শিমুল হাসান, লোহাগড়া (নড়াইল) ॥ নড়াইলের লোহাগড়ায় বখাটের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে স্কুলছাত্রী খাদিজা (১৩) আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছে। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল রোববার সকালে পাংখারচর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। গ্রামবাসী ও ভুক্তভোগী ছাত্রীর পরিবার জানায়, ইতনা ইউনিয়নের পাংখারচর গ্রামের কামাল শেখের ছেলে ইমাম শেখ (১৮) স্কুলে যাবার পথে একই গ্রামের সেলিম সরদারের মেয়ে শতদল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শেণির ছাত্রী খাদিজাকে উত্ত্যক্ত করতো। খাদিজার পরিবারের লোকজন ওই বখাটের পরিবারকে বিষয়টি জানালেও কোন ফল হয়নি। সম্প্রতি পরীক্ষার সময়ও বখাটে ইমাম শেখ তাকে নানাভাবে উত্ত্যক্ত করে। সর্বশেষ গতকাল সকাল ১০ টার দিকে খাদিজা বাড়ির পাশে পুকুরে পানি আনতে গেলে ওই বখাটে পথরোধ করে অশ্লীল কথাবার্তা বলে। এতে অতিষ্ঠ হয়ে সে ঘরে ছুটে যায় এবং ফ্যানের সাথে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালায়। পরিবারের লোকজন টের পেয়ে গুরুতর অবস্থায় খাদিজাকে উদ্ধার করে লোহাগড়া হাসপাতালে নিয়ে যান। ছাত্রীর বাবা সেলিম সরদার বলেন, ‘বখাটে ইমামকে কয়েকবার সাবধান করেছি। তার পরিবারকে জানিয়েছি। কিন্তু কোন সমাধান হয়নি। বরং সে আমাদের হুমকি দিয়েছে। গত এক সপ্তাহ আগেও বখাটে ইমাম এবং তার আত্মীয় সজিব শেখ ও নবীর শেখ আমাকে নানাভাবে হুমকি দেয়’। লোহাগড়া হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্মরত ডা. নাইমা জানান, ‘খাদিজাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছি। তবে অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে নড়াইল সদর হাসপাতালে পাঠিয়েছি’। এ ব্যাপারে জানার জন্য অভিযুক্ত বখাটে ইমাম শেখ এবং তার আত্মীয় সজিব শেখ ও নবীর শেখের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। লোহাগড়া থানা পুলিশের ওসি মো. আলমগীর হোসেন জানান, ‘বখাটে উত্ত্যক্ত করায় এক ছাত্রী আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছে বলে শুনেছি। ছাত্রীর পরিবার থেকে এখনো কোন অভিযোগ পাইনি। তারা মেয়েটির চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত আছেন। আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি। উত্ত্যক্তকারীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। কোন ছাড় দেয়া হবে না’।
মুজিববর্ষ পালন উপলক্ষে তালায় মতবিনিময় সভা
তালা (সাতক্ষীরা) সংবাদদাতা ॥ মুজিববর্ষ ২০২০ পালন উপলক্ষে সাতক্ষীরার তালায় মতবিনিময় সভা হয়েছে। রোববার সকালে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন। বক্তব্য রাখেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ঘোষ সনৎ কুমার, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান তালা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সরদার মশিয়ার রহমান, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মুর্শিদা পারভীন পাঁপড়ী, তালা মহিলা ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুর রহমান, পাটকেলঘাটা থানা পুলিশের ওসি কাজী ওয়াহিদ মুর্শিদ, ইউপি চেয়ারম্যান সরদার জাকির হোসেন, তালা থানার এসআই নিয়াজ মোহাম্মাদ খাঁন প্রমুখ। সভায় মুজিববর্ষ পালনের জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।
শার্শায় আদিবাসীদের মাঝে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন উপকরণ বিতরণ
শার্শা (যশোর) সংবাদদাতা ॥ যশোরের শার্শা উপজেলার আদিবাসী শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষাবৃত্তি, শিক্ষা উপকরণ ও স্বাস্থ্য উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। এ সময় আদিবাসী সম্প্রদায়ের পরিবারের মাঝে ৫০টি ছাগল দেওয়া হয়। রবিবার সকালে উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স অডিটোরিয়ামে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ শিক্ষা উপকরণ বিতরণ ও ছাগল দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন, যশোর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফ। শার্শা উপজেলা নির্বাহী অফিসার পুলক কুমার মণ্ডলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, শার্শা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজুল হক মঞ্জু, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আলেয়া ফেরদৌস, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) খোরশেদ আলম চৌধুরী, শার্শা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ফরিদ আহমেদ ও উপজেলা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সভাপতি তপন কুমার প্রমুখ।
কলারোয়ায় ক্রিকেট টুর্নামেন্টে ওয়েস্ট জোন দল চ্যাম্পিয়ন
কে. এম আনিছুর রহমান. কলারোয়া (সাতীরা) ॥ সাতীরার কলারোয়ায় ষষ্ঠ একাডেমি কাপ বিজয় দিবস টি-২০ ক্রিকেট টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ওয়েস্ট জোন দল। রোববার কলারোয়া ক্রিকেট একাডেমির আয়োজনে সরকারি জিকেএকে পাইলট হাইস্কুল মাঠে টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলায় তারা প্রতিপ সাউথ জোন দলকে ৬ উইকেটে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। খেলায় সাউথ জোন টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয়। তারা নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৪৩ রান সংগ্রহ করে। দলের পে সর্বোচ্চ রান আসে শাকিলের ব্যাট থেকে। তিনি ৪৪ বলে ৫৮ রান করেন। একই দলের শুভ ৪৪ বলে দলের স্কোর বোর্ডে যোগ করেন ৪৯ রান। ওয়েস্ট জোনের বোলার রিমু ২১ রান দিয়ে ৩ উইকেট, সাগর ২৩ রান দিয়ে ২ উইকেট ও মৃত্যুঞ্জয় ৬ রান দিয়ে ১টি উইকেট দখল করেন। জবাবে ১৪৪ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে ওয়েস্ট জোন মাত্র ৪টি উইকেট হারিয়ে জয়ের ল্েয পৌঁছে যায়। দলের পে সর্বোচ্চ রান আসে রিমুর ব্যাট থেকে। তিনি ২৯ বলে ৫৮ রান করেন। একই দলের ফাহিম ৩৪ ও রায়হান ২৫ রান করেন। সাউথ জোনের বোলার ফাহিম ২১ রান দিয়ে ২ ইউকেট, ওয়াসিম ১৩ রান দিয়ে ১টি ইউকেট পান। খেলায় আম্পায়ারের দায়িত্ব পালন করেন সাজু হালদার ও ফারুক হোসেন স্বপন। স্কোরারের দায়িত্বে ছিলেন নাজমুল হাসনাইন, সিয়াম ও রাজু। ধারাভাষ্যে ছিলেন প্রভাষক রফিকুল ইসলাম, অধ্যাপক ভোলানাথ ও রুস্তম আলী। খেলায় ম্যান অব দ্যা ম্যাচ হন বিজয়ী দলের আল শাহরিয়ার রিমু। ম্যান অব দ্যা সিরিজ হন রানার্স আপ দলের অমিয় হাসান তমাল। খেলা শেষে চ্যম্পিয়ন ও রানার আপ দলকে ট্রফি প্রদান করা হয়। এদিকে, বিকেলে পুরষ্কার বিতরণী শেষে একই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জাতীয় অনুর্ধ-১৯ যুব ক্রিকেট দলের অলরাউন্ডার মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী নিপুনকে সংবর্ধনা প্রদান করে কলারোয়া ক্রিকেট একাডেমি। আসন্ন অনুর্ধ-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেটে অংশ নিতে আগামী ৪ জানুয়ারি দণি আফ্রিকা সফরে যাওয়ার আগে কলারোয়ার সন্তান মৃত্যুঞ্জয়কে সম্মাননা জানালো হলো। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারি মাধ্যমিক শিা অফিসার হারুনুর রশিদ, জাতীয় দলের ক্রিকেটার মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরীর পিতা বিশিষ্ট শিাবিদ সিএম তাহাজ্জত চৌধুরী, ক্রীড়া সংগঠক প্রধান শিক বদরুজ্জামান বিপ্লব, কলারোয়া নিউজের ক্রীড়া রিপোর্টার হাবিবুর রহমান রনি, কলারোয়া ক্রিকেট একাডেমির পরিচালক নাজমুল হাসনাইন মিলন, মাসুদ রানা প্রমুখ।
প্রাথমিকের পিছিয়ে পড়া শিশুদের আলাদা পাঠদানের সুপারিশ
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ প্রাথমিকের বিভিন্ন ক্লাসে পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের আলাদা করে পাঠদানের ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। একইসঙ্গে স্বাধীনতাবিরোধী, রাজাকারদের নামে কোনো স্কুল থাকলে সেগুলোর তালিকা করতে বলা হয়েছে। রোববার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে এ সুপারিশ করা হয়। বৈঠক শেষে কমিটির সদস্য শিরীন আখতার বলেন, “যেসব শিক্ষার্থী ক্লাসে পিছিয়ে আছে, তাদের ক্লাসের বাইরে আলাদা করে পাঠদানের ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। বলা হয়েছে, ওই শিক্ষার্থীদের ব্যাপারে শিক্ষকরা যাতে আরও মনযোগী হয় সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে হবে।” প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনীতে অংশ নেওয়া ক্ষুদে পরীক্ষার্থীদের বহিষ্কারের নিয়মটি সম্প্রতি তুলে দিয়েছে সরকার। গত ১৭ থেকে ২৪ নভেম্বর এবারের প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা চলাকালে প্রায় দুইশ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়। বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। পরে যে নির্দেশাবলীর আলোকে বহিষ্কার করা হত তার সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদ রদ করা হয়।
এদিকে সংসদীয় কমিটির বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংসদীয় কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন প্রতিদিন শিক্ষার্থীদেরকে ন্যূনতম একটি করে বাংলা ও ইংরেজি শব্দ সঠিক উচ্চারণে পড়া-লেখা শেখাতে ‘ওয়ান ডে ওয়ান ওয়ার্ড’ কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় জানায়, এ কর্মসূচি ফলপ্রসূ করার জন্য প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য আলাদা ছক তৈরি করে রেকর্ড করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ বিষয়টি তদারকি করছেন। রাজাকারদের নামে স্কুলের নাম থাকলে তার তালিকার বিষয়ে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ তালিকা করতে তারা মাঠ পর্যায়ে চিঠি পাঠিয়েছে। এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়ার পর প্রতিবেদন আকারে সংসদীয় কমিটিকে জানানো হবে। সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো গয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষ্যে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা সঠিকভাবে লেখাপড়া করছে কিনা তা পর্যবেক্ষণের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্যদের তদারকি কার্যক্রম জোরদার করার সুপারিশ করা হয় বৈঠকে। এছাড়া বাধ্যতামূলক শিক্ষা, প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি, পিটিআই নিয়ে আলোচনা হয় এবং এসব প্রতিষ্ঠান থেকে প্রশিক্ষণের আলোকে শিক্ষকরা ছাত্রছাত্রীদেরকে শিক্ষা দিচ্ছে কিনা তা তদারক করার জন্য ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়। কমিটির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন, নজরুল ইসলাম বাবু, শিরীন আখতার, জোয়াহেরুল ইসলাম এবং মোশারফ হোসেন অংশ নেন।
বটিয়াঘাটায় গাঁজাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী আটক
বটিয়াঘাটা (খুলনা) সংবাদদাতা ॥ খুলনার বটিয়াঘাটায় পৃথক অভিযান চালিয়ে গাঁজাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীকে আটক করেছে পুলিশ। পুলিশ জানায়, উপজেলার প্রেমকানন কালভার্টের ওপর গাঁজা বেচাকেনার সংবাদ পেয়ে থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোস্তফা হাবিবুল্লাহ অভিযান চালান। এ সময়ে হাটবাটী গ্রামের নিরোদ বাছাড়ের ছেলে নিখিল বাছাড়কে (৩৮) ১২ গ্রাম গাাঁজাসহ আটক করা হয়। অপর এক অভিযানে উপজেলার লক্ষ্মীখোলা গ্রামের পিচের রাস্তার ওপর থেকে ৮ গ্রাম গাঁজাসহ বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে এমারত শেখকে (৩০) আটক করা হয়। আটকদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। পুলিশ আটক দুই ব্যক্তিকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
তীরে ভেসে আসা ‘ভুতুড়ে জাহাজে’ ৫ মৃতদেহ
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ জাপানের উপকূল থেকে পাঁচটি মৃতদেহ ও দুটি মানুষের মাথাসহ একটি জাহাজের ধ্বংসাবশেষ আবিষ্কার করেছে স্থানীয়রা। বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে জানায়, জাপানের মূল ভূখণ্ডের উত্তর পশ্চিমের সাদো দ্বীপে শুক্রবার ভেসে আসে জাহাজটি। পরে শনিবার কর্তৃপক্ষ জাহাজের ভেতরের অবস্থা সম্পর্কে জানতে পারে। ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া জাহাজটির গায়ে কোরিয়ান ভাষায় লেখা ছিল। জাহাজে থাকা মাথা দু’টি মৃতদেহগুলোর মধ্যে দু’জনের কিনা তা পুলিশ নিশ্চিত করতে পারেনি। তবে জাপানের গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে যে, জাহাজে পাওয়া দেহাবশেষগুলোর সবগুলোই ‘আংশিকভাবে কঙ্কাল’ হয়ে গেছে। এর থেকে ধারণা করা হচ্ছে যে, ভুক্তভোগীরা দীর্ঘ সময় যাবত সমুদ্রে অবস্থান করছিলেন। জাপানের উপকূলে উত্তর কোরিয়া থেকে আসা ‘ভুতুড়ে জাহাজ’ আবিষ্কারের ঘটনা একেবারেই নতুন নয়। এসব জাহাজ সাধারণত খালি থাকে বা সেখানে মানুষের দেহাবশেষ থাকে। ২০১৭ সালে ভাসতে থাকা এরকম একটি জাহাজে একজন মাছ ধরা জেলেকে জীবিত অবস্থায় পাওয়া যায় এবং তাকে উত্তর কোরিয়ায় ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত দ্ওেয়া হয়। জাপান ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে চলমান অস্থিরতার কারণে সাম্প্রতিক এই জাহাজ দুর্ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ব্যাহত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
সেনাবাহিনীকে আধুনিক প্রযুক্তিসমৃদ্ধ করতে কাজ করছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তার সরকার বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে একটি যুগোপযোগী, প্রযুক্তিগতভাবে সুসজ্জিত এবং আধুনিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সব সময় চাই সেনাবাহিনী হবে যুগোপযোগী, আধুনিক ও প্রযুক্তিগতভাবে সুসজ্জিত এবং এই লক্ষ্য অর্জনে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রবিবার দুপুরে ভাটিয়ারির বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে ৭৭তম বিএমএ দীর্ঘ মেয়াদি কোর্স সমাপনী উপলক্ষে আয়োজিত ‘রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ-২০১৯’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন। সেনাবাহিনীসহ সশস্ত্র বাহিনীর উন্নয়নে তার সরকারের পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সরকার গঠন করার পর থেকেই নতুন নতুন পদাতিক ডিভিশন, ব্রিগেড, ইউনিটসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলি।’ তিনি বলেন, আমাদের সেনাবাহিনীতে নারীর অংশগ্রহণও সরকার নিশ্চিত করছে।
সশস্ত্রবাহিনী এবং সেনাবাহিনীকে স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্বের প্রতীক আখ্যায়িত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সশস্ত্রবাহিনীকে যুগোপযোগী এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করতে চাই।’ পাশাপাশি নবীন সেনা সদস্যদের শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং চেইন অব কমান্ড মেনে চলারও আহ্বান জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী মনোজ্ঞ কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন এবং অভিবাদন গ্রহণ করেন। এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ২৩৪ জন বাংলাদেশি, ২৯ জন সৌদি, ১ জন ফিলিস্তিনি, ১ জন শ্রীলঙ্কানসহ মোট ২৬৫ জন ক্যাডেট কমিশন লাভ করেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী বিএমএ প্যারেড গ্রাউন্ডে এসে পৌঁছালে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ তাকে অভ্যর্থনা জানান। প্রধানমন্ত্রী নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, নতুন প্রশিক্ষণার্থী হিসেবে দীর্ঘ প্রশিক্ষণ গ্রহণের পর আজকে নতুন কর্মস্থলে আপনারা পদার্পণ করবেন। জাতির পিতা যে নির্দেশ দিয়েছেন, যে শপথ আপনারা গ্রহণ করেছেন-ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ মান্য করা। সেটা যেমন আপনাদের করতে হবে সেই সঙ্গে জাতির পিতা আরো বলেছিলেন-আপনাদের অধীনস্থ যারা থাকবেন, তাদের দিকেও আপনাদের বিশেষ দৃষ্টি দিতে হবে এবং যতœবান হতে হবে। শেখ হাসিনা এ সময় মিলিটারি একাডেমিতে নির্মিত বঙ্গবন্ধু কমপ্লেক্সের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার উল্লেখ করে বলেন, ‘চার বছর মেয়াদি অনার্স এবং ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রিও চালু করা হয়েছে। গ্র্যাজুয়েটদের কমিশন লাভের সময়কাল আমরা বৃদ্ধি করে দিয়েছি, যাতে এটা আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন হয়।
ইতিহাসে অভাবনীয় রেকর্ড রাতের ভোটে ক্ষমতা দখল: রিজভী
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ গত ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগের রাতে অর্থাৎ ২৯ ডিসেম্বর ‘ভোট ডাকাতি’ হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। এ ঘটনাকে পৃথিবী ইতিহাসে অভাবনীয় রেকর্ড আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, এই দিনটিকে (৩০ ডিসেম্বর) বিএনপি গণতন্ত্র হত্যা দিবস হিসেবে পালন করবে।
গতকাল রবিবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মুখপাত্র আরও বলেন, পৃথিবীর ইতিহাসে অভাবনীয় রেকর্ড সৃষ্টিকারী রাতের ভোটে ক্ষমতা দখলের এক বছর পূর্ণ হবে রবিবার (২৯ ডিসেম্বর) রাতে। রাতটি দেশবাসীর কাছে তাদের ভোটাধিকার হরণের কালো রাত হিসেবে কলঙ্কিত হয়ে থাকবে। তিনি অভিযোগ করে, ‘২০১৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর কালো রাতে মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেয় আওয়ামী লীগ। সেদিন গণতন্ত্রকে হত্যা করা হয়েছিল। তাই ৩০ ডিসেম্বর কোনো ভোট হয়নি।’ রিজভী বলেন, সোমবার ৩০ ডিসেম্বর ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ পালন করা হবে। এ উপলক্ষে দেশব্যাপী বিএনপি সভা-সমাবেশ, মিছিল, কালো ব্যাজ ধারণ এবং দলীয় কার্যালয়গুলোতে কালো পতাকা উত্তোলন করবে। এ উপলক্ষে ঢাকায় সোমবার নয়াপল্টন দলীয় কার্যালয়ের সামনে অথবা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ হবে বলেও জানান তিনি। সমাবেশের অনুমতি প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব বলেন, ‘প্রক্রিয়া চলছে। আজকের মধ্যেই অনুমতি পেয়ে যাব বলে আশা করছি।’ ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘নীলনকশা অনুযায়ী সরকার ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অস্বচ্ছ ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন-ইভিএমে ভোট নেওয়ার চক্রান্ত করছে।’ ইভিএম বাতিল চেয়ে রিজভী বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন সরকারের পুতুলে পরিণত হয়েছে। অন্যান্য ভোটের মতো সরকার এই ভোটাধিকার হরণের জন্যও ইভিএমের চক্রান্ত হাতে নিয়েছে।’ সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব মজিবর রহমান সরোয়ার, খায়রুল কবির খোকন, প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশারফ হোসেন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ প্রমুখ।
আজ দড়াটনা শহীদ চত্বরে কমরেড হেমন্ত সরকারের স্মরণসভা
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ আজ সোমবার বিকেল ৩ টায় যশোর দড়াটানা শহীদ চত্বরে কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে কমরেড হেমন্ত সরকারের স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হবে। এদেশের কমিউনিস্ট আন্দোলনের অন্যতম প্রবীণ নেতা বাংলাদেশের কৃষক আন্দোলন তথা ঐতিহাসিক তে-ভাগা আন্দোলনে দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী শ্রমিক-কৃষক-মেহনতি জনগণের মুক্তির লক্ষ্যে নিঃস্বার্থ, নিবেদিত প্রাণ, ত্যাগী, অভিজ্ঞ নেতা কমরেড হেমন্ত সরকার। তাঁর ২১তম মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মরণসভায় সভাপতিত্ব করবেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি তোজাম্মেল হোসেন। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখবেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ব্রিগে. জেনারেল (অব.) এম. জাহাঙ্গীর হুসাইন। বিশেষ বক্তা থাকবেন কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ দত্তসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থানকারী কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।
উল্লে¬খ্য, প্রয়াত কমরেড হেমন্ত সরকার ১৯৯৮ সালের ২৮ ডিসেম্বর ৮২ বছর বয়সে নড়াইলে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ১৯১৬ সালে নড়াইল জেলার সদর থানার বড়েন্দার গ্রামে এক গরিব কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি শ্রমিকশ্রেণীর বিপ্ল¬বী রাজনীতি ও কমিউনিস্ট পার্টির সাথে সম্পর্কিত হন ১৯৪০-এর দিকে এবং ১৯৪২ সালে পার্টি সভ্যপদ লাভ করেন। ঐতিহাসিক তে-ভাগা আন্দোলনে তিনি দৃষ্টান্তমূলক ভূমিকা রাখেন। দেশ বিভাগের পর ১৯৪৮ সালে গ্রেপ্তার হয়ে পঞ্চাশের দশকের মাঝামাঝি পর্যন্ত বন্দী জীবন কাটান। ৬০ এর দশকে বিশ্ব কমিউনিস্ট আন্দোলনে ক্রুশ্চেভ সংশোধনবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামে তিনি দৃঢ় ভূমিকা রাখেন। এ প্রেক্ষাপটে পূর্ব পাকিস্তানের কমিউনিস্ট পার্টি (এম-এল) এর যশোর জেলা পার্টি পুনর্গঠনে ভূমিকা রাখেন এবং যশোর জেলা কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭০ সালে সশস্ত্র সংগ্রামের লাইন গৃহীত হলে তিনি তা বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখেন এবং ১৯৭১ সালে পার্টি পরিচালিত বিপ্ল¬বী যুদ্ধে তিনি নেতৃত্বদানকারী ভূমিকা পালন করেন।









