লোকসমাজ ডেস্ক॥ শীতের নানা রকম রঙিন সবজি দিয়ে রান্না করা যায় মজার সব খাবার। ঠান্ডা ঠান্ডা দিনে চমৎকার স্বাদের সবজি খিচুড়ি হলে জমবে বেশ। সেইসঙ্গে যদি যোগ হয় আচারের স্বাদ, তবে তো কথাই নেই। চলুন জেনে নেই সবজি দিয়ে আচারি খিচুড়ি তৈরির রেসিপি-
উপকরণ:
তেল ১/২ কাপ
রসুন কুঁচি ৩ টেবিল চামচ
পেঁয়াজ কুঁচি ৩ টেবিল চামচ
শুকনো মরিচ ৪-৫ টি
পাঁচ ফোড়ন ১ টেবিল চামচ (আস্ত)
হলুদ গুঁড়া ১ টেবিল চামচ
জিরা গুঁড়া ১ টেবিল চামচ
মরিচ গুঁড়া ১ টেবিল চামচ
আদা বাটা ১ টেবিল চামচ
পানি(সামান্য)
লবণ স্বাদমতো
পেঁপে ১/২ কাপ (কিউব করে কাটা)
বরবটি ১/২ কাপ
গাজর ১/২ কাপ (কিউব করে কাটা)
ফুলকপি ১/২ কাপ
নাজিরশাইল চাল ১/২ কেজি
ডাল ১ কাপ
টক মিষ্টি আমের আচার ১ কাপ।
প্রণালি:
প্রথমে তেল গরম করে রসুন কুঁচি, পেঁয়াজ কুঁচি, শুকনো মরিচ, পাঁচ ফোড়ন দিয়ে বাদামি করে ভেঁজে নিতে হবে। এবার হলুদ গুঁড়া, জিরা গুঁড়া, মরিচ গুঁড়া, আদা বাটা ও সামান্য পানি দিয়ে মশলা ভালোমত কষিয়ে স্বাদমতো লবণ দিয়ে দিতে হবে। এরপর পেঁপে, বরবটি, গাজর, ফুলকপি দিয়ে কিছুক্ষণ রান্না করে নিতে হবে।
এরপর আধা ঘণ্টা ভিজিয়ে পানি ঝরিয়ে রাখা নাজিরশাইল চাল, ডাল দিয়ে ভালো মতো কষিয়ে এবং পরিমাণ মতো পানি দিয়ে ২০ মিনিট ঢেকে দিয়ে ভালোভাবে রান্না করে নিতে হবে। রান্না হয়ে গেলে টক মিষ্টি আমের আঁচার দিয়ে পুরো খিচুড়িটি ভালোভাবে নেড়ে মিলিয়ে নিলেই হয়ে যাবে মজাদার সবজির আচারি খিচুড়ি। মনমতো সাজিয়ে পরিবেশন করুন।
শীতের সবজি দিয়ে রাঁধুন সুস্বাদু আচারি খিচুড়ি
২৫ বছরের যুবকের প্রেমে ম্যাডোনা
লোকসমাজ ডেস্ক॥ জনপ্রিয় মার্কিন পপ গায়িকা ম্যাডোনা ২৫ বছরের যুককের সঙ্গে অসম প্রেমে জড়িয়েছেন বলে। তার প্রেমিকের নাম আহমালিক উইলিয়ামস। এমন একটি গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে।
প্রেমিকের বাবা ড্রিউকে নাকি ম্যাডোনা জানিয়েছেন, তার ছেলের প্রতি ভালোবাসার কথা। সম্প্রতি ম্যাডোনা আহমালিকের বাবা-মাকে নৈশভোজে আমন্ত্রণ জানিয়ে তাদের ছেলের প্রতি ভালোবাসার কথা জানান।
ড্রিউ জানিয়েছেন, তার ছেলে ও স্ত্রীর কোনও আপত্তি নেই। তবে তিনি জানান, ম্যাডোনা তার চেয়ে যেমন বয়সে বড় তেমনি তার স্ত্রীও বয়সে ছোট ম্যাডোনার চেয়ে। তার ছেলের চেয়ে ম্যাডোনা ৩৬ বছরের বড় হলেও মার্কিন পপ তারকার সঙ্গে ছেলের সম্পর্কে উইলিয়ামসরা বেশ খুশি বলেই জানান।
২০২০ সালে লন্ডন এবং ফ্রান্সে নিজের শোগুলোতে প্রেমিকের বাবা-মাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ৬১ বছর বয়সী গায়িকা।
সাবেক প্রেমিকার সঙ্গে বাগান বাড়িতে সালমান খান
লোকসমাজ ডেস্ক॥ পানভেলের বাগান বাড়িতে নতুন বছর শুরু করলেন (Salman Khan) সলমন খান৷ তাও আবার প্রাক্তন বান্ধবী সঙ্গীতা বিজলানির সঙ্গে৷ অবাক লাগছে শুনে? সম্প্রতি ৫৪ বছরে পা দেন সালমান খান৷ এবার সোহেল খানের ব্যান্দ্রার ফ্ল্যাটে পরিবারের লোকের সঙ্গেই জন্মদিন পালন করেন বলিউড তারকা৷ অত্যন্ত সাদামাঠাভাবে জন্মদিন পালন করার পর, জমিয়ে নতুন বছর কাটালেন সালমান খান৷
যেখানে সালমানের প্রাক্তন বান্ধবী সঙ্গীতা বিজলানি, বলিউড অভিনেত্রী ডেইজি শাহ, প্রযোজক সাজিদ নাদিয়াদওয়ালা এবং তাঁর স্ত্রী ওয়ারধা নাদিয়াদওয়ালা-দের দেখা গেছে। শুধু তাই নয়, নতুন বছরের সকালে পানভেলের বাগান বাড়িতে হেটে বেড়াতে দেখা যায় সালমানকে৷
অন্যদিকে ডেইজি, সঙ্গীতা এবং ওয়ারধাকেও দেখা যায় প্রাতঃভ্রমণ করতে৷ নিরাপত্তা রক্ষীদের সঙ্গেই সলমনের বাগান বাড়িতে হেটে বেড়াতে দেখা যায় (Sangeeta Bijlani) সঙ্গীতা, ডেইজি এবং ওয়ারধাদের।
যশোরে পথ শিশুদের নিয়ে ব্যতিক্রম কার্যক্রম
স্টাফ রিপোর্টার ॥ ১ জানুয়ারি নতুন দশকের প্রথম দিন উপলক্ষেণ আই ম্যাটার সমাজ কল্যাণ সংস্থা যশোরের পথ শিশুদের নিয়ে একটি ব্যতিক্রম কার্যক্রমের আয়োজন করে। যশোর কাক্টেরেট প্রাঙ্গণে ১৫ জন সুবিধাবঞ্চিত পথ শিুর হাতে সকাল সাড়ে ৯টায় সারাদিনের জন্যে ক্যামেরা তুলে দেিয় তাদের চোখে পৃথিবী দেখা ও তাদের মনস্তত্ত্ব বোঝার জন্যে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ফারাজী আ্হম্মেদ সাইদ বুলবুল, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক প্রতিদিনের কথা ও সভাপতি চাঁদেরহাট ফাহমিদা নাসরিন সোমা, সহ-সভাপতি আইম্যাটার কাজী রকিবুল হক লেলিন, সম্পাদক আইম্যাটার স্বেচ্ছাসেবক, তানভির, আরাফাত, সাদিয়া, বাধন, আন্নি, তানিয়া ওসজিব।
পাকিস্তানের চার শহরেই এবার পুরো পিএসএল
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ এর আগে কখনো ফাইনাল, কখনো কোয়ালিফায়ার এবং ফাইনাল আয়োজনের পর এবার পুরো পিএসএলই (পাকিস্তান সুপার লিগ) পাকিস্তানের মাটিতে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পিসিবি (পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড)। ২০ ফেব্রুয়ারি শুরু হবে এবারের পিএসএল। শেষ হবে ২২ মার্চ। পাকিস্তানের চারটি শহরে অনুষ্ঠিত হবে পিএসএলের মোট ৩৪টি ম্যাচ। ২০১৬ সালে যাত্রা শুরু হয় পিএসএলের। সেবার পুরো পিএসএলই অনুষ্ঠিত হয়েছে আরব আমিরাতের মাটিতে। আবুধাবি, দুবাই এবং শারজায়। এরপর, ২০১৭ সালের পিএসএলের ফাইনালছাড়া সব ম্যাচই অনুষ্ঠিত হয় আরব আমিরাতে। ফাইনাল ম্যাচটিই কেবল লাহোরের গাদ্দাফী স্টেডিয়ামে আয়োজন করা হয় ব্যাপক নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে। এরপর ২০১৮ সালে দুটি ইলিমিনেটর এবং ফাইনালসহ মোট তিনটি ম্যাচ আয়োজন করা হয় করাচি এবং লাহোরে। ২০১৯ সালে এসে পাকিস্তানের মাটিতে ম্যাচের সংখ্যা আরও বাড়িয়ে দেয় পিসিবি। আয়োজন করা হয় গ্রুপ পর্বের চারটি ম্যাচ। এছাড়া কোয়ালিফায়ার এবং ইলিমিনেটর ও ফাইনাল ম্যাচগুলোও আয়াজন করা হয় পাকিস্তানের মাটিতে।
এবার পিসিবি সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুরো পিএসএলই অনুষ্ঠিত হবে তাদের নিজেদের দেশে। ভিন্ন কোনো দেশে ভাড়া করা স্টেডিয়ামে নয়। আজ এই ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। ২০০৯ সালে শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট দলের ওপর নারকীয় সন্ত্রাসী হামলা হওয়ার পর থেকে পাকিস্তানের মাটি থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অলিখিতভাবে নিষিদ্ধ হয়ে যায়। বিদেশি কোনো দল তো দুরে থাক, কোনো ক্রিকেটার এবং কর্মকর্তাও পাকিস্তান সফর করতে যেতে ভয় পেতে শুরু করে। অবশেষে পিসিবির টানা প্রচেষ্টার কারণে ধীরে ধীরে পাকিস্তানের মাটিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফিরতে শুরু করেছে। সেই শ্রীলঙ্কাই কিছুদিন আগে দুই দফায় পাকিস্তান সফর করে গেলো। প্রথমবার টি-টোয়েন্টি খেলতে, পরেরবার দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফিরে আসার কারণেই এবার পিসিবি সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাদের ঘরোয়া ফ্রাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টটি আয়োজন করবে ঘরের মাঠেই। এ কারণে তারা লাহোর, করাচি, রাওয়ালপিন্ডি এবং মুলতানকে বেছে নিয়েছে। ফাইনালসহ লাহোরের গাদ্দাফী স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে মোট ১৪টি ম্যাচ। করাচি ন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনীসহ মোট ৯টি ম্যাচ। রাওয়ালপিন্ডিতে কিছুদিন আগে অনুষ্ঠিত হয়েছে পাকিস্তান এবং শ্রীলঙ্কার মধ্যকার টেস্ট ম্যাচ। ওই ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে মোট ৮ ম্যাচ। এছাড়া মুলতানে অনুষ্ঠিত হবে তিন ম্যাচ। পিসিবি চেয়ারম্যান এহসান মানি বলেন, ‘পাকিস্তানে টেস্ট ক্রিকেট ফিরে আসার পর ঘরের মাঠে পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) আয়োজন করতে পারাটা হচ্ছে আমাদের অনেক বড় একটি অর্জন। আমার কখনোই কোনো সন্দেহ ছিল না যে, এটা পাকিস্তানের ঘরোয়া লিগ এবং ঘরের দর্শকদের সামনেই এটা আয়োজন করা সম্ভব হবে।’
নতুন বছরের প্রথম দিনে বই উৎসবে মাতলো যশোরের ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা
বিএম আসাদ ॥ নতুন বছরের প্রথম দিনে যশোর ুেজলার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের সাড়ে ৬ লাখ শিক্ষার্থী পেল ২০২০ শিক্ষাবর্ষের প্রায় অর্ধকোটি বই। এ সব বই পেয়ে ুদে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আনন্দে মেতে ওঠে। যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফ গকাল সকাল ৯টায় যশোর জিলা স্কুল, যশোর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও ঝুমঝুমপুর বালিয়াডাঙ্গা সরকাির প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পৃথক পাঠ্যপুস্তক উৎসবে প্রধান অতিথি হিসেবে শিক্ষার্থীদের মাঝে বই বিতরণ করার মধ্য দিয়ে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকগণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শিক্ষা ও আইসিটি শাম্মী ইসলাম, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এসএমএ খালেক, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শেখ অহিদুল আলম, শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্বাস উদ্দিন, মুকুল হায়দার অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিভিন্ন গ্রুপে ভাগ হয়ে অতিরিক্ত জলো প্রশাসকগণ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই বিতরণ করেনস। যশোর শিক্ষা বোর্ড সরকারি মডেল স্কুল এন্ড কলেজে প্রধান অতিথি হিসেবে বই বিতরণ করেন শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক প্রফেসর কেএম গোলাম রব্বানী। সভাপতিত্ব করেন প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ লে. কর্নেল মো. গোলাম মোস্তফা এইসি। যশোর সরকারি এমএম কলেজের উপাধ্যক্ষ, অভিভাবক প্রতিনিধি ও শিক্ষকবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন। অনুরূপভাবে যশোর সম্মিলনী ইন্সটিটিউশন, এমএসটিপি স্কুলি এন্ড কলেজ, যশোর পুলিশ লাইন স্কুল, ঘোপ মাহমুদুর রহমান মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ জেলা উপজেলার সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়, সকল মাধ্যমিক বিদ্যালয়, দাখিল, ইফতেদায়ী মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের মাঝে অনুরূপভাবে পাঠ্য পুস্তক বিতরণ করা হয়েছে। জাতীয়তাবাদী পতাকা উত্তোলন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এ সময় শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের ভিড়ে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ ভরে ওঠে। নতুন বই পেয়ে তারা উল্লাস প্রকাশ করে। যশোর সদর উপজেলা, অভয়নগর, কেশবপুর, চৌগাছা, ঝিকরগাছা, বাঘারপাড়া, মনিরামপুর ও শার্মা মিলে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩ লাখ ৬ হাজার ৭শ’ ৬৯ জন। তাদের মাঝে বিতরণ করা হয় ১৪ লাখ ৫৫ হাজ৭ার ৭৫টি বই। এছাড়া প্রি-প্রাইমারীতে সম্ভাব্য নতুন ুদে শিক্ষার্থীদের জন্য ৫৪ হাজার ৯শ’ এবং ইংলিশ ভার্ষনের জন্য ৪ হাজার ৪শ’ ৬৭টি বই বরাদ্দ রাখা হয়েছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শেখ অহিদুল আল জানিয়েছেন , মাধ্যমিক স্তরে ৩০ লাখ ৭ হাজার ১শ’ ৯৭টি, দাখিলে ৮ লাখ ৬৩ হাজার ৯শ’, ইবতেদায়ীতে ৪ লাখ ৭৭ হাজার ৭শ’ ৬টি, ইংলিশ ভার্ষনে ১৩ হাজার ৯শ’ ৯৫টি, এসএসসি ভোক-৫৭ হাজার ৩শ’, দাখিল ভোক ১ হাজার ২০টি ও ট্রেড কোর্সে ২৪ হাজার ১শ’ ৬০টি বই বিনামূল্যে বিতরণ করা হচ্ছে। মাধ্যমিকে ২ লাখ ১০ হাজার, ইংলিশ ভার্ষনে ৭শ’ ৮০ জন, দাখিলে ৫৬ হাজার ৫০ জন, ইবতেদায়ীতে ৬৭ হাজার ৯৫ জন, দাখিল ভোক- ৭০ জন এবং এসএসসি ভোক- ৪ হাজার ৪শ’ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। বলে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এসএমএ খালেক জানিয়েছেন।
পাইকগাছায় অন্যের ধান ও চিংড়ি ঘের দখলের হুমকি আদালতে মামলা
পাইকগাছা (খুলনা) সংবাদদাতা ॥ খুলনার পাইকগাছায় অন্যের লাগানো ধান ও চিংড়ি ঘের দখলের হুমকি দেয়ায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের আদালতে মামলা হয়েছে। একই সাথে এ ঘটনায় উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। মামলা সূত্রে জানা যায়, উপজেলার দিঘলিয়া মৌজায় ৩৬ বিঘা জমি রয়েছে। পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত ওই জমিতে দিপংকর মল্লিক দীর্ঘদিন ধরে ধান ও মাছ চাষ করছেন। গত ৩০ ডিসেম্বর প্রতিপক্ষ পুলিন বিহারী মল্লিক, আল্লাদ মল্লিকরা প্রকাশ্যে ওই জমির ধান কেটে নেয়া ও চিংড়ি ঘের দখলের হুমকি দেয়। জমিতে না যাওয়ার জন্য তারা দিপংকরদের শাসিয়ে যায়। ফলে উভয়ের মধ্যে এ নিয়ে বাকবিতণ্ডা ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। বিরোধ এড়াতে থানায় অভিযোগ হলে দু’পক্ষ কোন সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে না পারায় দিপংকর মল্লিক বাদী হয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের আদালতে বুধবার ১৪৪ ধারায় একটি মামলা করেন। আদালত শুনানি শেষে রায় প্রদান করবেন বলে আইনজীবী মুহতাছিম বিল্লাহ জানান। প্রতিপক্ষ পুলিন বিহারী মল্লিকরা জানান, তাদের বৈধ কাগজপত্র রয়েছে বিধায় ওই জমির দাবিদার।
রিফাত হত্যা : মিন্নিসহ ১০ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ বরগুনার বহুল আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় অভিযুক্ত আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিসহ প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করেছেন আদালত। বুধবার দুপুর ২টার দিকে বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো: আছাদুজ্জামান এ অভিযোগ গঠন করেন। একই সাথে এ মামলার প্রথম সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ৮ জানুয়ারি দিন ধার্য করা হয়েছে। এদিকে, অভিযোগ গঠন উপলক্ষে এ মামলায় কারাগারে থাকা প্রাপ্তবয়স্ক আট আসামিকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। এছাড়া বাবার সাথে আদালতে হাজির হন এ মামলায় জামিনে থাকা নিহত রিফাতের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি। পরে আসামিদের উপস্থিতিতে তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ পড়ে শুনানো হয়।
অভিযোগ গঠন শেষে কারাগারে থাকা আট আসামিকে আবারো কারাগারে পাঠানো হয়। তারা হলেন- রাকিবুল হাসান রিফাত ফরাজি (২৩), আল কাইউম ওরফে রাব্বি আকন (২১), মোহাইমিনুল ইসলাম সিফাত (১৯), রেজওয়ান আলী খান হৃদয় ওরফে টিকটক হৃদয় (২২), মো: হাসান (১৯), মো: মুসা (২২), আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি (১৯), রাফিউল ইসলাম রাব্বি (২০), মো: সাগর (১৯) ও কামরুল ইসলাম সাইমুন (২১)। এদের মধ্যে এক থেকে সাত নম্বর অভিযুক্ত সাতজনের বিরুদ্ধে হত্যাকান্ডে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে ৩০২ এবং ৩৪ ধারায় অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। এছাড়া ৮ এবং ১০ নম্বর অভিযুক্তের বিরুদ্ধে হত্যার ষড়যন্ত্র এবং আসামিদের পালাতে সহায়তা করার অভিযোগে ২১২ এবং ১২০বি১ ধারায় অভিযোগ গঠন করা হয়ছে। এছাড়া এ মামলার প্রাপ্ত বয়স ৯ নম্বর আসামির বিরুদ্ধে আসামিদের পালাতে সহায়তা করার অভিযোগে চার্জ গঠন করা হয়েছে।
মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী মজিবুল হক কিসলু বলেন, দীর্ঘ সময় শুনানি শেষে রিফাত হত্যা মামলার প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ৮ জানুয়ারি থেকে ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এ মামলার ৩৭ আসামির সাক্ষ্যগ্রহণ করবেন আদালত। এছাড়া সাইমুন নামে এক আসামির জামিনের আবেদন করেছিলেন তার আইনজীবী। কিন্তু তা নামঞ্জুর করেন আদালত। অন্যদিকে প্রত্যেক আসামির আইনজীবী মামলা থেকে তাদের মক্কেলকে অব্যাহতির আবেদন করেন। আদালত তাও নামঞ্জুর করেন। এর আগে গত ৬ নভেম্বর রিফাত হত্যা মামলার প্রাপ্তবয়স্ক আসামিদের অভিযোগপত্র চার্জ গঠনসহ বিচারের জন্য প্রস্তত করে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে প্রেরণ করেন সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। গত ২৬ জুন বরগুনার সরকারি কলেজের সামনে রিফাত হত্যাকান্ড সংগঠিত হয়। এরপর গত ১ সেপ্টেম্বর বিকেলে ২৪ জনকে অভিযুক্ত করে প্রাপ্তবয়স্ক ও অপ্রাপ্তবয়স্ক; দুই ভাগে বিভক্ত করে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে পুলিশ। এর মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক ১০ জন এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ জন। এ মামলার চার্জশিটভুক্ত প্রাপ্তবয়স্ক আসামি মো: মুসা এখনো পলাতক। এছাড়া নিহত রিফাতের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি উচ্চ আদালতের নির্দেশে জামিনে রয়েছেন।
বেড়েছে প্রবৃদ্ধি ও মাথাপিছু আয়, অর্থনীতি চাঙা
লোকসমাজ ডেস্ক॥ গত কয়েক বছরে বিশ্বের যে কয়েকটি দেশের অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার হয়েছে তার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। ধারাবাহিকভাবে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি হচ্ছে বাংলাদেশের। অর্থনীতির আকারও বাড়ছে ক্রমবর্ধমান হারে। গত বছর (২০১৯) পুরোটাজুড়েই সুবাতাস ছিল প্রবাসী আয়ে। মাথাপিছু আয়ও বেড়েছে। এ খাতে চলতি বছরে আলোচিত বিষয় ছিল রেমিট্যান্সে প্রণোদনার ঘোষণা এবং ঋণখেলাপিদের বিশেষ সুবিধা প্রদান। নতুন তিনটি ব্যাংক অনুমোদনের বিষয়টিও ছিল আলোচনায়।
এ ছাড়া প্রতি বছরই ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে দেশের জাতীয় বাজেটের আকার। মাথাপিছু আয়ের সূচকে গত কয়েক বছরের মতো বিদায়ী বছরেও বাংলাদেশ ভালো অবস্থানে রয়েছে। অন্যদিকে, রাজস্ব আয়, রফতানি আয় ও আমদানিতে কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি আসেনি। একইসঙ্গে বছরের শেষ দিকে মূল্যস্ফীতিও ছিল ঊর্ধ্বমুখী। এই সময়ে সরকারের ঋণ করার প্রবণতা বেড়েছে। কমেছে বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ।
রেমিট্যান্সে সুবাতাস : রেমিট্যান্স নিয়ে স্বস্তিতে আছে সরকার। প্রবাসীদের আয় বৈধপথে দেশে আনা বাড়াতে জুলাই থেকে ২ শতাংশ হারে প্রণোদনা চালু করা হয়েছে। অর্থাৎ ১০০ টাকা ব্যাংকের মাধ্যমে পাঠালে তিনি ১০২ টাকা পাবেন। এরপর থেকে রেমিট্যান্স বাড়তে থাকে। এরই ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে প্রবৃদ্ধিতে। গত নভেম্বর শেষে প্রবাসী আয় দাঁড়িয়েছে ৭৭১ কোটি ৪১ লাখ ডলার। প্রবাসী আয়ে প্রবৃদ্ধির হার ২২ দশমিক ৬৭ শতাংশ। গত অর্থবছরের এ সময়ে প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৯ শতাংশ। এছাড়া নভেম্বর মাসে ১৫৫ কোটি ৫২ লাখ (১.৫৫ বিলিয়ন) ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। যা ছিল আগের বছরের নভেম্বরের চেয়ে ৩১ দশমিক ৭৫ শতাংশ বেশি। প্রবাসী আয়কে উৎসাহ দিতে সরকার এখন ২ শতাংশ হারে নগদ প্রণোদনা দিচ্ছে। এরই ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে প্রবৃদ্ধিতে।
মাথাপিছু আয় : দেশের সামগ্রিক আর্থিক অবস্থা ভালো হওয়ায় প্রবৃদ্ধি ও মাথাপিছু আয় বেড়েছে। বাংলাদেশে মানুষের বার্ষিক মাথাপিছু আয় এখন ১ হাজার ৯০৯ ডলার। এটি আগের বছরে ছিল ১ হাজার ৭৫১ ডলার। আর এতে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধিও বেড়ে হয়েছে ৮ দশমিক ১৩ শতাংশ। ২০১৮ সালে প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ।
মূল্যস্ফীতি : খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত এই দুই ধরনের পণ্যেই মূল্যস্ফীতি বছরজুড়ে ভুগিয়েছে ভোক্তাদের। বিশেষ করে পেঁয়াজের রেকর্ড মূল্য মানুষ মনে রাখবে দীর্ঘ সময়। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, নভেম্বরে গড় মূল্যস্ফীতি হয়েছে পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। আগের বছরে এ সময়ে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৫ দশমিক ৪৩ শতাংশ। সংশ্লিষ্টরা বলেন, মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার মূল্য হ্রাস, চীন ও ভারতসহ বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতি আমাদের চাপ বাড়িয়েছে। টাকার মূল্যমান কমে যাওয়ায় খাদ্যবহির্ভূত পণ্যে বেড়েছে মূল্য। প্রতি বছর আমদানি খাতে ৫ হাজার ৭৫৫ কোটি মার্কিন ডলার ব্যয় হচ্ছে। টাকার অবমূল্যায়নে এ ব্যয় বেড়েছে।
রিজার্ভ : বছরের মাঝামাঝি থেকে দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমছে। গত অক্টোবর মাস শেষে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ২৪৩ কোটি ৭৭ লাখ ডলার। গত ১৪ নভেম্বর এটি কমে দাঁড়ায় ৩ হাজার ১৬৫ কোটি ডলারে। আর নভেম্বর মাসে মোট রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ১৭২ কোটি ৯০ লাখ ডলারে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১১ ডিসেম্বর শেষে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ২১৯ কোটি ৮৭ লাখ ডলার, ৬ মাস আগে গত জুনে যা ছিল ৩ হাজার ২৭১ কোটি ৬৫ লাখ ডলার। ৬ মাসের ব্যবধানে রিজার্ভ কমেছে ৫১ কোটি ৭৮ লাখ ডলার।
রাজস্ব আয়ে ঘাটতি : সামগ্রিকভাবে চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে রাজস্ব আদায়ের ঘাটতি প্রায় ২০ হাজার ২২০ কোটি টাকা। এই চার মাসের প্রবৃদ্ধি ৪ শতাংশের সামান্য বেশি, অথচ এবার গত অর্থবছরের তুলনায় ৪৫ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা আছে। প্রতিবারই বছরের প্রথম দিকে রাজস্ব আদায় কিছুটা কম হয়। তবে বছরের দ্বিতীয়ার্ধে রাজস্ব আদায় বাড়বে বলে আশা করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
বিনিয়োগ : দেশি-বিদেশি দুই ধরনের বিনিয়োগেই দীর্ঘদিন ধরে মন্দা চলছে। তবে বিদেশি বিনিয়োগে মন্দা কাটাতে বিশেষ উদ্যোগের ফল মিলছে। চলতি অর্থবছরে জুলাই-আগস্টে বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে ৭৫ কোটি মার্কিন ডলারের। এটি বিগত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১২ শতাংশ বেশি। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে একই সময়ে দেশে বিদেশি বিনিয়োগ আসে ৭০ কোটি মার্কিন ডলার। কিন্তু দেশি বিনিয়োগে সুখবর নেই। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে যেখানে দেশি বিনিয়োগ হয়েছে ১ লাখ ২৫ হাজার ৭৯৯ কোটি টাকা, সেখানে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৭০ হাজার ৬৯৫ কোটি টাকায়। সংশ্লিষ্টরা বলেন, মূলত ঋণের সুদ হার এক অংকে নেমে না আসায় এবং ব্যাংকে ঋণখেলাপি বেড়ে যাওয়ায় বিনিয়োগে আসতে পারেননি দেশি উদ্যোক্তারা।
রফতানি আয় : প্রায় পাঁচ মাস ধরে দেশের রফতনি আয় কমছে। এই রফতানি খাতই দেশে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সবচেয়ে বড় উৎস। রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের ৫ মাস অর্থাৎ নভেম্বর শেষে ঘোষিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে রফতানি আয় কমেছে প্রায় ১২ দশমিক ৫৯ শতাংশ। এ সময়ে রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ হাজার ৮০৫ কোটি ডলার। এর বিপরীতে রফতানিতে আয় হয়েছে ১ হাজার ৫৭৭ কোটি ৭০ লাখ ডলার। নভেম্বরে রফতানি আয় কমেছে ১০ দশমিক ৭০ শতাংশ। আর আগের অর্থবছরের প্রথম ৫ মাসের তুলনায় চলতি অর্থবছর রফতানি কমেছে প্রায় ৭ দশমিক ৫৯ শতাংশ।
আমদানি ব্যয় : ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ায় আমদানি ব্যয় বেড়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে বাণিজ্য ঘাটতির ওপর। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জুলাই-অক্টোবর ৪ মাসে পণ্য আমদানিতে ব্যয় হয়েছে ১৯ হাজার ৬০৩ কোটি টাকা, এর বিপরীতে রফতানি আয় হয়েছে ১২ হাজার ৭২১ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের জুলাই-অক্টোবর মাস পর্যন্ত আমদানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ঋণাত্মক ৩ দশমিক ১৭ শতাংশ।
ডলারের দাম : গত কয়েক মাস ধরে ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমে যাচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আগের বছরের ৪ ডিসেম্বর আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে প্রতি ডলার পেতে যেখানে ব্যয় করতে হতো ৮৩ টাকা ৯০ পয়সা, চলতি মাসের একই সময়ে তা বেড়ে হয়েছে ৮৪ টাকা ৯০ পয়সা। তবে আমদানি পর্যায়ে করপোরেট ডিলিংয়ের মাধ্যমে লেনদেন হচ্ছে ৮৬ টাকা পর্যন্ত।
বাণিজ্য ঘাটতি : আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সামগ্রিক পণ্য বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান মতে, চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রথম ৪ মাসে বাণিজ্যে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৫৬২ কোটি ডলার, যা বাংলাদেশি টাকায় ৪৭ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।
খেলাপি ঋণ : গত ৯ মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ২২ হাজার কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর শেষে ব্যাংক খাতে বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯ লাখ ৬৯ হাজার ৮৮২ কোটি টাকা। এর মধ্যে অবলোপন বাদে খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ ১৬ হাজার ২৮৮ কোটি টাকা। যা মোট ঋণের ১১ দশমিক ৯৯ শতাংশ। ২০১৮ সালের ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণ ছিল ৯৩ হাজার ৯৯১ কোটি টাকা। এ হিসাবে গত ৯ মাসে দেশে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ২২ হাজার ৯ কোটি টাকা।
সরকারের ব্যাংক ঋণ : ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণের পরিমাণ বেড়েই চলেছে। চলতি অর্থবছরের পুরো সময়ে যে ঋণ নেওয়ার কথা ছিল তার প্রায় পুরোটা গত ৫ মাসেই নিয়ে ফেলেছে। বাজেট ঘাটতি মেটাতে চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ৪৭ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা ঋণ বা ধার নেওয়ার লক্ষ্য ধরেছে সরকার। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে দেখা গেছে, ৫ মাস ৯ দিনেই (১ জুলাই থেকে ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত) ৪৭ হাজার ১৩৯ কোটি টাকা নিয়েছে সরকার।
নিত্যপণ্যের বাজার : বছরের ব্যবধানে পেঁয়াজের মূল্য ৫৩৬ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের হিসাবে ১ মাসের ব্যবধানে সরু চালের মূল্য ৮ দশমিক ৯১ শতাংশ, মাঝারি চাল ৮ দশমিক ৮৯ শতাংশ ও মোটা চালের দাম ৪ দশমিক ১৯ শতাংশ বেড়েছে। অন্যান্য নিত্যপণ্যের দাম বছরজুড়েই প্রায় স্থিতিশীল ছিল।
অভ্যন্তরীণ খাদ্য উৎপাদন : খাদ্যপণ্যের উৎপাদন আগের অর্থবছরের তুলনায় ৩ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি নির্ধারণ করা হয়েছে। এ সময়ে আউশ উৎপাদন বেড়েছে ২ দশমিক ৪ শতাংশ, আমন শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ ও বোরো ধান বেড়েছে ৪ দশমিক ২ শতাংশ। এ প্রবণতা থেকে চলতি অর্থবছরে মোট খাদ্য শস্যের উৎপাদন লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ কোটি ৮৭ লাখ টন। এর মধ্যে আউশ ২৯ লাখ ৩০ হাজার টন, আমন ১ কোটি ৫৩ লাখ টন ও বোরো ২ কোটি ৪ লাখ টন। পর্যাপ্ত উৎপাদন হওয়ায় চালের বাজার স্থিতিশীল থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রাজস্ব আয় : প্রায় ১৬ দশমিক ২৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধিতে চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরে এনবিআরকে ৩ লাখ ২৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছিল। যা মোট জিডিপির ১১ দশমিক ৩ শতাংশ। যেখানে মোট কর রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৮১০ কোটি টাকা। অথচ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই থেকে অক্টোবর) প্রবৃদ্ধি মাত্র সাড়ে ৪ শতাংশ। এ সময় রাজস্ব আদায় হয়েছে ৬৫ হাজার ৯৬ কোটি টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২০ হাজার কোটি টাকা কম। সবচেয়ে বেশি আয়করে প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ১১ দশমিক ৪৬ শতাংশ।
সুষ্ঠু হবে না জেনেও সিটি নির্বাচনে যাচ্ছে বিএনপি : মির্জা ফখরুল
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ বর্তমান সরকার ও নির্বাচন কমিশনের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয় প্রমাণের জন্য নির্বাচনে যাচ্ছি বলে জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বুধবার দুপুরে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে ছাত্রদলের ৪১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ছাত্র সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ফখরুল বলেন, মানুষ শুধু আমাদের প্রশ্ন করে, আপনারা নির্বাচনে কেন গেলেন? ২০১৪ সালে যখন নির্বাচনে যাইনি তখন বলা হয়েছে আমরা ভুল করেছি। ২০১৮ সালে নির্বাচনে গিয়েছিলাম এটা প্রমাণ করতে যে, আওয়ামী লীগের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। তিনি বলেন, এখন অনেকে প্রশ্ন করছেন, ঢাকা সিটি নির্বাচনে গেলেন কেন? আমি বলতে চাই, আওয়ামী লীগের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না, এ কথা বারবার প্রমাণ করার জন্যই মেয়র নির্বাচনে গিয়েছি। সরকারের কড়া সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, বেগম খালেদা জিয়া শীতের মধ্যে অত্যন্ত কষ্টে আছেন। আমি গতকাল খবর পেয়েছি, হাসপাতালে তার একটি রুমহিটার দেয়ার জন্য নেয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্মম এই সরকার সেই হিটারটাও অনুমতি দেয়নি।
দেশের জনগণ এ সরকারকে চায় না মন্তব্য করে ফখরুল বলেন, আজকে এ সরকারের নেতারা লম্বা লম্বা কথা বলেন। বন্দুক দিয়ে, পিস্তল দিয়ে গায়ের জোরে ক্ষমতায় বসে আছেন। জনগণের সরকার তো তারা নন। জনগণ তাদের ভোট দেয়নি। আমি চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি, রাস্তার মধ্যে ১০০ জনকে জিজ্ঞেস করেন, ৯০ জন বলবে, এ সরকারকে আমরা চাই না। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের উদ্দেশ্য তিনি বলেন, আপনার ওই পুলিশ বাদ দিয়ে দেখুন মানুষ কী বলে। দেখুন দেয়ালে কী লেখা আছে।
ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন বলেন, আমরা মুখ দেখাতে পারি না কথাটা ঠিক নয়। বলতে পারেন, আমরা মাথা নত করিনি। এ সরকার মাথা নত করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখনো প্যারোলে মুক্তি নিয়ে আছেন। আমাদের নেত্রী কিন্তু প্যারোলে মুক্তি নেননি। ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দীন আলম বলেন, আমরা আমাদের কথা রাখতে পারিনি। আজকে মানুষ ছাত্রদল নিয়ে হাসাহাসি করে, বিএনপি নিয়ে হাসে। কারণ আমরা আমাদের নেত্রীকে মুক্ত করতে পারিনি। মুখে আমরা অনেক কথাই বলি, তা বাস্তবে পরিণত করতে হবে। অন্যান্য দল আইন ভেঙে মিছিল সমাবেশ করতে পারে। বিএনপির জন্য কেন এতো আইন, এ আইন ভাঙতে হবে। ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হাসান শ্যামলের সঞ্চালনায় সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান, বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল, ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আকরামুল হক মিন্টু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।









