লোকসমাজ ডেস্ক ॥ গত ১৮ই সেপ্টেম্বর ঢাকাসহ সারা দেশে শুরু হয়েছিল শুদ্ধি অভিযান। অভিযানে অনেক রাঘববোয়ালের সাম্রাজ্য তছনছ হয়ে গেছে। কেউ বিদেশে পালিয়েছেন। অভিযান মূলত প্রথমে ক্যাসিনো কারবারীদের বিরুদ্ধে শুরু হলেও তা শেষ পর্যন্ত ঠেকে প্রভাবশালী ঠিকাদার, কাউন্সিলর, মাদক ব্যবসায়ী ও ভূমিখেকোদের বিরুদ্ধে। তবে শুদ্ধি অভিযান নিয়ে বর্তমানে ধোঁয়াসা তৈরি হয়েছে। জনমনে প্রশ্ন জেগেছে, অভিযান কী আর চলবে? সর্বশেষ গত ৩১ অক্টোবর ঢাকার গোপীবাগ থেকে চাঁদাবাজী ও সস্ত্রাসী লালনের অভিযোগে কাউন্সিলর মঞ্জুকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর থেকে অনেকটা থমকে গেছে অভিযান। তবে আইন-শৃংঙ্খলা বাহিনী জানিয়ে, দুর্নীতি, মাদক ব্যবসায়ী ও ক্যাসিনো কান্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে অভিযান চলবে। পাশপাশি দুদকও সক্রিয় হবে। শুরুতে অভিযান ঢাকা কেন্দ্রীক হয়েছিল। এবার তা ঢাকার বাইরে মোটাদাগে শুদ্ধি অভিযানের পরিকল্পনা আছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শুদ্ধি অভিযানের প্রথম সাড়িতে থাকা র্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশনস্) কর্নেল তোফায়েল মোস্তফা সরোয়ার পিএসসি জানান, ‘আমরা শুধু নির্দিষ্ট বিষয়ে অভিযান পরিচালনা করছি না। অস্ত্র, মাদক, জঙ্গি, সস্ত্রাসীসসহ বিভিন্ন অপকর্মে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে র্যাবের অভিযান অব্যাহত থাকবে। এইতো কিছুদিন হলো হলো আমরা ১২ লাখ ইয়াবা জব্দ করেছি। সার্বিক বিষয় বিবেচনা করলে দেখা যাবে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’ গত ১৮ সেপ্টেম্বর ক্যাসিনো কান্ডে প্রথম গ্রেপ্তার হন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া। এরপর ঢাকাসহ সারাদেশে অভিযানের ডালপালা বিস্তার হতে শুরু করে। জনমনে বিশ্বাস তৈরি হয় যে, দুর্নীতি করলে ছাড় পাওয়া যাবে না। ক্যাসিনো ও দুর্নীতি বিরোধী অভিযান শুরু থেকে নিয়মিত চললেও মাঝে এসেছে ধীরগতি। সর্বশেষ ৩১শে অক্টোবর র্যাবের অভিযানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৩৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ময়নুল হক মঞ্জুকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর কোন দুর্নীতিবাজ বা ক্যাসিনো কান্ডের সঙ্গে জড়িত কাউকে গ্রেপ্তার করেনি আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। তবে র্যাব ও পুলিশ জানিয়েছে, তাদের কাছে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে। সেগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত কার্যক্রম শেষ হলেই পুরোদমে আবার শুরু হবে দুর্নীতি বিরোধী অভিযান। র্যাব ও পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে মোট ৫০ টি ক্যাসিনো ও দুর্নীতি বিরোধী অভিযান পরিচালিত হয়েছে। তার মধ্যে ৩০টি হচ্ছে র্যাবের। অভিযানের শুরুর দিকে র্যাব ছিল সামনের সাড়িতে। বাকি ২০টি পুলিশ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন সংস্থা। ঢাকায় ৩০ টি ও চট্রগ্রামের মোট ১১ টি ক্লাবে অভিযান চালানো হয়।
সূত্র জানায়, ৫০ টি অভিযানে গ্রেপ্তার হয়েছেন ২৭৫ জন। এরমধ্যে ২২৩ জন ঢাকায়। আর বাকি ৫৩ জন ঢাকার বাইরের অন্য জেলাগুলোতে। গ্রেপ্তার হওয়াদের মধ্যে অধিকাংশ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের ২ জন, ঢাকার ৩ কাউন্সিলর, যুবলীগের ৬ জন ও কৃষক লীগের ১ জন। সরকার ও দুদক কর্তৃক দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আছে ৩৪ জন ব্যক্তির বিরুদ্ধে। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, ওইসব অভিযানে ৮ কোটি ৪৭ লাখ টাকা নগদ, ১৬৬ কোটি টাকার এফডিআর, ১৩৩ টি বিভিন্ন ব্যাংকের চেক, ৮ কেজি সোনা, ২৭ টি অস্ত্র এবং সাড়ে ৪ হাজার বোতল মদ উদ্ধার করা হয়। অভিযানের ৫ টি মামলার চার্জশিট আদালতে দাখিল করেছে পুলিশ। অভিযান শুরু হওয়ার পর দুর্নীতি দমন কমিশন ইতোমধ্যেই প্রভাবশালী ২৩ ব্যক্তি ও তাদের প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৬০০ ব্যাংক হিসাবের তথ্য চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংককে চিঠি দিয়েছে। এছাড়াও আরও ১০০০ ব্যক্তির বিষয়ে তদন্ত চলমান রেখেছে দুদকসহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর অন্যান্য সংস্থা। ওই ৫০০ বক্তির মধ্যে রয়েছেন সংসদ সদস্য, রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, টেন্ডারেযুক্ত ব্যক্তি ও সরকারি কর্মকর্তাসহ আরও অনেকে। সূত্র জানায়, অভিযানের বড় অংশ ঢাকায় চালানো হয়েছে। তবে এবার জেলা পর্যায়ে অভিযান চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর। মাঠ পর্যায়ে যারা অল্প সময়ে দুর্নীতি করে হঠাৎ ফুলেফেপে উঠেছেন তাদের বিষয়ে খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। এছাড়াও দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি কার্যালয়ে দুর্নীতির যে সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে তা ভেঙ্গে দিতে উদ্যোগ নিয়েছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। কারা বিদেশে টাকা পাচার করেছে তাদের একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে দেশের টাকা দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেয়া হবে।
দুর্নীতিবিরোধী অভিযান সামনে কি?
আইএএস’র পদে আইপিএস নিয়োগে নয়া বিতর্ক
পরিতোষ পাল॥ কিন্তু আইএএসদের পদে আইপিএস নিয়োগের ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক মহলে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অবশ্য এবারই এই ঘটনা নতুন ঘটেছে তা নয়। এর আগে জেল সচিবের পদেও পর পর দু’বার দু’জন আইপিএস অফিসারকে নিয়োগ দিয়েছে রাজ্য প্রশাসন। রাজ্যের সাবেক এক মুখ্য সচিবের মতে, ব্রিটিশ আমলাতন্ত্রের ধাঁচে শিক্ষাগতযোগ্যতা নয়, প্রশিক্ষণ পর্বেই ক্যাডারভিত্তিক কৌশল রপ্ত করানো হয়। ফলে শিক্ষাগতযোগ্যতা যা-ই হোক না কেন, আইএএসদের সাধারণ প্রশাসন ও আইপিএসদের পুলিশ বাহিনী পরিচালনার কাজেই দক্ষ হিসেবে গড়ে তোলা হয়। তাই একজন আইএএস’কে জেলা শাসক করা হয়, আর আইপিএস’কে পুলিশ সুপার। তবে এবার যাকে নিয়ে এই বিতর্ক নতুন ভাবে তৈরি হয়েছে তিনি বিতর্কিত পুলিশ কমিশনার বিবেক কুমার। সম্প্রতি বিতর্কিত এই আইপিএস অফিসারকে তথ্যপ্রযুক্তি দপ্তরের প্রধান সচিব পদে নিয়োগ করা হয়েছে।
বিবেককুমারের বিরুদ্ধে বেআইনি অর্থলগ্নী সংস্থার নথি গোপন করার মামলা রয়েছে সিবিআই আদালতে। স্বাভাবিক কারণেই বিবেক কুমারের নতুন পদে নিয়োগ নিয়ে প্রশাসনিক মহল দ্বিধাবিভক্ত। আইপিএস মহলের মতে, সর্বভারতীয় ক্যাডারের যেকোনো অফিসারের প্রধান সচিব হওয়ার যোগ্যতা রয়েছে। তবে আমলাদের একাংশের মতে, আইএএস এবং আইপিএসদের প্রশিক্ষণের ধাঁচ সম্পূর্ণ আলাদা। তাই তাদের জন্য নির্দিষ্ট পদও আছে। রাজ্যের এক সাবেক মুখ্য সচিব জানিয়েছেন, বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান সচিবের পদ আইএএস’দের জন্য নির্দিষ্ট। সেখানে আইপিএস’দের বসাতে হলে কেন্দ্রীয় পার্সোনেল মন্ত্রকের অনুমতি নিতে হয়। তিন মাসের বেশি অনুমোদন দিতে পারে না মন্ত্রক। প্রয়োজন হলে তা আবার বাড়ানোর আবেদন করতে হয়। এ ক্ষেত্রে যদি তা মানা না হয়ে থাকে, তা হলে সেটা বেনিয়ম হয়েছে। তবে ক্যাডার পোস্টে অন্য অফিসারদের বসানোর রীতি অনেক দিন আগেই বদলেছে। মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান সচিব পদটি আইএএসদের জন্য নির্দিষ্ট ছিল। সেখানে এখন আইএএস নেই। এ ছাড়াও তেলেঙ্গানাতেও স্বরাষ্ট্র সচিব পদে আইপিএস অফিসার বসেছেন। হিমাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরের প্রধান কর্তাও আইপিএস।
জনপ্রিয় হচ্ছে স্ট্রিট লাইব্রেরি
স্ট্রিট লাইব্রেরি বা পথ গ্রন্থাগারের ভাবনা কলকাতা শহরে দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে চলেছে। পথের ধারে বা পার্কে থাকছে র্যাকে সাজানো থরে থরে বই ও পত্রিকা। সময় ও সুযোগ মতো কেউ সেখান থেকে মনের মতো বই বেছে নিয়ে পড়েও ফেলছেন। আবার পড়া হয়ে গেলে তা যথাস্থানে রেখেও দিচ্ছেন। এমনই এক পাঠকের ভাষ্য, তিনি স্ট্রিট লাইব্রেরি থেকে নেয়া একটি গোটা উপন্যাসের বই পড়ে ফেলেছেন কয়েকদিনে। আর এই ধরনের লাইব্রেরির আসল পড়ুয়া অবসরে যাওয়া মানুষই। কলকাতা শহরের চেনা কয়েকটি পার্ক, যেমন দক্ষিণ কলকাতার দেশপ্রিয় পার্ক, পার্ক স্ট্রিটের অ্যালেন পার্ক, ভবানীপুরের নর্দান পার্কে এই স্ট্রিট লাইব্রেরি চলছে। এই ভাবনাকে ছড়িয়ে দেয়ার আসল উদ্দেশ্যই হলো, নাগরিকদের মধ্যে বইয়ের প্রতি ভালোবাসা এবং তা পড়ার অভ্যাস ছড়িয়ে দেয়া। অবশ্য কলকাতাতে এই স্ট্রিট লাইব্রেরির সূচনা হয়েছিল এক নিরাপত্তাকর্মীর উদ্যোগে। কয়েক বছর ধরেই উত্তর কলকাতার জগৎ মুখার্জি পার্কে তার প্রচেষ্টায় চলছে এমন একটি স্ট্রিট লাইব্রেরি। স্থানীয় বাসিন্দারা বিভিন্ন ধরনের বই তুলে দিয়েছেন পার্কের ওই গ্রন্থাগারের জন্য। এবার স্ট্রিট লাইব্রেরি কলকাতার অন্যান্য পার্কেও তৈরি করতে উদ্যোগী হয়েছে কলকাতা পুরসভা।
বছরখানেক আগেই অবশ্য কলকাতা পুরসভার অনুমোদন নিয়ে কাজ শুরু করে একটি বেসরকারি সংস্থা কয়েকটি এমন স্ট্রিট লাইব্রেরি চালু করেছে। এই সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বইগুলো এমন ভাবে রাখা হয়েছে, যাতে বৃষ্টির ছাঁট বা রোদ সেসবের ক্ষতি করতে না পারে। এমনকি সেগুলো ধুলো থেকে বাঁচাতে পর্দা দেয়া হয়েছে। খোলা জায়গায় বই রাখলে চুরির আশঙ্কা প্রসঙ্গে সংস্থার গ্রন্থাগারিক মনোজ সাঁই বলেছেন, সচরাচর বই চুরি হয় না। কেউ নিলে বুঝতে হবে সংস্থার উদ্দেশ্য সফল হয়েছে। তার দাবি, এমন কিছু ঘটলে সংস্থা ওই লাইব্রেরিতে ফের বই দেবে। এদিকে কলকাতা পুরসভার মেয়র পারিষদ (উদ্যান) দেবাশিস কুমার জানিয়েছেন, দক্ষিণ কলকাতায় দেশপ্রিয় পার্কে এই ধরনের স্ট্রিট লাইব্রেরি বা পথ-গ্রন্থাগার করা হয়েছে। নর্দার্ন পার্কে রাস্তার উপরেই রয়েছে এমন ব্যবস্থা। পথচলতি মানুষ হাতে বই নিয়ে পড়েনও। তাদের উৎসাহ দেখে আরো অনেক পার্কে পুরসভা বেসরকারি সহযোগিতায় এই প্রকল্প বাস্তবায়িত করার কথা ভাবছে।
কলকাতায় হৃদয়ে সিলেট
আমাদের আসল পরিচয় ‘আমরা সিলেটি’। সকল সিলেটির হৃদয়ে সিলেট। এটাই আমাদের একতা। আর তাই এই প্রতীকী বোঝাতে কৃত্রিম পৃথিবী ঘুরিয়ে শুক্রবার বিকালে কলকাতায় উদ্বোধন হয়েছে তিন দিনব্যাপী তৃতীয় বিশ্ব সিলেট উৎসবের। ছত্তিশগড় রাজ্যের সাবেক রাজ্যপাল শেখর দত্ত এই উৎসবের উদ্বোধন করেছেন। দক্ষিণ কলকাতা সিলেট এসোসিয়েশনের ২৫তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে যোধপুর পার্ক বয়েজ স্কুল প্রাঙ্গণে আয়োজিত হয়েছে এই উৎসব। বাংলাদেশ ও ভারতসহ বিশ্বের নানা প্রান্তে থাকা সিলেটিরা যোগ দিয়েছেন। কয়েক হাজার সিলেটির পদচারণায় গোটা প্রাঙ্গণ পরিণত হয়েছে মিনি সিলেট হিসেবে। উৎসবে প্রধান অতিথি হিসেবে বাংলাদেশের সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবদুল মোমেনের যোগ দেয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততার কারণে তারা কেউই আসতে পারেননি। তবে এদিনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিলেটের মেয়র আরিফুল হক, বাংলাদেশের সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী।
তিনদিনের এই উৎসবে এদিন পণ্য প্রদর্শনীরও উদ্বোধন করা হয়েছে। উৎসবের বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে আয়োজন করা হয়েছে সিলেটি রান্নার নানা পদ। উৎসবে অংশগ্রহণকারীরা প্রতিদিনই সিলেটি রান্নার স্বাদ উপভোগ করতে পারবেন। এ ছাড়াও উৎসবের বিভিন্ন স্টলে পাওয়া যাচ্ছে মণিপুরী তাঁতসহ নানা বস্ত্রসম্ভার। এদিন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে পরিবেশিত হয়েছে সিলেটি গানের সঙ্গে নৃত্যানুষ্ঠান। এ ছাড়াও প্রতিদিন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে পরিবেশিত হচ্ছে কৌতুক, গান ও নাটক। তিনদিনের এই উৎসবে রবীন্দ্রনাথের সিলেট ভ্রমণ ও তার প্রভাব নিয়ে শনিবার আলোচনা করেন ড. ভীষ্ম দেব, অধ্যাপক সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম, অধ্যাপক জাফির সেতু, অমলেন্দু চক্রবর্তী, অধ্যাপক সুমহান বন্দ্যোপাধ্যায়, দৈনিক সমকালের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মুস্তাফিজ শফি। এ ছাড়াও সিলেটের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য নিয়েও আলোচনা হচ্ছে।
পাতকুয়ো মিস্ত্রির কেরামতি
হাতের কাছে রয়েছে দমকলের প্রশিক্ষিত বাহিনী। আধুনিক যন্ত্রপাতিও। ঘটনাস্থলে উপস্থিত রয়েছে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর দক্ষ কর্মীরাও। কিন্তু কিছুতেই ২০ ঘণ্টার চেষ্টাতে একটি কুয়ো থেকে তুলতে পারেন নি এই দুই বিভাগের দক্ষ কর্মীরা। এমনকি ডুবুরিরাও ব্যর্থ হয়েছেন। শেষ পর্যন্ত ডাকা হয়েছিল এক পাতকুয়ো মিস্ত্রিকে। তিনিই পাতকুয়ো থেকে তুলে আনেন এক যুবকের দেহ। তবে তখন সেটি নিথর হয়ে গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে এই কলকাতাতেই। শুক্রবার দুপুরে বাঁশদ্রোণীর সোনালি পার্ক এলাকার বাসিন্দা সম্রাট সরকার ওরফে বাপী (২৯) বাড়ির সামনের একটি কুয়োতে স্নান করতে গিয়ে পা পিছলে পড়ে গিয়েছিলেন পাতকুয়োতে। বাপীকে উদ্ধার করতে ডাকা হয় দমকল বাহিনীকে। ছুটে আসে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। নামানো হয় ডুবুরি। পাতকুয়ো থেকে জল বার করে বাপিকে উদ্ধারের চেষ্টা চালানো হয়। রাতভর চেষ্টা চালিয়ে, চারবার ডুবুরি নামিয়েও উদ্ধার করা যায়নি ওই যুবককে। ততক্ষণে ২০ ঘণ্টা পেরিয়ে গিয়েছে। শেষপর্যন্ত ডাকা হয়েছিল পাতকুয়োর মিস্ত্রি মেঘনাদ সর্দারকে। তিনিই তার কেরামতি দেখিয়ে গভীর কুয়ো থেকে শনিবার সকালে তুলে এনেছেন বাপীর দেহ। পরিবারের বক্তব্য, আগেই পাতকুয়োর মিস্ত্রিকে ডেকে আনলে হয়তো তাদের ছেলেকে বাঁচানো সম্ভব হতো। তবে ডুবুরি নামানোর পরেও যুবককে কেন তোলা যায়নি তা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় মানুষ। পুলিশ জানিয়েছে, যুবকটি মৃগী রোগী ছিল। স্নান করার সময় সম্ভবত অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। পুলিশ জানিয়েছে, পাতকুয়ো মিস্ত্রিকে সিভিল ভলান্টিয়ারের কাজ দেয়া হবে।
ইসির সামনে ইভিএম চ্যালেঞ্জ
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ ঢাকায় সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের সঙ্গে ইলেকট্রনিক মেশিনে ভোট গ্রহণের বড় চ্যালেঞ্জ নিয়ে মাঠে নেমেছে নির্বাচন কমিশন। এর আগে অনেক নির্বাচনে ইভিএমে ভোট গ্রহণ হলেও অর্ধ কোটিরও বেশি ভোটারের ভোট গ্রহণের পরিকল্পনা এর আগে হয়নি। সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনে ছয়টি আসনে সম্পূর্ণ ইভিএমে ভোট হয়। এ আসনগুলোতে ২১ লাখ ভোটার ছিলেন। ওই নির্বাচনে ভোট প্রদানের হার প্রত্যাশিত ছিল না। ঢাকার দুই সিটিতে ভোটারই আছেন ৫৪ লাখের বেশি। এ নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে এবং ভোটের হারও প্রত্যাশিত হবে বলে মনে করছেন নির্বাচন বিশ্লেষকরা। তাই এই নির্বাচন পুরো ইভিএমে সম্পন্ন করাকে ইসির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন তারা।
ইতোমধ্যে ইভিএমে ভোট গ্রহণের প্রস্তুতি শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে নির্ধারিত কেন্দ্রে ইভিএম মেশিন পাঠানো হয়েছে। গতকাল দুই সিটিতেই আওয়ামী লীগ ও বিএনপি মেয়র প্রার্থী চূড়ান্ত হয়েছে। সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন মানবজমিনকে বলেন, ইভিএমে ভোট গ্রহণকে আমি ইতিবাচক হিসেবে দেখছি। এখন আমাদের টেকনিক্যাল ভোটিংয়ে আশা উচিত। ৫শ ভোটারের জন্য একটি বুথে ভোট গ্রহণ কোন বিষয় না, বিষয় হচ্ছে ম্যানেজমেন্ট। ইভিএমেও যদি বুথ দখল হয় তাহলে ইভিএম দিয়েতো কাজ হবেনা, ইভিএমতো বুথ দখল রোধের গ্যারান্টি দেয় না, ইভিএম আইডেন্টিফিকেশন ও ভোট দেয়ার গ্যারান্টি দিতে পারে। বুথ দখলের গ্যারান্টি একমাত্র নির্বাচন কমিশন দিতে পারে। ইভিএমে ভোট গ্রহণে কোনো সমস্যা হবে না এমনটা জানিয়ে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী মানবজমিনকে বলেন, ঢাকা দুই সিটিতে ইভিএমে নির্বাচন চ্যালেঞ্জ তো অবশ্যই, তবে এটা আমাদের পুরো নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পার্লামেন্ট ইলেকশনে আমরা ৬টি বিক্ষিপ্ত আসনে একই দিনে ইভিএম দিয়ে ভোট করেছি। তখন কিন্তু আমরা সেই নির্বাচন উঠিয়ে এনেছি। তাহলে এখন এই ১৫টি আসনে কেন পারবো না? তখন এই ছয়টি ছাড়াও সারা দেশে ২৯৪ টি আসনে ব্যালট দিয়ে ভোট নিতে হয়েছে। তখন নির্বাচনে আমাদের অনেক জায়গায় ফোকাস দিতে হয়েছে আর এবার আমাদের পুরো ফোকাসটাই এখানে থাকবে। সিটি নির্বাচনে আমাদের পুরো সামর্থ রয়েছে।
নির্বাচন কমিশন আশাবাদী হলেও প্রার্থীদের অনেকে ইভিএম নিয়ে সন্দিহান। প্রধান বিরোধী পক্ষ বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে ইভিএমে মানুষ সঠিকভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে না। যদিও সরকারি দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা ইভিএম নিয়ে কোনো আপত্তি তুলছেন না। নির্বাচন উপলক্ষে এরই মধ্যে ২৮ হাজার ইভিএম প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন, ইভিএম প্রকল্পের পরিচালক কর্নেল মো.কামাল উদ্দিন। শনিবার নির্বাচন ভবন থেকে রাজধানীর বিভিন্ন কেন্দ্রে এসব ইভিএম পাঠানো শুরু হয়েছে। পরীক্ষামূলক ভোটের জন্য ব্যবহার ছাড়াও ভোটের দিন এসব ইভিএম ব্যবহার করা হবে। পরীক্ষামূলক ভোট ও ব্যবহার বিধি জানানোর জন্য গতকাল উত্তরা কমিউনিটি সেন্টারে ইভিএম পাঠানো হয়েছে। এছাড়াও মিরপুর-১৪ এ অবস্থিত ঢাকা ডেন্টাল কলেজে এসব যন্ত্র পাঠানো হবে। ৩রা জানুয়ারি মিরপুর-২ এ ন্যাশনাল বাংলা উচ্চ বিদ্যালয়ে, ৬ই জানুয়ারি বনানী বিদ্যানিকেতন এবং আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ এর বনশ্রী শাখায় পাঠানো হবে ইভিএম। ১২ই জানুয়ারি তেজগাঁও সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় এবং ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজে পাঠানো হবে ইভিএম। এ বিষয়ে ঢাকা উত্তরের রিটার্নিং কর্মকর্তা আবুল কাসেম বলেন, পরীক্ষামুলক ব্যবহারের জন্য উত্তরের ৮টি ও দক্ষিণের জন্য ১১ টি ভ্যেনুতে ইভিএম রাখা হবে। ভোট গ্রহণের আগে থেকে প্রত্যেকটি কেন্দ্রে আমরা ভোটারদের দেখাবো কিভাবে ভোট দিতে হয়। ইভিএমে দূর্নীতির কোন সুযোগ নেই বলেও জানান তিনি।
ইসি সূত্রে জানা যায়, ঢাকার দুই সিটিতে মোট ভোটার সংখ্যা ৫৪ লাখ ৩ হাজার ১০৯ জন। ভোট কেন্দ্র রয়েছে ২ হাজার ৪৬৯ টি ও ভোটকক্ষ ১৩ হাজার ৫১৪ টি। নতুন ইউনিয়নসহ ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশ (ডিএনসিসি) এলাকায় মোট ভোটার সংখ্যা ৩০ লাখ ৩৫ হাজার ৬২১ জন ও দক্ষিণ সিটিতে মোট ভোটার সংখ্যা ২৩ লাখ ৬৭ হাজার ৪৮৮ জন। ২৮ হাজার ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মধ্যে উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ১৫ হাজার ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ১৩ হাজার ইভিএম দিয়ে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ১৫ই জানুয়ারির মধ্যে এসব মেশিন পর্যায়ক্রমে দুই সিটি করপোরেশনের রির্টানিং কর্মকর্তাদের বুঝিয়ে দিবে ইসি। এই ইভিএম মেশিন প্রতিটি কেন্দ্রে পৌছে দেয়ার জন্য দক্ষিণে ১১ ও উত্তরে ৮ টি বিতরন কেন্দ্র নির্ধারণ করেছেন দুই সিটির রির্টানিং কর্মকর্তার কার্যালয়। ভোটের আগে এখান থেকে ইভিএমগুলো প্রতিটি কেন্দ্রে পৌঁছে দেয়া হবে। প্রতিটি কেন্দ্রেই দুই থেকে চারটি ইভিএম অতিরিক্ত রাখা হবে। যদি কোনটিতে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয় তাহলে বিকল্প হিসাবে সেগুলো ব্যবহার করা হবে। প্রতিটি কেন্দ্রে দুজন করে অভিজ্ঞ সেনা সদস্য রাখা হবে, ইভিএমে যদি কোন টেকনিক্যাল সমস্যা দেখা দেয় তাহলে তারা সেগুলো অপারেটিংয়ে সাহায্য করবে। এছাড়া ইভিএম অপারেটিংয়ের জন্য নির্বাচন কমিশনের ১ হাজার ১৫০ জন অভিজ্ঞ জনবল কাজ করবে। ঢাকা উত্তরে সাধারণ ওয়ার্ড সংখ্যা ৫৪টি ও সংরক্ষিত ওয়ার্ড ১৮টি। এখানে সম্ভাব্য ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১ হাজার ৩৪৯ টি ও ভোট কক্ষের সংখ্যা ৭ হাজার ৫১৬ টি। এছাড়া দক্ষিণ সিটিতে মোট সাধারণ ওয়ার্ড ৭৫ সংরক্ষিত ওয়ার্ড ২৫। সম্ভাব্য ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১ হাজার ১২০ টি, ভোটকক্ষ ৫ হাজার ৯৯৮ টি। এ বছর দুই সিটি নির্বাচনে নতুন যুক্ত হয়েছে ৩৬ টি ওয়ার্ড।
এই ইভিএম ও জনবল দিয়ে সিটি নির্র্র্বাচনে সঠিকভাবে ভোট গ্রহণ সম্ভব কিনা জানতে চাইলে ইভিএম প্রকল্পের পরিচালক কর্নেল মো.কামাল উদ্দিন মানবজমিনকে বলেন, প্রতিটি ইভিএমে চার’শ ভোটার ভোট দিতে পারবে একটি কেন্দ্রে চার হাজার ভোটার থাকলে সেখানে ১০টি মেশিনের মাধ্যমে ভোটাররা খুব সহজেই ভোট দিতে পারবে। এছাড়া বিকল্প হিসাবে আমরা প্রতিটি কেন্দ্রেই অতিরিক্ত মেশিন রাখবো আমাদের অভিজ্ঞ টেকনেশিয়ানরা এখানে কাজ করবে। আমরা তাদেরকে প্রশিক্ষণ দিয়েছি। এখন আমরা মেশিনগুলোর কোয়ালিটি চেক করে এগুলো (ইভিএম) দুই সিটির রির্টানিং কর্মকর্তাদের বুঝিয়ে দিচ্ছি। তিনি আরো বলেন, এক সাথে দুই সিটি নির্বাচনের জন্য এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবে এর আগেও আমরা জাতীয় নির্বাচনসহ বেশ কয়েকটি সিটি নির্বাচনে ইভিএমের ব্যবহার করেছি সেখানে আমরা ভালো ফলাফল পেয়েছি। গত ২২শে ডিসেম্বর ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়ন দাখিলের শেষ সময় ৩১ ডিসেম্বর, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ২রা জানুয়ারি। প্রার্থিতা প্রত্যাহার ৯ই জানুয়ারি, প্রতীক বরাদ্দ হবে ১০ই জানুয়ারি। আর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ৩০শে জানুয়ারি।
বাগেরহাটে প্রবীণদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ
বাগেরহাট অফিস ॥ বাগেরহাটে প্রবীণদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। শনিবার দুপুরে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা রিসোর্স ইন্টিগ্রেশন সেন্টার (রিক) এর প থেকে এই এই শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়। রিকের বাগেরহাট জেলা কার্যালয়ে শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. কামরুল ইসলাম। গণবিদ্যালয়ের সাবেক অধ্য সাইফুদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন, সমাজসেবক মুহাব্বাত হোসেন, রিকের এরিয়া ম্যানেজার কামাল হোসেন, সাংবাদিক আলী আকবর টুটুল। অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বাগেরহাট সদর উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের ১২০ জন প্রবীণ মানুষকে একটি কম্বল, টুপি, হাত ও পায়ের মোজা দেওয়া হয়েছে। আয়োজকরা জানান, প্রচন্ড শীতে সব থেকে বেশি অসহায় থাকে প্রবীণরা। তাদের শীত উপশমের জন্য আমাদের এই উদ্যোগ।
শাহজালালে ৬৪ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৬৪ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার করেছেন কাস্টমস কর্মকর্তারা। শনিবার রাতে বিমানবন্দরের আমদানি কার্গোতে অভিযান চালিয়ে এসব স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়। ঢাকা কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার সাজ্জাদ হোসেন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিমানবন্দরের আমদানি কার্গোতে অভিযান চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় ৬৪০টি স্বর্ণের বার পাওয়া যায়। এসব স্বর্ণের ওজন হয়েছে ৬৪ কেজি। কারা এই স্বর্ণ এনেছে এবং কার কাছে এগুলো যাওয়ার কথা ছিল সে বিষয়গুলো তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
খেলার খবর
মুশফিক নৈপুন্যে জয়ের ধারায় ফিরলো খুলনা
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ টানা দুই ম্যাচ হারের পর মুশফিকুর রহিম-শহিদুল ইসলামের নৈপুন্যে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) টি-২০ ক্রিকেটে জয়ের ধারায় ফিরলো খুলনা টাইগার্স। ঢাকার দ্বিতীয় পর্বে টুর্নামেন্টের ২২তম ম্যাচে রংপুর রেঞ্জার্সকে ৫২ রানে হারিয়েছে খুলনা। ব্যাট হাতে অধিনায়ক মুশফিক ৪৮ বলে ৫৯ রান ও বল হাতে শহিদুল ২৩ রানে ৪ উইকেট নেন। মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং বেছে নেয় রংপুর। ব্যাট হাতে নেমে ভালো শুরু করতে পারেনি খুলনা। ৪৫ রানের মধ্যে ৩ উইকেট হারায় তারা। মেহেদি হাসান মিরাজ ১২, দক্ষিণ আফ্রিকার রিলি রুশো শূন্য ও শামসুর রহমান ১৩ রান করে ফিরেন। আরেক ওপেনার নাজমুল হোসেন শান্ত ভালো শুরুর পরও ২২ বলে ৩০ রান করে আউট হন।
দলীয় ৮৪ রানে শান্ত’র বিদায়ের পর পঞ্চম উইকেটে আফগানিস্তানের নাজিবুল্লাহ জাদরানকে নিয়ে ৮২ রানের জুটি গড়েন মুশফিক। মারমুখী মেজাজে থাকা জাদরান ৬টি চার ও ১টি ছক্কায় ২৬ বলে ৪১ রান করে আউট হন। তবে এক প্রান্ত আগলে হাফ-সেঞ্চুরি তুলে শেষ ওভারে আউট হন মুশফিক। ৪৮ বলে ৪টি চার ও ২টি ছক্কায় ৫৯ রান করেন মুশফিক। ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৮২ রানের বড় সংগ্রহ পায় খুলনা। রংপুরের মুস্তাফিজ ২৮ রানে ৩ উইকেট নেন। জবাবে জয়ের জন্য ১৮৩ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে ভালো শুরু হয়নি রংপুরেরও। ৪২ রানে ৩ উইকেট হারায় তারাও। তবে খুলনার বোলারদের তোপে রংপুরের পরের দিকের ব্যাটসম্যানরা বড় ইনিংস খেলতে পারেনি। ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৩০ রান পর্যন্ত যেতে পারে রংপুর। দলের পক্ষে আগের ম্যাচের হিরো লুইস গ্রেগরি সর্বোচ্চ ৩৪ রান করেন। এছাড়া শেষ ব্যাটসম্যান মুস্তাফিজুর রহমান ১১ বলে অপরাজিত ২১ ও ওপেনার মোহাম্মদ নাইম ২০ রান করেন। খুলনার শহিদুল ২৩ রানে ৪ উইকেট নেন। এই জয়ে ৬ খেলায় ৪ জয় ও ২ হারে ৮ পয়েন্ট হলো খুলনার। আর সমানসংখ্যক ম্যাচে ১ জয় ও ৫ হারে ২ পয়েন্টই থাকলো রংপুরের।
সৌম্যর ব্যাটে তাণ্ডব, তবু হার কুমিল্লার
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ কি ব্যাটিংটাই না করলেন সৌম্য সরকার! উইকেটের চারদিকে চার-ছক্কার ফুলঝুরি ছোটালেন। খেললেন চোখ ধাঁধানো এক ইনিংস। কিন্তু দলকে জেতাতে পারলেন না। শেষ করতে হলো ট্রাজিক হিরো হয়ে। চলতি বিপিএলে প্রায় প্রতি ম্যাচেই রান পাচ্ছেন সৌম্য সরকার। তবে ফিফটি হচ্ছিল না। এবার সেই আক্ষেপ পূরণ করলেন। আরেকটু সুযোগ পেলে তো সেঞ্চুরিটাও করে ফেলতে পারতেন। সে সুযোগ হলো না। ৪৮ বলে ৮৮ রানে অপরাজিত থাকলেন সৌম্য। আর তার এমন ইনিংসের পরও রাজশাহী রয়্যালসের কাছে ১৫ রানের হার দেখতে হলো কুমিল্লা ওয়ারিয়র্সকে। ১৯১ রানের বড় লক্ষ্য। শুরুটা যেমন হওয়ার দরকার ছিল, তেমনটা পায়নি কুমিল্লা। দুই ওপেনার রবিউল ইসলাম রবি (১৫ বলে ১২) আর স্টিয়ান ফন জিল (২৩ বলে ২১) টি-টোয়েন্টির ব্যাটিংটা করতে পারেননি। ডেভিড মালানও ৫ বলে মাত্র ৩ রান করে সাজঘরের পথ ধরেন। সতীর্থদের এমন ব্যর্থতার মাঝেও নিজের সহজাত ব্যাটিংটাই করে যাচ্ছিলেন সৌম্য সরকার। শুরুই করেন দুই বাউন্ডারি দিয়ে। পরে চার-ছক্কার ফুলঝুরি ছুটিয়েছেন। বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যানের আগ্রাসন চলেছে ইনিংসের শেষ পর্যন্ত। কিন্তু ওই যে সতীর্থদের ব্যর্থতা! তারা তো বল নষ্ট করে দলকে বিপদে ফেলে গেছেন আগেই। সৌম্যর ইনিংসটা তাই দলের পরাজয়ের ব্যবধানটাই যা কমিয়েছে। শেষ পর্যন্ত বিধ্বংসী সৌম্য অপরাজিত থাকেন ৪৮ বলে ৮৮ রানে, যে ইনিংসটি তিনি সাজান ৫টি চার আর ৬টি ছক্কায়। এর আগে শুরুটা করেছিলেন আফিফ হোসেন ধ্রুব আর শেষ করেন শোয়েব মালিক ও অধিনায়ক আন্দ্রে রাসেল। এ তিন উইলোবাজের উত্তাল ব্যাটিংয়ে ৪ উইকেটে ১৯০ রানের বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করায় রাজশাহী রয়্যালস। টস জিতে আগে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নেয় কুমিল্লা। তবে তাদের এ সিদ্ধান্তকে যথাযথ প্রমাণ করতে দেয়নি রাজশাহীর ব্যাটসম্যানরা। কুমিল্লার বোলারদের রীতিমত পাড়া মহল্লামানের বানিয়ে ছাড়েন মালিক-আফিফরা। ব্যাট হাতে ফিফটি পান শোয়েব মালিক। ফিফটির দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেন আফিফ হোসেন ও আন্দ্রে রাসেল। ঝড় তোলা ব্যাটিংয়ে শেষ ৭ ওভারে ৮৪ রান যোগ করেন রাসেল ও মালিক। আফিফ ৪৩ ও মালিক ৬১ রানে আউট হলেও রাসেল ৩৭ রানে অপরাজিত ছিলেন। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের শুরুটা দারুণ করেছিলেন দুই ওপেনার আফিফ ও লিটন দাস। প্রথম পাওয়ার প্লেতে ৫০ রান যোগ করে তাদের জুটি ভাঙে ৫৬ রানের মাথায়। ভালো শুরুর পর সানজামুল ইসলামের বোলিংয়ে আলগা শটে ক্যাচ আউট হন লিটন, করেন ১৯ বলে ২৪ রান। একই পরিণতি ঘটে আফিফের সম্ভাবনাময় ইনিংসেরও। সৌম্য সরকারের বোলিংয়ে সরাসরি বোল্ড হওয়ার আগে ৬ চার ও ১ ছয়ের মারে ৩০ বলে ৪৩ রান করেন এ বাঁহাতি তরুণ। দলের রান তখন মাত্র ৮০। বেশি কিছু করতে পারেননি রবি বোপারা। আউট হয়ে যান ১২ বলে ১০ রান করে। এরপরই কুমিল্লার বোলারদের ওপর ছড়ি ঘোরান রাসেল ও মালিক। উইকেটের চারদিকে শট খেলে দুজন মিলে গড়েন ৮৪ রানের জুটি। ইনিংসের একদম শেষ বলে রান আউট হন মালিক। ৫টি চারের সঙ্গে ৩ ছয়ের মারে ৩৮ বলে ৬১ রান করেন তিনি। অন্যদিকে অধিনায়ক রাসেল ৪ ছয়ের মারে ২০ বলে ৩৭ রানে অপরাজিত থাকেন।
দানিশ কানেরিয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইনজামাম
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ পাকিস্তানের কিংবদন্তি ক্রিকেটার ইনজামাম-উল-হক বলেছেন, অমুসলিম বলে যে দানিশ কানেরিয়ার সঙ্গে খারাপ আচরণ করা হয়েছে বা তাকে যথাযথ সুযোগ দেয়া হয়নি এমন কোনো বিষয় ছিল না। আমার অধীনেই দানিশ কানেরিয়া সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলেছে। আমরা (পাকিস্তানিরা) ছোট্ট হৃদয়ের মানুষ নই যে অমুসলিম বলে তার সঙ্গে খারাপ কিছু করব। ইউটিউব চ্যানেলে পাকিস্তানের সাবেক এ অধিনায়ক আরও বলেন, যখন আমরা শারজায় সফর করতাম, ভারতীয় ও পাকিস্তানি খেলোয়াড়রা একই হোটেলে থাকত এবং আমি প্রায়ই খেলোয়াড়দের রুমে গিয়ে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মজা করতাম এবং একসঙ্গে খেতাম। ইনজামাম আরও বলেন, মোশতাক আহমেদ শৈশবকাল থেকেই আমার খুব ভালো বন্ধু ছিলেন। কিন্তু আমি দানিশ কানেরিয়াকে দলে বাছাইয়ে বেশি অগ্রাধিকার দিয়েছিলাম কারণ সে পাকিস্তানের ভবিষ্যৎ এবং মুশতাককে আমার অধিনায়কত্ব থেকে বাদ দেয়া হয়েছিল। শুধু তাই নয়, খেলোয়াড়দের কেবল নামাজ দিয়েই মূল্যায়ন করা হয়নি। তাদের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতেই দলে সুযোগ দেয়া হয়েছে। প্রসঙ্গত, পাকিস্তানের কিংবদন্তি ক্রিকেটার শোয়েব আখতার সম্প্রতি বলেছেন, দানিশ কানেরিয়া হিন্দু হওয়ার কারণে জাতীয় দলে যথাযথ সুযোগ পাননি। শোয়েব আখতারের এই বিস্ফোরক মন্তব্যের পর দানিশ কানেরিয়া পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম পিটিভি স্পোর্টসকে বলেন, শোয়েব সত্যি বলেছেন। আমি হিন্দু হওয়ায় পাকিস্তান ক্রিকেট দলের যেসব সদস্যরা আমার সঙ্গে কথা বলতেন না তাদের নাম জানাব। এতদিন মুখ খোলার মতো সাহস পাইনি। কিন্তু এবার বলব। পাকিস্তানের হয়ে ৬১টি টেস্ট ও ১৮টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলে ২৭৬ উইকেট শিকার করেন দানিশ কানেরিয়া। তবে ২০০৯ সালে ডারহামে এসেক্সের হয়ে কাউন্টি ক্রিকেটে স্পট ফিক্সিংয়ে অভিযুক্ত হন কানেরিয়া। দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় আজীবন নিষেধাজ্ঞা দেয় ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)।
রাসেলের ‘৪০০’ ছক্কা
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের হার্ডহিটার আন্দ্রে রাসেল। বঙ্গবন্ধু বিপিএলে কুমিল্লা ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে ২১ বলে ৩৭ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেছেন তিনি। এ পথে ৪টি ছক্কা মেরেছেন রাজশাহী রয়্যালস অধিনায়ক। তাতে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ৪০০ ছক্কার এলিট ক্লাবে নাম লিখিয়েছেন ক্যারিবীয় ব্যাটার। শনিবার মিরপুরে খেলতে নামার আগে রাসেলের নামের পাশে ছিল ৩৯৭টি ছক্কা। এদিন কুমিল্লা পেসার আল-আমিন হোসেনকে সোজা ব্যাটে ছয় মেরে ৪০০ ছক্কার ল্যান্ডমার্কে পৌঁছান তিনি। বিশ্বের পঞ্চম ব্যাটসম্যান হিসেবে এ কীর্তি গড়লেন দ্রি রাস। এর আগে এ মাইলফলক অতিক্রম করেন ৪ ব্যাটসম্যান। ৪০০ ম্যাচে ৯৬৬টি ছক্কা মেরে সবার ওপরে ক্যারিবিয়ান ব্যাটিং দানব ক্রিস গেইল। ৪৯৬ ম্যাচে ৬৪৭টি ছক্কা হাঁকিয়ে দ্বিতীয় স্থানে তার সতীর্থ কাইরন পোলার্ড। ৩৭০ ম্যাচে ৪৮৫টি ছয় মেরে তৃতীয় নিউজিল্যান্ডের ব্রেন্ডন ম্যাককালাম।আর ৩১৭ ম্যাচে ৪৩১টি ছক্কা মেরে চার নম্বরে অস্ট্রেলিয়ান শেন ওয়াটসন
১৪৮ রানেই অলআউট নিউজিল্যান্ড
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ পেট কামিন্সের আগুনঝরা বোলিংয়ে কুপোকাত নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দল। সময়ের ব্যবধানে উইকেট হারিয়ে ১৪৮ রানেই অলআউট ব্লাক ক্যাপসরা। তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টে পার্থে ২৯৬ রানে হেরে যাওয়া নিউজিল্যান্ড দ্বিতীয় টেস্টেও চরম বিপর্যয়ে পড়েছে। আগের টেস্টে দুই ইনিংসে ১৬৬ ও ১৭১ রানে অলআউট হওয়া নিউজিল্যান্ড চলতি মেলবোর্ন টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার করা ৪৬৭ রানের জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে ১৪৮ রানে অলআউট। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৫০ রান করেন ওপেনার টম লাথাম। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে পেট কামিন্স ১৭ ওভারে মাত্র ২৮ রান খরচ করে ৫ উইকেট শিকার করেন। ১৫ ওভারে ৩৪ রানে ৩ উইকেট শিকার করেন জেমস পেটিনসন। এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ট্রাভিস হেডের (১১৪) সেঞ্চুরি আর স্টিভ স্মিথ (৮৫), টিম পেইন (৭৯) ও লাবুসেনের (৬৩) ফিফটিতে ৪৬৭ রানের পাহাড় গড়ে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া। ৩১৯ রানে এগিয়ে থেকে শনিবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৩৭ রান সংগ্রহ করেছে অস্ট্রেলিয়া। মেলবোর্ন টেস্টের তৃতীয় দিনের খেলা শেষে অস্ট্রেলিয়ার লিড ৪৫৬ রান।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
অস্ট্রেলিয়া: ১ম ইনিংস- ৪৬৭/১০ (ট্রাভিস ১১৪, স্মিথ ৮৫, পেইন ৭৯, লাবুসেন ৬৩, ওয়ার্নার ৪১; নেইল ওয়াগনার ৪/৮৩, টিম সাউদি ৩/১০৩)। এবং ২য় ইনিংস-১৩৭/৪ (ওয়ার্নার ৩৮, জো বার্ন ৩৫, লাবুসেন ১৯, স্মিথ ৭, হেড ১৫*, ট্রাভিস ১২*)।
নিউজিল্যান্ড: ১ম ইনিংস-১৪৮/১০ (লাথাম ৫০; কামিন্স ৫/২৮, পেটিনসন ৩/৩৪)।
যে অভিযোগে নুরের বিরুদ্ধে ডিজিটাল আইনে মামলা
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ ফেসবুকে মিথ্যা তথ্য প্রকাশ, গুজব ছড়ানোসহ উসকানিমূলক বক্তব্য প্রকাশের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির চেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুরের বিরুদ্ধে। ধানমন্ডি থানায় তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলাটি দায়ের করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল শাখা ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক এবং হল সংসদের বহিরাঙ্গণ ক্রীড়া সম্পাদক অর্ণব হোড়। মামলার বাদী বলেন, ‘নুর উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সহিংসতা ছড়ানোর চেষ্টা করছেন। তারা গুজব ছড়াচ্ছেন, মিথ্যা তথ্য প্রচার করছেন, তথ্য প্রমাণ ছাড়া নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মানহানিকর তথ্য প্রচার করছেন। এসব কারণে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।’
এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৬ ডিসেম্বর ধানমন্ডি থানায় দায়ের করা মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, নুর গত ২৩ ডিসেম্বর ডাকসু ভিপি নামে ফেসবুক পেইজে পোস্ট করেছেন। এতে বলা হয়েছে, ‘বুয়েট ছাত্র আবরার, ঢাবির আবুবক্কর, চবির দিয়াজ, পুরান ঢাকার বিশ্বজিৎদের হত্যাকারী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ত্রাস, ভিন্নমতের ওপর প্রতিনিয়ত হামলাকারী, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলাই এই সময়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। স্বৈরাচারের বিরোধিতা ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাস, হত্যাসহ নানা ধরনের বর্বরতার প্রতিবাদ করার কারণেই এ পর্যন্ত ৯ বার আমাকে হত্যাচেষ্টা করা হয়। সর্বশেষ গতকাল ডাকসুতে ঢাবি ছাত্রলীগের সভাপতি, ভারতীয় ‘র’-এর এজেন্ট, সনজিদ ও সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম এবং তথাকথিত মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ নামক ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী মঞ্চের সভাপতি বুলবুল ও মামুনের নেতৃত্বে আমাকে হত্যাচেষ্টায় ডাকসুতে ৩ দফা আমার ওপর হমলা চালানো হয়। সংগঠনের সহযোদ্ধাদের ওপর অসংখ্যবার হামলা চালানো হয়। আওয়ামী লুটেরা, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসীরা আজ পাকিস্তানি হানাদারদের থেকেও বর্বর হয়ে গেছে। সেটা তাদের কাজ-কর্মে, কথাবার্তায় ইতোমধ্যেই আপনারা টের পেয়েছেন। তাই দেশকে মুক্ত করতে, জনগণকে বাঁচাতে এই অপশক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলুন।’ এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২২ ডিসেম্বর একই পেজ থেকে লাইভে আসেন রাশেদ খান। লাইভে তিনি বলেন, ‘আমাদের সবার এই যে মাথা আলাদা কইরা ফেলাইছে’ যা ডাকসু ভিপি নূরের কক্ষ থেকে প্রচার করা হয়। যা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। মামলার বাদী এজাহারে উল্লেখ করেছেন, ফেসবুক লাইভে প্রচার করা মিথ্যা গুজবের কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারাদেশে ছাত্র-ছাত্রী ও সাধারণ জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এরফলে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি হওয়ার উপক্রম হয়। ২৩ তারিখের পোস্টকে উসকানিমূলক দাবি করে বাদী অর্ণব হোড় বলেন, ‘উল্লিখিত উসকানিমূলক পোস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাসের সম্পর্কে সাম্প্রদায়িক সম্পৃতি বিনষ্ট করাসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের জন্য অসম্মানজনক, মানহানিকর। এই কর্মকাণ্ডগুলো দেশ ও সমাজের সামাজিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। দেশের আইনশৃঙ্খলা বিনষ্ট করে। মামলার বিষয়ে ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হুমায়ুন কবির বলেন, ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়েছে। এখন তদন্ত করে অভিযোগের পক্ষে তথ্যগুলো যাচাই-বাছাই হচ্ছে।’ তদন্তে যা পাওয়া যাবে, সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
রাজনৈতিক সঙ্কট উত্তরণে আন্দোলনের বিকল্প নেই : মির্জা ফখরুল
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বর্তমান সময়ে দেশে রাজনৈতিক সঙ্কট চলছে। এই সঙ্কট থেকে উত্তোরণের জন্য জনগণের আন্দোলনের বিকল্প নেই। শনিবার রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির কেন্দ্রীয় কাউন্সিল উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এ মন্তব্য করেন তিনি। ফখরুল বলেন, আমরা অত্যন্ত আশা নিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করেছিলাম। নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রের সংগ্রাম জয় করতে চেয়েছিলাম কিন্তু আমরা পারিনি। কিন্তু আমাদের পারতে হবে, আমাদের আরো বৃহত্তর ঐক্য তৈরি করতে। শুধু ঐক্যফ্রন্ট এবং অন্যান্য কোনো জোট নয় দেশের সকল মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে আমাদের লড়াই করতে হবে, সংগ্রাম করতে হবে এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, জাসদ সৃষ্টি হয়েছিল স্বাধীনতার মূল চেতনাকে গড়ে তোলার জন্য। সেই লড়াইয়ে জাসদ এখনো চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু দুর্ভাগ্য আমাদের ঠিক একই কথা স্বাধীনতার ৪৯ বছর পর এসেও আমাদের বলতে হচ্ছে যে আমরা গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে চাই। বর্তমানে দেশে যে রাজনৈতিক গভীর সঙ্কট চলছে, সেই সঙ্কট সমাধানের জন্য জনগণের অভ্যুত্থান বা জনগণের আন্দোলন ছাড়া কখনোই সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় আটকে রাখা হয়েছে। এখন খালেদা জিয়া যিনি আইনগত জামিন পাওয়ার যোগ্য কিন্তু তাকে জামিন দেয়া হচ্ছে না। আজকে যারা জোর করে ক্ষমতায় বসেছে তারা জানে বেগম খালেদা জিয়া বাইরে থাকলে তাদের যে রাজনৈতিক নীলনকশা সেটা তারা পরিপূর্ণ করতে পারবেন না। তিনি আরো বলেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় যে স্বপ্ন দেখেছিলাম আমরা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করব। আমাদের গণতান্ত্রিক মুক্তি আসবে, আমাদের অর্থনৈতিক মুক্তি আসবে, আমরা একটা স্বাধীন মুক্ত বাতাসে নিঃশ্বাস গ্রহণ করতে পারব। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় এই স্বপ্নগুলো ভেঙ্গে চুরমার করে দিচ্ছে।
কনকনে শীতের মাঝে যশোরে দেখা মিললো স্বস্তির রোদ
স্টাফ রিপোর্টার ॥ টানা তিনদিন পর অবশেষে শনিবার দুপুরে যশোরে রোদের দেখা মেলে। রোদ উঠলেও শীতের তীব্রতা আগের মতই ছিলো। তবে কনকনে ঠান্ডার মাঝে মিষ্টি রোদ দেখা পাওয়ায় স্বস্তি দেখা দেয় কর্মব্যস্ত মানুষের মাঝে। দুপুরের পর বিভিন্ন এলাকায় মানুষকে রোদ পোহাতে দেখা যায়।
যশোর বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান বিমান ঘাঁটির আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, শনিবার যশোরে সর্বনি¤œ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা অনেকটা স্বাভাবিক তাপমাত্রা। তবে বিকেলের দিক থেকে এ অঞ্চলে মৃদু শৈত্য প্রবাহ শুরু হয়েছে। যা আজ রোববার ও সোমবার পর্যন্ত বলবৎ থাকতে পারে। এ সময়ে তাপমাত্রা ২ থেকে তিন ডিগ্রি কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
গত এক সপ্তাহ ধরে যশোরসহ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে শীতের তীব্রতা দেখা দেয়। এ সময়ে এ অঞ্চলের তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির মধ্যে ওঠানামা করে। তীব্র শীতের কারণে এ কদিন এ অঞ্চলের মানুষকে চরম কষ্ট ভোগ করতে হয়। বিশেষ করে কর্মব্যস্ত মানুষের ভোগান্তির শেষ ছিলো না। মানুষের কাজ কর্ম থমকে দেয় কুয়াশা আর হিমেল বাতাস। এমনি পরিস্থিতিতে শনিবার দুপুর থেকে রোদের দেখা মেলায় মানুষের মাঝে উৎফুল্লতা দেখা যায়। শহর ও গ্রামাঞ্চলের শহর-বাজারে মানুষের উপস্থিতিও বেড়ে যায়। এদিকে কুয়াশা কেটে রোদের দেখা দেওয়ায় গতকাল যশোর বিমানবন্দরে বিমান চলাচল স্বাভাবিক ছিলো। সকাল ও বিকেলের দিকের ফাইটগুলো যথাসময়ে যশোর বিমানবন্দর থেকে ছেড়ে গেছে। ইউএস বাংলার যশোর বিমান বন্দরের ম্যানেজার সাব্বির হোসেন বলেন, শুক্রবারের মতো শনিবারও বিমান চলাচলে কোনো সমস্যা হয়নি। সবকটি ফাইট যথাসময়ে ছেড়ে গেছে। তবে বিমান ছেড়ে গেলেও বাস ও ট্রেন যাত্রায় ভোগান্তি আগের মত আছে। শুক্রবার রাতেও দৌলতদিয়া ও পাটুরিয়া ঘাটে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় রাতের বেলায় কোনো বাস পার হতে পারেনি। যেকারণে অধিকাংশ পরিবহন সকালের দিকে যশোরের এসে পৌছে। ট্রেনের সিডিউল বিপর্যয় না হলেও দুই থেকে তিন ঘন্টা দেরিতে যশোর রেলস্টেশন থেকে যাতায়াত করছে। এতে যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ে। যশোর রেলস্টেশনের সূত্রে জানা গেছে, ঘন কুয়াশার কারণে ট্রেনের গতি কমিয়ে দিয়ে যাতায়াত করছে। যেকারণে দেরিতে ট্রেন গন্তব্যে পৌছাচ্ছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদ
এবার নেচে নেটিজেনদের হৃদয় কাড়লেন রাহুল গান্ধী
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ মুসলিমবিদ্বেষী নাগরিকত্ব আইন বাতিলে যখন উত্তাল ভারত, বিক্ষোভকারীদের ঠেকাতে হিমশিম খাচ্ছে নিরাপত্তা রক্ষী কর্মীরা তখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হলে দেশটির কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর নাচের দৃশ্য। ভিডিওটি নিজেদের ফেসবুক পেজে আপলোড করে ভারতের সংবাদ সংস্থা এএনআই। আর এরপরই ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা গেছে, মাথায় ঐতিহ্যবাহী লাল পাগড়ি বেঁধে, ঢোল পিটিয়ে আদিবাসী সম্প্রদায়ের সদস্যদের সঙ্গে নাচে মগ্ন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। অনুষ্ঠান যে তিনি বেশ উপভোগ করছেন তা তার অঙ্গভঙ্গি ও হাস্যজ্জ্বল মুখ দেখেই নিশ্চিত হয়েছেন নেটিজেনরা। ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেশ বাঘেল এবং দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের দেখা গেছে রাহুল গান্ধীর সঙ্গে। এএনআই জানিয়েছে, ভারতের ছত্তিশগড়ের রায়পুরে জাতীয় নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠী নৃত্য উৎসবের আয়োজন করে। আর সেই অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করে ওই গোষ্ঠীর সদস্যদের সঙ্গে তাদের ঐতিহ্যবাহী নাচে অংশ নেন রাহুল। এ নিয়ে টুইটও করেছেন রাহুল। তিনি লেখেন, এই অনন্য উত্সব ভারতের সমৃদ্ধ আদিবাসী সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য প্রদর্শন এবং সুরক্ষার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর, ভারতের ২৫টি রাজ্য এবং ছয়টি দেশ থেকে মোট ১৩৫০ জনের বেশি মানুষ তিন দিনের এই নৃত্য উৎসবে অংশ নেবেন। এ অনুষ্ঠানে জড়ো হবে ২৯ উপজাতি দল। তারা চারটি নৃত্যের ৪৩ টিরও বেশি শৈলী উপস্থাপনা করবেন। এই উৎসবে কংগ্রেস নেতা প্রিয়াঙ্কা গান্ধীও অংশ নেবেন বলে জানা গেছে।
ভারতের আরএসএস কে নাৎসি বাহিনীর সঙ্গে তুলনা ইমরানের
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ ভারতের রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘকে (আরএসএস) দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় গঠিত জার্মানের নাৎসি বাহিনীর সঙ্গে তুলনা করলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। শনিবার এক টুইট বার্তায় উর্দুতে তিনি জানান, এখনই বিশ্ব বিষয়টি নিয়ে সচেতন না হলে সামনে গণহত্যা সংগঠিত হবে। টুইট বার্তায় ইমরান খান লেখেন, যে মানসিকতা নিয়ে নাৎসি বাহিনী গঠিত হয়েছিল একই মানসিকতা নিয়ে চলছে আরএসএস। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস) ভারতের একটি ডানপন্থী হিন্দু জাতীয়তাবাদী, আধাসামরিক ও বেসরকারী স্বেচ্ছা-সেবক সংগঠন। সম্প্রতি হিন্দু উগ্রবাদী বেশকিছু কার্যক্রমের সঙ্গে এই সংঘটিক সম্পৃক্ততা তীব্র সমালোচনার জন্ম দেয় ভারতীয় মিডিয়া। সেইসঙ্গে নাগরিকত্ব আইন নিয়ে ভারতে চলা সংঘর্ষ ও সহিংসতায় আরএসএস পরবর্তীতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা পোষণ করে আসছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী।
সিএএ ভারতে ২০ কোটি মুসলিমদের উপর প্রভাব ফেলবে, উদ্বেগ মার্কিন রিপোর্টে
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সরকারের সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) ভারতের ২০ কোটি মুসলিম নাগরিকের সার্বিক অবস্থার উপর প্রভাব ফেলবে। মার্কিন কংগ্রেসের থিঙ্কট্যাঙ্ক ‘কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিস (সিআরএস)’-এর সাম্প্রতিক রিপোর্টে এই উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। ভারতে সিএএ-র প্রভাব নিয়ে ওই রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে মার্কিন বিদেশ দফতরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিভাগের তদারকি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অ্যালিস ওয়েলসের মন্তব্যও। ভারতের নতুন আইন নিয়ে ‘গভীর উদ্বেগ’ প্রকাশ করে অ্যালিস বলেছেন, ‘‘সিএএ-র মতো সামাজিক ইস্যুগুলি যে শুধুই মূল্যবোধকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ব্যাপারে ভারতের আন্তরিকতাকে ক্ষুণ্ণ করবে, তা নয়; ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকার দেশগুলিতে আমরা (আমেরিকা) যে মুক্ত ও অবাধ স্বাধীনতার বাতাবরণ তৈরি করতে চাইছি, সেই প্রচেষ্টায় শামিল হওয়ার পথ থেকেও ভারতকে দূরে সরিয়ে দেবে।’’ সরকারি ভাবে মার্কিন কংগ্রেসের রিপোর্ট না হলেও সিআরএস-এর এই রিপোর্ট বানানো হয়েছে কংগ্রেস সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশের মতামতের ভিত্তিতেই। মার্কিন কংগ্রেসের থিঙ্কট্যাঙ্কের সাম্প্রতিক রিপোর্টে বলা হয়েছে, ভারত শুধুই বিদেশি আগ্রাসনকারীদের হাতে লু্ণ্িঠত হয়েছে, এই ভাবেই সে দেশের ইতিহাসটাকে ব্যাখ্যা করতে চাইছেন হিন্দু জাতীয়তাবাদীরা। শুধু এই ভাবেই বিষয়টিকে তাঁরা দেখছেন। দেখাতে চাইছেন। তার ফলে, তাঁরা আধুনিক ভারতের দুই প্রতিষ্ঠাতা জওহরলাল নেহরু ও মোহনদাস কর্মচন্দ গাঁধীর দর্মনিরপেক্ষতার ভাবাদর্শকেও বাতিল করে দিয়েছেন। রিপোর্টে লেখা হয়েছে, ‘‘বহু বিশেষজ্ঞের ধারণা, দেশের উত্তরোত্তর ঝিমিয়ে পড়া অর্থনীতি থেকে মানুষের নজর অন্য দিকে ঘুরিয়ে রাজনৈতিক সমর্থন ধরে রাখতে বিজেপি সরকার এখন আবেগের উপরেই গুরুত্ব দিচ্ছে। হাতিয়ার করছে ধর্মকে।’’ সূত্র: আনন্দবাজার।
আন্দোলনকারীদের পাকিস্তান চলে যেতে বলল ভারতের পুলিশ
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ ভারতের নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে চলা আন্দোলনে উত্তর প্রদেশের এক পুলিশ আন্দোলনকারীদের পাকিস্তান চলে যেতে বললেন। এসময় তিনি আরও বলেন এখানে এসব চলবে না। উপস্থিত মুসলমানদের গালাগালিও করেন তিনি। শুক্রবার ভারতের মুসলিম অধ্যুষিত উত্তর প্রদেশের একটি অঞ্চলে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে পুলিশের। সে সময়ে নামাজ পড়ে ফিরে আসা কিছু মুসলিমের হাতে আন্দোলনকারীদের সমর্থনে নীল ও কালো ব্যাজ দেখা যায়। আইনের বিরোধিতাকারীদের শক্ত হাতে দমন করতে প্রথম দিন থেকেই তৎপর ছিল ভারতের পুলিশ। শুধুমাত্র মিরাটেই ছয়জন বিক্ষোভকারী গুলিতে নিহত হয়েছেন যাদিও পুলিশ বলছে তারা নাকি বিক্ষোভে গুলি চালায়নি। জুম্মার নামাজের পরও বিক্ষোভ হয়েছে সেখানে। এর পরই শহরের মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় গিয়ে বাসিন্দাদের উদ্দেশে কথা বলেন পুলিশ সুপার অখিলেশ নারায়ণ সিং। ২ মিনিটেরও কম ওই ভিডিওতে অখিলেশ মুসলিমদের উদ্দেশে হিন্দিতে কথা বলেন যার অর্থ দাঁড়ায় এরকম, “কোথায় যাবেন? এই এলাকাটা তো আমি ঠিক করে ফেলব।” উপস্থিত লোকজন নামাজ শেষ করে ফেরার কথা জানালে তিনি আবার বলেন, “সে ঠিক আছে। না হলে আপনাদের যারা কালো আর নীল ব্যাজ পরে আছেন, তাদের পাকিস্তানে চলে যেতে বলুন।” ভিডিওতে দেখা যায় অখিলেশ সিং এবং অন্যান্য পুলিশ সদস্যরা তারপর এগিয়ে যেতে শুরু করেন। বেশ ক্ষুব্ধ দৃষ্টিতেই অফিসার কমপক্ষে তিনবার ওই মুসলিমদের কাছে ফিরে এসে বলেন, “সব বাড়ির সবাইকে আমি জেলে পুরে দেব।” একেবারে শেষে তাকে বলতে শোনা যায়, “আমি সবাইকে শেষ করে দেব।” ভিডিওর ব্যাপারে ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “সেখানে অসামাজিক কিছু মানুষ পাকিস্তানপন্থী বক্তব্য দিচ্ছিলেন। আমরা সবাই ওখানে দেখতে এসেছিলাম কারা কারা পাকিস্তানপন্থী বক্তব্য রাখছে।”








