লোকসমাজ ডেস্ক ॥ যাত্রীদের স্বাস্থ্যব্যবস্থাসহ তাদের মধ্যে সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্তদের শনাক্ত করতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রয়েছে স্বাস্থ্যকেন্দ্র। তবে পর্যাপ্ত জায়গা, জনবল ও যন্ত্রপাতি সংকট রয়েছে এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ও আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার মানদণ্ড-নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে না। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত যাত্রী শনাক্তকরণ ও হৃদরোগে আক্রান্তদের চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম। সংশ্লিষ্টদের দাবি, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করা হচ্ছে, যেসব সংকট রয়েছে, তা দ্রুত কাটিয়ে উঠতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জন্য অনুমোদিত জনবল প্রয়োজনের তুলনায় খু্বই কম। চাপ সামলাতে প্রেষণে সংযুক্ত জনবল দিয়ে চালানো হচ্ছে কার্যক্রম। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জন্য সহকারী বিমানবন্দর স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (চিকিৎসক) পদে অনুমোদিত জনবল মাত্র ৩ জন। বর্তমানে প্রেষণে সংযুক্ত ১ জনসহ ৪ জন কর্মরত আছেন। এই ৪ জন চিকিৎসকে ২৪ ঘণ্টা চিকিৎসাসেবার কাজ চালানো হচ্ছে। ফলে চার জনের কেউ প্রশিক্ষণে গেলে, ছুটিতে থাকলে বা অসুস্থ হলে সংকট তীব্র হয়। মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট পদে অনুমোদিত জনবল ১৮ জন হলেও প্রেষণে সংযুক্ত ৫ জনসহ ৯জন দায়িত্ব পালন করছেন। সহকারী সেবক পদে ৩জন অনুমোদিত থাকলেও দায়িত্ব পালন করছেন ১ জন। পৃথকীকরণ সহকারী পদে অনুমোদিত জনবল ১জন থাকলেও বর্তমানে এ পদে কেউ নেই। অফিস সহায়ক পদে ৮জন অনুমোদিত থাকলেও দায়িত্ব পালন করছেন ১জন। দুটি অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও কোনোটিতেই হৃদরোগ আক্রান্তদের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার কোনও সুযোগ নেই। সূত্র জানায়, হযরত শাহাজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দেশি-বিদেশি ৩৯টি এয়ারলাইন্সের দিনে গড়ে ২৫০টি ফ্লাইট ওঠা-নামা করে। বছরে ৮০ লাখের বেশি যাত্রী ব্যবহার করে এই বিমানবন্দর। এই বিপুল পরিমাণ যাত্রী চলাচলের অনুপাতে বিমানবন্দরের স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জনবল অপ্রতুল। ২৪ ঘণ্টা কার্যক্রম চালাতে যে জনবল প্রয়োজন, তা না থাকায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার নির্ধারিত মানদণ্ড অনুসরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। একইসঙ্গে যে পরিমাণ জনবল আছে, তারাও যথাযথ প্রশিক্ষিত নন। ইসিজি মেশিন, সাকার মেশিন, নেবুলাইজার মেশিন, অটোক্লেব মেশিনসহ অন্যান্য যন্ত্র থাকলেও এগুলোর পরিচালনার জন্য প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কেউ নেই। হাসপাতালগুলোয় এসব যন্ত্র পরিচালনার জন্য আলাদাভাবে টেকনোলজিস্ট পদে জনবল থাকে। তবে, বিমানবন্দরে এসব পদ না থাকায় চিকিৎসক ও নার্সদের এই বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। অন্যদিকে কোনও রোগীকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে পরবর্তী চিকিৎসার জন্য কুর্মিটোলা হাসপাতালে পাঠানো হয় অ্যাম্বুলেন্সে। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জনবল না থাকায় শুধু অ্যাম্বুলেন্স চালক ছাড়া গাড়িতে রোগীর সঙ্গে কেউ থাকে না। আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী, বিমানবন্দর স্বাস্থ্যকেন্দ্র হতে হবে দৃশ্যমান ও বহিগর্মনের সুবিধা রয়েছে এমন স্থানে। যেন যেকোনও যাত্রী শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে নিজেই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যেতে পারেন। একইসঙ্গে কোনও রোগীকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার জন্য বহিগর্মনের সুবিধা রয়েছে এমন স্থানে স্থাপনের বিধান রয়েছে। তবে, এই দু’টি নিয়মের কোনোটিই অনুসরণ হচ্ছে না শাহজালালের স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ক্ষেত্রে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল ভবনের দক্ষিণ পাশে প্রথম তলা ও দ্বিতীয় তলার কয়েকটি কক্ষে পরিচালিত হচ্ছে বিমানবন্দর স্বাস্থ্যকেন্দ্র। দ্বিতীয় তলার রুমগুলো বহির্গমন কনকোস হলের পাশে খানিকটা দৃশ্যমান হলেও নিচতলায় যাত্রীদের নজরের বাইরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের রুমগুলো। প্রতিটি রুম আয়তনে খুব ছোট। রোগীকে চিকিৎসা দিতে একই রুমে চিকিৎসক, নার্স দাঁড়ানোর জায়গাও নেই। জায়গা না থাকায় স্বাস্থ্যকেন্দ্রের রেফ্রিজারেটরসহ অন্য যন্ত্রপাতি রুমের বাইরে খোলা স্থানে রাখতে হয়। নিচ তলায় স্বাস্থ্যকেন্দ্রের দরজার পাশে ফেলে রাখা হয়েছে পরিত্যক্ত আসবাবপত্র। ইসিজি মেশিন, সাকার মেশিন, নেবুলাইজার মেশিন, অটোক্লেব মেশিন থাকলেও জায়গার সংকটে ব্যবহার হচ্ছে না। কারণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের রুমগুলো আয়তনে ছোট হওয়ায় রোগীর বেড, চিকিৎসক ও যন্ত্রপাতি একই কক্ষে রাখার মতো স্থান নেই। বর্তমানে জরুরি রোগী এলে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের খোলা জায়গায় বেড নিয়ে যন্ত্রপাতির মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্বয়ংসম্পূর্ণ স্বাস্থ্যকেন্দ্র রাখার বিধান রয়েছে। একইসঙ্গে সেই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সঙ্গে নিকটবর্তী যেকোনও জেনারেল হাসতাপালের সঙ্গে সমঝোতা থাকতে হবে। যেন বিমানবন্দর স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে দ্রুত সময়ে কোনও রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা যায়। বর্তমানে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সঙ্গে কুর্মিটোলা জেনারেল থাসপাতালের মধ্যে এমইউ রয়েছে। তবে হৃদরোগ আক্রান্তদের আসার সংখ্যা বেশি হওয়ায় যেকোনও হৃদরোগ হাসপাতালের সঙ্গেও সমঝোতা থাকা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। যেন কুর্মিটোলার পরিবর্তে দ্রুত সময়ে সরাসরি হৃদরোগ হাসপাতালে স্থানান্তর করা যায়।
সূত্র জানায়, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সব চেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে যাত্রীদের মধ্য থেকে সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্তদের শনাক্তকরণ কার্যক্রম। বিদেশে থেকে আসা যাত্রীদের মধ্যে কেউ সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত কিনা, তা শনাক্ত করতে রয়েছে তিনটি থার্মাল স্ক্যানার। এ থার্মাল স্ক্যানার মেশিনের মাধ্যমে দেহের উত্তাপ মাপার মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে কেউ আক্রান্ত কিনা, তা শনাক্ত করা হয়। তবে ৩টি মেশিন থাকলেও একটি মেশিন প্রায় সময়ে বিকল হয়ে যায়। জিকা, ইবোলা ও নিপাহসহ বেশকিছু সংক্রামক ব্যাধি ভাইরাসে আক্রান্ত হলেও প্রাথমিক লক্ষণ জ্বর। আর এ কারণে যাত্রীদের শরীরের তাপমাত্রা পরিমাপের জন্য থার্মাল স্ক্যানার জরুরি। নিয়ম অনুযায়ী শুধু উপসর্গ দেখে ইবোলা সংক্রমণ নিশ্চিত করা যায় না। প্রাথমিকভাবে শনাক্ত আক্রান্তদের শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে শনাক্ত করতে হয়। এ সময়ে শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিকে আইসুলেশনের মধ্যে রাখতে হয়।
সূত্র জানায়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নিয়ম অনুসারে থার্মাল স্ক্যানার মেশিনের প্রাথমিকভাবে শনাক্ত ব্যক্তিকে কোয়ারেন্টাইন হাসপাতালে স্থানান্তর করতে হবে। এজন্য বিমানবন্দরের কাছাকাছি কোয়ারেন্টাইন হাসপাতাল থাকতে হবে অথবা বিমানবন্দরে কোয়ারেন্টাইন ব্যবস্থা থাকতে হবে। শাহজালাল বিমানবন্দরে হ্যাঙ্গার গেটের কাছে একটি ভবনে কোয়ারেন্টাইন হাসপাতাল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ভবনটি র্যাপিড একশন ব্যাটিলিয়ন (র্যাব)-কে তাদের সদর দফতর হিসেবে ব্যবহার করতে দেওয়ায় এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়নি। পরে নিয়ম রক্ষার জন্য টার্মিনাল ভবনের নিচ তলার একটি রুমে নিয়ম না মেনে কোয়ারেন্টাইন ব্যবস্থা করা হয়েছে। নিয়ম অনুসায়ী সন্দেহভাজন আক্রান্ত ব্যক্তিকে শতভাগ নিশ্চিত না হওয়ার আগ পর্যন্ত অন্য সব মানুষের কাছ থেকে দূরে রাখতে হয়। নির্দিষ্ট স্থানেই সে ব্যক্তির খাওয়া, ঘুম, মলমূত্র ত্যাগের ব্যবস্থা থাকবে। এমনকি সুরক্ষার জন্য চিকিৎসদেরও বিশেষ পোশাক পরতে হবে। শাহজালাল বিমানবন্দরের কোয়ারেন্টাইন রুমে রোগীর খাওয়া ও মল-মূত্র ত্যাগের কোনও ব্যবস্থা নেই, সাধারণ যাত্রীদের টয়লেটই ভরসা। এমনকি বিমানবন্দরের থেকে রোগীকে সাধারণ যাত্রীদের সংস্পর্শ না এনে হাসপাতালে নিতে পৃথক গেট রাখার ব্যবস্থার নিয়ম থাকলেও তা নেই শাহজালাল বিমানবন্দরে।
অন্যদিকে, আফ্রিকাসহ যেসব দেশে প্রাণঘাতী সংক্রামব্যাধির প্রকোপ বেশি সেদেশ থেকে ফ্লাইট আসার আগাম তথ্য জানানো হয় না স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে। ফলে অগ্রিম প্রস্তুতি নিতে না পারছে না স্বাস্থ্যকেন্দ্র। নিয়মিত স্বাস্থ্য বিষয়ক মহড়ার বিধান থাকলে তা পালন করা হয় না। গত ২১ অক্টোবর ঢাকায় ইন্টারন্যাশনাল সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশনের (আইকাও) কোলাবেরেশন অ্যারেঞ্জমেন্ট ফর দ্য প্রিভেনশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অব পাবলিক হেলথ ইভেন্টস ইন সিভিল এভিয়েশন-এশিয়া প্যাসেফিক (সিএপিএসসিএ-এপি) এর ১১তম সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সময় প্রথমবারের মতো শাহজালালে পাবলিক হেলথ বিষয়ক মহড়াও অনুষ্ঠিত হয়।
বিমানবন্দরের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ শাহরিয়ার সাজ্জাদ বলেন, ‘আমরা কেউই প্রত্যাশা করি না, আমাদের দেশে ভয়াবহ সংক্রামব্যাধি নিয়ে কেউ আসুক ও তা ছড়িয়ে পড়ুক। কিন্তু এ বিষয়টি মোকাবিলার জন্য আমাদের সব সময় প্রস্তুত থাকতে হবে। বর্তমানে আমাদের বড় সংকট হচ্ছে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকা। এছাড়া, জনবল বাড়ানো প্রয়াজন। সামগ্রিক বিষয় নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও সিভিল অ্যাভিয়েশন অথরিটিকে জানানো হয়েছে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমান বলেন, ‘বিমানবন্দরের স্বাস্থ্যকেন্দ্র আগের চেয়ে অনেক বেশি উন্নত করা হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় অনেক আধুনিক যন্ত্রপাতি দিয়েছে। মূলত আমাদের এখানে কাজ হচ্ছে মনিটরিং করা। যেন আক্রান্ত কোনও ব্যক্তি দেশে চলে না আসতে পার। হেলথ অ্যালার্ট থাকলে মনিটরিং আরও বেড়ে যায়। আপতত দৃষ্টিতে আমাদের বিমানবন্দর স্বাস্থ্যকেন্দ্র বিশ্বের অনেক দেশের তুলনায় খারাপ নেই।’ ভবিষতে আরও উন্নয়ন করা হবে বলেও তিনি জানান।
জনবল-যন্ত্রপাতি সংকটে ধুঁকছে বিমানবন্দর স্বাস্থ্যকেন্দ্র
নভেম্বর-ডিসেম্বরে সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করা ৪৪৫ জনের সবাই বাংলাদেশী
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ বিদায়ী বছরে (২০১৯) ভারত থেকে অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে আসা হাজারখানেক নাগরিককে আটক করা হয়েছে; এর মধ্যে দেশটির নাগরিকত্ব আইন সংশোধন হওয়ার পর নভেম্বর-ডিসেম্বর দুই মাসে এসেছেন ৪৪৫ জন বাংলাদেশী নাগরিক। বৃহস্পতিবার দুপুরে পিলখানায় বিজিবি সদর দফতরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন বর্ডার গার্ডার বাংলাদেশের(বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল সাফিনুল ইসলাম। ভারতের নাগরিকত্ব সংশোধন আইন (সিএএ) ও আসামের এনআরসি নিয়ে বিজিবি উদ্বিগ্ন নয় বলেও জানান তিনি।
গত ২৫-৩০ ডিসেম্বর নয়াদিল্লিতে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি-বিএসএফ’র মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকের বিষয় নিয়ে এই সংবাদ সম্মেলন করেন বিজিবির ডিজি। তিনি বলেন, সীমান্তরক্ষী বাহিনী হিসেবে আমাদের দায়িত্ব, অবৈধভাবে কেউ সীমান্ত যাতে অতিক্রম করতে না পারে তা নিশ্চিত করা। এটি আমাদের রুটিন দায়িত্ব। এনআরসি (ন্যাশনাল রেজিস্টার অফ সিটিজেনস) বা সিএএ (সিটিজেনশিপ অ্যামেন্ডমেন্ট অ্যাক্ট) ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। সেটা নিয়ে আমাদের উদ্বেগের কোনো কারণ নেই।
বিজিবি প্রধানের দাবি, ফেরত আসা সবাই বাংলাদেশী নাগরিক, যারা বিভিন্ন সময় অবৈধভাবে ভারতে গিয়েছিলেন; এদের ফেরত আসার সঙ্গে ভারতের নাগরিকপঞ্জি বা নাগরিকত্ব আইনের কোনো সম্পর্ক নেই। গত অগাস্টে ভারতের আসামের চূড়ান্ত নাগরিকপঞ্জি প্রকাশ হলে দেখা যায়, রাজ্যটির বাসিন্দা ১৯ লাখ মানুষের নাম সেখানে স্থান পায়নি। বাদ পড়াদের ‘অবৈধ বাংলাদেশী’হিসেবে চিহ্নিত করে ভারত থেকে বের করে দেয়া হবে বলে আলোচনা ছিল ভারতীয় গণমাধ্যমে। এই পরিস্থিতিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে ভারতীয় সীমান্ত হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের ঘটনায় মানুষজনের আটক হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। আসামে নাগরিকপঞ্জি বা এনআরসি নিয়ে বিতর্কের পর ভারত সরকার ১৯৫৫ সালের নাগরিকত্ব আইন সংশোধন (সিএএ) করে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে যাওয়া হিন্দু, খ্রিস্টান, শিখ, জৈন, বৌদ্ধ ও পার্সি শরণার্থীদের ভারতীয় নাগরিকত্ব পাওয়ার পথ সুগম করে। এরপর থেকেই সহিংস বিক্ষোভ চলছে দেশটির বিভিন্ন অংশে। ওই অস্থিরতার মধ্যে ডিসেম্বরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভারত সফর বাতিল করা হয়।
তবে এনআরসি এবং সিএএ নিয়ে ভারতের পক্ষ থেকে বরাবরই আশ্বস্ত করে বলা হয়েছে, এগুলো একান্তই তাদের নিজস্ব বিষয়, এ নিয়ে বাংলাদেশের উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই। বিদায়ী বছরে মোট কতজন অনুপ্রেবশকারী আটক হয়েছে জানতে চাইলে বিজিবিপ্রধান বলেন, ‘কোনো অনুপ্রবেশকারীকে ঢুকতে দেয়া হয় না, আমরা দিই না।’ তিনি বলেন, গত এক বছরে তিনজন পাচারকারীসহ প্রায় এক হাজার জনকে আটক করা হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে খোঁজ-খবর নিয়ে বাংলাদেশি নাগরিকত্ব নিশ্চিত হওয়ার পর তাদেরকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। তারা সবাই বাংলাদেশী এবং অধিকাংশই ভারতে কাজের সন্ধানে গিয়েছিলেন বলে জানান বিজিবি প্রধান।মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠকে এনআরসি নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি বলেও জানান তিনি।
এসএমই ঋণ সহজ করলো বাংলাদেশ ব্যাংক
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ সিএমএসএমই (কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি) খাতের গ্রাহকদের ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে সহায়ক জামানত হিসেবে ব্যক্তিগত গ্যারান্টির বিষয়টি আরও সহজ করলো বাংলাদেশ ব্যাংক। এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। দেশের সব বাণিজ্যিক ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীর কাছে পাঠানো প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এসএমই ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট ব্যক্তির গ্যারান্টি দেওয়ার ব্যাপারে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের কোনও ধরনের চাপ দেওয়া যাবে না। গ্রাহকদের বাধ্যও করা যাবে না।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জামানতবিহীন ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত গ্যারান্টিকে সহায়ক জামানত হিসেবে বিবেচনা করার নির্দেশনা আগের প্রজ্ঞাপনেই দেওয়া ছিল। পাশাপাশি গ্রাহককে একের বেশি ব্যক্তিগত গ্যারান্টি দেওয়ার ক্ষেত্রে বাধ্য না করার বিষয়ও উল্লেখ করা আছে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, ব্যাংকগুলো একের বেশি ও সুনির্দিষ্ট ব্যক্তির (যেমন: উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা, বিত্তবান আত্মীয়-স্বজন, স্বামী-স্ত্রী ইত্যাদি) গ্যারান্টি দেওয়ার জন্য গ্রাহককে চাপ দেওয়া হচ্ছে। ফলে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা একদিকে ঋণ পাওয়া থেকে বিরত থাকছে, অন্যদিকে সিএমএসএমই খাতের উন্নয়নও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। প্রসঙ্গত, সাধারণত জামানত ছাড়া কোনও ব্যাংক ঋণ দেয় না। তবে, বিশেষ কাজে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এসএমই খাতের নতুন উদ্যোক্তাকে জামানত ছাড়া ঋণ দিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা রয়েছে। বিনা জামানতে একজন নারী উদ্যোক্তাকে ২৫ লাখ এবং পুরুষ উদ্যোক্তাকে ১০ লাখ টাকা ঋণ দেওয়ার বিধান রয়েছে। এক্ষেত্রে ঋণের জন্য ব্যাংকের কাছে গ্রহণযোগ্য কোনও ব্যক্তিকে গ্যারান্টার হতে হয়।
বাংলাদেশের সঙ্গে খেলতে বিশ্বকাপ থেকে বাদ পাকিস্তানি বিস্ময় বালক
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ গত দুই মাসে যেনো রূপকথার মতো বদলে গেছে পাকিস্তানের বিস্ময় বালক নাসিম শাহর জীবন। মাত্র ১৬ বছর বয়সে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে খেলেছেন টেস্ট ম্যাচ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নাম লেখানোর পর সুযোগ পেয়েছিলেন অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপেও খেলার সুযোগ। আসন্ন অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের জন্য গত ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ঘোষণা করা হয়েছিল পাকিস্তানের ১৫ সদস্যের স্কোয়াড। যেখানে ছিলেন নাসিমও। তবে তার এবারের বিশ্বকাপে খেলা হবে না। কারণ টুর্নামেন্ট শুরুর সপ্তাহ দুয়েক আগে স্কোয়াড থেকে নাসিমকে বাদ দিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। তবে অন্য কোনো কারণ নয়। মূলত নাসিমকে যুব ক্রিকেটের চেয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলানোর দিকেই বেশি আগ্রহী পাকিস্তান। আর সে কারণেই বিশ্বকাপ থেকে তার নাম বাদ দিয়ে দেয়া হয়েছে। যাতে করে বাংলাদেশের বিপক্ষে ঘরের মাঠে সিরিজ খেলতে পারেন ১৬ বছর বয়সী এ তরুণ।
সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ১৭ জানুয়ারি থেকে শুরু হবে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের এবারের আসর। একইসময়ে না হলেও, জানুয়ারির শেষ সপ্তাহেই বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের পাকিস্তান সফরের ব্যাপারে আলোচনা চলছে। দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ড মতানৈক্যে পৌঁছলেই পাকিস্তানে খেলতে যাবে বাংলাদেশ। মূলত এই সিরিজের জন্যই নাসিম শাহকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দিয়েছে পাকিস্তান। এর বদলে তাকে নেয়া হবে বাংলাদেশের বিপক্ষে হোম সিরিজের স্কোয়াডে। নাসিমকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেয়ায়, তার বদলে ১৮ বছর বয়সী পেসার মোহাম্মদ ওয়াসিম জুনিয়রকে দলে নিয়েছে পিসিবি।
যুব বিশ্বকাপে পাকিস্তানের পরিবর্তিত স্কোয়াড : রোহাইল নাজির (অধিনায়ক), আব্দুল ওয়াহিদ বাঙ্গালজাই, হায়দার আলি, মোহাম্মদ শেহজাদ, মোহাম্মদ হারিস, মোহাম্মদ হুরাইরা, মোহাম্মদ ইরদান খান, আব্বাস আফ্রিদি, ফাহাদ মুনির, কাশিম আকরাম, আমির আলি, আরিশ আলি খান, আমির খান, মোহাম্মদ ওয়াসিম জুনিয়র এবং তাহির হুসাইন।
টিম ম্যানেজম্যান্ট : ইজাজ আহমেদ (হেড কোচ এবং ম্যানেজার), ইফতিখার আনজুম (বোলিং কোচ), আব্দুল মাজিদ (সহকারী কোচ), সাবুর আহমেদ (ট্রেইনার), হাফিজ নাইম উর রাসুল (ফিজিও থেরাপিস্ট), উসমান হাশমি (এনালিস্ট), ইম্মাদ আহুমেদ হামিদ (মিডিয়া ম্যানেজার), কর্নেল (অব.) উসমান রিফাত আনসারি (নিরাপত্তা ব্যবস্থাপক)।
ঝিনাইদহে জাতীয় সমাজসেবা দিবস পালিত
স্টাফ রিপোর্টার, ঝিনাইদহ ॥‘সোনার বাংলায় মুজিব বর্ষে, সমাজকল্যাণ এগিয়ে চলে’ এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ঝিনাইদহে জাতীয় সমাজসেবা দিবস পালিত হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের আয়োজনে বুধবার সকালে শহরের চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে একটি র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক ঘুরে একই স্থানে গিয়ে শেষ হয়। পরে সমাজসেবা কার্যালয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক আব্দুল লতিফ সেখের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ। বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিলু মিয়া বিশ্বাস, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আরিফ-উজ-জামান, সেলিম রেজা, অতিরিক্তি জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রবিউল ইসলাম, মানবাধিকার কর্মী আমিনুর রহমান টুকু, সাবেক উপাধ্যক্ষ এন এম শাহজালাল। এছাড়াও অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাসহ বেসরকারি সংগঠনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় বক্তারা, সমাজসেবার সেবা আরও সহজতর করতে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তা গ্রহণ করতে কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান।
ডেট লাইন-ভয়াল ২৯ ডিসেম্বরের কালোরাত!
গোলাম মাওলা রনি
আমার জীবনে একটা সময় ছিল যখন মনে করতাম, ২৯ ডিসেম্বর দিনটি আমার জন্য সৌভাগ্যের প্রতীক। তারিখটি নিয়ে আমার দুর্বলতার প্রধান এবং প্রথম কারণ ছিল, এদিন আমার একমাত্র মেয়ে নন্দিতার জন্ম হয়েছিল। পরে আরো অনেক প্রাপ্তি-সফলতা, ঘটনা-অনুঘটনার সাথে যোগ হয়েছিল ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর। তারিখটি যেদিন আমি জীবনে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলাম। ফলে ডিসেম্বর এলেই আমার মনের মধ্যে এক ধরনের ফুর্তি ফুর্তি ভাব এসে যেত। দু’হাতে খরচ করতাম- পেটপুরে ভালোমন্দ খেতাম এবং বেশি বেশি ভালো কাজ ও ইবাদত বন্দেগি করার চেষ্টা করতাম।
২০১৮ সালে যখন ডিসেম্বর মাস এলো তখন আমার মনের ফুর্তি ফুর্তি ভাব টইটুম্বুর হয়ে উপচে পড়ার জোগাড় হলো। ২০১৪ সালের নির্বাচনে আমি ব্যক্তিগত কারণে মনোয়ন চাইনি। পরবর্তী সময়ে মনে হয়েছিল, আমি আর নির্বাচন করব না। ব্যবসা-বাণিজ্য, ঘর-সংসার, লেখালেখি এবং সামাজিক দায়িত্ব পালনের মধ্যেই নিজেকে ব্যস্ত রাখব। কিন্তু ২০১৬ সালে এসে আমার মনে আবার রাজনীতির চুলবুলানি শুরু হয়ে গেল- আবার আরো অনেকের সাথে পাল্লা দিয়ে আওয়ামী লীগ করা শুরু করলাম। আমার সর্বশক্তি নিয়োগ করে দলের তাঁবেদারি-তোষামোদ ছাড়াও দলের এবং সরকারের ইতিবাচক বিষয়গুলো লেখালেখি, টকশো, সভা-সমিতি, সেমিনার এবং তৃণমূলে গণসংযোগের মাধ্যমে জনগণের মধ্যে প্রচার করতে শুরু করলাম। জনগণের সাথে আমার আত্মিক সম্পর্ক- এলাকার জনপ্রিয়তা এবং ঊর্ধ্বতন নেতাদের সাথে সুসম্পর্কের কারণে আমি মনোনয়নের ব্যাপারে আশাবাদী ছিলাম। কিন্তু মনোনয়ন না পেলে দল ত্যাগ করব এমন চিন্তা কোনো দিন স্বপ্নেও করিনি। ফলে আমি যেদিন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেলাম না, সেদিন একটুও বিচলিত বা ব্যথিত হইনি। বরং নিজের কাছে এক ধরনের স্বাধীনতা অনুভব হতে লাগল। ভাবলাম, আলহামদুলিল্লাহ! এরপর আমার প্রথম সিদ্ধান্ত ছিল- সপরিবারে ওমরাহ করে এসে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় নেমে যাওয়া। ধারণা ছিল, নির্বাচনটি অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক হবে এবং সে ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর জয় নিশ্চিত করার জন্য অবশ্যই আমার সাহায্য দরকার পড়বে। আমার পরিবর্তে যাকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছিল তিনি সাঙ্গপাঙ্গ এবং ফুলের তোড়া নিয়ে আমার সাথে দেখা করতে এলেন। আমি তাকে আন্তরিকতাসহকারে অভ্যর্থনা জানালাম এবং সম্ভাব্য সব সহযোগিতার আশ্বাস দিলাম। তিনি আমার অফিস থেকে চলে যাওয়ার পর শুরু হলো বিপত্তি। আমার সাথে গত ১৫-১৬ বছর যেসব তৃণমূলের নেতাকর্মী ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছিলেন তাদের অনেকে মনোনয়ন উপলক্ষে ঢাকা চলে এসেছিলেন। তারা আমার মনোনয়নবঞ্চনার ঘটনা কিছুতেই মানতে পারলেন না। একজন কর্মী তো হার্টঅ্যাটাক করে মারাই গেল। বাকিরা যেভাবে হাউমাউ করে কান্না শুরু করলেন, তাতে জীবনে প্রথমবারের মতো সত্যিকার অর্থেই বিচলিত হয়ে পড়লাম। তাদের প্ররোচনায় আওয়ামী লীগ ত্যাগ করে কিভাবে বিএনপিতে গেলাম সেই কাহিনী বলে আজকের নিবন্ধের পরিধি বাড়াব না। বরং এবার মূল প্রসঙ্গে আসি।
নির্বাচন কমিশন যখন একাদশ সংসদ নির্বাচনের তারিখ ৩০ ডিসেম্বর বলে ঘোষণা করল, তখন কিছুটা হলেও হোঁচট খেলাম। কারণ তারিখটি ছিল আমার বোধ-বুদ্ধি, মন-মনন আচ্ছন্ন করা ২৯ ডিসেম্বর থেকে একদিন পরে। তবু মনে মনে ভাবলাম- আল্লাহ যা করেন তা হয়তো ভালোর জন্যই করেন। কারণ ২৯ তারিখ মেয়ের জন্মদিনে টেনশন না থাকাই ভালো। তার চেয়ে বরং ৩০ তারিখে জন্মদিন এবং বিজয় উৎসব দু’টো একসাথে পালন করা যাবে। ১২ ডিসেম্বর ঢাকা থেকে সপরিবারে এবং বন্ধু-পরিজন সহকারে আমার নির্বাচনী এলাকা পটুয়াখালীর গলাচিপা-দশমিনার পথে রওনা হলাম। ঢাকা থেকে পটুয়াখালী পর্যন্ত যাত্রাটি বেশ উপভোগ্য হলো এবং কোথাও কোনো সমস্যার নামগন্ধ টের পেলাম না। আমার মনে হতে লাগল- এবার বোধহয় ২৯ ডিসেম্বরের সাথে আরো একটি সৌভাগ্যের দিবস যুক্ত হবে। আমরা যখন পটুয়াখালী পৌঁছলাম, তখন রাত প্রায় ২টা বেজে গিয়েছিল। সেখানে গিয়ে খাবার টেবিলে বসে মামাশ্বশুর শাহজাহান খান যিনি এর আগে আমার আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন- জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং বিগত সংসদ নির্বাচনগুলোতে বিএনপিদলীয় প্রার্থী ছিলেন, তাকে বিষণ্ন দেখলাম। আমার শ্যালক শিপলু খানকেও বিচলিত দেখলাম। তারা জানালেন, প্রশাসনের সহায়তায় দুষ্কৃতকারীরা আমার গাড়িবহরে হামলা করে আমাকে আহত করে ঢাকা ফেরত পাঠানোর ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। তারা সদলবলে অস্ত্রসজ্জিত হয়ে পুরো নির্বাচনী এলাকায় মহড়া দিচ্ছে এবং এমন ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে, যার কারণে বিএনপির নেতাকর্মীরা ঘর থেকে বেরুতে সাহস পাচ্ছেন না। মামাশ্বশুরের কথা শুনে আমি প্রমাদ গুনলাম। কেননা তিনি পুরো পটুয়াখালী জেলার রাজনীতিতে গত ৪০ বছর ধরে নিজেকে শীর্ষ অবস্থানে টিকিয়ে রেখেছেন। গলাচিপা দশমিনা ছাড়াও পটুয়াখালী শহরে তার রয়েছে শত শত পরীক্ষিত বিশ্বস্ত এবং সাহসী নেতাকর্মী। বিগত দিনগুলোতে তিনি কোনো রকম সঙ্ঘাত ছাড়াই এলাকায় নিজ আধিপত্য বজায় রেখেছিলেন। সুতরাং সেই তিনি যখন ভয়ার্ত হয়ে পড়লেন, তখন আমি পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবনের চেষ্টা করলাম।
আমি মামাশ্বশুরকে পুরো ঘটনা গোপন রাখতে বললাম এবং আমার সঙ্গী সাথীদের ঝটপট খাবার খেতে বললাম। খাবার শেষে কাউকে কিছু বুঝতে না দিয়ে সবাইকে সেই ভোররাতে গলাচিপা পাঠালাম এবং আমি থেকে গেলাম পটুয়াখালী। উদ্দেশ্য হলো- তারা তো আমার ওপর হামলা করার জন্য ওৎ পেতে থাকবে। সুতরাং তাদের হামলার মধ্যে স্ত্রী পুত্র- পরিজনদের জড়িয়ে পরিবেশ ভারী করার মানে হয় না। পটুয়াখালী থেকে গলাচিপাতে আমার গ্রামের বাড়ি যেতে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা সময় লাগে। আমি পরিবারের লোকজনদের বিদায় জানিয়ে ভোর ৫টা পর্যন্ত নির্ঘুম রাত কাটালাম। যখন শুনলাম, তারা আক্রমণকারীদের ফাঁকি দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছে গেছে, তখন আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া জানিয়ে ঘুমাতে গেলাম। ঘুম ভাঙল জোহরের আজানের শব্দে। অজু গোসল-নামাজ-কালাম এবং খানাপিনা শেষে মোটরসাইকেলযোগে গলাচিপার পথে রওনা হলাম অনেকটা নির্লিপ্তভাবে। আমার সঙ্গী হিসেবে মামাশ্বশুর, শ্যালক এবং আরো দুই-তিনজন বিএনপির বিশ্বস্ত কর্মী। বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে বকুলবাড়িয়া নামকস্থানে গিয়ে দেখতে পেলাম এক-দেড়শ’ মোটরসাইকেলে সশস্ত্র গুন্ডারা পথ আগলে রয়েছে এবং অকথ্য ভাষায় স্লোগান দিচ্ছে। তারা অস্ত্র উঁচিয়ে বাহাদুরি দেখাচ্ছে এবং তাদের দলীয় স্লোগানে মুখে ফেনা তুলে নিজেদের আত্মবিশ্বাস অটুট রাখার চেষ্টা করছে। আমি আমার রাজনৈতিক জীবনে বহু খারাপ সময় অতিবাহিত করেছি। হুন্ডা-গুন্ডা মোকাবেলা করেই টিকে থেকেছি এবং পরিস্থিতি সবসময় নিজের অনুকূলে রেখেছি। আমি সন্ত্রাসীদের দেখে একটুও ভয় পেলাম না। আমার যে শ্যালক মোটরসাইকেল চালাচ্ছিল তাকে বললাম, মোটরসাইকেলের গতি বাড়িয়ে সোজা সন্ত্রাসীদের ওপর উঠিয়ে দেয়ার জন্য। ওরা যখন দেখল আমার মোটরসাইকেল একাকী ওদের দিকে ধেয়ে আসছে তখন ওরা চিন্তাভাবনার জন্য এক সেকেন্ড সময় ব্যয় করতে সুযোগ পেল না। ওদের সব প্রস্তুতি-পরিকল্পনা-চক্রান্ত ভেস্তে গেল। তারা অনেকটা আর্তচিৎকার দিয়ে নিজেদের মোটরসাইকেলে টান মেরে ভৌঁ দৌড় দিলো- আর সেই সুযোগে আমরা ঢুকে গেলাম আমাদের রাস্তায় যেখানে নিরস্ত্র বিএনপি কর্মীরা দাঁড়িয়ে স্লোগান দিচ্ছিল। বকুলবাড়িয়া থেকে উলানিয়া বন্দরে আমার বাড়িতে পৌঁছতে রাত ৮টা বেজে গেল। পুরো রাস্তায় হাজার হাজার নারী-পুরুষ নেমে এলেন এবং অবস্থা দেখে মনে হলো তারা বিজয় দিবসের আনন্দে মেতে উঠেছে। আমি আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করলাম।
২০১৮ সালের ২১ ডিসেম্বর পর্যন্ত আমার মনে নির্বাচন নিয়ে কোনো শঙ্কা সৃষ্টি হয়নি। সারা দেশে বিএনপির প্রার্থীদের ওপর যে মামলা হামলা হচ্ছিল তার কোনো কিছুই আমার নির্বাচনী এলাকায় হয়নি। বরং উল্টো আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এক ধরনের অশ্বস্তি ও আতঙ্কের মধ্যে ছিল। তারা শত কৌশল করেও আমাকে দ্বন্দ্ব ফ্যাসাদের মধ্যে নিতে পারেনি। বরং আমি প্রতিদিন সকালে ও বিকালে আমার বাসার সামনে যে অভিনব জনসভার আয়োজন করতে থাকলাম তাতে ৮-১০ হাজার লোক জড়ো হতো। পুরো নির্বাচনী এলাকার লোকজন শত শত মোটরসাইকেল, টেম্পো, অটোরিকশা, মাইক্রোবাসে করে যেভাবে আমার বাসায় আসতে আরম্ভ করল তাতে নির্বাচনী মাঠে ধানের শীষ ছাড়া অন্য কোনো কিছুর নামগন্ধ রইল না। এ অবস্থায় আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ প্রমাদ গুনলেন। তাদের গডফাদাররা বৈঠকে বসলেন এবং আমি সেই বৈঠকের খবর জেনে গেলাম। সাধ্যমতো সতর্কতা অবলম্বন করলাম। ফলে সঙ্ঘাত হলো না। এ অবস্থায় নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট করার জন্য বেশ কয়েকটি মিথ্যা মামলা দায়ের করা হলো। ফলে প্রায় হাজারখানেক নেতাকর্মী গ্রেফতার এড়ানোর জন্য এলাকা ছাড়লেন। অনেকে হাইকোর্ট থেকে জামিনের জন্য ঢাকায় চলে এলেন। আমি আশাহত না হয়ে সেনাবাহিনী নামার দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে থাকলাম। কিন্তু সেনাবাহিনী নামার পর ক্ষমতাসীন দলের লোকজন আরো বেপরোয়া হয়ে উঠল। আমি আমার অভিজ্ঞতা এবং জ্ঞানবুদ্ধি দিয়ে বুঝলাম ৩০ তারিখে আসলে কী হবে। কিন্তু এ কথা কিছুতেই কল্পনা করতে পারলাম না যে, ৩০ তারিখ আসলে কিছুই হবে না, যা হবে তা ২৯ ডিসেম্বরের নিশুতি রাতেই হবে।
পৃথিবীর ইতিহাসে ২৯ ডিসেম্বরের মতো ভয়াল কালোরাতের কালো থাবা অন্য কোনো জাতি ধর্ম-বর্ণ কিংবা সম্প্রদায়ভুক্ত আদম সন্তানদের জীবনে এসেছিল কি না, বলতে পারব না। তবে ১৭ কোটি মানুষের একটি দেশের শতকরা ৯০ জন যখন চরম উৎকণ্ঠা হতাশা ভয় এবং ঘৃণা নিয়ে ঘুমাতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল অথবা আধো আধো ঘুমে পরবর্তী দিনের দুঃস্বপ্নের কথা কল্পনা করছিল, ঠিক তখনই মানবজাতির ইতিহাসের সবচেয়ে ঘৃণিত ও কুখ্যাত ঘটনা বারুদের মতো সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। সেই বারুদের আগুনে মানুষের ভোটাধিকার পুড়ে ছারখার হয়ে যায়- মানুষের গণতন্ত্রের চিন্তাস্থলে রক্তাক্ত বলাৎকারের ঘটনা ঘটতে থাকে উপর্যুপরি এবং গণহারে। শয়তানি তৎপরতা, প্রতারণা এবং দানবীয় দাম্ভিকতার বলবীর্যে ব্যালট বাক্স ভরতে থাকে ধর্ষিত গণতন্ত্রের আর্তচিৎকারের মাধ্যমে। ২৯ ডিসেম্বর রাতের ঘটনা যখন আমি জানতে পারলাম তখন অন্তত এ কথা ভেবে নিজেকে প্রবোধ দেয়ার চেষ্টা করলাম যে, আমার জীবনের সৌভাগ্যের তারকাখচিত দিবসটিতে কোনো সুসংবাদ না এলেও অনাচার- অত্যাচার জুলুম ও জাল-জালিয়াতির যে বীভৎস দুঃস্বপ্ন আমি শুয়ে শুয়ে তন্দ্রাবস্থায় চাক্ষুস করলাম তার স্মৃতি কোনো দিন, কোনো কালে বা কোনো ক্ষণে ভুলতে পারব না। আমি এ কথা ভেবে নিজেকে সান্ত¦না দিলাম, ২৯ ডিসেম্বরের সুখময় স্মৃতি হয়তো কেবল আমাকে আনন্দ দেয়- অন্য দিকে দিবসটির যে ভয়াল স্মৃতি ২০১৮ সালে আমার মানসপটে রক্তাক্ত ক্ষত হিসেবে অঙ্কিত হলো তা কেবল আমি নই, তামাম দুনিয়ার শতকোটি মানুষকে রক্তাক্ত এবং বেদনাহত করেছে। এতবড় বিশাল জনগোষ্ঠীর সাথে সমব্যথী হওয়া যে কতবড় মর্যাদার তা যদি ২৯ তারিখের বলাৎকারকারীরা বুঝত তাহলে পৃথিবী অনেক বড় বিপর্যয় থেকে রক্ষা পেত।
লেখক : সাবেক সংসদ সদস্য
যশোরে নকল প্রসাধনীর রমরমা ব্যবসা
শেখ আব্দুল্লাহ হুসাইন ॥ কোনো ক্রিম শরীরের রং ফর্সা না করলেও দেদারসে যশোরের বাজারে বিক্রি হচ্ছে অসংখ্য কোম্পানির তৈরি ফেয়ারনেস ক্রিম। শুধু তাই নয়, নকল প্রসাধনীর ব্যবসাও চলছে রমরমা। তরুণীদের ফর্সা হওয়ার আগ্রহের দিকে লক্ষ্য রেখে অসাধু ব্যবসায়ীরা নকল এবং নিম্নমানের প্রসাধনী বিক্রি করে প্রচুর টাকা কামিয়ে নিচ্ছেন। চর্ম বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো ক্রিমই রং ফর্সা করতে পারে না। ভালো ব্র্যান্ড ও ভালো মানের প্রসাধনী বিক্রেতাদের অভিযোগ, অল্প সময়ে অধিক লাভবান হওয়া যায় বলে নিম্নমাণের এসব প্রসাধনীর নতুন নতুন দোকান গড়ে উঠেছে বড় বাজার ও চুড়িপট্টিতে। যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের চর্ম ও এলার্জি বিশেষঞ্জ ডা. তৌহিদুর রহমান লোকসমাজকে বলেন, কোনো প্রসাধনী শরীরের রং ফর্সা করে না। এমনকি কোনো রং ফর্সা করা ক্রিমও হতে পারে না। আসলে ফেয়ারনেস ক্রিম বলে কিছু নেই। এসব ক্রিমে হাইপোটেন্ট স্টেরয়েড অথবা স্টেরয়েড আছে। ব্যবহার করলে শরীরের রং ফর্সা অর্থাৎ সাদা দেখা যায়। তিনি বলেন, বাজারে ভারতীয় পণ্য বেটনোভেট-সি স্কিন ক্রিমে স্টেরয়েড আছে। এছাড়া এসব ক্রিমে পারদ থাকে যা থেকে ক্যান্সার হতে পারে। ফেয়ারনেস, হোয়াইটেনিং, ব্রাইটেনিং, স্কিন কেয়ার প্রসাধনী ব্যবহার করলে চামড়া পাতলা করে দেয়। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। এসব প্রসাধনী ব্যবহার করে রোদে গেলে ত্বক লাল হয়ে যায়। মুখে অবাঞ্ছিত লোম গজায়। ত্বকে ফুঁসকুড়ি হয়, চুলকানি হয় এবং জ¦ালাপোড়া করে, এলার্জি হয়, দগদগে ঘাও হতে পারে। তবে তিনি বলেন, ভালো ব্র্যান্ডের ময়েশ্চরাইজার ক্রিম ও সানস্কিন ক্রিম ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে শরীরের রং ফর্সার জন্য নয়, ত্বক মসৃণ ও রোদের রশ্মি থেকে রক্ষা করার জন্য। তাছাড়া হেলদি শপ থেকে এসব পণ্য কেনা ভালো।
ডা. তৌহিদুর রহমান আরও বলেন, মানুষের ত্বকে মেলানিন নামক এক ধরনের পদার্থ আছে। যা ত্বকের রং নির্ধারণ করে। যার শরীরে মেলানিনের পরিমাণ যত বেশি, তার ত্বক তত কালো। আর কম হলে রং ফর্সা হয়। এ মেলানিন কমানোর চিকিৎসা বা ওষুধ এখন পর্যন্ত আবিষ্কার হয়নি। তাছাড়া কেউ দাবিও করেনি যে, ত্বক ফর্সা করার ওষুধ আবিষ্কার হয়েছে। তবে ত্বক উজ্জ্বল করা যায়। আর বিভিন্ন কোম্পানির তৈরি ফেয়ারনেস ক্রিমে শরীরের রং ফর্সা হলে সবার আগে আফ্রিকার কালো মানুষরা এগুলো ব্যবহার করতো। এদিকে তরুণীদের ফর্সা হওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করে যশোরের বড় বাজারে নতুন নতুন প্রসাধনীর দোকান গড়ে উঠেছে। হাটখোলা রোডের আলুপট্টিতে কাঁচামালের ব্যবসা গুটিয়ে অনেকে প্রসাধনীর দোকান দিয়ে বসেছেন। আলুপট্টি, ফেন্সি মার্কেট ও হাটচান্নির ৫ নম্বর, ৬ নম্বর গলিতে বিভিন্ন দোকানে নিম্নমাণের ও নকল প্রসাধনী বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ভালো ব্র্যান্ডের প্রসাধনী বিক্রেতা জানান, বড় বাজারে চোরাচালানীদের মাধ্যমে ভারতীয় নিম্নমাণ ও নকল প্রসাধনী এনে অসাধু দোকানিরা এসব বিক্রি করছেন। এমনকি চুড়িপট্টিতেও কিছু কিছু দোকানে নকল প্রসাধনী পাইকারি বিক্রি হচ্ছে। ঢাকার মৌলভীবাজার, চকবাজার, জিঞ্জিরা ও নারায়ণগঞ্জে তৈরি দেশি, পাকিস্তানি, দুবাই ও চায়না কোম্পানির নামে নকল প্রসাধনী দেদারছে সামান্য দামে কিনে এনে বাজার মূল্যে বিক্রি করে অল্প সময়ে আঙুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছেন এসব অসাধু ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীদের সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে বড় বাজারে তরুণীদের চাহিদামত শরীরের রং ফর্সাকারী পাকিস্তানি ক্রিম চাঁদনি, গৌরি, ডিউ, ভারতীয় বেটনোভেট-সি ও এন, ক্লোবজি, স্কিনলাইট, চীনা ফেয়ার অ্যান্ড লাভলি, দুবাই ফেয়ার অ্যান্ড লাভলি, বডি স্প্রে, বডি লোশন, পারফিউম, মেকআপ বক্স প্রচুর বিক্রি হচ্ছে। এসব পণ্য ছাড়াও দেশি অনেক প্রসাধনী বিক্রি হচ্ছে যাতে কোনো বিএসটিআই’র সিল নেই। আবার দেশি অনেক নকল পণ্যেও ভুয়া বিএসটিআই’র সিল মারা আছে। যা ধরা সম্ভব হয় না। তবে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞরা ঠিকই বুঝতে পারেন চিকিৎসা নিতে আসা নকল প্রসাধনী ব্যবহারকারী তরুণীদের ত্বক দেখে। বৈধ ব্যবসায়ীদের দাবি, নকল ও নিম্নমাণের প্রসাধনী ব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করুক। যাতে করে তরুণীরা শারীরিক বড় ধরনের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পায়।
চাচিকে হয়রানির প্রতিবাদ করায় যুবককে পিটিয়ে হত্যা!
নড়াইল প্রতিনিধি॥ নড়াইলে চাচিকে অনৈতিক প্রস্তাব ও যৌন হয়রানির প্রতিবাদ করায় এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নড়াইলের কালিয়া উপজেলার নড়াগাতি বাজারে কম্পিউটার দোকানি জহিরুল মোল্যাকে (২৪) বুধবার সন্ধ্যায় পিটিয়ে হত্যা করেছে বখাটেরা। নিহত জহিরুল নড়াগাতি গ্রামের আকুব্বর মোল্যা আকুর ছেলে। নড়াগাতি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর কবীর জানান, জহিরুল মোল্যার চাচিকে পাশের কামশিয়া এলাকার জাহিদ ও তার সহযোগী রেজওয়ান অনৈতিক প্রস্তাব দেয়। এর প্রতিবাদ করায় জাহিদ ও তার সহযোগীরা জহিরুলকে পিটিয়ে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বুধবার সন্ধ্যায় জহিরুলকে তার দোকানের সামনে মাথায় কাঠ দিয়ে গুরুতর আঘাত করা হয়। চিকিৎসার জন্য খুলনায় নেওয়ার পথে জহিরুল মারা যান।’ তিনি জানান, এ ব্যাপারে নড়াগাতি থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
জনসম্মুখে নির্যাতন : ক্ষোভে অপমানে নারীর আত্মহত্যা
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ রাজশাহীর বাগমারায় জনসম্মুখে নির্যাতনের শিকার হয়ে ক্ষোভে, অপমানে এক নারী আত্মহত্যা করেছেন। এ ঘটনায় স্থানীয় বিহানালী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য ইউপি সদস্য আবদুল মজিদসহ ছয়জনকে আসামি করে থানায় আত্মহত্যা প্ররোচনার মামলা হয়েছে। পুলিশ জানায়, ইউপি সদস্য আবদুল মজিদের ভাই আব্দুল করিমকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে করিমকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজের মর্গে আক্তারুন নেছা (৩৮) নামে ওই নারীর মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। আক্তারুন নেছার বাড়ি রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার বড় বিহানালী ইউনিয়নের বাগান্না গ্রামে। দীর্ঘদিন ধরে তার স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগ নেই। এক ছেলে ঢাকায় থাকে। আর মেয়েকে নিয়ে বাড়িতে থাকতেন আক্তারুন নেছা। প্রতিবেশী ইউপি সদস্য আবদুল মজিদের সঙ্গে তার অনেক দিন ধরেই বিরোধ ছিল।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, খেতের ফসল নষ্টের অভিযোগ এনে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে আবদুল মজিদ এবং তার সহযোগীরা আক্তারুন নেছাকে তার বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যান। এরপর মাঠের মধ্যে স্থানীয় লোকজনের সামনে তাকে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী নির্যাতন করেন মজিদ ও তার সহযোগীরা। খবর পেয়ে ইউপি চেয়ারম্যান মাহমুদুর রহমান গ্রাম পুলিশের সহযোগিতায় ওই গৃহবধূকে উদ্ধার করেন। ঘটনাটি জানাজানি হলে আক্তারুন নেছা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। পরে সকাল ১০টার দিকে তিনি গ্রামের একটি দোকান থেকে কীটনাশক কিনে তা পান করেন। অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত স্বজনরা বাগমারা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে তাকে ভর্তি করেন। দুপুরে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। বুধবার রাতে আক্তারুন নেছার ভাই সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে বাগমারা থানায় মামলা করেন। সাইফুল ইসলামের অভিযোগ, তার বোনকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন এবং লাঞ্ছিত করা হয়েছে। এ কারণে তিনি ক্ষোভে আর অভিমানে বিষপানে আত্মহত্যা করেছেন। বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান জানান, মামলা দায়েরের পর আবদুল করিম নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি ইউপি সদস্য মজিদের ভাই। বাকি আসামিরা পলাতক। তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
শুল্কমুক্ত রপ্তানি অব্যাহত রাখতে কূটনৈতিক তৎপরতার নির্দেশ
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের পরও শুল্কমুক্ত রপ্তানি সুবিধা বজায় রাখতে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের মিশনপ্রধানদের প্রতি এ নির্দেশ দেন মন্ত্রী। একইসঙ্গে, স্বাগতিক দেশের সরকার, নীতিনির্ধারণী মহল এবং আমদানিকারকদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে রপ্তানির প্রবৃদ্ধি অক্ষুন্ন রাখতেও নির্দেশ দিয়েছেন মন্ত্রী। বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত বাংলাদেশের মিশনপ্রধানদের কাছে সম্প্রতি লেখা এক পত্রে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসব নির্দেশনা দেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের তৈরি পোশাক, ফার্মাসিউটিক্যাল এবং কৃষিপণ্য রপ্তানির সম্ভাবনাময় নতুন বাজার অনুসন্ধানে মিশনসমূহকে আরো সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। সার্বিক বিনিয়োগ এবং রপ্তানি বৃদ্ধিতে আরো মনোযোগী হতে হবে, যাতে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে রূপকল্প ২০২১ এবং রূপকল্প ২০৪১ আমরা নির্ধারিত সময়ের আগেই অর্জন করতে পারি।’ দেশে যে ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং ২৮টি হাই-টেক পার্ক সৃষ্টি করা হচ্ছে, সেখানে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে মিশনসমূহের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা প্রত্যাশা করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘সরকার বিদেশি বিনিয়োগবান্ধব যেসব নীতিগ্রহণ করেছে এবং যেসব প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে, তা বিনিয়োগকারীদের কাছে তুলে ধরতে হবে। এ বিষয়ে সকলকে বিনিয়োগ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত, বিভিন্ন প্যাকেজের বিবরণসহ বিভিন্ন তথ্য বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সরবরাহ করবে।









