যশোরে সাবেক চরমপন্থি হোসেন আলী ঘাতক জুয়েল-মুন্না এখনও আটক হয়নি

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোর সদর উপজেলার হাশিমপুর বাজারে সাবেক চরমপন্থি ও বিশেষ আনসার সদস্য হোসেন আলী তরফদার খুনের নায়ক কুখ্যাত কিলার চরমপন্থি জুয়েল ও মুন্না আজো আটক হয়নি। ইতিমধ্যে ঘটনার ৫ সপ্তাহ অতিবাহিত হয়েছে। ওই দুজন কিলার পালিয়ে কোথায় রয়েছে তা নিয়েও নানা আলোচনা চলছে। তবে মামলার তদন্ত সংস্থা ডিবি পুলিশ বলছে, তাদেরকে আটকের জন্য চেষ্টা চলছে।
হাশিমপুর বাজারে গত ৩০ নভেম্বর সকালে প্রকাশ্যে নিষিদ্ধ সংগঠন সর্বহারা পার্টির স্থানীয় ক্যাডাররা গুলি চালিয়ে হত্যা করে প্রতিপ হোসেন আলী তরফদারকে। হোসেন আলী এক সময় চরমপন্থি সংগঠন পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। হাশিমপুরের সর্বহারা পার্টির ক্যাডার আমিরুল ইসলাম বুলি ও বাবলা কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ায় এর পেছনে তার হাত রয়েছে বলে প্রতিপরা সন্দেহ করতো। তাছাড়া নানা কারণে আমিরুল ইসলাম বুলির স্ত্রীর বোনের ছেলে চরমপন্থি ও কিলার জুয়েল এবং তার সহযোগীদের সাথে বিরোধে জড়িয়ে পড়েছিলেন হোসেন আলী। খুন হওয়ার দু দিন আগে জুয়েল ও হোসেন আলী একে অন্যকে দেখে নেয়ার হুমকি দিয়েছিলো। এর পরপরই জুয়েল ও মুন্না গংয়ের হাতে খুন হন হোসেন আলী। অপর কিলার মুন্না কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত আমিরুল ইসলাম বুলির ছেলে। হোসেন আলী খুনের ঘটনায় জড়িতদের আটকে ব্যাপক তৎপর হয় পুলিশ প্রশাসন। কোতয়ালি থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশ জড়িতদের আটকে অভিযানে নামে। প্রথমে কোতয়ালি থানা পুলিশের হাতে আটক হন আমিনুর রহমান মিঠু নামে এক ব্যক্তি। তিনি ইছালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মরহুম লুৎফর রহমানের ছেলে। জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পারে তিনি হত্যা পরিকল্পনার সাথে জড়িত ছিলেন। এরপর ডিবি পুলিশ তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে এবং তথ্য প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে রাজধানী ঢাকার কাফরুল ও ভাষানটেক এলাকায় অভিযান চালিয়ে আটক করে হোসেন আলী খুনের সাথে জড়িত আরো ৪ জনকে। পরে মাগুরার শালিখা উপজেলার সীমাখালীতে চরমপন্থি জুয়েলের শ্বশুরের ভাড়া বাড়িতে অভিযান চালিয়ে আরো একজনকে আটক করা হয়। এছাড়া হাশিমপুর থেকে দু জন আটক হয়। এরা হচ্ছে-রাসেল, আনোয়ার, হাবিল ওরফে বার্মিজ, সুজন, সজল, বিজয় ও ছোট বাবু। আটকের পর সন্ত্রাসীদের কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দুটি মোটরসাইকেল এবং একটি রক্তামাখা চাকু উদ্ধার করা হয়। অপরদিকে আটককৃতদের মধ্যে আনোয়ার ও ছোট বাবু আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। সর্বশেষ গত ৩১ ডিসেম্বর রাতে সদর উপজেলার বাউলিয়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে জড়িত পিকুল নামে আরেক সন্ত্রাসীকে আটক করে ডিবি পুলিশ। পরে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে সে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। তার জবানবন্দিতে বেরিয়ে আসে যে, জুয়েলকে হুমকি দেয়ার কারণে হোসেন আলী খুন হয়েছেন। এদিকে হোসেন আলী খুনের পর আলোচনায় আসা কুখ্যাত কিলার ২১ মামলার আসামি জুয়েল এখন কোথায় তা নিয়ে নানা আলোচনা রয়েছে। শুধু জুয়েল নয়, আরেক কিলার মুন্নাকেও আটক করতে পারেনি ডিবি পুলিশ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাশিমপুর এলাকার একাধিক সূত্র জানায়, জুয়েল ও মুন্না পালিয়ে থাকলেও একজন রাজনৈতিক নেতার সাথে যোগাযোগ রেখে চলেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তারা ওই নেতার লোক হিসেবে পরিচিত। অপরদিকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের এসআই মফিজুল ইসলাম জানান, জুয়েল ও মুন্নাকে তারা আটকের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

ভাগ