জলাবদ্ধতা মুক্ত যশোর গড়তে কাজ চলমান; নতুন সড়ক ও ড্রেনেজ প্রকল্পের উদ্বোধন

খুলনায় পরকীয়ার জেরে একই পরিবারের ৪ জনকে গুলি; ২ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক

লোকসমাজ ডেস্ক ॥ খুলনার লবণচরা থানার কৃষ্ণনগর ঠিকারবাদ এলাকায় পরকীয়া ও বিয়ে সংক্রান্ত বিরোধের জেরে একই পরিবারের চার সদস্যকে গুলি করেছে একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ ২০২৬) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ঘরের ভেতর ঢুকে এই নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ চারজনের মধ্যে দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁদের জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
আহতরা হলেন— কাজী আনিসুর রহমান, তাঁর স্ত্রী রঞ্জুয়ারা বেগম, ছেলে রাইছুল ইসলাম এবং ছেলের স্ত্রী ফাহিমা আক্তার। এদের মধ্যে রঞ্জুয়ারা বেগমের বুকে এবং ফাহিমার পায়ে বিদ্ধ হওয়া গুলি বের করা সম্ভব না হওয়ায় তাঁদের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কাজী আনিসুরের ছোট ছেলে রাশিদুল ৩ বছর আগে মাদক মামলায় কারাগারে থাকাকালীন ইমরান নামক এক সন্ত্রাসীর সঙ্গে পরিচিত হন। কারাগার থেকে বের হওয়ার পর রাশিদুলের সঙ্গে ইমরানের স্ত্রী ফাহিমার অবৈধ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ৬ মাস আগে ইমরান পুনরায় জেলে গেলে রাশিদুল ফাহিমাকে বিয়ে করেন। এরই প্রতিশোধ নিতে ইমরান ও তাঁর ৬ সহযোগীর একটি দল বৃহস্পতিবার ভোরে এই হামলা চালায়।
লবণচরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তুহিনুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “প্রতিহিংসার জেরে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলাকারীদের মধ্যে ৬ জন অংশ নিয়েছিল। তাঁদের শনাক্ত করা হয়েছে এবং গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম অভিযান পরিচালনা করছে।”
চাঁদপুরে মাইকে ঘোষণা দিয়ে ঈদ উদযাপন করছেন গ্রামবাসী

লোকসমাজ ডেস্ক ॥ নাড়ির টানে মানুষের বাড়ি ফেরার চিরচেনা ব্যস্ততার মাঝেই চাঁদপুরে দেখা গেল এক ব্যতিক্রমী ঘটনা। সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর চেয়েও একদিন আগে মাইকে ঘোষণা দিয়ে ঈদুল ফিতর উদযাপন করেছেন জেলার হাজীগঞ্জ উপজেলার সাদ্রা গ্রামের একাংশ। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ ২০২৬) সকালে রীতিমতো ‘ঈদ মুবারক’ ঘোষণা দিয়ে সেখানে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
সাদ্রা দরবার শরিফের মরহুম পীর মাওলানা ইসহাক (রহ.)-এর ছেলে মাওলানা আবু বকর সিদ্দিকের অনুসারীরা এই আগাম ঈদ উদযাপন করছেন। এ বিষয়ে মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক জানান, নাইজার ও মালিসহ বিশ্বের কয়েকটি দেশে চাঁদ দেখা গেছে— এমন খবরের ভিত্তিতেই তারা আজ ১৯ মার্চ ঈদ পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর যুক্তি হলো, সারা বিশ্বে চাঁদ যেহেতু একটি, তাই পৃথিবীর কোথাও দেখা গেলে সবখানেই ঈদ হওয়া উচিত।
সাদ্রা গ্রামের একাধিক স্থানে আজ ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। একজন প্রত্যক্ষদর্শী মাদ্রাসা শিক্ষক জানান, মাইকে ঈদের ঘোষণা শুনে কৌতূহলবশত পাশের গ্রাম থেকে গিয়ে তিনি জামাত অনুষ্ঠিত হতে দেখেন। সাধারণত চাঁদপুরের অর্ধশত গ্রামে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ পালিত হলেও, এবার মধ্যপ্রাচ্যের আগেই এই আগাম ঈদ উদযাপন বিশেষ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
জামায়াতের পোস্ট নিয়ে চীনা দূতাবাসের তীব্র উদ্বেগ; বাস্তবতার সঙ্গে অসঙ্গতির অভিযোগ

লোকসমাজ ডেস্ক ॥ রাজধানীর মিরপুরে দুস্থদের মাঝে ঈদসামগ্রী বিতরণকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রচার করা কিছু তথ্যের বিষয়ে তীব্র উদ্বেগ ও আপত্তি জানিয়েছে ঢাকাস্থ চীনা দূতাবাস। গত মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) ঢাকা-১৫ আসন এলাকায় এক হাজারেরও বেশি মানুষের মাঝে খাদ্য সহায়তা প্রদানের এই অনুষ্ঠানকে জামায়াত ‘যৌথ উদ্যোগ” হিসেবে দাবি করলে বিতর্কের সূত্রপাত হয়। দূতাবাস স্পষ্ট জানিয়েছে, সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত কিছু কনটেন্ট বাস্তবতার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়।
মঙ্গলবার রাতে চীনা দূতাবাসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন একটি দাতব্য অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছিলেন। তবে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে বিকেল ৪টা ৪ মিনিটে তাদের ফেসবুক পেজে জানানো হয়, ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও চীনের যৌথ উদ্যোগে’ এই ফুডপ্যাক বিতরণ করা হয়েছে। জামায়াতের এই ‘যৌথ উদ্যোগ’ শব্দগুচ্ছ নিয়েই মূলত আপত্তি তুলেছে দূতাবাস। রাত ১১টা ৫ মিনিটে দেওয়া বিবৃতিতে দূতাবাস জোর দিয়ে বলে, চীন বাংলাদেশের নির্বাচিত সরকারের নির্বিঘ্নে দেশ পরিচালনায় সমর্থন জানায় এবং সরকারের সঙ্গেই কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
উল্লেখ্য, ওই অনুষ্ঠানে ঢাকা-১৫ আসনের সংসদ সদস্য ও বিরোধীদলীয় নেতা জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। বিতর্কের মুখে জামায়াত কয়েক দফায় তাদের ফেসবুক পোস্ট পরিবর্তন করে ‘যৌথ উদ্যোগ’ শব্দটি সরিয়ে নেয় এবং সর্বশেষ পোস্টে এটিকে কেবল ‘চীনা দূতাবাসের উপহার’ হিসেবে উল্লেখ করে। এর আগে গত বছর গাজীপুরেও একটি কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠানে জামায়াত আমিরের সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূতের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গিয়েছিল।
পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে ডিএনসিসি’র বিশাল ঈদ জামাত; নামাজ পড়বেন ২৫ হাজার মুসল্লি

লোকসমাজ ডেস্ক ॥ রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে পবিত্র ঈদুল ফিতরের বিশাল জামাত আয়োজনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। ঈদের দিন সকাল ৮টায় এই মাঠে জামাত অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে একসঙ্গে ২৫ হাজারের বেশি মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন। বুধবার (১৮ মার্চ ২০২৬) দুপুরে মাঠের প্রস্তুতিমূলক কাজ পরিদর্শন করেন ডিএনসিসি প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান।
ডিএনসিসি’র প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বৃষ্টির সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে এবার মূল প্যান্ডেলটি তৈরি করা হয়েছে স্টিল ফ্রেমের মজবুত তাঁবু দিয়ে, যেখানে ৮ হাজার মুসল্লি বসতে পারবেন। এর পাশাপাশি বাঁশের প্যান্ডেল ও খোলা মাঠে ত্রিপল বিছিয়ে আরও ১৭ হাজার মানুষের নামাজের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। নারীদের জন্য নির্ধারিত স্থানে ৫০০ জনের নামাজের আলাদা ব্যবস্থা করা হয়েছে। পুরো আয়োজনটি সম্পন্ন করতে প্রায় ৫০ লাখ টাকা ব্যয় করছে ডিএনসিসি।
প্রস্তুতি পরিদর্শন শেষে প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান জানান, “মুসল্লিদের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে ২৫০টি সিলিং ফ্যান, ১০০টি স্ট্যান্ড ফ্যান এবং ৩২টি মাইকের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। নিরাপত্তার জন্য প্রবেশপথে আর্চওয়ে এবং পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে।” এছাড়া পুরুষদের জন্য ৫০ জন এবং নারীদের জন্য ১০ জনের একসঙ্গে অজু করার পৃথক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। ভিআইপি ও সাধারণ মানুষের প্রবেশের জন্য রাখা হয়েছে আলাদা ফটক।
জাতীয় ঈদগাহে একসঙ্গে ঈদের নামাজ পড়বেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ পবিত্র ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত আগামী শনিবার (চাঁদ দেখা সাপেক্ষে) সকাল সাড়ে ৮টায় রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত হবে। এবারের জামাতে মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একইসঙ্গে নামাজ আদায় করবেন। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ ২০২৬) জাতীয় ঈদগাহ ময়দানের প্রস্তুতিমূলক কাজ পরিদর্শন শেষে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মাঠ পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “এবারের ঈদের নামাজ হবে ঐতিহাসিক। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী একসঙ্গে জামাতে শরিক হবেন।” তিনি আরও জানান, প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লির নামাজ আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে প্যান্ডেল প্রস্তুত করা হয়েছে। প্যান্ডেলে বৃষ্টির পানি নিরোধক ব্যবস্থা এবং পর্যাপ্ত ওযুর সুব্যবস্থা রাখা হয়েছে। মন্ত্রী পরিষদের সদস্য এবং সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও এই জামাতে অংশ নেবেন।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক জানিয়েছেন, নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার স্বার্থে প্রবেশের সময় নির্দিষ্ট সংখ্যক গেট খোলা রাখা হবে এবং নামাজ শেষে সব গেট উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। উল্লেখ্য, এবারের ঈদুল ফিতর উপলক্ষে গত ১৭ মার্চ থেকে শুরু হওয়া সরকারি ছুটি আগামী ২৩ মার্চ পর্যন্ত চলবে।
২২ ঘণ্টা পর উত্তরবঙ্গের সঙ্গে রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক; সচল হলো সান্তাহার রুট

লোকসমাজ ডেস্ক ॥ বগুড়ার আদমদীঘির বাগবাড়ি এলাকায় আন্তঃনগর ‘নীলসাগর এক্সপ্রেস’ লাইনচ্যুত হওয়ার দীর্ঘ ২২ ঘণ্টা পর উত্তরবঙ্গের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ পুনরায় স্বাভাবিক হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ ২০২৬) বেলা ১১টা ২০ মিনিটে ক্ষতিগ্রস্ত লাইন মেরামত শেষে ট্রেন চলাচল শুরু হয়। এই দীর্ঘ সময়ে ৯ জোড়া ট্রেন বিভিন্ন স্টেশনে আটকা পড়ায় কয়েক হাজার ঘরমুখো যাত্রী চরম ভোগান্তির শিকার হন।
বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চল সূত্র জানায়, দুর্ঘটনার ফলে নীলফামারী, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও জয়পুরহাটের সঙ্গে রেল যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। পঞ্চগড়-ঢাকা রুটের তিন জোড়া, নীলফামারী-খুলনা রুটের দুই জোড়া এবং রাজশাহী-নীলফামারী রুটের বরেন্দ্র ও তিতুমীর এক্সপ্রেসের দুই জোড়া ট্রেন আটকা পড়ে। সান্তাহার জংশনের অদূরে বাগবাড়ি এলাকায় আটকা পড়া যাত্রীদের বিকল্প উপায়ে প্রায় তিন কিলোমিটার পথ পারাপার করে গন্তব্যে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করে রেল কর্তৃপক্ষ।
বিপর্যয়ের কারণ খতিয়ে দেখতে রেলওয়ের মহাপরিচালকের কার্যালয় থেকে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক ফরিদ আহমেদ জানান, প্রাথমিকভবে ‘হিউম্যান ফেইলিয়র’ বা চালক ও স্টাফদের দায়িত্বহীনতাকে দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “ছয়টি বগি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় মেরামত ছাড়া লাইন সচল করা সম্ভব ছিল না। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশবাসীকে মাননীয় বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের শুভেচ্ছা
স্টাফ রিপোর্টার ॥ দেশ ও মানুষের কল্যাণে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহবান জানিয়ে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, পবিত্র মাহে রমজানের এক মাস সিয়াম সাধনার পর আমাদের মাঝে আবারও ফিরে এসেছে আনন্দ, সম্প্রীতি ও আত্মশুদ্ধির বার্তা নিয়ে পবিত্র ঈদুল ফিতর। এই মহিমান্বিত দিনটি মুসলিম উম্মাহর জন্য শুধু উৎসবের নয়; বরং ত্যাগ, সহমর্মিতা ও মানবিকতার এক অনন্য শিক্ষা বহন করে।
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়ে মাননীয় প্রতিমন্ত্রী বলেন, রমজান আমাদের শিখিয়েছে সংযম, ধৈর্য ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মহান শিক্ষা। এই আদর্শকে ধারণ করেই আমাদের সমাজকে আরও মানবিক ও শান্তিময় করে গড়ে তুলতে হবে। ঈদের আনন্দ তখনই পরিপূর্ণতা পায়, যখন আমরা সমাজের দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পারি।
তিনি বলেন, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আমাদের অঙ্গীকার; প্রতিটি ঘরে ঘরে নিরবচ্ছিন্ন সেবা পৌঁছে দিয়ে জনজীবনকে স্বস্তিময় রাখা। যারা দেশ ও মানুষের সেবায় নিরলস শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন, তাদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে মাননীয় প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, আসুন আমরা সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হই এবং আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশকে শান্তি, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করি। মহান রাব্বুল আলামীন আমাদের সকলের ইবাদত কবুল করুক।
সেচকাজে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের প্রতিশ্রুতি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের
স্টাফ রিপোর্টার ॥ পবিত্র রমজানের পর সেচ মৌসুমেও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। বুধবার (১৮ মার্চ ২০২৬) সরকারি সফরে ঢাকা থেকে যশোরে এসে স্থানীয় প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সাথে ঘরোয়া আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন। সভায় প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে প্রতিমন্ত্রীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, পবিত্র মাহে রমজানে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করা অনেক বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। সরকারের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় প্রতিকূল পরিস্থিতি কাটিয়ে আমরা জনগণের ভোগান্তি এড়িয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে পেরেছি। ইফতার, তারাবিহ ও সেহরিতে বিদ্যুৎ সচল রাখার যে প্রতিশ্রুতি আমরা দিয়েছিলাম, তা রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।
তিনি আরও জানান, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার আগে এই মন্ত্রণালয়ে ঋণের পরিমাণ ছিল ৪৭ হাজার কোটি টাকা। ভারত থেকে প্রতিদিন ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আসার কথা থাকলেও হঠাৎ করে তারা ৫০ মেগাওয়াট কমিয়ে দেওয়ার কথা জানায়। তবে দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে তা সমাধান করা হয়েছে এবং বর্তমানে আগের মতোই সরবরাহ সচল আছে। প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, সেচ মৌসুমে বিদ্যুৎ সরবরাহে কোনো আপস করা হবে না, যাতে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত না হন।
বিগত সরকারের বিদ্যুৎ চুক্তির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘আগের সরকার এমন কিছু চুক্তি করে গেছে যা এখন জনগণের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে ক্যাপাসিটি চার্জের নামে বিপুল অংকের টাকা গুনতে হচ্ছে। আমরা এসব সংকট উত্তরণে নিরলসভাবে কাজ করছি।
জ্বালানি তেলের বরাদ্দের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, গতবারের তুলনায় এবার ঈদযাত্রায় যশোরে অধিক পরিমাণ জ্বালানি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। গত বছর জেলায় দৈনিক ডিজেল বরাদ্দ ছিল ৫৪ মেট্রিক টন, যা এবার বাড়িয়ে ৮৮ মেট্রিক টন করা হয়েছে (বৃদ্ধি ৩০%)। একইভাবে পেট্রোল ৪ মেট্রিক টন থেকে বাড়িয়ে ১১ মেট্রিক টন (বৃদ্ধি ২৬%) এবং অকটেন ৪ মেট্রিক টন থেকে বাড়িয়ে ৭ মেট্রিক টন (বৃদ্ধি ৪০%) করা হয়েছে।
তিনি আশ্বস্ত করেন, বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়লেও বাংলাদেশে দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই; বরং মজুদদারদের রোধ করা সম্ভব হলে দাম কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন, সাধারণ সম্পাদক এস এম তৌহিদুর রহমান, সাবেক সহ-সভাপতি নূর ইসলাম, সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরের সভাপতি আকরামুজ্জামান এবং সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ প্রমুখ।
যশোর কেন্দ্রীয় ঈদগাহে ঈদুল ফিতরের প্রথম জামাত সকাল ৮টায়
স্টাফ রিপোর্টার ॥ পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে যশোর জেলা শহরসহ বিভিন্ন উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ ঈদগাহ ও মসজিদগুলোতে ঈদের নামাজের সময়সূচী চূড়ান্ত করা হয়েছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন যশোর জেলা কার্যালয় থেকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী যশোর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে ১ম জামাত সকাল ৮টায়, ২য় জামাত ৯টায়।
এছাড়াও জেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে ১ম জামাত ৭.৪৫ মি., ২য় জামাত ৮.৪৫ মি.।
পুলিশ লাইন জামে মসজিদে ১ম জামাত ৮.০০ মি., ২য় জামাত ৮.৩০ মি.। আমিনিয়া আলিয়া মাদ্রাসা জামে মসজিদে ১ম জামাত ৮.০০ টা, ২য় জামাত ৯.০০ মি.। সকাল ৮.০০ টায় জামাত: চাঁচড়া ডালমিল জামে মসজিদ, কারবালা জামে মসজিদ, ওয়াপদা কলোনী জামে মসজিদ, বায়তুল মামুর জামে মসজিদ (আশ্রম রোড), আল-মসজিদুল আকসা (রেল রোড), বায়তুস সালাম (মাইক পট্টি), যশোর সদর উপজেলা পরিষদ জামে মসজিদ, উপশহর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ, বেজপাড়া আজিমাবাদ জামে মসজিদ, লেবুতলা কেন্দ্রীয় ঈদগাহ, ইছালী কামার ঘোন্না কেন্দ্রীয় ঈদগাহ, বিজয় নগর দক্ষিণ ঈদগাহ, জয়ান্তা কেন্দ্রীয় ঈদগাহ, এড়েন্দা বাজার কেন্দ্রীয় ঈদগাহ, কচুয়া হাইস্কুল ঈদগাহ, চুড়ামনকাঠি ছাতিয়ানতলা কেন্দ্রীয় ঈদগাহ, বাদিয়াটোলা ঈদগাহ, পুরাতন কসবা ঢাকা ব্রিজ ঈদগাহ এবং সানতলা দক্ষিণপাড়া ঈদগাহ ময়দান।
সকাল ৮.৩০ টায় জামাত: পাগলাদাহ হাফেজিয়া মাদ্রাসা ঈদগাহ, ছিলুমপুর বায়তুন নূর ঈদগাহ, ঘুরুলিয়া স্কুল ঈদগাহ, বসুন্দিয়া বায়তুস সালাম কেন্দ্রীয় ঈদগাহ, নারাঙ্গালী কেন্দ্রীয় ঈদগাহ, আশরাফুল উলুম মাদ্রাসা ঈদগাহ, সিরাজ সিংগা মধ্যপাড়া ঈদগাহ এবং তারবাড়িয়া হুসাইনিয়া মাদ্রাসা ঈদগাহ।
সকাল ৭.৩০ টায় জামাত: বালিয়াডাঙ্গা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঈদগাহ এবং বসুন্দিয়া পুরাতন জামে মসজিদ।
অন্যান্য: চাঁচড়া পশ্চিমপাড়া ঈদগাহ (৭.৪৫ মি.), আরীচপুর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ (৮.২০ মি.), বারিয়াভেকুটিয়া কলোনী পশ্চিমপাড়া ঈদগাহ (৮.১৫ মি.) এবং আবেদিয়া দাখিল মাদ্রাসা ফুলতলা ঈদগাহ (৯.০০ মি.)।
এছাড়াও জেলার অন্য সকল ঈদগাহে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে সাড়ে ৯টার মধ্যে ঈদ জাসায়ত অনুষ্ঠিত হবে।




