কুয়াদা (যশোর) সংবাদদাতা॥ বুধবার মনিরামপুরের কুয়াদায় স্যুইট বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় পরিদর্শন করেছেন, মনিরামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনোনিত প্রতিনিধি উপজেলা সমবায় অফিসার নাসিমা খাতুন। এসময় বিদ্যালয়ের সভাপতি মাহবুব আক্তারের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন প্রধান শিক্ষক সৈয়দা কানিজ ফাতিমা, স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য আমিন উদ্দীন, ম্যানেজিং কমিটির সদস্য প্রভাষক আব্দুর রাজ্জাক, শ্রমিক নেতা জহির উদ্দীন, সমাজসেবক মঞ্জুর আক্তার, সহকারী শিক্ষক শহিদুল ইসলাম, মেহেদী হাসানসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। প্রধান অতিথি নাসিমা খাতুন বিদ্যালয়ের সকল প্রতিবন্ধী ছাত্র-ছাত্রীদের অ্যাসেমব্লি, পাঠদান, শিক্ষকবৃন্দের উপস্থিতি ও প্রতিষ্ঠানে যাবতীয় কার্যক্রমের খোঁজখবর নেন।
প্রাক্তন ছাত্রদের উদ্যোগে সম্মিলনী ইনস্টিটিউশন দিবস পালন
স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরে সম্মিলনী ইনস্টিটিউশন দিবস পালন করেছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির প্রাক্তন ছাত্র পরিষদ। বুধবার বিকেলে স্কুল আঙিনায় দিবসটি পালন করা হয়। কেক কেটে এদিন স্কুলের সাবেক শিক্ষক তারাপদ দাসকে সন্মাননা জানানো হয়। আয়োজকরা জানান, ১৮৮৯ সালের এই দিনটিতে কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মিলনী ইনস্টিটিউশনকে হাইস্কুলের মর্যাদা দেওা হয়।
দিবসটি পালন উপলক্ষে গতকাল স্কুল ক্যাম্পাসে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রাক্তন ছাত্র পরিষদের আহবায়ক অ্যাডভোকেট রবিউল আলম। বক্তব্য রাখেন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহীদুল ইসলাম মিলন, সহসভাপতি একেএম খয়রাত হোসেন, শিক্ষাবিদ ড. মোস্তাফিজুর রহমান, প্রাক্তন ছাত্র পরিষদের সদস্য সচিব হিমাদ্রী সাহা মণি, অ্যাডভোকেট অশোক কুমার রায়, অ্যাডভোকেট স্বপন ভদ্র, যশোর কলেজের অধ্যক্ষ মোস্তাক হোসেন শিম্বা ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মীর মোশাররফ হোসেন বাবু। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের যশোর জেলা সাধারণ সম্পাদক সানোয়ার আলম খান দুলু।
কালীগঞ্জে গরু নিয়ে পালানোর সময় চোর আটক
কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) অফিস ॥ ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে হেলাল খান (৪৫) নামের এক গরু চোরকে আটক পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে উপজেলার ফুলবাড়ি মাঠ থেকে তাকে আটক করা হয়। হেলাল খান মহেশপুর উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামের তরব আলীর ছেলে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কালীগঞ্জ থানার এসআই দেলোয়ার হোসেন জানান, উপজেলার বারবাজার এলাকার ফুলবাড়ির গ্রামের ইদ্রিস আলীর গোয়াল ঘর থেকে একটি এড়ে গরু চুরি করে নিয়ে যাওয়ার সময় গৃহকর্তার চিৎকারে গ্রামবাসী ছুটে আসে। এরপর পুলিশ ও এলাকাবাসী ফুলবাড়ির মাঠ ঘিরে হেলাল খানকে গরুসহ আটক করে। এ ব্যাপারে কালীগঞ্জ থানায় একটি চুরির মামলা হয়েছে।
জাতি নির্মাণের পথিকৃৎ রাষ্ট্রচিন্তক
ড. আবদুল লতিফ মাসুম
রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা দেশ, জাতি ও রাষ্ট্রের অগ্রচিন্তক। সমস্যা, সঙ্কট ও জাতি তথা রাষ্ট্র নির্মাণে সব দেশে সব কালে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। বাংলাদেশ জাতিরাষ্ট্রের বিকাশের বিভিন্ন পর্যায়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানীসহ বুদ্ধিজীবীদের রয়েছে ব্যাপক ভূমিকা। পাকিস্তানের ‘অভ্যন্তরীণ উপনিবেশবাদ’ (Internal Colonialism)-বিরোধী সংগ্রামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। জাতীয় অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক এক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। প্রফেসর মোজফফর আহমেদ চৌধুরী এ ক্ষেত্রে আরেকটি অগ্রসর নাম। বিভাগের সে সময়ে কর্মরত প্রবীণ শিক্ষকরা মেধা ও মনন দিয়ে এই জাতিরাষ্ট্রের ভিত্তিভূমি নির্মাণে তাদের সাথী ছিলেন। বাংলাদেশ জাতিরাষ্ট্র অর্জনের পরও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ এই জাতির উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য তাদের প্রয়াস অব্যাহত রাখে। প্রফেসর এমাজউদ্দিন আহমেদ ও প্রফেসর তালুকদার মনিরুজ্জামান এ ক্ষেত্রে দু’টো উজ্জ্বল নক্ষত্র। তাদের গবেষণা, প্রকাশনা, গ্রন্থনা ও বক্তৃতা-বিবৃতি তার প্রমাণ দেয়। গভীর দুঃখ ও বেদনার কথা, ড. তালুকদার মনিরুজ্জামান আর বেঁচে নেই। গত ২৯ ডিসেম্বর দিবাগত রাত ৩টার দিকে রাজধানীর এ্যাপোলো হাসপাতালে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে ইসকেমিক হার্ট ডিজিজের কারণে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। তার বয়স হয়েছিল ৮১ বছর। প্রফেসর এমাজউদ্দিন বয়সে তার জ্যেষ্ঠ হলেও আল্লাহর রহমতে ভালো আছেন। আমরা তার দীর্ঘ ও সুস্থ জীবন কামনা করি। তাদের সহকর্মীরা অত্যন্ত সুনামের সাথে রাষ্ট্র তথা রাষ্ট্রবিজ্ঞানের উন্নয়নে অবদান রেখেছেন। নিজেকে ব্যক্তিগতভাবে ভাগ্যবান মনে করি এ কারণে যে, যাদের নাম উল্লেখ করলাম, স্বাধীনতা অর্জনের পরপর তাদের সরাসরি ছাত্র ছিলাম।
প্রফেসর ড. তালুকদার মনিরুজ্জামান ছিলেন বহুমাত্রিক জ্ঞান ও গবেষণার অধিকারী। তিনি ছিলেন নিরাপত্তা বিশ্লেষক, সামরিক রাজনীতির বিশেষজ্ঞ, বাংলাদেশ রাজনীতির নির্ভরযোগ্য ব্যাখ্যাকারী এবং আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী। তার এই অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ সরকার ২০০৬ সালে তাকে জাতীয় অধ্যাপকের বিরল সম্মানে ভূষিত করেছে। ১৯৭৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদানের পর রাষ্ট্রবিজ্ঞানী হিসেবে দেশে ব্যাপকভাবে পরিচিতি লাভ করেন। পরবর্তীকালে তার গভীর পাণ্ডিত্যপূর্ণ গবেষণা ও গ্রন্থনার জন্য আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রে সিনিয়র ফুল ব্রাইট স্কলার হিসেবে সেখানে তার গ্রন্থাবলি ও পাণ্ডিত্যের প্রশংসা শুনেছি। রক্তাক্ত বিপ্লবের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীনতার ব্যাপারে, লিফসুজের (Lifsultz) আগেই তিনি বাংলাদেশকে অসমাপ্ত বিপ্লবের সাথে তুলনা করেছিলেন। বাংলাদেশ রাষ্ট্র ও সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে তিনি স্পষ্ট মতামত প্রকাশ করে সবার শ্রদ্ধা অর্জন করেছেন। বাংলাদেশে অব্যাহত গণতান্ত্রিক সংগ্রামের প্রতি তিনি দৃঢ় সমর্থন জানান। তিনি বিশ্বাস করতেন, ‘এ সমাজ ভাঙতে হবে, নতুবা গড়তে হবে’। ২০১৮ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি দৈনিক প্রথম আলোকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে সমাজ পরিবর্তনের আন্দোলনের জন্য তিনি যুবসমাজকে আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি রাজনীতিতে ‘আদর্শিক অনুপস্থিতি’র কথা বলেন এবং বিদ্যমান রাজনৈতিক সংস্কৃতির সমালোচনা করেন। এই বরেণ্য রাষ্ট্রবিজ্ঞানী বিগত প্রায় ৫০ বছরে জাতীয় সমস্যা মোকাবেলায় এবং জাতীয় সঙ্কট উত্তরণে যথার্থ পরামর্শ ও উপদেশ দিতেন। রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরে গণতন্ত্রের অনুশীলনের জন্য বারবার তাগিদ দিয়েছেন তিনি। গণমাধ্যম তথা সংবাদপত্র সংক্রান্ত সম্মেলন উপলক্ষে তার এই মতামতগুলো গুরুত্ব সহকারে প্রকাশিত হয়েছে। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বিভিন্ন সমস্যা ও সঙ্কটে তার মতামত গ্রহণ করতেন বলে জানা যায়। সামরিক রাজনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়ে মনিরুজ্জামানের বক্তব্য জিয়াকে প্রভাবিত করেছিল বলে বিশ্বাস করা হয়। তৃতীয় বিশ্বের ছোট দেশগুলোর নিরাপত্তা রক্ষায় তিনি ‘নাগরিক সেনাবাহিনী’ গড়ে তোলার পরামর্শ দেন। The Security of Small States in the Third World গ্রন্থে তিনি এ মতামত দিয়েছেন। গ্রাম প্রতিরক্ষা দলের মাধ্যমে এ ধারণার প্রকাশ ঘটে। ছোট দেশ হিসেবে পররাষ্ট্রনীতির ভারসাম্য বিধানে জিয়াউর রহমান যে পূর্বমুখী নীতির (Look East Policy) সূচনা করেছিলেন তারও উৎস ওই গ্রন্থ। রাজনীতিতে সেনাবাহিনীর অংশগ্রহণ ও শাসনকে প্রফেসর তালুকদার বেসামরিক কর্তৃত্বের প্রতি হুমকিস্বরূপ বলে ব্যাখ্যা করেন। তার দীর্ঘ পরিশ্রমলব্ধ Military Withdrawal from Politics : a Comparative Study গ্রন্থে এর বিশ্লেষণ রয়েছে। বাংলাদেশে ভাবাদর্শের অব্যাহত সঙ্ঘাতকে তিনি জাতীয় ঐক্যের প্রতি হুমকি মনে করতেন। তিনি জিয়ার অনুসৃত বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের মতো মধ্যপন্থী নীতিভঙ্গিকে ভাবাদর্শের সঙ্ঘাতের নিয়ামক মনে করতেন।
অসামান্য মেধার অধিকারী এই রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ১৯৩৮ সালের পয়লা জুলাই সিরাজগঞ্জের কাজীপুরে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা আবদুল মজিদ তালুকদার স্কুলশিক্ষক ছিলেন। মনিরুজ্জামান ষষ্ঠ শ্রেণী পর্যন্ত পড়েছেন তারাকান্দি মাইনর স্কুলে। পরে ভর্তি হন সিরাজগঞ্জ হাইস্কুলে। সেখানে এসএসসি পরীক্ষায় রাজশাহী বোর্ডে পঞ্চম স্থান অধিকার করেছেন। এইচএসসি পরীক্ষায় তিনি জগন্নাথ কলেজ থেকে ঢাকা বোর্ডে প্রথম স্থান অধিকার করেন। ১৯৫৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হয়ে অনার্স পরীক্ষায় তিনি প্রথম শ্রেণীতে প্রথম স্থান অধিকার করেন। সে সময়ের বিভাগীয় প্রধান ন্যুমেন একজন বাঙালি ছাত্রকে মাস্টর্সে প্রথম শ্রেণী দিতে চাননি বলে অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে ন্যুমেনের সাথে শিক্ষার্থীদের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। এর পরিণতিতে এই বিদেশীকে এ দেশ ছেড়ে যেতে হয় বলে শ্রুতি আছে। তালুকদার মনিরুজ্জামান ১৯৬৩ সালে মর্যাদাপূর্ণ কমনওয়েলথ বৃত্তি অর্জন করেন এবং কানাডার কুইন্স ইউনিভার্সিটি থেকে ১৯৬৬ সালে পিএইচডি লাভ করেন। একই বছর তিনি সিনিয়র লেকচারার হিসেবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করেন। একই সময়ে বিভাগের মেধাবী ছাত্রী ইউ এ বি রাজিয়া আখতার বানুর সাথে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হন। তার স্ত্রী পরবর্তীকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে যোগদান করেন। লেখালেখি ও গবেষণায় তিনিও খ্যাতি অর্জন করেন এবং তার অপরিণত বয়সে জীবনাবসান ঘটে। প্রিয় স্ত্রীর মৃত্যুতে তিনি কিছু দিনের মধ্যে নিজেও অসুস্থ হয়ে পড়েন।
যখন ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে ভর্তি হই, ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্কের পুরনো ধারা তখনো মিলিয়ে যায়নি। আমার বাবা শিক্ষক ছিলেন, সে কারণে সব শিক্ষককে পিতৃজ্ঞান করেছি। ১৯৭৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হওয়ার এক বছর পর ১৯৭৪ সালে তালুকদার মনিরুজ্জামান এ বিভাগে যোগদান করেন। আর একজন খ্যাতিমান রাষ্ট্রবিজ্ঞানী প্রফেসর রওনক জাহানের পর তিনি বিভাগের সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। ততদিনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত থাকলেও তালুকদার স্যারের জ্ঞান ও মনীষা সম্পর্কে আমরা অবহিত হয়েছিলাম। তার প্রথম উল্লেখযোগ্য বই Radical Politics and Emergence of Bangladesh প্রকাশিত হয় ১৯৭৩ সালে। স্বল্প পরিসরের এই বইটি বাংলাদেশ জাতিরাষ্ট্রের অভ্যুদয়ের দীর্ঘ ইতিহাসের সারাংশ উপস্থাপন করেছে। এখানে স্বাধীনতার পটভূমিতে সমীক্ষা রয়েছে বাম রাজনীতির। তিনি যখন ১৯৭৪-৭৮ সাল পর্যন্ত আমাদের ক্লাস নিয়েছেন, তখন তার জ্ঞানের গভীরতায় মুগ্ধ হতাম। একটি বিষয় পড়াতে গিয়ে তিনি অনেক বিষয়ের অবতারণা করতেন। কখনোই তার ক্লাস নির্দিষ্ট সময়ে শেষ হতো না। আমাদের টিউটোরিয়াল বা অনুশীলনী পরীক্ষা ছিল তার সাথে। অসম্ভব সরলতা এবং অনানুষ্ঠানিক ও অনাড়ম্বর আচার-আচরণে আমাদের অনেক প্রিয় ছিলেন তিনি। একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা বলি- একদিন স্যারের বাসায় গিয়েছি একাডেমিক প্রয়োজনে। বাসায় কেউ ছিল না। শুধু স্যারই ছিলেন। তিনি আমাকে ‘বসো’ বলে বাইরে গেলেন। ফিরে এলেন আমার জন্য কলা আর রুটি নিয়ে। দেখে তো হতবাক। আমি পিএইচডিতে ভর্তি হওয়ার আগে আমার প্রিয়জন স্যারদের পরামর্শ নেয়া প্রয়োজন মনে করেছি। তালুকদার স্যারের কাছে গিয়েছি, তিনি আমাকে কিছু না বলে ভেতরে গেলেন। সাথে নিয়ে এলেন তার ‘ইমারজেন্স অব বাংলাদেশ’ বইটি। হাতে ধরে বইটিতে তিনি ‘জিয়া রিজিম’ অধ্যায়টি বের করলেন। বললেন, এটা ৩০ পাতা আছে। তথ্য-উপাত্ত ও প্রমাণাদি নিয়ে এটিকে ৩০০ পৃষ্ঠা করো। এভাবেই তিনি জিয়াউর রহমানের সামরিক শাসনকাল সম্পর্কে গবেষণায় উদ্বুদ্ধ করেছেন। আর আমার থিসিসের শেষ কাজটি করেছেন আমার আরেকজন পিতৃস্থানীয় শিক্ষক এমাজউদ্দিন আহমেদ। ছাত্রজীবনে ক্লাসের পর বাকি সময় যে তিনি গবেষণায় কাটাতেন, তা বেশ টের পেতাম। আমাদের বলতেন, ওই সময়ে ছাত্র সংগঠনের তরফ থেকে যা কিছু প্রকাশনা-লিফলেট ও পুস্তিকা বের হয়েছে, আমরা যেন তাকে দেই। কক্ষে না থাকলেও আমরা যেন সেগুলো দরজার নিচ দিয়ে রেখে আসি। আমাদের আরো কাজে লাগিয়েছিলেন দলগুলোর ঘোষণাপত্র, গঠনতন্ত্র ও ম্যানিফেস্টো সংগ্রহ করতে। একই কাজ করেছিলেন প্রফেসর ড. শামসুল হুদা হারুন চৌধুরী। তিনি ১৯৭৩ ও ১৯৭৯ সালের সংসদ নির্বাচনী কার্যক্রমের ওপর একটি ভিন্নধর্মী বই রচনা করেছিলেন। এই বইটি শুধু নির্বাচন সংস্কৃতির ওপর সুনির্দিষ্ট ছিল। অপরদিকে বাংলাদেশের বিপ্লব তথা মহান মুক্তিযুদ্ধ ও অভ্যুদয়- পরবর্তী ঘটনাবলি নিয়ে তালুকদার মনিরুজ্জামান রচিত গ্রন্থ- The Bangladesh Revolution and its Aftermat ছিল স্বাধীনতা পরবর্তীকালের রাজনীতির একটি প্রামাণ্য দলিল। ১৯৭৪ সালের অর্থনৈতিক সঙ্কট এবং পরিবর্তিত রাজনৈতিক সমীকরণের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি একটি প্রবন্ধ রচনা করেন। Bangladesh in 1974: Economic Crisis and Political Polarization। প্রবন্ধটি রাষ্ট্রবিজ্ঞান সম্পর্কিত প্রখ্যাত সাময়িকী ‘এশিয়ান সার্ভে’তে প্রকাশিত হয়। ১৯৮২ সালে তিনি গোষ্ঠীস্বার্থ ও রাজনৈতিক পরিবর্তন সম্পর্কে একটি ব্যাপক গ্রন্থ প্রণয়ন করেন। এখানে বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানের রাজনীতির তুলনামূলক আলোচনা করা হয়। প্রফেসর তালুকদার মনিরুজ্জামান সম্ভবত বাংলাদেশের প্রথম ও প্রধান গবেষক, যিনি পৃথিবীব্যাপী বিরাজিত সামাজিক বিজ্ঞানবিষয়ক প্রায় সব গবেষণা কেন্দ্রে কাজ করেছেন। তিনি ওয়াশিংটনের উড্রো উইলসন ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার, লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং সুইডেনের আন্তর্জাতিক শান্তি গবেষণা কেন্দ্রে কাজ করেছেন। বাংলাদেশের আধাসামরিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান Bangladesh Institute of International Strategic Studies-BIISS-এর তিনি একজন প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। উপরিউক্ত আলোচনা আমাদের এই প্রত্যয় দেয় যে, বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রাথমিক দিনগুলোতে ড. তালুকদার মনিরুজ্জামান যথেষ্ট কাজ করেছেন। এই জাতিকে একটি সুন্দর, সুষম ও সমৃদ্ধির পথ বাতলিয়ে দিয়েছেন। গণতন্ত্রই যে বাংলাদেশ জাতির প্রাণশক্তিÑ তিনি তার মৃত্যুর কিছু দিন আগে প্রদত্ত সাক্ষাৎকারে তা দৃঢ়তার সাথে মনে করিয়ে দিয়েছেন। বর্তমান সময়ের সঙ্কটের উৎস যে গণতন্ত্রের অনুপস্থিতি, তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। বরেণ্য এই রাষ্ট্রবিজ্ঞানীকে স্মরণ করার উত্তম উপায় হলোÑ তার প্রদর্শিত গণতান্ত্রিক আদর্শের জন্য সংগ্রাম করা। আর শিক্ষক হিসেবে সার্থক হতে চাইলে যেন গভীর জ্ঞানের সাধনায় নিজকে নিমজ্জিত করা হয়, যেমনটি করেছেন প্রফেসর ড. তালুকদার মনিরুজ্জামান। তিনি কোনো সময়ে কোনো পদ ও স্বার্থের জন্য কোনো সরকারের দারস্থ হননি। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের সম্পর্কে আজকাল সাধারণ মানুষের ধারণা আগের মতো সমুজ্জ্বল নয়। আমরা আজ লাল-নীল-সাদা ইত্যাদি রঙে রঙিন। আসুন, আমরা জ্ঞানের রঙে রঞ্জিত হই। তার কারণ, জ্ঞানই শক্তি; জ্ঞানই পুণ্য। এটাই মরহুম তালুকদার মনিরুজ্জামানের শিক্ষা।
লেখক : অধ্যাপক, সরকার ও রাজনীতি বিভাগ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
Mal55ju@yahoo.com
৩ দিনের মাথায় সীমান্ত এলাকায় সচল মোবাইল নেটওয়ার্ক
লোকসমাজ ডেস্ক॥ বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে এক কিলোমিটারের মধ্যে মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ রাখার নির্দেশনা প্রত্যাহার করে নিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)।
বুধবার (০১ জানুয়ারি) গ্রামীণফোন, রবি, বাংলালিংক ও টেলিটককে- এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়। বিটিআরসির সিনিয়র সহকারী পরিচালক মো. জাকির হোসেন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়, নেটওয়ার্ক বন্ধ রাখার নির্দেশনার ফলে সীমান্ত এলাকায় প্রায় এক কোটি গ্রাহক মোবাইল নেটওয়ার্ক সমস্যায় পড়েন।
এদিকে, নেটওয়ার্ক বন্ধ রাখার নির্দেশনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত পাওয়ার পর নেটওয়ার্ক সচল করতে কাজ শুরু করেছে অপারেটরগুলো।
গত ২৯ ডিসেম্বর চার অপারেটরকে পাঠানো বিটিআরসি’র নির্দেশনায় বলা হয়, ‘বর্তমান প্রেক্ষাপটে দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত সীমান্ত এলাকায় নেটওয়ার্ক কাভারেজ বন্ধ রাখতে হবে’।
পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত বলবৎ থাকবে বলে চিঠিতে জানানো হয়েছিল।
ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে বড় কথা ক্রয়ক্ষমতা বাড়ানো : প্রধানমন্ত্রী
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আমরা যতই ব্যবসা-বাণিজ্য করি, তার চেয়ে বড় কথা আমাদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়াতে হবে। সেই সঙ্গে আমরা রপ্তানি করবো। কিন্তু সেই রপ্তানি আরও অধিক দেশে করতে চাই। সবথেকে অগ্রাধিকার দিতে চাই প্রতিবেশী দেশগুলোকে। সেজন্য আমাদের প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করতে সমঝোতা স্মারক করেছি। এছাড়া দেশে যাতে বিনিয়োগ আসে, সেদিকে আমরা বিশেষ দৃষ্টি দিয়েছি।’ বুধবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে মাসব্যাপী ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এটি বাণিজ্য মেলার ২৫তম আসর। ৩২ একর জমির ওপর নতুন রূপে সাজানো হয়েছে এবারের বাণিজ্য মেলা।
মেলার প্রধান গেট সাজানো হয়েছে জাতীয় স্মৃতিসৌধের আদলে, সঙ্গে থাকবে পদ্মা সেতুর মডেল। মেলায় আগত দেশি-বিদেশি অংশগ্রহণকারী এবং দর্শনার্থীদের জন্য সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হয়েছে। খোলামেলা পরিসরে গত বছরের তুলনায় এবার স্টলের সংখ্যা কমানো হয়েছে। গত বছর মোট ৬৩০টি ছোট-বড় স্টল ছিল। এবার তা কমিয়ে করা হয়েছে ৪৮৩টি। এর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ক্যাটাগরির প্যাভেলিয়ন ১১২টি, মিনি প্যাভেলিয়ন ১২৮টি এবং বিভিন্ন ক্যাটাগরির স্টল ২৪৩টি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটি দেশকে যদি উন্নত করতে হয়, তাহলে ব্যবসা-বাণিজ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, মানুষকে কর্মক্ষম করা, প্রশিক্ষণ দেওয়া, তাদের শিক্ষিত করে গড়ে তোলা এবং অন্যান্য অবকাঠামোগত সুবিধা সৃষ্টি করা একান্তভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলেই আমরা নানা উদ্যোগ নিয়েছি।’ প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা যখন দ্বিতীয়বার সরকার গঠন করলাম, তখন সারা বিশ্বে অর্থনৈতিক মন্দা ছিল। কিন্তু বাংলাদেশ আজ সেই মন্দা কাটিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। আমাদের রপ্তানিও ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছি। ৮.১৫ ভাগ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি। ধারাবাহিকভাবে প্রবৃদ্ধি অর্জন বৃদ্ধি করে যাচ্ছি। দারিদ্র্যের হার ৪১ ভাগ থেকে ২০.৫ ভাগে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বেশি সুবিধা দিচ্ছি। বিনিয়োগকারীদের জন্য দেশে ১২টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রস্তুত করা হয়েছে। এসব অর্থনৈতিক অঞ্চলে আমরা দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জায়গা করে দিতে চাই। দেশের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে, কৃষি জমি সুরক্ষা এবং শিল্পায়নের জন্যই বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরি করা হয়েছে। এর কার্যক্রম পূর্ণাঙ্গভাবে শুরু হলে আমাদের প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যেন অধিক পরিমাণে পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানি করতে পারি সেদিকে নজর দিচ্ছি। আইসিটিকে সবচেয়ে গুরুত্ব দিচ্ছি। যত বেশি ডিজিটাল ডিভাইস উৎপাদন ও রপ্তানি করতে পারবো, দেশ তত বেশি উন্নত হবে।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা সবদিক থেকেই যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করে দিচ্ছি। পূর্বাচলে আমরা নতুন জায়গায় বাণিজ্য কেন্দ্র করে দিচ্ছি। আমি আশা করি আগামী বাণিজ্য মেলা পূর্বাচলে করতে পারবো। বাণিজ্য মেলা ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের জন্য একটা বড় ভূমিকা পালন করবে। এই মেলা আমাদের আরও উন্নয়নের পথ খুলে দেবে।’
নাসিম এখন ‘বড়’, তাই ‘ছোটদের’ দলে নেই
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ ১৬ বছর বয়সে পাকিস্তান টেস্ট দলে অভিষেক হয়েছে নাসিম শাহর। মাত্র তিনটি টেস্ট খেলেছেন, তাতেই গতির ঝড় তুলে আলোড়ন তুলেছেন ক্রিকেট বিশ্বে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টে দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ঠ বোলার হিসেবে ৫ উইকেট নিয়েছেন। জাতীয় দলেই যার এমন সাফল্য তাকে আবার যুবদলে খেলানো কেন? তাকে তাই অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের পাকিস্তান দল থেকে সরিয়ে নিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড(পিসিবি)।তার বদলে নেওয়া হয়েছে মোহাম্মদ ওয়াসিম জুনিয়রকে।
নাসিম থাকছেন না বলে পাকিস্তান যুবদলের শক্তি খর্ব হয়ে যায়নি। ওয়াসিম খান বলেছেন ঘোষিত দলটি অনেক অভিজ্ঞ, ‘তাই বলে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে পাকিস্তানের সম্ভাবনা শেষ হয়ে যাচ্ছে না। কারণ নির্বাচকেরা এমন দলই গড়েছে যারা অনেক অভিজ্ঞ এবং ভালো করার ব্যাপারে খুব আত্মবিশ্বাসী।’ তিনটি টেস্ট খেলা নাসিমের অভিষেক হয়েছে গত নভেম্বরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। ডানহাতি এই পেসারকে রেখে দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশের বিপক্ষে হোম সিরিজের জন্য। এই সময়ে তিনি বোলিং কোচ ওয়াকার ইউনিসের সঙ্গে কাজ করবেন। নাসিমের বদলে জায়গা পাওয়া ওয়াসিম জুনিয়র তার মতো গত বছরের অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপেও খেলেছেন। খেলেছেন বয়সভিত্তিক দলটির দক্ষিণ আফ্রিকা সফরেও। দুই সফরেই ওয়াসিম জুনিয়র উইকেট নিয়েছেন তিনটি করে। শ্রীলঙ্কা সফরে গতির ঝড় তুলে নিয়েছেন ৭ উইকেট। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে দুবারের চ্যাম্পিয়ন (২০০৪ ও ২০০৬) ও তিন বারের রানার্সআপ পাকিস্তান খেলবে গ্রুপ ‘সি’তে। এই গ্রুপে বাংলাদেশই পাকিস্তানের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী, সঙ্গে আছে স্কটল্যান্ড ও জিম্বাবুয়ে। ১৬ দলের এই টুর্নামেন্ট শুরু হবে আগামী ১৭ জানুয়ারি।
তালায় উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানকে প্রেসক্লাবের সংবর্ধনা
তালা (সাতক্ষীরা) সংবাদদাতা ॥ তালা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সরদার মশিয়ার রহমান উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হবার পর সম্প্রতি তালা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর এ সাফল্যর জন্য বুধবার বিকালে তালা প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রেসক্লাবের সভাপতি প্রভাষক প্রণব ঘোষ বাবলুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি অধ্যক্ষ আবু আহমেদ। প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি গাজী জাহিদুর রহমানের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতির সাতক্ষীরা জেলা সভাপতি ও তালা শহীদ মুক্তিযোদ্ধা মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ এনামুল ইসলাম, দৈনিক পত্রদূত পত্রিকার সম্পাদক লায়লা পারভীন সেজুঁতি, তালা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের প্রাক্তন ডেপুটি কমান্ডার মোঃ আলাউদ্দীন জোয়ার্দ্দার ও উন্নয়ন প্রচষ্টা পরিচালক শেখ ইয়াকুব আলী। সংবর্ধিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন তালা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সরদার মশিয়ার রহমান।
শেখ হাসিনাকে ফোন নরেন্দ্র মোদির
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। গতকাল বুধবার দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীকে টেলিফোন করে খ্রিস্টিয় নববর্ষ-২০২০ এর শুভেচ্ছা জানান তিনি। এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নরেন্দ্র মোদিকেও নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান এবং ভারতের জনগণের কাছে তার শুভেচ্ছা বার্তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম জানান, দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে প্রায় ১৫ মিনিট ফোনালাপ হয়।
দাঁড়িয়ে পানি পান করছেন তো বিপদ ডেকে আনছেন
লোকসমাজ ডেস্ক॥ মানুষের জীবনে পানির বিকল্প নেই। পানি কিডনির মাধ্যমে শরীরের সব ক্ষতিকারক উপাদান দূর করে দেয়। তবে পানি পান করার নিয়মও আছে। অনেকেই দাঁড়িয়ে পানি পান করে থাকেন। কিন্তু জানেন কী দাঁড়িয়ে পানি পান করলে শরীরের নানা ধরনের ক্ষতি হতে পারে। টাইমস অব ইন্ডিয়া অবলম্বনে চলুন জেনে নিই দাঁড়িয়ে পানি পান করলে যেসব ক্ষতি হতে পারে।
১. যখন দাঁড়িয়ে পানি পান করেন তখন পানি সরাসরি পাকস্থলিতে চলে যায়। তারপর খুব দ্রুতই প্রস্রাবের মাধ্যমে বের হয়ে যায়। এর মাধ্যমে কিডনির ক্ষতি হতে পারে।
২. দাঁড়িয়ে পানি পান করলে আপনার শরীরের জয়েন্টে ব্যথা হতে পারে।
৩. এই অভ্যাসটি শরীরের অক্সিজেন সরবরাহকে বাধা দেয়। এতে করে ফুসফুসের ক্ষতি হতে পারে।
৪. দাঁড়িয়ে পানি খেলে নার্ভে প্রদাহ বেড়ে যায়। ফলে কোনো কারণ ছাড়াই দুশ্চিন্তা এবং মানসিক চাপ বেড়ে যেতে পারে।
৫. বদহজমের সমস্যা হয়।
৬. এসিড লেভেলে তারতম্য ঘটে দাঁড়িয়ে পানি খেলে। দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় পানি খেলে শরীরে ক্ষরণ হতে থাকা অ্যাসিডকে তরল করতে পারে না। এর ফলে স্বাভাবিকভাবেই নানাবিধ সমস্যা দেখা দেয়।
৭. এ অভ্যাসটির জন্য আর্থ্রাইটিসে আক্রান্ত হতে সময় লাগে না।








