ভাষা আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক সুলতানের ৩৬তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

0

লোকসমাজ ॥ ভাষা আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক, পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠতা সভাপতি ও প্রগতিশীল যুবলীগের প্রতিষ্ঠতা যুগ্ম-সম্পাদক এবং প্রগতিশীল লেখক-প্রকাশক সাম্রাজ্যবাদ -সামান্তবাদ বিরোধী মহান নেতা মোহাম্মদ সুলতানের ৩৬তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত।
গত বৃহস্পতিবার জাতীয় ছাত্রদলের যশোর জেলা কার্যালয়ে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, প্রগতিশীল যুবলীগ (তৎকালীন কমিউনিস্ট পার্টির ছাত্র-যুব সংগঠণ) এর প্রতিষ্ঠতা যুগ্ম-সম্পাদক ও ভাষা আন্দোলনের অন্যতম সেনাপতি মোহাম্মদ সুলতানের ৩৬ তম মৃত্যুবার্ষিকীতে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। আলোচনা সভার সভাপতিত্ব করেন আহ্বায়ক বিশ্বজিৎ বিশ্বাস। আলোচনা সভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির আহবায়ক ফরিদা পারভীন, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের যশোর জেলা প্রচার সম্পাদক আইয়ুব হোসেন, গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির যুগ্ম-আহবায়ক পারভীন সুলতানা।সভায় বক্তব্য রাখেন জাতীয় ছাত্রদলের জেলা যুগ্ম-আহবায়ক নাতাশা রায়,সদস্য মধুমঙ্গল বিশ্বাস, জিহাদ হোসেন, নিদ্রিতা আফরোজ প্রমুখ।
আলোচনাসভায় বক্তরা বলেন, সা¤্রাজ্যবাদ – সামান্তবাদ বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক মোহাম্মদ সুলতান আমৃত্যু এ দেশের শ্রমিক, কৃষক ও মেহনতি মানুষের মুক্তির সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। মোহাম্মদ সুলতানের রাজনৈতিক জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে সা¤্রাজ্যবাদ – সামান্তবাদ বিরোধী আন্দোলনকে অগ্রসর করার আহ্বান জানান এবং আলোচনাসভায় তাঁর জীবনের উলেখযোগ্য ঘটনাবলী উপর আলোকপাত করেন। উল্লেখ্য মোহাম্মদ সুলতান এর জন্ম ১৯২৬ সালের ২৪ ডিসেম্বর পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলার অন্তর্গত মাঝ-গ্রামে। বৃটিশ আমলের পুলিশ বিভাগের ঝানু অফিসার ডেপুটি সুপারিনন্টেন্ডেন্ট অব পুলিশ পিতা মরহুম মোহাম্মদ শমসের আলী ছিলেন কর্তব্যপরায়ন এবং স্বাধীনচেতা। মোহাম্মদ সুলতান যশোর জেলা স্কুল থেকে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবার আগেই মা কে হারান। স্নাতক ডিগ্রী অর্জন করেন রাজশাহী সরকারি কলেজ থেকে। তারপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৫৩ সালে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে মোহাম্মদ সুলতান স্নাতকোত্তর ডিগ্রী লাভ করেন। মোহাম্মদ সুলতান কৈশোরেই ‘ভারত ছাড়’ বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে প্রথম আকৃষ্ট হন রাজনীতিতে। ১৯৪৬ সালে পাকিস্তান আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন। পরবর্তীকালে ১৯৪৮ সালে রাজশাহীতে ভাষা আন্দোলন এবং ছাত্র আন্দোলনে মোহাম্মদ সুলতান অগ্রনী ভূমিকা পালন করেন। ১৯৫১ সালে প্রগতিশীল যুবলীগে যোগ দেন এবং প্রগতিশীল যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক নির্বাচিত হন। মোহাম্মদ সুলতান ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম কালো পতাকা উত্তোলনকারী ছাত্র। সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ ১৪৪ ধারা ভংগ না করার সিদ্ধান্ত নেয়ার পর যে ১১ জন সংগ্রামী ছাত্রনেতা ফজলুল হক হলের পুকুর পাড়ের সিঁড়িতে বসে রাত্রি ১টায় ১৪৪ ধারা ভাঙ্গার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন মোহাম্মদ সুলতান ছিলেন তাদের অন্যতম। রাজনৈতিক আন্দোলনের সাথে সাথে সাংস্কৃতিক আন্দোলনের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সুলতান বিশেষভাবে ওয়াকিবহাল ছিলেন এবং আন্দোলনের ইতিহাসকে লিপিবদ্ধ করে রাখার উপর সর্বাধিক গুরুত্ব আরোপ করেন। ভাষা আন্দোলনের পর তিনি এম আর আক্তার মুকুলের অংশীদারিত্বে প্রধানত রাজনৈতিক উদ্দ্যেশে পুস্তক বিক্রয় কেন্দ্র ‘পুঁথিপত্র’ প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৫৩ সালের মার্চ মাসে কবি হাসান হাফিজুর রহমানের সম্পাদনায় ভাষা আন্দোলনের ঐতিহাসিক সংকলন ‘একুশে ফেব্রুয়ারী’ প্রকাশ করেন। ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসকে সাহিত্যের মাধ্যমে ধরে রাখার ঐতিহাসিক দায়িত্ব তিনি পালন করেন। অবশ্য প্রকাশনার কিছুদিন পরেই মুসলিম লীগ সরকার ‘একুশে ফেব্রুয়ারী’ বইটি বাজেয়াপ্ত করেন। ১৯৮৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে ৩নং ওয়ার্ডের করিডোরে চিরতরে বিদায় নেন সর্বজন শ্রদ্ধেয় রাজনীতিক, ভাষা সেনাপতি মোহাম্মদ সুলতান। সবশেষে সভাপতি বলেন, বিপ্লবী ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অনন্ত প্রেরণার উৎস মোহাম্মদ সুলতান আজ সাম্রাজ্যবাদ ও দালাল বিরোধী লড়াইয়ের নেতাকর্মীদের কাছে স্মরণীয়, বরনীয় ও শিক্ষণীয়।