লোকসমাজ ডেস্ক ॥ ২০১৯ সালে দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ৫ হাজার ২২৭ জনের। ২০১৮ সাল থেকে এই বছর নিহতের সংখ্যা বেড়েছে ৭৮৮ জন। শনিবার (৪ জানুয়ারি) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘নিরাপদ সড়ক চাই’-এর এক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে সংগঠনটির চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন এই তথ্য জানান।
অনুষ্ঠানে ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘পুলিশ এবং প্রশাসনের অবহেলায় মহাসড়কে বেড়েছে দুর্ঘটনার সংখ্যা। ২০১৯ সালে সড়ক দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে মোট ৪ হাজার ৭০২টি। নিহত হন ৪ হাজার ৩৫৬ জন এবং আহত হন ৬ হাজার ৯৫৩ জন। তবে হাসপাতালে ভর্তির পর ও হাসপাতাল থেকে রিলিজ হওয়ার পর আনুমানিক মৃত্যু হয়েছে ২০ শতাংশ অর্থাৎ ৮৭১ জনের। সব মিলিয়ে ২০১৯ সালের মোট নিহতের সংখ্যা ৫ হাজার ২২৭ জন। এছাড়া রেলপথে ১৬২টি দুর্ঘটনার ঘটনায় নিহত হন ১৯৮ জন এবং আহত হন ৩৪৭ জন। অন্যদিকে নৌ দুর্ঘটনার সংখ্যা ৩০টি, এতে নিহত হয়েছেন ৬৪ জন এবং আহত হিন ১৫৭ জন।’ নতুন সড়ক পরিবহন আইন কার্যকর না হওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘গত বছরের ১ নভেম্বর থেকে কার্যকর হচ্ছে বলে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ থেকে ২৩ অক্টোবর এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হলেও তা সম্ভব হয়নি। নতুন সড়ক পরিবহন আইন নিয়ে একটি মহল ষড়যন্ত্র করছে। নতুন পরিবহন আইন নিয়ে চালকদের মধ্যে ভুল ধারণা দিয়েছে মালিকরা।’ তিনি আরও বলেন, ‘দেশের দুর্ঘটনা গত বছর ২০১৯ সালে বিগত ২ বছরের তুলনায় অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে তা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। অশিক্ষিত ও অদক্ষ চালক, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, জনগণের অসচেতনতা, অনিয়ন্ত্রিত গতি, রাস্তা নির্মাণের ত্রুটি, রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব, আইন এবং তার যথারীতি না প্রয়োগ ইত্যাদিই এসব দুর্ঘটনার মূল কারণ।’
বেড়েছে সড়ক দুর্ঘটনা, গত বছর প্রাণ গেছে ৫২২৭ জনের
খালেদা জিয়াকে হত্যার চেষ্টা চলছে : টুকু
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ খালেদা জিয়াকে গণতন্ত্রের মা দাবি করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, হিটলার যেমন তার দেশের গণতান্ত্রিক মানুষদের কনস্ট্রেশন ক্যাম্পে নিয়ে হত্যা করেছে। তেমনি আজকে খালেদা জিয়াকে পিজি হাসপাতালকে কনস্ট্রেশন ক্যাম্প বানিয়ে তাকে হত্যা করার চেষ্টা করা হচ্ছে। শনিবার দুপুরে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এলডিপির (একাংশের) জাতীয় কাউন্সিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ইকবাল হাসান টুকু বলেন, গত দশ বছর বিএনপির ওপর যে নির্যাতন হয়েছে তা ওই হিটলারের সাথে তুলনা করা যায়। ইহুদীদের হিটলার যে নির্যাতন করেছিল। তার চেয়েও এখন আমাদের খারাপ অবস্থা। আমরা এখন জামিনে আছি, হয়তো এখনো ধরে নিয়ে যেতে পারে। সেই অবস্থায় বিএনপি যে এখনো দল হিসেবে টিকে। বিএনপি সুযোগ পেলে যে মৌমাছির মতো বেড়িয়ে পড়ে এটাই হলো বিএনপির বেঁচে থাকার সবচেয়ে বড় প্রমাণ। তিনি বলেন, আমাকে প্রায়ই সাংবাদিকরা জিজ্ঞাসা করেন ২০১৯ সাল চলে গেল, আপনারা ঘুরে দাড়াতে পারলেন না। আমি সাংবাদিক ভাইদের বলতে চাই আপনারাওতো ঘুরে দাড়াতে পারেননি। আপনারা কেন লিখতে পারেন না? সেটা আগে বলেন। আপনারা টিভিতে কেন প্রচার করতে পারেন না। সেটা আগে বলেন।
আপনারা বলেন, ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগ বিপুল ভোটে জয় হয়েছে। আমার কাছে মনে হয় যে, কত ভয়ে আপনারা থাকেন যে, সত্যটাকে সত্য বলতে পারেন না। ২৯ ডিসেম্বর রাতে কিভাবে সারাদেশে কারফিউ দিয়ে ভোট কেটে নিল সেকথাটা বলার কোনো সাহস কোনো টেলিভিশন কেন্দ্রের নাই। ওবায়দুল কাদেরে বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ৬০ এর দশকে আমরা একসঙ্গে আন্দোলন করেছি। ওবায়দুল কাদের কি ছিল তা আমরা জানি। তিনি সারাক্ষণ বলেন, বিএনপি নাই বিএনপি নাই, বিএনপি ১০ পার্সেন্ট। তো বিএনপি যদি নাই থাকে তাহলে বিএনপির জন্য যে এনার্জি ক্ষয় করে ওই এনার্জিটা ওই যে অর্থমন্ত্রী বলেছেন, এলাকায় গিয়ে গাড়ির গ্লাস খুলতে পারে না। সেইখানে গিয়ে কাজে লাগায় না কেন? খামাখা এই বিএনপির পেছনে সময় নষ্ট করে লাভ কি। খালেদা জিয়াকে ভয় পেয়ে তাকে লাশ ছাড়া বের করতে চায় না উল্লেখ করে টুকু বলেন, ক্ষমতায় থাকলে অনেক ভাল লাগে। কিন্তু ক্ষমতা যখন চলে যায় তখন পালাবার রাস্তা থাকে না। দশ লাখ রোহিঙ্গা আসায় জান বের হয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, আবার যদি ভারত থেকে ২ কোটি আসে তাহলে কোথায় জায়গা দেবেন। ওনারা বলছেন এটা ভারতের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলে দিলেন, আসুক আমরা নিয়ে নেব। অলরেডি আসা শুরু করেছে। যশোরের বর্ডার দিয়ে ৪ হাজার পুস ইন করেছে। আসামে ১৪ লাখ বাদ দিয়েছে। এরা কোথায় যাবে। বাংলাদেশে আসবে। নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এই হলের মধ্যে বসে থাকলে হবে না। খালেদা জিয়াকে মুক্তি করতে হলে, তারেক রহমানকে ফেরত আনতে হলে প্রথমে গণতন্ত্র প্রয়োজন। একমাত্র বুকের তাজা রক্ত ঢালতে পারলেই গণতন্ত্র আসবে, না হলে আসবে না। এলডিপির সভাপতি আব্দুল করিম আব্বাসীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন সেলিমের সঞ্চালনায় জাতীয় কাউন্সিলে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অধ্যাপক আবু সাইয়িদ, জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, জাগপার একাংশের সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমান, এনডিপির সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মোহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, এলডিপি নেতা আব্দুল গনি, এম এ বাশার, ইব্রাহিম রওনক, কাজী মতিউর রহমান মিলন প্রমুখ।
চাটাইয়ে ঘেরা স্কুলটির সুনাম এখন গ্রামবাসীর মুখে মুখে
স্টাফ রিপোর্টার, ঝিনাইদহ ॥ সমাপনী পরীক্ষায় প্রত্যন্ত গ্রামের একটি স্কুল থেকে সবাই জিপিএ-৫ পেয়েছে। তাদের এমন ফল অর্জনে বেশ সাড়া ফেলেছে গ্রামটিতে। উপরে টিনসেড, চারপাশে বাঁশের তৈরি চাটাই দিয়ে ঘেরা স্কুলটি ঝিনাইদহের হরিনাকুন্ডু উপজেলার দখলপুর বাজারে। নাম আলোর দিশারী কেজি স্কুল। এ স্কুল থেকে এবার সমাপনী পরীক্ষায় ১৬ শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে সবাই জিপিএ-৫ পেয়েছে। এতেই স্কুলটির শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী আর অভিভাবকের আনন্দের শেষ নেই। শিশুরা একে অপরকে জড়িয়ে ধরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে। খুশিতে অভিভাবকরাও এসে জড়িয়ে ধরেন শিক্ষকদের। যেন কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। তাদের সন্তানরা এ স্কুল থেকে এত ভালো ফল করবে এটা অনেক অভিভাবক ভাবতেও পারেননি। চার কক্ষ বিশিষ্ট স্কুলটির মোট শিক্ষার্থী ১৮০ জন। শিক্ষক ছয়জন।
এক শিক্ষার্থীর মা রোজিনা খাতুন জানান, স্কুলটিতে বাচ্চা ভর্তি করার পর অভিভাবকরা অনেকটা নিশ্চিত হয়ে যান। কারণ শিক্ষকরা এতটা খেয়াল করেন যে বাবা-মাকে তেমন পরিশ্রম করতে হয় না। তাছাড়া বাচ্চাদের আলাদা কোনো প্রাইভেট পড়াতে হয় না। পরীক্ষা এলে শিক্ষকরা টাকা ছাড়াই কোচিং করান। তিনি বলেন, তার মেয়ে জিপিএ-৫ পাওয়ায় খুবই খুশি। অন্য এক শিক্ষার্থী আল-আমিনের বাবা আনিচুর রহমান জানান, শিক্ষকদের চেষ্টায় তাদের ছেলে-মেয়েরা এত ভালো ফল করেছে। তারা অনেকে এ ফল আশা করতে পারেনি। জিপিএ-৫ পাওয়ায় শিশু শিক্ষার্থী মিম জানায়, শিক্ষকরা তাদের পেছনে যে পরিশ্রম করেছেন তা সবসময় তাদের পড়ালেখা করতে অনেক সহজ হতো। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রকিবুল ইসলাম জানান, দখলপুর গ্রামে ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় বেশ কয়েকটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। তার মধ্যেও বাচ্চাদের দেখভাল করার দায়িত্ব নেন তারা। ২০০২ সালে ৩০ শতক ভাড়া জমির উপর প্রতিষ্ঠা করেন আলোর দিশারী কেজি স্কুল। পাড়াগায়ে স্কুলটি হওয়ায় সম্পূর্ণ বাণিজ্যিকভাবে চালানো যায় না। নিজেরা বেঁচে থাকতে পারেন এমন পয়সা নিয়ে তারা শ্রম দিয়ে চলেছেন। তারা ছয়জন শিক্ষক-শিক্ষিকা বাচ্চাদের পড়ালেখা শেখানোর কাজ করে যাচ্ছেন। প্রতিটি বছরই তাদের প্রতিষ্ঠান ভালো ফল করছে। এবার ১৬ জন সমাপনী পরীক্ষা দিয়ে সবাই জিপিএ-৫ পেয়েছে। যেটা তাদের জানামতে ঝিনাইদহ জেলার মধ্যে সেরা। এ বিষয়ে হরিনাকুন্ডু উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এস. এম আব্দুর রহমান জানান, প্রতিষ্ঠানটির ফলাফল খুবই সন্তোষজনক। ওই প্রতিষ্ঠানের শিশুরা খুবই ভালো ফল করেছে। শিক্ষক-অভিভাবকরা পরিশ্রম করলে অবশ্যই সন্তানরা ভালো ফল করবে, যা দখলপুর কেজি স্কুলটি করেছে।
পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠে প্লে-অফ নিশ্চিত করলো চট্টগ্রাম
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ সিলেট পর্বের পঞ্চম ও বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) টি-২০ ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ৩৩তম ম্যাচে খুলনা টাইগার্সকে ৬ উইকেটে হারিয়েছে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স। এই জয়ে আবারো পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠলো চট্টগ্রাম। সেই সাথে প্লে-অফও নিশ্চিত করলো তারা। ১০ খেলায় ৭ জয় ও ৩ হারে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে এককভাবে টেবিলের শীর্ষে চট্টগ্রাম। ৯ খেলায় ৫ জয় ও ৪ হারে ১০ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের পঞ্চম স্থানে কুমিল্লা। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্বান্ত নেয় চট্টগ্রাম। বল হাতে নিয়েই খুলনা টাইগার্সের ব্যাটসম্যানদের চাপে ফেলে দেন চট্টগ্রামের দুই পেসার মেহেদি হাসান রানা ও রুবেল হোসেন। ১৪ রানের মধ্যে খুলনার টপ-অর্ডারের তিন ব্যাটসম্যানকে প্যাভিলিয়নে ফেরত পাঠান রানা-রুবেল। ওপেনার মেহেদি হাসান মিরাজ ৪ ও দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক খেলোয়াড় হাশিম আমলা ৮ রান করে রানার শিকার হন। আর শামসুর রহমানকে শুন্য রানে বিদায় দেন রুবেল। ফলে ১৪ রানেই ৩ উইকেট হারায় খুলনা।
এ অবস্থা থেকে দলকে বিপদমুক্ত করেন দক্ষিণ আফ্রিকার রিলি রুশো ও অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। দেখেশুনে খেলে শুরুর ধাক্কা সামলে উঠেন তারা। ফলে ১১ ওভারে ৬৩ রান পেয়ে যায় খুলনা। তবে রুশো-মুশফিকের জমে উঠা জুটিতে চট্টগ্রামের জিয়াউর রহমান। ২৪ বলে ৩টি ও ১টি ছক্কায় ২৯ রান করে জিয়াউরের বলে বোল্ড হন মুশফিক। চতুর্থ উইকেটে রুশোর সাথে ৪৬ বলে ৪৯ রান যোগ করেন মুশফিক। মুশফিক ফিরলে স্বদেশী রবি ফ্রাইলিঙ্ককে নিয়ে ৩৫ বলে ৪৩ রানের জুটি গড়ে রুশো। ২টি করে চার-ছক্কায় ৪০ বলে ৪৮ রানে রুশো আউট হলে খুলনার পরের দিকের ব্যাটসম্যানরা পুরোপুরিভাবেই ব্যর্থ হন। ফলে ১ বল বাকী থাকতে ১২১ রানের ছোট পুঁজি গড়ে খুলনা। ফ্রাইলিঙ্ক ১৭ বলে ২৩ রান করেন। চট্টগ্রামের রুবেল-রানা ৩টি করে ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের কেসরিক উইলিয়ামস ২টি উইকেট নেন।
১২২ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দলকে দুর্দান্ত সূচনা এনে দেন চট্টগ্রামের দুই ওপেনার ওয়েস্ট ইন্ডিজের লেন্ডন সিমন্স ও জুনায়েদ সিদ্দিকী। ১০ ওভারে ৬৯ রান যোগ করেন তারা। এরমধ্যে ৩৬ রান অবদান ছিলো সিমন্সের। ২৮ বল মোকাবেলা করে ৩টি চার ও ২টি ছক্কা মারেন সিমন্স। প্রথমবারের মত এবারের আসরে খেলতে নামা স্পিনার আলিস ইসলাম শিকার করেন সিমন্সকে। গেল বছর বিপিএলে প্রথমবার খেলতে নেমেছিলেন তিনি। প্রথম ম্যাচেই চমক দেখান আলিস। রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে হ্যাট্টিকসহ ২৬ রানে ৪ উইকেট নেন আলিস। সিমন্সের মত বোলারকে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে আউট হন আরেক ওপেনার জুনায়েদ সিদ্দিকীও। ৪টি চার ও ১টি ছক্কায় ৩৯ বলে ৩৮ রান করেন জুনায়েদ। তার আউটে ব্যাট করার সুযোগ আসে শ্রীলংকার আসলে গুনারত্নে। প্রথমবারের মত এবারের আসরে খেলতে নেমে প্রথম বলেই বোল্ড হন গুনারত্নে। বোলার ছিলেন ফ্রাঙ্কলিন। ম্যাচ শেষ করার সুযোগ পেয়েও হাতছাড়া করেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের চাঁদউইক ওয়ালটন। ফ্রাইলিঙ্কের দ্বিতীয় শিকার হয়ে ৭ রানে থামেন ওয়ালটন। এরপর উইকেটরক্ষক নুরুল হাসানকে নিয়ে ১১ বল বাকী রেখে চট্টগ্রামের জয় নিশ্চিত করেন ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক ইমরুল কায়েস। ২টি করে চার-ছক্কায় ২৭ বলে অপরাজিত ৩০ রান করেন ইমরুল। ৬ রানে অপরাজিত থাকেন নুরুল। খুলনার ফ্রাইলিঙ্ক ২০ রানে ২ উইকেট নেন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর :
খুলনা টাইগার্স : ১২১/১০, ১৯.৫ (রুশো ৪৮, মুশফিকুর ২৯, রুবেল ৩/১৭)।
চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স : ১২৪/৪, ১৮.১ (জুনায়েদ ৩৮, সিমন্স ৩৬, ফ্রাইলিঙ্ক ২/২০)।
ফল : চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স ৬ উইকেটে জয়ী।
ম্যাচ সেরা : মেহেদি হাসান রানা (চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স)।
স্মার্টফোন আসছে ৭ ক্যামেরার
লোকসমাজ ডেস্ক॥ ফোনের বাজারে চমক আনতে পারে চীনা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ে। এ বছরের মার্চ মাসে বাজারে ছাড়তে পারে পি৪০ ও পি ৪০ প্রো মডেলের দুটি স্মার্টফোন। এর মধ্যে পি ৪০ প্রো মডেলের স্মার্টফোনটিতে মোট ৭টি ক্যামেরা নিয়ে হাজির হতে পারে হুয়াওয়ে। ফোনের পেছনে পাঁচটি আর সামনে দুটি ক্যামেরা থাকতে পারে।
এনডিটিভি অনলাইনের প্রতিবেদনে বলা হয়, ফোনের পেছনে প্রাইমারি ক্যামেরা ছাড়াও থাকবে ওয়াইড অ্যাঙ্গেল ক্যামেরা, সিনে সেন্স, টাইম ও ফ্লাইট ক্যামেরা আর একটি পেরিস্কোপ টাইপ টেলি লেন্স।
পি ৪০ প্রো ফোনে থাকতে পারে ৬ দশমিক ৭ ইঞ্চি মাপের ডিসপ্লে। ফোনটির পাঞ্চ হোল ডিসপ্লের নিচে থাকতে পারে ডুয়েল সেলফি ক্যামেরা। ফোনের পেছনে আয়তাকার ক্যামেরা মডিউলে ৫টি ক্যামেরা থাকতে পারে।
সম্প্রতি হুয়াওয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, পি৪০ প্রো ফোনে কোম্পানির নিজস্ব হরমনি ওএস অপারেটিং সিস্টেম চলতে পারে। সম্প্রতি মার্কিন সরকারের নির্দেশের পরে হুয়াওয়ে ফোনে অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
হুয়াওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের নিজস্ব স্মার্টফোনের পাশাপাশি অন্যান্য কোম্পানির ফোনেও কিরিন চিপসেট দেখা যাবে। সম্প্রতি ৫-জি সংযোগ সুবিধাসহ ফ্ল্যাগশিপ চিপসেট কিরিন ৯৯০ উদ্বোধন করেছে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্মার্টফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি।
মাছ-মাংসের অভাব পূরণ করবে এক বাটি মটরশুটি!
লোকসমাজ ডেস্ক॥ শরীর ফিট রাখতে প্রোটিনের গুরুত্ব অনেক। এজন্য প্রতিদিনই স্বাস্থ্য সচেতনদের পাতে থাকে মাছ বা মাংস। তবে জানেন কি? প্রোটিনের অভাব পূরণ করতে শুধু মাছ বা মাংসে নয়, ভরসা রাখুন মটরশুটিতে।
অবাক হচ্ছেন? আপনি যদি নিরামিষাশী হন অথবা প্রতিদিন মাছ বা মাংস কেনার সামর্থ্য না থাকে তবে শরীরের প্রোটিন চাহিদা মেটাতে পারেন শুধু মটরশুটি খেয়ে। কম খরচেই প্রচুর প্রোটিন পেয়ে যাবেন এক বাটি মটরশুটিতে।
২ পিস মাছ বা ৩ পিস মাংসের বদলে খান একবাটি মটরশুঁটি। ম্যাজিক দেখুন হাতেনাতে। এমনটাই বলছেন বিশেষজ্ঞরা। বিভিন্ন রান্না ও সালাদে মটরশুঁটির প্রচুর ব্যবহার করার পরামর্শ দিচ্ছেন তারা। এবার তবে জেনে নিন মটরশুটির বিভিন্ন উপকারিতা-
১. মটরশুঁটিতে রয়েছে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি-ইনফ্লামেটরি উপাদান। যা ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়।
২. শরীর থেকে ক্ষতিকর পদার্থ বের করে দেয়। সেইসঙ্গে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়।
৩. আবার ব্লাড প্রেসারও কমায় মটরশুঁটি।
৪. হৃদরোগ প্রতিরোধ করে।
৫. ওজন কমাতে মটরশুঁটির জুড়ি মেলা ভার।
৬. ডিপ্রেশন কমাতে মটরশুঁটি খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
৭. একইসঙ্গে মটরশুঁটি কোষ্ঠকাঠিন্য থেকেও মুক্তি দেয়।
৮. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় মটরশুঁটি।
শীতকালে বাজারসহ বিভিন্ন স্থানেও ভ্যানে করে মটরশুটি বিক্রি করতে দেখা যায়। খুব কম খরচে বেশি করে মটরশুটি কিনে ফ্রিজে দীর্ঘমেয়াদী সংরক্ষণ করতে পারেন।
নির্বাচনকে আমরা আন্দোলনের অংশ হিসেবে নিয়েছি : মির্জা ফখরুল
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ ‘নির্বাচনকে আমরা আন্দোলনের অংশ হিসেবে নিয়েছি’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কবির মুরাদের স্মরণে আয়োজিত নাগরিক স্মরণ সভায় তিনি এসব কথা বলেন। বিগত নির্বাচনে এই অবস্থার পরেও আপনারা নির্বাচনে গেছেন কেন? অনেকে এমন প্রশ্ন করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা একটি লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি হিসেবে এই নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের কাছে যেতে চাই। মির্জা ফখরুল আরো বলেন, আমাদের নির্বাচনে যেতে হবে ও নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা জনগণের কাছে যাব এবং জনগণকে সঙ্গে নিয়েই এই সরকারকে আমরা নিয়মতান্ত্রিকভাবে পরাজিত করবো। এটাই আমাদের কাজ, এ কাজটি আমরা করে যাচ্ছি। আমরা বিশ্বাস করি আমরা সফল হব। কারণ জনগণের যে শক্তি সেই শক্তির কাছে সকল অপশক্তি পরাজিত হয়।
দেশের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অর্থনীতি একটি এম্পটি ভেসেল এর মধ্যে পড়ে গেছে। বাইরে থেকে ঢোল বাজায় উন্নয়ন-উন্নয়ন কিন্তু ভেতর একদম ফাঁকা। এই রাষ্ট্রকে পরিপূর্ণভাবে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করার জন্য আওয়ামী লীগ চূড়ান্ত করে ফেলেছে। মির্জা ফখরুল বলেন, নাইকো দুর্নীতি মামলার মূল মামলা যেটা আন্তর্জাতিক আদালত হয়েছে তা গোপন করে সরকার এ মামলা করেছে। এ মামলায় আন্তর্জাতিক আদালতে অলরেডি রায় হয়েছে। এই মামলায় বলা হয়েছে কোনো ধরনের কোনো রকম দুর্নীতি হয়নি এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ অন্যায়ভাবে যাদেরকে এ মামলার সাথে যুক্ত করা হয়েছিল তারা সম্পূর্ণ নির্দোষ।
বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, এই মামলায় আন্তর্জাতিক আদালতে যারা বিচারক ছিলেন তারা সবাই বিদেশি। আমাদের সরকারও সেখানে ছিল, তারা অভিযোগ নিয়ে গিয়েছিল। শুনানির শেষে তারা বলেছেন, নাইকো সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত এবং বেগম খালেদা জিয়ার এখানে কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই এবং এখানে যাদের আসামি করা হয়েছে তাদের দুর্নীতির কোনো প্রমাণ তারা করতে পারেনি। এই ধরনের যতগুলো মামলা দেওয়া হয়েছে এই সবগুলো মামলা মিথ্যা মামলা। তারেক রহমান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যে সকল মামলায় তারেক রহমানকে জড়ানো হয়েছে সে সকল মামলায় তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। সরকার দীর্ঘ সময় ধরে বলে আসছেন তারেক রহমান এসকল দুর্নীতির সাথে জড়িত অথচ আজ পর্যন্ত তারা একটিরও প্রমাণ করতে পারেনি। এবং একটি মামলায় মামলার বিচারক তাকে নির্দোষ বলে রায় দেওয়ার কারণে ওই বিচারককে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে হয়েছে। জিয়া পরিষদের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এম সলিমুল্লাহ খানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান শামছুজ্জামান দুুদু প্রমূখ বক্তব্য রাখেন।
অ্যাসিডিটি হলে যা করণীয়
লোকসমাজ ডেস্ক॥ খাবার হজমের জন্য শরীরের অ্যাসিডের প্রয়োজন হয় কিন্তু অ্যাসিডের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হলে গ্যাস, অম্লতা, পেট ফাঁপা এবং আরও অনেক সমস্যা দেখা যায়। অ্যাসিডিটি হলেই অ্যান্টাসিড খাওয়া যাবে না, বরং বাড়িতে থাকা কিছু উপাদান দিয়েই সারিয়ে তোলা যাবে অ্যাসিডিটি।
নিয়মিত অ্যান্টাসিডে অ্যাসিড রিবাউন্ড হতে পারে। এর ফলে শরীরে অ্যাসিড উৎপাদন আরও বেড়ে যেতে পারে। অ্যাসিডিটির ফলে পেট ফাঁপা, বুক জ্বালা হতে পারে।
অম্লতা বা অ্যাসিডিটি এমন একটি সাধারণ সমস্যা অনেকেই প্রায় দৈনিক ভোগ করেন। অনেকেই পেট ফাঁপা, বুক জ্বালা, গ্যাসের সমস্যা থেকে চটজলদি মুক্তি পেতে অ্যান্টাসিড খেয়ে নেন।
কিন্তু এটি শুধুমাত্র কিছুক্ষণের জন্যই উপসর্গগুলো কমাতে পারে এবং অম্লতা থেকে অস্থায়ী মুক্তি দিতে পারে। পুষ্টিবিদ নমামি আগরওয়াল, সম্প্রতি অ্যাসিডিটি কমানোর জন্য কিছু কার্যকরি টিপস দিয়েছেন।
বিভিন্ন কারণেই অম্লতা হতে পারে। খাওয়ার ভুল অভ্যাস, মসলাযুক্ত বা তৈলাক্ত খাবারের অত্যধিক ব্যবহার, শারীরিক ক্রিয়াকলাপের অভাব, চাপ এবং শরীরে জলের অভাব এর কিছু সাধারণ কারণ। অম্লতা, পেট ফাঁপা এবং অন্য উপসর্গগুলো হ্রাস করার জন্য কয়েকটি সহজ এবং ঘরোয়া উপায় দেখে নিন;
খাবার ভালো করে চিবিয়ে খান
আপনি কি জানেন যে হজমের প্রক্রিয়া শুরু হয় মুখের মধ্যে থেকেই। সুতরাং সঠিক হজমের জন্য খাদ্য সঠিকভাবে চিবানো গুরুত্বপূর্ণ। সঠিকভাবে খাদ্য চিবানো না হলে মুখের মধ্যে উৎসেচকের কাজ কমে যেতে পারে। যার ফলে অম্লতার সমস্যা হতে পারে।
এক গ্লাস ঠান্ডা দুধ
ঠান্ডা দুধ অম্লতা নিয়ন্ত্রণ করার একটি চমৎকার উপায়। দুধ প্রকৃতিতে ক্ষারীয় এবং এইভাবেই তা পেটের মধ্যে pH ভারসাম্য বজায় রাখে।
জোয়ান
বাবা-মা এবং ঠাকুমা দিদাদের আমলেরও আগে থেকে এই একটা প্রতিকার বারবারই সুপারিশ করা হয়েছে। যখনই গ্যাস, অম্লতা বা পেট ফাঁপার সমস্যা অনুভব করবেন এক গ্লাস জলে আধা চা চামচ জোয়ান দিয়ে ফুটিয়ে নিন, তারপর ছেঁকে নিন, একটু লেবু দিন সামান্য নুন এবং খেয়ে ফেলুন। জোওয়ানের অ্যান্টি অ্যাসিডিক বৈশিষ্ট্য অম্লতা এবং এর লক্ষণগুলো কার্যকরভাবে হ্রাস করতে সহায়তা করে।
মিন্ট ছাঁচ বা পুদিনা বাটার মিল্ক
পেটের অ্যাসিড হ্রাস করার জন্য মিন্ট ছাঁচ বা বাটারমিল্ক আরেকটি চমৎকার প্রতিকার। পুদিনা চমৎকারভাবে অ্যাসিড কমিয়ে ফেলে।
উপরোক্ত প্রতিকারগুলোর পাশাপাশি সুস্থ থাকা, প্রাকৃতিক এবং ঘরে তৈরি খাবার খাওয়াও অম্লতা কমাতে সহায়তা করতে পারে। অ্যান্টাসিডের নিয়মিত ব্যবহারের ফলে অ্যাসিড রিবাউন্ড হতে পারে। এটি আপনার সমগ্র গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল ট্র্যাক্টকেও প্রভাবিত করে।
মালিঙ্গার কাছ থেকে ‘ইয়র্কার’ শিখিনি, বোমা ফাটালেন বুমরাহ
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ আইপিএল দিয়েই লাইমলাইটে আসেন জাসপ্রিত বুমরাহ। দল মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সে অনেকটা দিন তিনি খেলেছেন ‘ইয়র্কারের রাজা’ লাসিথ মালিঙ্গার সঙ্গে। মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সে থেকেই ইয়র্কারটা আরও ধারালো হয় বুমরাহর। এখন তো ভারতের এক নম্বর বোলার। শ্রীলঙ্কার লাসিথ মালিঙ্গার সঙ্গে একই দলে খেলতে পারাটাকে বুমরাহর জন্য বড় সৌভাগ্য মনে করেন অনেকে। অনেকেরই ধারণা, মালিঙ্গার কাছ থেকেই ইয়র্কারের কলা-কৌশল রপ্ত করেছেন বুমরাহ। এমন অনেক কথা লেখা হয়েছে পত্র-পত্রিকায়ও।
তবে এবার বুমরাহ নিজেই জানালেন, ভিন্ন কথা। মালিঙ্গার কাছ থেকে নাকি তিনি ইয়র্কার শিখেননি। লঙ্কান পেসারও তাকে হাতে ধরে ইয়র্কার শেখাননি। বুমরাহর দাবি, যা শেখার টিভি আর ভিডিও দেখেই শিখেছেন তিনি। চোটের কারণে দীর্ঘদিন ভারতীয় দলের বাইরে বুমরাহ। তবে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজ দিয়ে চার মাস পর মাঠে ফিরছেন ভারতীয় এই পেসার। যেহেতু শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজ। মালিঙ্গা আর বুমরাহর লড়াই নিয়ে কথা হচ্ছেই। এসব কথার মধ্যেই ওঠে এলো ‘ইয়র্কার’ প্রসঙ্গটি। মালিঙ্গার কাছ থেকে শেখা ইয়র্কার এবার মালিঙ্গার দলের বিপক্ষেই প্রয়োগ করবেন বুমরাহ, এমন কথা উঠছিল।
বুমরাহ সবাইকে শোনালেন চমকে দেয়া এক তথ্য। তিনি বলেন, ‘অনেকেই বিশ্বাস করেন মালিঙ্গা আমাকে ইয়র্কার শিখিয়েছে। কিন্তু এটা ঠিক নয়। বোলিংয়ের স্কিল মালিঙ্গার কাছ থেকে আমি শিখিনি। মাঠের ভিতরে বিভিন্ন পরিস্থিতি কিভাবে সামলাতে হয়, তা শিখেছি মালিঙ্গার কাছ থেকে। মাথা গরম না করে ব্যাটসম্যানকে আউট করার পরিকল্পনা কিভাবে করতে হয়, তা শিখেছি মালিঙ্গার থেকে। এর বাইরে কিছু নয়।’ তা হলে এত ভালো ইয়র্কারের রহস্য কি? বুমরাহ বলেন, ‘বোলিংয়ের যাবতীয় স্কিল টেলিভিশন দেখেই শিখেছি। এখনও আমি টিভি, ভিডিও দেখে বোলিংয়ের নিত্যনতুন ব্যাপার শিখি। ক্রিকেট মাঠে আমি একা। কেউই সাহায্য করার নেই।’
দুই মাসেও কোনও খবর নেই চুরি যাওয়া ২০ কেজি সোনার
সুন্দর সাহা॥ দুই মাসেও কোনও খবর নেই বেনাপোল কাস্টমসের লকার থেকে চুরি যাওয়া ২০ কেজি স্বর্ণের। এ ঘটনায় জড়িত কাউকে আটক বা চুরি হওয়া স্বর্ণ উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কাস্টমস সংশ্লিষ্টরাসহ ব্যবসায়ীরা। তবে পুলিশ বলছে, স্বর্ণ চুরির বিষয়টি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ বা সিআইডি তদন্ত করছে। তবে সোনা চুরির ঘটনায় শর্ষের মধ্যে ভূত থাকার অভিযোগ সব মহলের।
জানা যায়, বেনাপোল বন্দরে চোরাকারবারিদের কাছ থেকে জব্দ করা স্বর্ণসহ মূল্যবান সম্পদ জমা রাখা হয় কাস্টমস হাউজের লকারে। গত ৮ নভেম্বর সকালে লকার থেকে ২০ কেজি স্বর্ণ চুরির বিষয়টি জানাজানি হয়। তবে লকারে থাকা আরও স্বর্ণ, বৈদেশিক মুদ্রা ও অন্যান্য সম্পদ অক্ষত অবস্থায় ছিল। এ নিয়ে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ পোর্ট থানায় একটি মামলা করে। পুলিশ চোর সন্দেহে প্রথমে কাস্টমসের ছয় জনকে ধরলেও পরে তাদের ছেড়ে দেয়। মামলার কোনও অগ্রগতি না হওয়ায় ২৭ নভেম্বরে মামলা চলে যায় সিআইডিতে। তবে দুই মাস পরও স্বর্ণ চুরির রহস্য উন্মোচন হয়নি। জড়িতদের কাউকে শনাক্তও করতে পারেনি পুলিশ।
গত ৮ নভেম্বর সকালে বেনাপোল কাস্টমস অফিসে এসে কর্মকর্তারা দেখেন কে বা কারা কাস্টমসের লকার খুলে ২০ কেজি স্বর্ণ চুরি করে নিয়ে গেছে। তবে সেখানে আরো স্বর্ণ, ডলার ও মূল্যবান সম্পদ ছিল, সেগুলো অক্ষত ছিল। বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি মফিজুর রহমান সজন বলেন, ‘সিসি ক্যামেরার নিরাপত্তার মধ্যে চুরির ঘটনা ঘটেছে। এখন তথ্য-প্রযুক্তির সময় প্রশাসন যদি আন্তরিক হয়ে কাজ করে চোর ধরা কোনও কঠিন বিষয় হওয়ার কথা না। সদীর্ঘদিন পার হলেও এখনও কেন কাইকে আটক করা বা স্বর্ণ উদ্ধার করা যায়নি সেটায় বড় প্রশ্ন।’ আজমিরী ইন্টান্যমনালের মালিক সিএন্ডএফ ব্যবসায়ী ও আমদানিকারক আবু তাহের ভারত বলেন, ‘চাঞ্চল্যকর এই চুরির সাথে যারাই জড়িত থাক তাদের আইনের আমলে আনতে হবে। উদ্ধার করতে হবে খোয়া যাওয়া সোনা। কাস্টমসের স্বর্ণ চুরির ঘটনায় অপরাধীকে ধরতে ব্যর্থ হলে আগামীতে এমন ঘটনা আবারও ঘটবে।’ কাস্টমস সিএন্ডএফ ব্যবসায়ের সাথে জড়িত ক্ষতমাসীন দলের এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘বেনাপোলের সোনা চুরি শর্ষের মধ্যে ভূত থাকার সম্ভাবনা অনেক বেশি। আগে সেই বিষয়টির তদন্ত করে দেখা জরুরী।’ বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার বেলাল হোসাইন চৌধুরী মিডিয়াকে বলেন, ‘স্বর্ণ চুরির ঘটনা কাস্টমসের সব অর্জনকে যেন ম্লান করে দিয়েছে। চোরকে দ্রুত ধরা দরকার। যেন আর কেউ ভবিষ্যতে সরকারের কোনও সম্পদ চুরি করতে সাহস না পারে।’ তবে বেনাপোল কাস্টমসের অর্জন বলতে তিনি কি বুঝিয়েছেন সেটা সিএন্ডএফ ব্যবসায়ীদের কাছে অস্পষ্ঠ বলে জানা যায়। বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুন খান বলেন, ‘এখন পর্যন্ত স্বর্ণ উদ্ধার বা ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তবে মামলাটি পোর্ট থানা থেকে সিআইডিতে হস্তান্তর করা হয়েছে। এখন তারা বিষয়টি দেখছেন।’ যশোর জেলা সিআইডির ইন্সপেক্টর জাকির হোসাইন বলেন, ‘উল্লেখযোগ্য কোনও অগ্রগতি নাই। তবে আমরা কিছু তথ্য পেয়েছি। তদন্তের স্বার্থে এগুলো প্রকাশ করা হচ্ছে না।’










