লোকসমাজ ডেস্ক ॥ মন্ত্রীর বৈঠকের ২৪ ঘন্টার মধ্যেই বেড়েছে পেঁয়াজের দাম। টানা তিন মাস দেশবাসীকে কাঁদিয়ে দুই সপ্তাহ ধরে কিছুটা কমে আসছিল পেঁয়াজের দাম। মওসুম শুরু হওয়ায় দাম এখন নি¤œমুখী হওয়ারই কথা। কিন্তু কোনো কারণ ছাড়াই হঠাৎ আবার অস্থির হয়ে উঠেছে পেঁয়াজের বাজার। দুই দিন আগের চেয়ে কেজিতে ৩০ টাকা বেড়ে গতকাল সকালে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছিল দেশী নতুন পেঁয়াজ। দুপুরের পর পাল্টে যায় দৃশ্যপট। এক লাফে ২০০ টাকায় ওঠে হঠাৎ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠা পণ্যটির দাম। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, পেঁয়াজের উৎপাদন ও আমদানি নিয়ে গত কয়েক দিনে মন্ত্রীদের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য বাজরের অস্থিরতার পেছনে অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে। পেঁয়াজের পাশাপাশি নতুন করে বেড়েছে সয়াবিন তেল, আদা, রসুন ও চিনিসহ বেশকিছু নিত্যপণ্যের দাম। অন্য দিকে শীতের এই ভরা মওসুমেও বাজারে সবজির দাম অস্বাভাবিক। রাজধানীর খিলগাঁও আনসার কোয়ার্টার এলাকার পেঁয়াজ ব্যবসায়ী নজরুল। ভ্যানে পেঁয়াজের পাশাপাশি আদা, রসুন ও আলু বিক্রি করেন তিনি। গতকাল শুক্রবার সকালে সেখানে গিয়ে দেখা যায়, দেশী নতুন পেঁয়াজ ১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন তিনি। নজরুল জানান, আগের দিন এ পেঁয়াজ কেজিতে ২০ টাকা কম দরে বিক্রি করেছিলেন তিনি। কিন্তুপাইকারি বাজারে দাম বেড়ে যাওয়ায় বাড়তি দরে বিক্রি করতে হচ্ছে। কিন্তু দুপুরের পর একই ভ্যানওয়ালার কাছে গিয়ে দেখা যায়, দেশী নতুন পেঁয়াজ বিক্রি করা হচ্ছে ২০০ টাকা কেজি দরে। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দাম বেড়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে নজরুলের দাবি, পাইকারি দোকান থেকে মোবাইল ফোনে জানানো হয়েছে যে, বাজারে দাম বেড়ে গেছে। তাই বাড়িয়ে বিক্রি করতে হবে। একই দামে কেনা পেঁয়াজ সকালের চেয়ে বিকেলে কেজিতে ৬০ টাকা বাড়তি দামে বিক্রি করার কারণ জানতে চাইলে বিক্রেতা নজরুল বলেন, দাম হঠাৎ কমে গেলে তো আমাদের কেনা দামের চেয়ে কম দামে লোকসান দিয়ে বিক্রি করতে হয়। তিনি জানান, সামনের দিনগুলোতে দাম আরো বাড়বে বলে পাইকাররা জানিয়েছেন।
রোজার আগেই ২ লাখ টন আমদানি : বৃহস্পতিবার বেলা ২টার দিকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ জানিয়েছেন, নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে আসন্ন রমজানের আগেই চারটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দুই লাখ টন পেঁয়াজ আমদানি করা হবে। তিনি বলেন, সিটি গ্রুপ আমদানি করবে ৫০ হাজার টন, মেঘনা গ্রুপ ৫০ হাজার, এস আলম গ্রুপ ৫০ হাজার এবং রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান টিসিবির মাধ্যমে ৫০ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানি করা হবে। এ ছাড়া অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও আমদানি করবে। কোনো সমস্যা হলে তাদের সব ধরনের সহযোগিতা করবে সরকার। আসন্ন রমজান উপলক্ষে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মজুদ, সরবরাহ, আমদানি, মূল্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির উপস্থিতিতে ব্যবসায়ী এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রতিনিধিদের নিয়ে এ বৈঠকের আয়োজন করা হয়।
বিপরীত কথা রূপরেখায় : এর আগে পেঁয়াজ সমস্যা যখন চরমে ঠিক তখনই পেঁয়াজে কিভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করা যায় তার একটা রূপরেখা দিয়েছেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি তোফায়েল আহমেদ। পেঁয়াজ নিয়ে অস্থিরতার মধ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির এক সভার পর সাবেক এ বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ভারত গরু বন্ধ করে দিলো। আমাদের দেশের মানুষ গরু পালতে শুরু করল, আমরা এখন স্বয়ংসম্পূর্ণ। এখন পেঁয়াজের দাম বাড়ল। আমরা মনে করি, আমাদের দেশে সাধারণ মানুষ বাড়ির খোলা জায়গায় পেঁয়াজ চাষ করবে। আগামী দুই বছরের মধ্যে ইনশাআল্লাহ পেঁয়াজ রফতানিকারক দেশে পরিণত হবো।
আমদানি নয় উদ্বৃত্ত থাকবে : পেঁয়াজ আমদানি সংক্রান্ত তোফায়েল আহমেদের ঘোষণার ২৪ ঘণ্টা না পেরুতেই বিপরীত কথা বললেন কৃষিমন্ত্রী ড. মো: আব্দুর রাজ্জাক। পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানের উপস্থিতিতে আব্দুর রাজ্জাক বলেন, পেঁয়াজের জন্য আমরা ভারতের ওপর নির্ভরশীল ছিলাম। তারা হঠাৎ করে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দিলে আমরা বিপদে পড়ে যাই। এর পর থেকে শুধু ভারতের ওপর নির্ভরশীল থাকলেই হবে না। আমাদের কাছে পেঁয়াজ উৎপাদনের যে প্রযুক্তি আছে, তাতে আমরা পেঁয়াজ উৎপাদনে উদ্বৃত্ত থাকব। সমস্যা হচ্ছে, কৃষকরা পেঁয়াজ উৎপাদন করতে চান না। সে কারণে আমরা বাণিজ্যমন্ত্রীকে বলেছি, এ বছর মৌসুমে যেন পেঁয়াজ আমদানি করা না হয়। কৃষক যেন পেঁয়াজ উৎপাদন করে লাভ করতে পারেন। এ বছর দেশে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে পেঁয়াজ উদ্বৃত্ত থাকবে বলেও ঘোষণা দেন তিনি।
ভিন্ন অবস্থান বাণিজ্যমন্ত্রীর : পেঁয়াজে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন এবং দাম নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে সম্প্রতি সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, সঙ্কট থেকে শিক্ষা নিয়ে সমস্যাকে সম্ভাবনায় রূপান্তর করতে হবে। আগামী বছর থেকে ৩০-৩২ লাখ টন পেঁয়াজ উৎপাদনের পরিকল্পনা করতে হবে। এজন্য পেঁয়াজের ক্ষেত্রে শূন্য সুদে ঋণ দেয়া যায় কি না চিন্তা করছি। এখন ৪ শতাংশ সুদে ঋণ দেয়া হয়। যেভাবেই হোক কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হবে। সংরক্ষণ সক্ষমতা বাড়াতে হিমাগার তৈরির ত্বরিত পদক্ষেপ নেয়া হবে। পাশাপাশি ভর মৌসুমে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রেখে কৃষকদের জন্য ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা হবে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, বর্তমানে দেশে পেঁয়াজের চাহিদা ২৪ লাখ মেট্রিক টন। ১৬ থেকে ১৭ লাখ মেট্রিক টন দেশে উৎপাদিত হয়। বাকি ৮ থেকে ৯ লাখ মেট্রিক টন আমদানি করা হয়। পেঁয়াজ আমদানির ৯৫ শতাংশের বেশি আসে ভারত থেকে।
মন্ত্রীর বৈঠকের ২৪ ঘন্টার মধ্যেই বেড়েছে পেঁয়াজের দাম
যুদ্ধের প্রস্তুতি : আকাশসীমায় যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে ইরান
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ডের প্রধান জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে নতুন করে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রামাজান শরিফ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ক্ষণিকের এই আনন্দ-উল্লাস শোকে পরিণত হবে। শুক্রবার মার্কিন হামলায় অভিজাত এই বাহিনীর কুদস ফোর্সের প্রধান জেনারেল সোলাইমানি নিহত হন।
এদিকে, দু’দেশের মধ্যকার উত্তেজনার মধ্যেই নিজেদের যুদ্ধবিমানের মহড়া শুরু করে দিয়েছে ইরান। দেশটির পশ্চিম আকাশে যুদ্ধবিমান উড়তে দেখা গেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে যুদ্ধবিমান উড়ানোর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। ইরান যেভাবে যুদ্ধবিমান উড়াতে শুরু করেছে তাতে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ইরাকের রাজধানী বাগদাদে শুক্রবার ড্রোন হামলা চালিয়ে সোলাইমানিকে হত্যা করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পেন্টাগন। পেন্টাগন জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশেই ওই হামলা চালানো হয়েছে। ইরানের ভবিষ্যত হামলা প্রতিহত করতেই এই অভিযান চালানো হয়েছে। পেন্টাগন বলছে, জেনারেল সোলেইমানি ইরাকে মার্কিন কূটনীতিক এবং কর্মকর্তাদের ওপর হামলার পরিকল্পনা করছিলেন। জেনারেল সোলেইমানি এবং তার কুর্দস বাহিনী শত শত মার্কিনি এবং জোটের সদস্যের হতাহতের পেছনে দায়ী বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে বলা হয়েছে, ইরানের পশ্চিম আকাশে যুদ্ধবিমানের মহড়া চলছে। যুদ্ধবিমান সতর্ক অবস্থানে থেকে পাহারা দিচ্ছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাভেদ জারিফ এক টুইট বার্তায় বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের হঠকারিতার পরিণতি ভোগ করতে হবে। ওয়াশিংটন এক বিবৃতিতে জেনারেল সোলাইমানির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, চলতি সপ্তাহে বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসে হামলার অনুমোদন দিয়েছিলেন জেনারেল সোলাইমানি।
এদিকে, আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রমজান শরিফ এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্র তোমরা কড়া জবাবের জন্য অপেক্ষা করো।’ সোলেইমানির রক্তের বদলা নেয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ বলেছেন, এটা যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ। ইরানের এই শীর্ষ কমান্ডারকে হত্যা ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র এবং মধ্যপ্রাচ্যে এর মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে নতুন করে ইরানের উত্তেজনা ওই অঞ্চলে ব্যাপক সংঘাত ও রক্তপাতের সূচনা করতে পারে। জেনারেল সোলাইমানির মৃত্যুর জবাব নিতে কঠোর অবস্থান নেবে ইরান। ফলে ভয়াবহ যুদ্ধ পরিস্থিতির শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
মানুষ চায় সরকার পতনের জন্য বিরোধী দল আন্দোলন করুক : মান্না
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ বাংলাদেশের মানুষ এখন এক বাক্যে এই সরকারকে প্রত্যাখ্যান করেছে বলে মন্তব্য করেছেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। রাজনৈতিক আন্দোলন শিল্পের মতো উল্ল্যেখ করে তিনি বলেন, মানুষ চায় সরকার পতনের জন্য বিরোধী দল আন্দোলন করুক। আপনাদের বোঝা দরকার, কখন কোথায় কিভাবে আন্দোলন শুরু করবেন। যারা আন্দোলন গড়ে তুলবেন, তাদের সামগ্রিক বিষয়টা বুঝতে হবে, তা না হলে হবে না।
শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের মওলানা মুহাম্মদ আকরাম খাঁ হলে জাতীয়তাবাদী তাঁতী দল আয়োজিত ‘স্বাধীনতা ও ভোটাধিকার হরণ এবং খালেদা জিয়ার জামিন প্রতিহিংসার বিচারে অবরুদ্ধ’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ক্ষমতাসীনরা প্রায়ই বলেন বিএনপি কি আন্দোলন করবে, বিএনপির আন্দোলনের কি বুঝে। কিভাবে আন্দোলন করতে হয় তা আমরা জানি। আওয়ামী লীগ জানে… তাহলে ছয় দফা দেওয়ার পরে তিন বছর বসেছিলেন কেন। শেখ মুজিবকে তাহলে বার বার কারাগারে যেতে হয়েছে কেন। আন্দোলন তো আওয়ামী লীগ করে শেখ মুজিবকে কারাগার থেকে বের করেনি। অত বড় নেতা শেখ মুজিবুর রহমান মারা গিয়েছিলেন তারপর তো আওয়ামী লীগ আন্দোলন করতে পারেনি। কেন তারা বার বার বলে তাহলে আমরা আন্দোলন করতে জানি? আর কেউ জানেনা। এইবার আমি সবাইকে ঐরকম একটা আন্দোলন করে তুলবার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। ওদেরকে শিখিয়ে দেন, তোমরা আন্দোলন ভাঙতে জানো, আন্দোলন করতে জানি আমরা।
সরকারকে অনুরোধ জানিয়ে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, বিজিবি মহাপরিচালক বলেছেন ওরা সবাই বাংলাদেশী, উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। যেহেতু এখন স্বীকার করেছেন, ওখান থেকে ওরা আসছে। আমি জানতে চাই মোট কতজন বাংলাদেশে ঢুকেছে? এরা কবে ভারতে গিয়েছিল, এখন ঢুকলো কেন, কোথায় আছেন তারা এখন? সাংবাদিকরা যেন সেই লিস্ট ধরে কথা বলতে পারেন। আমি জানতে চাই, মানুষ জানতে চায় যে, তারা সত্যি সত্যি বাংলাদেশের ছিল কিনা। বর্তমান সরকারকে অবৈধ মন্তব্য করে মান্না বলেন, ‘একটাই কথা, তোকে আর চাই না। তুই অবৈধ। ক্ষমতায় যে আছে সেটা কোন নির্বাচনের মাধ্যমে নয়, তাহলে মানবো কেন তাকে আমি। মানবো না বলেই তাঁর পদত্যাগ চাই। তিনি ব্যর্থ, তিনি মানুষের জীবনের নিরাপত্তা দিতে পারে না। তার উন্নয়নের সব বাতাস এখন ঝড়ের মত মনে।’
৫৯৫ পুলিশ সদস্য পাচ্ছেন ‘আইজিপি ব্যাজ’
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ এবছর পুলিশের ৫৯৫ কর্মকর্তা ও সদস্যকে ‘‘আইজিপি’স এক্সেমপ্ল্যারি গুড সার্ভিসেস ব্যাজ’’ দেয়া হচ্ছে। প্রশংসনীয় ও ভালো কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ পুলিশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এ পুরস্কার এবারের পুলিশ সপ্তাহের অনুষ্ঠানে দেয়া হবে। পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। রোববার (৫ জানুয়ারি) থেকে শুরু হওয়া পুলিশ সপ্তাহের শেষ দিন ছয়টি বিশেষ ক্যাটাগরিতে মনোনীতদের এ পুরস্কার প্রদান করবেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী। পুলিশ সুপার (এসপি) পদমর্যাদা থেকে শুরু করে কনস্টেবল পর্যায়ে ৫৯৫ কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্য ‘আইজিপি ব্যাজ’পাচ্ছেন। গতবছর আইজিপি ব্যাজ পেয়েছিলেন ৫০১ জন সদস্য। জানা গেছে, কর্মক্ষেত্রে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন, বাহিনীর মর্যাদা বৃদ্ধি হয়েছে এমন কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি বিভিন্ন ভালো কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ প্রতি বছর পুলিশ সপ্তাহে আইজিপি ব্যাজে মনোনীত পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যদের এ পদক দেয়া হয়।
পুলিশ সদর দপ্তরের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা বিধান, জনসেবামূলক কর্মকাণ্ড, মামলার রহস্য উদঘাটন, ভালো পুলিশিং, সরকারি ও ব্যক্তিগত কাজের মাধ্যমে পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি বাড়ানোসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে অবদানের ভিত্তিতে পদকের জন্য যোগ্য কর্মকর্তা ও সদস্যদের নির্বাচিত করা হয়েছে। মনোনীত ৫৯৫ জনের মধ্যে ‘এ’ক্যাটাগরিতে ২০৬ জন, ‘বি’ক্যাটাগরিতে ১৩৭ জন, ‘সি’ক্যাটাগরিতে ১০৫ জন, ‘ডি’ক্যাটাগরিতে ৫২ জন, ‘ই’ক্যাটাগরিতে ৫১ জন ও ‘এফ’ক্যাটাগরিতে ৪৪ জন রয়েছেন। উল্লেখ্য, এর আগে, ২০১৯ সালে ৫০১ জন, ২০১৮ সালে ৩২৯ জন ও ২০১৭ সালে ২৮৮ জন পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্য ‘আইজিপি’স এক্সেমপ্ল্যারি গুড সার্ভিস ব্যাজ’পান। গতবছর ‘আইজিপি ব্যাজ’পদকের পাশাপাশি প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা আর্থিক মূল্যমানের পুরস্কারও প্রদান করা হয়েছে।
‘যত বাধাই আসুক ভোট থেকে সরবো না’- খোকাপুত্র ইশরাক
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্কঃ ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) বিএনপির মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেন বলেছেন, ‘আমার বাবা একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। আমি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। আমি ভীত নই, বরং আমার মনোবল আরো শক্ত হচ্ছে। নির্বাচন নিয়ে যত ভয়-ভীতি, অত্যাচার নির্যাতনই করুন না কেন, শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত জনগণকে সঙ্গে নিয়ে নির্বাচনের মাঠে থাকব।’ শুক্রবার (৩ জানুয়ারি) দুপুর ১২টায় রাজধানীর টিকাটুলীতে সাদেক হোসেন খোকা কমিউনিটি সেন্টারে ডিএসসিসি নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে তাঁর সঙ্গে বৈঠকের পর এসব কথা বলেন তিনি। বৈঠকে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা তুলে ধরেন বিএনপির এই প্রার্থী।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে করা অভিযোগ প্রসঙ্গে ইশরাক হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘বৃহস্পতিবার (২ জানুয়ারি) বিকেলে বিএনপি সমর্থিত ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী তাজউদ্দিন আহমেদ তাজুকে গ্রেফতারি পরোয়ানা ছাড়াই সাদা পোশাকের পুলিশ গ্রেফতার করে। একই সঙ্গে ৪৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী মো. আব্দুস সাহেদ মন্টুর কার্যালয়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সমর্থক তাকে হুমকি দেয়। এ দুই অভিযোগ আমরা মৌখিকভাবে রির্টানিং কর্মকর্তার কাছে জানিয়েছি। শনিবার আমরা লিখিতভাবে অভিযোগ দায়ের করবো।’ ‘বিএনপি সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থীরা কেউ পালিয়ে যাওয়ার মতো নন। কিন্তু হয়রানি মূলক মামলা দিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে।’ যোগ করেন ইশরাক। এ বিষয়ে ডিএসসিসির রিটার্নিং কর্মকর্তা ইসির যুগ্ম সচিব মো. আবদুল বাতেন ইশরাক হোসেনের অভিযোগের বিষয়ে বলেন, ‘অতি উৎসাহী হয়ে কাউকে হ্যারাসমেন্ট করলে নির্বাচন কমিশন তাকে কিছুতেই ছাড় দেবে না।’ প্রসঙ্গত, ৩০ জানুয়ারি ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এবারই প্রথম ঢাকা সিটিতে সবগুলো কেন্দ্রে ইভিএমে ভোট হচ্ছে। ঢাকা দক্ষিণে ইশরাক হোসেনের প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের ব্যারিস্টার তাপস।
আ. লীগই কেবল স্মার্ট রাজনীতি দেখাতে পেরেছে: প্রধানমন্ত্রী
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ উন্নয়ন ও আওয়ামী লীগের ইতিবাচক রাজনীতির কথা তুলে ধরেছেন দলটির সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘যারা স্মার্ট রাজনীতির কথা বলে বিভিন্ন সময় ক্ষমতায় এসেছে, তারা দেশকে পিছিয়ে দিয়েছে। কিন্তু রাজনীতিতে স্মার্টনেস দেখাতে পরেছে একমাত্র আওয়ামী লীগ। অনেক অপবাদ সয়ে দেশের উন্নয়ন একমাত্র আওয়ামী লীগই করেছে। ক্ষরা-দুর্ভিক্ষের দেশকে খাদ্য উদ্বৃত্তের দেশে পরিণত করেছে।’
শুক্রবার (৩ জানুয়ারি) সকালে আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলনের পর প্রথমবারের মতো দলের কার্যনির্বাহী সংসদ ও উপদেষ্টা পরিষদের যৌথ সভায় তিনি এসব কথা বলেন। শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সভার প্রথম পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। শেখ হাসিনার বক্তব্যের পরপরই বৈঠক আজ সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত মুলতবি করা হয়, যা গণভবনে অনুষ্ঠিত হবে।
আওয়ামী লীগের নতুন কমিটির প্রথম সভায় আবারও তৃণমূল নেতাকর্মীদের প্রশংসা করেছেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘দলের তৃণমূলের নেতারা সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়। জীবনবাজি রেখে দলকে ধরে রেখেছেন তারা। তাদের অবদানেই এখন দল সবচেয়ে শক্তিশালী। টানা তিন বার সরকার গঠন করতে পেরেছি। অভূতপূর্ব উন্নয়ন করে জনগণের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পেরেছি।’ উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ন রাখতে দলের ঐক্য ধরে রাখতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একমাত্র আওয়ামী লীগই দেশের উন্নয়ন করতে পারে। তবে এই উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে দলকে সুসংগঠিত রাখতে হবে। কেননা একটি সরকার উন্নয়ন এগিয়ে নিতে পারে তখন, যখন দল সুসংগঠিত থাকে। স্বাধীনতাকে আরও অর্থবহ করা হবে।’
বহু চড়াই উতড়াই পার হয়ে, অনেক অত্যাচার-নির্যাতন সহ্য করে আওয়ামী লীগ বর্তমানে সবচেয়ে শক্তিশালী সংগঠনে পরিণত হয়েছে বলে সভায় মন্তব্য করেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘অনেক অপপ্রচারের পরও আওয়ামী লীগকে কেউ দমাতে পারেনি; বরং মানুষের আস্থা নিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় এই দল।’
দেশের জন্য ২০২০ সাল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন সরকার প্রধান। তিনি বলেন, ‘এ বছর মুজিববর্ষ হিসেবে পালিত হবে। ১০ জানুয়ারি থেকে কাউন্টডাউন হবে। ১৭ মার্চ থেকে জন্মশতবার্ষিকীর বছরব্যাপী অনুষ্ঠান শুরু হবে। এ উদযাপনের মধ্য দিয়ে নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করবে দেশ।’ ক্ষমতায় থেকে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপনের সুযোগ দেওয়ায় দেশবাসীর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
সভায় একাধীকবার দলের ঐক্য ও শক্তির ওপর জোর দেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘দল সুসংগঠিত থাকলে সরকার সবচেয়ে সঠিকভাবে দেশ পরিচালনা করতে পারে। সেজন্য সংগঠনকে শক্তিশালী করার বিকল্প নেই। এ লক্ষ্যেই সহযোগী ও মূল সংগঠনের সম্মেলনগুলো করা হয়েছে।’ বাকি থাকা ইউনিটগুলোতেও দ্রুত সম্মেলন করার নির্দেশ দেন তিনি। সূচনা বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী সভাটি দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রয়াত সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে উৎসর্গ করেন। পরে তার উদ্দেশে সভায় শোক প্রস্তাব তুলে ধরা হয়।
চৌগাছা থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে গ্রামবাংলার প্রাচীনতম ঐতিহ্য ঘাইন
স্টাফ রিপোর্টার, চৌগাছা (যশোর) ॥ আজ থেকে দুই দশক আগেও দেশের গ্রামাঞ্চলে ঐতিহ্যবাহী গরুর ঘাইন’র মাধ্যমে সরিষা ভাঙিয়ে তেল তৈরি করা হত। ঘাইনের মালিকরা ঘাইন বা শাহাজি নামে পরিচিত ছিলেন। ঘাইনে ভাঙানো তেল এবং খৈল নিয়ে ঘাইন/শাহাজিরা বাঁকের ছিকা কাঁধে বহন করে গ্রামাঞ্চলের হাট-বাজরে এবং বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিক্রি করতেন। আর এই তেল দিয়ে মানুষের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি সরিষার খৈল গরুর খাবার হিসেবে ব্যবহৃত হত।
সূত্র জানায়, ভারত সীমান্তের গাঁ ঘেঁষে গড়ে ওঠা যশোরের চৌগাছা উপজেলায় নানা ধর্ম ও পেশার মানুষের বসবাস। এ সকল পেশার মধ্যে কলু (শাহাজি) একটি অন্যতম পেশা। উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে এক সময়ে এই পেশার মানুষের বসবাস চোখে পড়ার মত ছিল। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে শাহজি পেশার মানুষ বহুলাংশে কমে গেছে। নানা প্রতিকূলতার মাধ্যমে ওই পেশা পরিবর্তন করতে তারা বাধ্য হয়েছেন বলে জানা গেছে।
উপজেলার জগদীশপুর, স্বরুপদাহসহ অধিকাংশ ইউনিয়নে কলু সম্প্রদায়ের লোকজনের বসবাস ছিল। গরু ও গাছের সমন্বয়ে সরিষা, তিল এবং ভ্যান্না থেকে তেল তৈরি করে তা বাজারে বিক্রি করে তারা জীবিকা নির্বাহ করতেন। ঘাইনে তৈরি করা তেলে রান্না করা খাবার যেমন সুস্বাদু তেমনি উপকারী। কিন্তু ঘাইনে তৈরি করা তেলের স্থান দখল করে নিয়েছে ডিজিটাল প্রযুক্তিতে তৈরি করা তেলে। ডিজিটাল প্রযুক্তিতে তৈরি তেলের বাজার মূল্য কম থাকায় মানুষ ওই তেলের দিকেই বেশি ঝুঁকে পড়েছেন। আর ঘাইনে তৈরি তেলের বাজার দর কিছুটা বেশি, সে কারণে ক্রেতা কমে গেছে। বিনিয়োগ ও পরিশ্রম বেশি কিন্তু বাজার মূল্য কম থাকায় দিন দিন হারিয়ে যেতে বসেছে ঘাইনের সংখ্যা।
শুক্রবার উপজেলার স্বরুপদাহ ইউনিয়নের খড়িঞ্চা গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, নানা প্রতিকূলতার মধ্যে কয়েকটি ঘাইন এখনও অবশিষ্ট আছে। প্রতিটি ঘাইনে চলছে তেল তৈরির কাজ। এমন এক সময় ছিল খড়িঞ্চার ওই মহল্লায় ঘরে ঘরে ছিল ঘাইন। যে কারণে মহল্লাটি কলুপাড়া হিসেবে পরিচিতি পায়। কিন্তু এখন হাতে গোনা ৫ থেকে ৬ টি ঘাইন গ্রামটিতে অবশিষ্ট আছে। ঘাইনে তেল প্রস্তুতে ব্যস্ত শাহজি হারুন অর রশিদ (৭৫) জানান, তিনি বাপ-দাদারা এই পেশায় নিয়োজিত। তিনি বলেন, ’পৈত্রিক সূত্রে আমি এই পেশা পেয়েছি। বাপ-দাদারা ঘাইন থেকে রোজগার করা অর্থে আমাদের বড় করেছেন, আমি এখান থেকে রোজগার করে সংসার চালায়। কিন্তু এখন আর সে ভাবে কাজ হয় না। সরিষার মৌসুম এলে কিছুটা কাজ বেশি হয়। বছরের বাকি সময় নিজে সরিষা ক্রয় করে তেল বিক্রি করে সংসার চালায়। তিনি বলেন, ১ কেজি সরিষা মাড়াই করতে ২০ টাকা নেয়া হয়। দিনে ২০ থেকে ২৫ কেজি সরিষা মাড়াই করা যায়। ভালমানের সরিষা হলে ১০ কেজি সরিষা থেকে ৩ কেজি তেল হয়। আর খৈল হয় ৬ কেজি। প্রতিকেজি তেল বাজারে ২২০ টাকা দরে বিক্রি করেন’। গ্রামটিতে বর্তমানে ৬ টি ঘাইন আছে। এর মলিক হলেন রবিউল ইসলাম, রহিম বক্স, খাইরুল ইসলাম, শওকত আলী ও শফিকুল ইসলাম। ঘাইনের মালিকরা জানান, একটি ঘাইন তৈরি করতে জাইত, ওড়া, গাছ, কাতারি এবং ২টি প্রাপ্ত বয়স্ক গরুর প্রয়োজন হয়। জাইত বাবলা কাঠের তৈরি, লম্বা ৩ ফুট, ওড়া তৈরি করতে হয় কড়াই কাঠ দিয়ে, তার উচ্চতা ১ ফুট, কাতারি তৈরি হয় কাঁঠাল কাঠ দিয়ে যার উচ্চতা ৬ ফুট আর মূল গাছটি তৈরি হয় চটকা কড়াই কাঠ দিয়ে। এর উচ্চতা হচ্ছে ১০ ফুট। এ সবের সমন্বয়ে প্রস্তুত হয় একটি ঘাইন। ঘাইনে যে গরুটি কাজ করে তার দুই চোখ বেঁধে দেয়া হয়। চোখ বাঁধার উপকার হচ্ছে ওই গরু ঘাইনের কাজে লাগানোর পর তার সাথে কোন লোকজন থাকার প্রয়োজন হয় না। চোখ বাঁধার কারণে গরু মনে করে তার সাথে লোক আছে যে কারণে সে অবিরাম ঘুরতে থাকে। ঘাইনের মালিকরা জানান, নিঃসন্দেহে এটি একটি ঐতিহ্য। নানা কারণে আজ ঘাইন হারাতে বসেছে। উপজেলার সচেতন মহল প্রাচীনতম এই ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখার জন্য সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
কোতয়ালিতে ২৮ খুনসহ যশোরে যশোরে ৭৮ খুন বিদায়ী বছরে
স্টাফ রিপোর্টার ॥ শেষ হতে যাওয়া বছরে (২০১৯) যশোরের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিলো না। তবে পরিস্থিতি যে খুব বেশি অস্বাভাবিক ছিল তাও নয়। খুন, ডাকাতি, ছিনতাই, চুরি, ধর্ষণ, হামলা, মাদক কেনাবেচা, চোরাচালান, মারামারি, বোমাবাজি, চাঁদাবাজিসহ নানা ধরনের অপরাধ সংঘটিত হয়েছে যশোরে। তবে রাজনৈতিক পরিস্থিতি ছিলো একদম স্বাভাবিক বিশেষ করে কোতোয়ালি থানা এলাকায় এ বছর ২৮টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। আর পুলিশের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য মতে পুরো যশোরে ৭৮টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
চলতি বছরের প্রথম সন্ধ্যা যশোরের পুলিশের কাছে ছিল অসহ্যের। ওই দিন অর্থাৎ ১ জানুয়ারি যশোর ঈদগাহের সামনে খুন হয়েছিলেন আরএন রোডের মটরপার্টস ব্যবসায়ী মহিদুল ইসলাম শাফা। এই হত্যাকান্ডটি ছিল পরিকল্পিত। পরিবর্তিতে ডিবি পুলিশ এই হত্যা মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে হত্যাকারীদের আটক এবং মোটিভ উদ্ধার করে। শাফার এক সময়কার ব্যবসায়িক পার্টনার শহরের বেজপাড়া নলডাঙ্গা রোডের আনোয়ার হোসেন ওয়াশিংটন এই হত্যার মূল নায়ক বলে পুলিশ জানতে পারে। পরের মাসে ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যার দিকে শহরতলীর শেখহাটি ভাটার জোড়া পুকুর এলাকায় প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে খুন হন আব্দুল্লাহ আল মামুন (৩৪) নামে এক যুবক। তিনি বেজপাড়া পিয়ারী মোহন রোডের মৃত আব্দুর রউফের ছেলে। মারা যাওয়ার আগে ঘোপ নওয়াপাড়া রোডের রবিউল ইসলামের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। এ সময় ছুরিকাঘাতে জখম হয়েছিলেন আরিফ (২৬) ও শেফালী বেগম (৪২) নামে দুইজন।
বছরের আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ছিল দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী তৃষা (৮) ধর্ষণ ও হত্যা মামলা। ধর্মতলা গাজীপাড়া এলাকার ইজিবাইক চালক তরিকুল ইসলামের মেয়ে তৃষাকে প্রথমে হাত-পা বেঁধে ধর্ষণ ও হত্যার পর লাশ বস্তাবন্দি করে মাটির নিচে পুঁতে রাখা হয়েছিল। এই ঘটনার পর এলাকার মানুষ বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। বিক্ষোভ মিছিল, সড়ক অবরোধ, মানববন্ধন করে নিহতের পরিবার ও এলাকার লোকজন। অবশ্য পরে এই ধর্ষণ মামলার অন্যতম আসামি শামীম (৩০) নামে এক যুবক পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়। অন্যান্য আসামিরা পালিয়ে যায়। গত ১৩ মার্চ যশোর শহরের বিমান অফিস মোড়ে সন্ত্রাসীদের এলোপাতাড়ি মারপিটে প্রথম জখম হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন ওই এলাকার নয়ন চৌধুরী সাজু (১৭)। পরদিন ১৪ মার্চ মারা যান সাজু। তিনি ওই এলাকার জয়নাল চৌধুরী ওরফে চাইনিজ স্বপনের ছেলে। এই ঘটনায় জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছালছাবিল আহমেদ জিসানসহ ৪ জনের নামে একটি মামলা হয়।
গত ৮ এপ্রিল যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি সরদার বাগডাঙ্গা গ্রামের গৃহবধূ রিপা বেগমের (২২) মরদেহ পাওয়া যায় গ্রামের একটি বিলের ধানক্ষেতে। আগেরদিন ৭ এপ্রিল তিনি নিখোঁজ হয়েছিলেন। তিনি ওই গ্রামের ইমরান সরদারের প্রথম স্ত্রী ছিলেন। গত ২০ দুপুর আড়াইটার দিকে যশোর শহরতলীর বাহাদুর জেস গার্ডেন নামক পার্কের পাশে খুন হন শহিদ কাজী (২৮) নামে এক মিল শ্রমিক। তিনি মাগুরার সদর উপজেলার হাজরাপুর গ্রামের লোকমান কাজীর ছেলে। ওই এলাকার এক মিলের শ্রমিক ছাটাইকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধে ছুরিকাঘাতে খুন হন তিনি। গত ১৩ জুন শহরের শংকরপুর সন্ন্যাসী দিঘির পাড়ে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে খুন হন নাজির শংকরপুর সাদেক গারোগার মোড়ের আজাদ হোসেনের ছেলে ফেরদৌস (২০)। পরবর্তীতে এই ঘটনায় ৯জনের নামে মামলা হয়। ১৯ জুন শংকরপুর কেন্ত্রীয় বাসটার্মিনাল এলাকায় সন্ত্রাসীদের দুই পক্ষের মধ্যে বোমা হামলা ও গণপিটুনিতে প্রাণ হারান সানি নামে এক সন্ত্রাসী। তিনি শংকরপুর এলাকার মৃত মশিয়ার রহমান ওরফে ধনু মিয়ার ছেলে। এই ঘটনায় কুখ্যাত সন্ত্রাসী ২০ মামলার আসামি হিটার নয়নসহ ৮জনের নামে মামলা হয়।
গত ২০ জুন সদর উপজেলার পাঁচবাড়িয়া গ্রামের তিতাস গ্যাসের ডিপোর পাশে সন্ত্রাসীদের ছুরিকাঘাতে খুন হন মাদ্রাসা ছাত্র সাজেদুর রহমান সম্রাট (১৬)। সে সদর উপজেলার ঝুমঝুমপুর বড় বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের তাজ উদ্দিনের ছেলে। এই ঘটনায় ৫জনের নামে থানায় মামলা হয়। সহপাঠির সাথে প্রেম সংক্রান্ত বিরোধে খুন হয়েছিলেন সম্রাট। এ দিন সকালে শহরতলীর খোলাডাঙ্গা গাজীর বাজার এলাকার সেতুর মটর গ্যারেজের পাশের একটি ড্রেন থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয় সিনবাদ (৩২) নামে এক যুবকের লাশ। তিনি পুরাতন কসবা মানিকতলা এলাকার আব্দুর রহমানের ছেলে। এই ঘটনায় ৮জনের নামে একটি মামলা হয়। চোরাই মোবাইল কেনাবেনা নিয়ে বিরোধে খুন হয়েছিলেন গ্যারেজ শ্রমিক সিনবাদ। গত ২৮ জুন সদর উপজেলার ভাতুড়িয়া এলাকার একটি ঘেরপাড়ে প্রতিপক্ষের গুলিতে নিহত হন ঘের ব্যবসায়ী ইমামুল ওরফে ইমারোজ আলম। এই ঘটনায় ১৩জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ৬০ জনের নামে একটি মামলা হয়। এই মামলা প্রধান আসামি মাছ চাষে রাষ্ট্রীয় পুরস্কার প্রাপ্ত চাষি সেলিমস রেজা পান্নু (৪৬)। নিহত ইমারোজ ভাতুড়িয়া গ্রামের নুর ইসলাম ওরফে নুরু মহুরীর ছেলে। গত ১ আগস্ট সদর উপজেলার নওদাগা গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে রহস্যজনকভাবে মারা যান গৃহবধূ খুশি ওরফে খুশিলা (২২)। অভিযোগ ওঠে তাকে হত্যা করে শ্বশুরবাড়ির লোকজন গলায় রশি দিয়ে ঘরের ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে রাখে। খুশি ওই গ্রামের ফারুক হোসেনের স্ত্রী ও মেহেরপুর সদর উপজেলার কন্দেপপুর গ্রামের দাউদ হোসেনের মেয়ে। এই ঘটনায় ৫জনের নাম উল্লেখ করে কোতোয়ালি থানায় মামলা হয়।
গত ৬ আগস্ট রাতে পুলিশের সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মারা যায় যশোরের অন্যতম শীর্ষ সন্ত্রাসী ১৮ মামলার আসামি যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত শিশির কুমার ঘোষ (৩২)। সে শহরের ষষ্টিতলা পাড়ার নিত্য ঘোঘের ছেলে। ১৪ আগস্ট রাতে যশোর সদর উপজেলার সালতা গ্রামে অজ্ঞাত দুর্বত্তদের হামলায় মিনারুল মোল্লা (৩২) নামে এক কৃষি শ্রমিক নিহত হন। তিনি ওই গ্রামের মৃত সদর মোল্লার ছেলে। পরবর্তীতে ওসমানপুর গ্রামের চাঁদ আলী মোল্লার ছেলে হাফিজুর রহমানকে (৪৮) এই হত্যা মামলায় আটক করা হয়। সে হত্যার কথা আদালতে স্বীকার করে। ১৫ বছর আগে সংসার ভাঙ্গার প্রতিশোধ নিতে মিনারুলকে খুন করা হয় বলে মিজানুর স্বীকার করেন। ২৮ আগস্ট ঝিনাইদহের এলজিইডি অফিসের গাড়িচালক হাসানুজ্জামান জগলুর (৫০) গলাকাটা মরদেহ যশোরের চুড়ামনকাটি-বারিনগর এলাকার সাকোর মাথা বালিক গর্ত নামক স্থান থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল। ২৭ আগস্ট রাতে তাকে হত্যা করা হয়েছিল। এই মামলার তদন্ত করতে গিয়ে ডিবি পুলিশ হত্যার মোটিভ উদ্ধার করে। নিহতের স্ত্রী পরকীয়া লিপ্ত হয়ে ভাড়াটি খুনি দিয়ে জগলুকে হত্যা করে।
গত ২৮ আগস্ট রাতে যশোর সদর উপজেলার লেবুতলা আগরাইল গ্রামে সৎ পিতার ছুরিকাঘাতে খুন হন প্রতিবন্ধী সুমি (২৬)। সৎ পিতা নাজমুল বাঘারপাড়া উপজেলার ভদ্রাডাঙ্গা গ্রামের কুবাদ আলীর ছেলে। গত ১৩ সেপ্টেম্বর শহরের ডিসি বাংলোর পূর্ব পাশে চারতলা ভবনের একটি বাড়িতে কাজ করতে গিয়ে মাথায় টেলিভিশন পড়ে নিহত হন শ্রমিক কুদ্দুস। তার বাড়ি খড়কী এলাকায়। এই ঘটনায় বাড়ির মালিক মিজানুর রহমানসহ দুই জনের নামে একটি মামলা হয়। গত ২২ সেপ্টেম্বর রাতে মাছ চুরির অপবাদ দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয় সদর উপজেলার কচুয়া গ্রামের শাহ আলম ওরফে সাইলামকে। এই ঘটনায় ৫জনের নামে একটি মামলা হয়।
গত ২১ অক্টোবর সকালে যশোর শহরের মোল্লাপাড়া মালোপাড়ায় ভৈরব নদের পাড় থেকে কলেজ শিক্ষার্থী সোহানুর রহমান সোহাগের (২০) গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি হামিদপুর আল হেরা ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র এবং মালোপাড়া এলাকার হাবিবুর রহমানের ছেলে। এই ঘটনায় ৪জনের নামে একটি মামলা হয়। ২ নভেম্বর রাতে যশোর সদর উপজেলার ডহেরপাড়া গ্রামের সোনিয়া বেগম (২০) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়। তিনি ওই গ্রামের অ্যাডভোকেট আমির হোসেনের স্ত্রী এবং সদর উপজেলার লেবুতলা পূর্বপাড়ার সিরাজ উদ্দিনের মেয়ে। অভিযোগ আছে তাকে হত্যা করে লাশ ঘরের ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল। এই ঘটনা আটক আমির হোসেন জেল হাজতে বন্দি আছেন। ৬ নভেম্বর যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটির বাগডাঙ্গায় দুই ভাইয়ের বিবাদ মেটাতে গিয়ে এলোতাপাতাড়ি কোপে নিহত হন আরেক ভাই কাঠ মিস্ত্রি আকবর আলী (৩৫)। ৫ নভেম্বর মারপিটে তিনি আহত হলে ঢাকায় নেয়া হয়। সেখানে তার মৃত্যু হয়।
১৯ নভেম্বর রাতে ঘরের মধ্যে মাটি খুঁড়ে উদ্ধার করা হয় কলেজ ছাত্র পল্লবের মরদেহ। ঘটনার মাসখানেক আগে তিনি নিখোঁজ হয়েছিলেন। প্রেম সংক্রান্ত ঘটনায় জেরে তার সহপাঠিরা তাকে হত্যা করে লাশ মাটি খুঁড়ে পুতে রাখে। পল্লব সদর উপজেলার বসুন্দিয়া ইউনিয়নের জগন্নাথপুর গ্রামের বিকাশের ছেলে। ২৯ নভেম্বর রাতে যশোর সদর উপজেলার নরেন্দ্রপুর পোস্ট অফিস মোড়ে ভাইয়ের মারপিটে শিকার হয়ে নিহত হস এনজিও কর্মী মুক্তা খাতুন (৩৫)। ৩০ নভেম্বর সকালে প্রকাশ্যে দিবালোকে যশোর সদর উপজেলার হাশিমপুর বাজারে হত্যা করা হয় আনসার সদস্য হোসেন আলীকে। এই ঘটনায় অজ্ঞাত আসামি করে একটি মামলা হয়। প্রকাশ্য দিবালোকে এই হত্যাকান্ডটি ছিল চাঞ্চল্যকর। এক সময়কার চরমপন্থী সংগঠন নিয়ে বিরোধে খুন হন হোসেন আলী তরফদার। ৯ ডিসেম্বর রাতে মাটি কেনাবেচা নিয়ে দ্বন্ধে যশোর সদর উপজেলার নরেন্দ্রপুর মোল্লাপাড়ায় খুন হন জানি (২৬) নামে এক যুবক। নিহত জনি (২৮) মণিরামপুর উপজেলার ঢাকুরিয়া ইউনিয়নের তারুয়াপাড়া গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে। এই ঘটনায় ২৬ জনের নামে একটি মামলা হয়।
১৯ ডিসেম্বর সন্ধ্যার দিকে বেজপাড়া তালতলা মোড় বাইলেনের প্রবাসি ফিরোজ উদ্দিনের বাড়ির সামনে কুপিয়ে হত্যা করা হয় রমজান নামে এক যুবককে। নিহত রমজান গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়া উপজেলার নীলফা রামচন্দ্রপুর গ্রামের রবিউল চাকলাদারের ছেলে। বতর্মানে যশোর শহরের পালবাড়ি আয়েশা পল্লীর জব্বারের বাড়িতে ভাড়া থাকেন। এই ঘটনায় নিহতের মা ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা করেন। গত ২১ ডিসেম্বর সকালে এ বছরের শেষ হত্যা কান্ডটি ঘটে শহরের বারান্দি মোল্লাপাড়া আমতলা টাউয়ার মোড়ে। ওই এলাকার প্রশাধন ব্যবসায়ী আব্দুর রহমানকে শাবলটি আঘাত করে হত্যা করে চিহ্নিত অপরাধীরা। এই ঘটনায় ৮জনের নামে কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা হয়। এছাড়া আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে বেশ কয়েকটি। তার মধ্যে বেশ কয়েটি হত্যা মামলায় রুপ দিতে পারে ময়নাতদন্ত রিপোর্ট হাতে পাওয়া সাপেক্ষে। এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানায় ওসি মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন। সব হত্যার ঘটনার আসামিকে পুলিশ আটক করতে পেরেছে। হত্যাকাণ্ডগুলো আচমকা ঘটে। তবে পুলিশ মামলা ডিডেক্ট করতে পেরেছে। এমন নয় যে পুলিশ হত্যাকারীদের আটক বা সনাক্ত করতে পারেনি। পুলিশ সকল অপরাধীদের আইনের আওতায় আনবে।










