে চললেও ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণে সরকার কোনো পদপে নিচ্ছে না। যশোরে সয়াবিন তেলের পাইকারি বিক্রেতা কুণ্ডু অয়েল মিলের স্বত্বাধিকারী রবিন কুণ্ডু জানিয়েছেন, ‘তেলের দাম কেন বাড়ছে তা সঠিক বলতে পারবো না, তবে শোনা যাচ্ছে মিলাররা দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। এ কারণে আমাদেরকে ঢাকা এবং চট্টগ্রাম থেকে বেশি দাম দিয়ে কিনে আনতে হচ্ছে।’ তিনি জানান, শুক্রবার তিনি প্রতি কেজি সয়াবিন তেল পাইকারি ৯৪-৯৫ টাকা দরে বিক্রি করেছেন। এদিকে অপর পাইকারি বিক্রেতা হাজি আলী স্টোরের স্বত্বাধিকারী মো. মুস্তাক জানান, তিনি জেনেছেন আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে। এ কারণে ব্যবসায়ীরাও দাম বাড়িয়েছেন। তবে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর যশোরের বাজার কর্মকর্তা সুজাত হোসেন খান বলেছেন, পাম তেলের দাম সয়াবিন তেলের থেকে অনেক কম। পাম তেল শীতকালে জমে যায়। গরমের সময় ব্যবসায়ীরা অধিক লাভের জন্য সয়াবিন তেলে পাম তেল মিশিয়ে বিক্রি করে থাকেন। শীতকালে মেশাতে পারেন না বলে সয়াবিন তেলের দাম বাড়িয়ে দেন। তবে একজন ক্রেতা শহরের রেল রোডের বাসিন্দা আরিফুল হক বলেন, দিন গেলেই সয়াবিন তেলের দাম বাড়ছে। কেন বাড়ছে কেউ বলতে পারছেন না। কারও কাছে কোনো সদুত্তরও পাওয়া যাচ্ছে না। মানুষ বাধ্য হয়ে মুখ বুজে বেশি দাম দিয়ে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। নিয়মিত বাজার মনিটরিং হচ্ছে না। সরকার বাজার নিয়ন্ত্রণে সঠিক দায়িত্ব পালন করছে না। যে কারণে ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমত যখন খুশি তখন নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন।









