সয়াবিন তেল কেজিতে বাড়ল ১৩ টাকা

শেখ আব্দুল্লাহ হুসাইন ॥ সয়াবিন তেলের দাম লাগামহীনভাবে বেড়েই চলেছে। গত দু সপ্তাহে খোলা সয়াবিন তেল প্রতি কেজিতে বেড়েছে ১৩ টাকা। গড়ে প্রতিদিনই কেজিতে ১ টাকা করে বাড়ছে। দাম বাড়ার সঠিক কারণ কেউ বলতে পারছেন না। কেউ বলছেন আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়েছে, আবার কেউবা বলছেন মিলাররা দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। তবে বাজার কর্মকর্তা বলেছেন পামতেল শীতকালে জমে যাওয়ায় সয়াবিন তেলে মেশানো যায় না-এ কারণে সয়াবিন তেলের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন বড় ব্যবসায়ীরা। ভোক্তাদের অভিমত, সরকার বাজার নিয়ন্ত্রণে সঠিক দায়িত্ব পালন করতে পারছে না। যে কারণে ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমত দাম বাড়িয়ে চলেছেন। গতকাল শুক্রবার যশোরের বড় বাজারের বিভিন্ন দোকানে খোলা সয়াবিন তেল প্রতি কেজি ১০০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। সপ্তাহ দুয়েক আগে বাজারে ৮৭ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছিল। মাত্র ১৪-১৫ দিনের ব্যবধানে প্রতি কেজি সয়াবিন তেলে ১৩ টাকা বেড়েছে। অবশ্য বড় বাজারে শুধুমাত্র তেল বিক্রেতা রবি ব্যানার্জি খোলা সয়াবিন তেল খুচরা প্রতি কেজি ৯৮ টাকা দরে বিক্রি করছেন। ভোক্তারা বলছেন, প্রায় প্রতিদিন অযৌক্তিকহারে তেলের দাম বেড়ে চললেও ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণে সরকার কোনো পদপে নিচ্ছে না। যশোরে সয়াবিন তেলের পাইকারি বিক্রেতা কুণ্ডু অয়েল মিলের স্বত্বাধিকারী রবিন কুণ্ডু জানিয়েছেন, ‘তেলের দাম কেন বাড়ছে তা সঠিক বলতে পারবো না, তবে শোনা যাচ্ছে মিলাররা দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। এ কারণে আমাদেরকে ঢাকা এবং চট্টগ্রাম থেকে বেশি দাম দিয়ে কিনে আনতে হচ্ছে।’ তিনি জানান, শুক্রবার তিনি প্রতি কেজি সয়াবিন তেল পাইকারি ৯৪-৯৫ টাকা দরে বিক্রি করেছেন। এদিকে অপর পাইকারি বিক্রেতা হাজি আলী স্টোরের স্বত্বাধিকারী মো. মুস্তাক জানান, তিনি জেনেছেন আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে। এ কারণে ব্যবসায়ীরাও দাম বাড়িয়েছেন। তবে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর যশোরের বাজার কর্মকর্তা সুজাত হোসেন খান বলেছেন, পাম তেলের দাম সয়াবিন তেলের থেকে অনেক কম। পাম তেল শীতকালে জমে যায়। গরমের সময় ব্যবসায়ীরা অধিক লাভের জন্য সয়াবিন তেলে পাম তেল মিশিয়ে বিক্রি করে থাকেন। শীতকালে মেশাতে পারেন না বলে সয়াবিন তেলের দাম বাড়িয়ে দেন। তবে একজন ক্রেতা শহরের রেল রোডের বাসিন্দা আরিফুল হক বলেন, দিন গেলেই সয়াবিন তেলের দাম বাড়ছে। কেন বাড়ছে কেউ বলতে পারছেন না। কারও কাছে কোনো সদুত্তরও পাওয়া যাচ্ছে না। মানুষ বাধ্য হয়ে মুখ বুজে বেশি দাম দিয়ে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। নিয়মিত বাজার মনিটরিং হচ্ছে না। সরকার বাজার নিয়ন্ত্রণে সঠিক দায়িত্ব পালন করছে না। যে কারণে ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমত যখন খুশি তখন নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন।

ভাগ