চৌগাছায় আধুনিক পদ্ধতিতে উচ্ছে চাষে লাভবান চাষি ফারুক

0
ছবি: সংগৃহীত।

মুকুরুল ইসলাম মিন্টু, চৌগাছা (যশোর) ॥ চৌগাছায় আধুনিক পদ্ধতিতে সবজির চাষ করে সফল হয়েছেন চাষি ফারুক হোসেন। সেই সাথে তিনি জমিতে সেচকাজের জন্য নিজস্ব উদ্যোগে সৌরবিদুৎ স্থাপন করেন। এ পদ্ধতিতে চাষাবাদে বছরের শুরুতেই তিনি আড়াই লাখ টাকার উচ্ছে বিক্রি করেছেন।

চৌগাছা উপজেলার জগদীশপুর গ্রামের মতিয়ার রহমানের ছেলে ফারুক হোসেন। সেনাবাহিনী থেকে অবসরের পরে তিনি নিজ গ্রামে সনাতন পদ্ধতি বাদ দিয়ে আধুনিক চাষাবাদ শুরু করেছেন। তার জমিতে উন্নতমানের উচ্ছে, কাঁচা মরিচ ও তরমুজের চাষ হচ্ছে। তার এ প্রজেক্ট দেখতে অন্য চাষিরা প্রতি দিনই ভিড় করছেন।

নিজের এক বিঘা জমিতে উন্নত হাইব্রিড জাতের গুটি উচ্ছে চাষ করেন ফারুক হোসেন। প্রথম বছরেই বিক্রি করেন ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা। এরপর উচ্ছের মাচায় তুলে দেন শশা, বিক্রি করেন ৭৫ হাজার টাকায়। বর্তমানে একই মাচায় পুনরায় চাষ করেছেন উচ্ছে, ইতোমধ্যে ৫০ হাজার টাকার উচ্ছে বিক্রি হয়েছে।

বুধবার সরজমিনে দেখা যায় চাষি ফারুক হোসেন ক্ষেত পরিচর্জা করছেন। তিনি বলেন, ছোট বেলায় দেখেছি বাবা দাদারা মাটিতে উচ্ছে চাষ করতেন। উচ্ছে লাগানোর পর মাটিতেই খড় কুটা দিয়ে রাখতেন তার ওপরেই গাছ লতিয়ে উচ্ছে হতো। আমি সেনাবাহিনীর চাকরি হতে অবসরে এসে মনে করলাম নিজের জায়গা জমিতে ভিন্নভাবে চাষাবাদ করবো। প্রথম বছরে আমি এক বিঘা জমিতে উচ্ছে চাষ করি।

এরজন্য প্রথমে জমিতে বেড তৈরি করি এবং বীজ বপণ করি। সম্পূর্ণ বেড পলি দিয়ে ঢেকে রাখি শুধুমাত্র উচ্ছের বীজ লাগানো স্থানটি খালি রাখি। চারা বের হওয়ার পর পরিচর্জা করতে থাকি। কিছুটা বড় হলে আমি বাঁশের চাঁচ দিয়ে ছই আকৃতির মাচা তৈরি করি বেশ উঁচু করে।

এরপর নাইলনের সুতা ও তারের মাধ্যমে মাচা পরিপূর্ণ করি। উচ্ছে গাছ মাচায় উঠে যায়। সময়মত সার কীটনাশক এবং পরিচর্জা করায় ওই বছরেই আমি প্রায় আড়াই লাখ টাকার উচ্ছে বিক্রি করি। এরজন্য আমার খরচ হয়েছিল মাত্র ৩০ হাজার টাকা। নতুন বছরে উচ্ছের পাশাপাশি ১০ কাঠা জমিতে ছোট তরমুজের চাষ করেছি। চারা বের হয়েছে এটিও উন্নত পদ্ধতিতে চাষ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

এছাড়া হাইব্রিড জাতের কাঁচা মরিচের চারা তৈরি করা হচ্ছে। কিছু দিন পরেই চারা জমিতে লাগানো হবে। যে পদ্ধতিতে চাষ করা হবে তাতে করে সাফল্য আসবে বলে মনে করা হচ্ছে। একই সাথে প্রায় ৫ বিঘা জমিতে বোরো ধানের চাষ করা হয়েছে। আমি আশা করছি ধানে বাম্পার ফলন হবে।

চাষাবাদ করার জন্য জমিতে সেচ অপরিহার্য। সে কারণে আমি নিজের অর্থায়নে জমির এক কোনে সৌর বিদ্যুতের প্ল্যান্ট করেছি। যখন ইচ্ছা তখন এই বিদ্যুতের সহযোগিতায় জমিতে সেচ দিচ্ছি। এরজন্য কিন্তু বাড়তি কোনো টাকা আমাকে খরচ করতে হচ্ছে না, খরচ যা একবারই করেছি। সব মিলিয়ে নতুন পদ্ধতিতে চাষাবাদ করে আমি সফল মনে করছি।

স্থানীয় কৃষক বাবু, আব্দুর রশিদ, হারুন অর রশিদ বলেন, ফারুক হোসেন সবজি ও ধান চাষে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছেন। নতুন ভাবে চাষ করায় এই সাফল্য বলে আমাদের মনে হচ্ছে। আগামীতে তাকে অনুসরণ করে আমরাও চাষাবাদ করবো।

উপজেলা কৃষি অফিসার মুসাব্বির হুসাইন বলেন, ফারুক হোসেন একটি প্রজেক্ট করেছেন খবর পেয়েছি দ্রুতই তার প্রজেক্ট পরিদর্শনে যাব।